বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেইমারের খেলা নিয়ে ধোঁয়াশা অনেকটা কাটল৷ সোমবারই চোটের জায়গায় এমআরআই হয় ব্রাজিলিয়ান তারকার৷ রিপোর্ট যথেষ্ট সন্তোষজনক৷ সবকিছু ঠিক থাকলে, দু’একদিনের মধ্যেই বল পায়ে অনুশীলন শুরু করবেন তিনি৷ ফলে মরক্কোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনে কিছুটা সময় হলেও তাঁকে মাঠে দেখা যেতে পারে৷ যদিও কোচ কার্র্লে আনসেলোত্তি ব্রাজিলিয়ান ‘পোস্টার বয়’কে নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে নারাজ৷ প্রথম ম্যাচের আগে হাতে আর চারদিন সময় রয়েছে৷ চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত মিললেই নেইমারকে খেলানো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি কেরিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে ইতিমধ্যেই আমেরিকায় পা রেখেছেন দুই মহাতারকা লায়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো৷ দেশের জার্সিতে খেতাবরক্ষার লড়াইয়ে মগ্ণ এলএমটেন৷ অন্যদিকে, অধরা মাধুরীর আশায় নিজেকে নিংড়ে দিচ্ছেন সিআরসেভেন৷ তবে মার্কিন মুলুকে এই দুই মহাতারকাকে ছাপিয়েও যাবতীয় চর্চার কেন্দ্রে নেইমার৷ বিশ্বকাপের আসরে ব্রাজিলিয়ান তারকার সুযোগ পাওয়া নিয়েই চলেছিল একপ্রস্ত নাটক৷ কিছুটা চাপের মুখেই সিদ্ধান্ত বদলে শেষ পর্যন্ত তাঁকে দলে রাখেন আনসেলোত্তি৷ তবে দল ঘোষণার পরের দিনই ফের নতুন করে চোটের কবলে পড়েন তিনি৷ এরপর জাতীয় দলের ডাক্তার রডরিগো লাসমারের তত্ত্বাবধানে ফিট হওয়ার লড়াই চালান তিনি৷ নিজেকে ফিটনেসের সেরা পর্যায়ে মেলে ধরতে গত কয়েকদিন জিমে অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি ট্রেডমিলে দৌড়ান নেইমার৷ এর ফলে তাঁর চোটের জায়গায় কম চাপ পড়ে৷
২০১৪ সালে দেশের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপে চোটের জন্য সেমি-ফাইনালে খেলতে পারেননি নেইমার৷ ফলে জার্মানির কাছে দলের সাত গোল হজম গ্যালারিতে বসে দেখতে হয়েছিল তাঁকে৷ সেই জ্বালা আজও বুকে বয়ে বেড়াচ্ছেন সেলেকাও তারকা৷ পরের দু’টি আসরে নেইমারকে সামনে রেখেই কাপ জয়ের স্বপ্ণ দেখেছিল পেলের দেশ৷ তবে দু’বারই শেষ আটের গণ্ডি টপকাতে ব্যর্থ তাঁরা৷ নেইমার কি পারবেন সেই হাওয়া উলটোদিকে বইয়ে দিতে? সংশয় থাকছেই৷ আসলে কেরিয়ারের সেরা সময় অনেক আগেই পেরিয়েছেন তিনি৷ স্রেফ আবেগের বশেই হলুদ জার্সি গায়ে শেষবারের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে চান তিনি৷ পারবেন কিনা সময় বলবে!