Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

সভ্যতা, বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিক প্রগতি

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

আজকের আলোচনার বিষয় হ’ল, সভ্যতা, বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিক প্রগতি৷ মানুষের বিভিন্ন ভাবের অভিব্যক্তির সামূহিক নাম ‘কালচার’ বা ‘সংস্কৃতি’৷ শুরুতেই আমি তোমাদের ৰলে রাখছি, গোটা মানুষ জাতির সংস্কৃতি একটাই৷

সভ্যতা কী? আমাদের জীবনের বিভিন্ন অভিব্যক্তির মধ্যে শিষ্টাচারের যে সূক্ষ্ম ভাবের সংস্পর্শে আমরা আসি, তাকেই ৰলে সভ্যতা৷ একটা উদাহরণ দিই, মনে কর, বাড়ীতে একজন অতিথি এসেছেন৷ আমরা নিরুত্তাপভাবে তাকে ‘‘এসো’’ বা ‘‘আসুন’’ ৰলে আহ্বান করতে পারি, আবার স্বাগত সম্ভাষণ জানিয়ে এও বলতে পারি, ‘‘অনুগ্রহ করে আসুন’’ বা ‘‘অসুন, আসুন, ভেতরে আসুন’’৷ এই যে অতিরিক্ত ভাষা বা ভাবের দ্বারা ভদ্র সম্ভাষণের অভিব্যক্তি এটাই সভ্য বা সভ্যতা-সম্মত আচরণ৷ কারণ এখানে শিষ্টাচারের সূক্ষ্মভাবটা স্বতঃস্ফূর্ত৷ স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে, সাধারণ নিরুত্তাপ আহ্বান সূচক ‘এসো’ বা ‘আসুন’ কথাটা সম্ভাষণের উত্তাপরহিত ---এটা শিষ্টাচারের অভাবেরই ফল৷ সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি, সংস্কৃতি বা কালচারের ক্ষেত্রে ভাল মন্দ দু’টো দিকই আছে, কিন্তু শিষ্টাচারের যে সূক্ষ্মভাব---এটাই সভ্যতার কষ্টিপাথর৷ সংস্কৃতি বা কালচারের মাধ্যমে শিষ্টাচারের যে সূক্ষ্ম ৰোধ আমরা পাই, সেটা মানুষের সূক্ষ্ম বিচার-ক্ষমতা বৃদ্ধি করে৷ আমরা মানুষের সেই সব আচার আচরণকেই সভ্য ৰলতে পারি যা বৃহত্তর ক্ষেত্রে মানুষের সূক্ষ্ম বিচার ক্ষমতার পরিচয় বহন করে৷ অনেক সময় দেখা যায়, কোন বিশেষ গোষ্ঠীর জনসাধারণের আচার-আচরণ বিচারের সমর্থন লাভ করেছে, কিন্তু অন্য এক গোষ্ঠীর আচার-আচরণ বিচারের সমর্থন লাভ করছে না৷ এখন যদি ওই বিশেষ বিচারে প্রথোমোক্ত গোষ্ঠীকে সভ্য ও অপর গোষ্ঠীকে অর্ধসভ্য ৰলি, তাহলে সেটাও যুক্তিযুক্ত হৰে না৷

ভারতীয় সমাজ-ব্যবস্থায়, নারীকে মায়ের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে তাদের সেরকম সম্মান দেখানো হয় না৷ অপরপক্ষে ইয়ূরোপীয় সমাজে যদিও মায়ের মর্যাদা নেই, কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে নারীরা নিশ্চিতভাবে পুরুষের সমান অধিকার ও সম্মান ভোগ করে থাকেন৷ এখন এই দু’টোর মধ্যে কোনটি অধিকতর সভ্য, এটা ৰলা খুবই শক্ত৷ এক্ষেত্রে আমি ৰলবো, কাজ-কর্মে, আচার-আচরণে বিচারের সমর্থন যতটা ৰেশী থাকৰে, সভ্যতার প্রকাশ তথা বিকাশও তত বেশী হৰে৷

সভ্যতা ও সংস্কৃতির মধ্যেকার পার্থক্য খুব        সূক্ষ্ম৷ সংস্কৃতি জীবনের সকল অভিব্যক্তির সামূহিক রূপ৷ সংস্কৃতি ৰৌদ্ধিক স্তরের অভিব্যক্তি, কিন্তু সভ্যতা জীবনের ভৌতিক দিকটার প্রকাশ৷ সুতরাং একজন মানুষ ভৌতিক উন্নতির ব্যাপারে সভ্য হত পারে , কিন্তু তার মানসিক বিকাশের দিকটা বিচার করলে সে উন্নত সংস্কৃতি সম্পন্ন নাও হতে পারে৷ বস্ততঃ ৰৌদ্ধিক বিকাশ না হলে একজন মানুষের পক্ষে যথার্থ সভ্য হওয়া সম্ভব নয়৷

সভ্যতার বিকাশ কেমন করে ঘটে? সভ্যতার সঙ্গে বিজ্ঞানের একটা ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে, একই সঙ্গে এই দু’য়ের উন্নতি হয়৷ কিন্তু যেখানে বৈজ্ঞানিক উন্নতি, সভ্যতার উন্নতিকে পিছনে ফেলে যায়, সেখানেই সভ্যতার  ভরাডুবি ঘটে৷ উদাহরণ হিসাবে মিশর ও গ্রীসের ইতিহাসের কথা ধরা যাক৷ যতদিন এই দুই দেশের বিজ্ঞানের জয়যাত্রা, সভ্যতার অগ্রগতি অব্যাহতই ছিল৷ কিন্তু বিজ্ঞানের উন্নতিতে যখন ভোগ্য-সামগ্রী প্রচুর পরিমাণে ৰেড়ে গেল, তখনই উভয় দেশের সভ্যতা ক্রমে ধবংস হয়ে গেল, কারণ তখন বিজ্ঞান সভ্যতার ওপরে স্থান অধিকার করেছে৷

বিজ্ঞান কী? যা বস্তুর যথাযোগ্য ব্যবহার শিখিয়ে দেয় তাই বিজ্ঞান৷ সভ্যতার বিকাশ যেখানে একেবারেই নগণ্য, সেখানে যদি বিজ্ঞানের অগ্রগতি উন্নতির উচ্চতম শিখরে পৌঁছায়, সেখানে বিজ্ঞান মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে ধবংসেরই পথ প্রশস্ত করে৷ সুতরাং বিজ্ঞানের গবেষণা ও চর্র্চ যদিও অপরিহার্য তবুও একে সভ্যতার ওপরে স্থান দেওয়া মোটেই সঙ্গত কাজ নয়৷

এখন আমি তোমাদের ৰোধি-জ্ঞান সম্পর্কে দু’চার কথা ৰলবো৷ ভারতবর্ষে তন্ত্রের যুগ থেকে শুরু করে গুপ্তযুগ পর্যন্ত সভ্যতা ও বিজ্ঞান পাশাপাশি বিকাশ লাভ করে চলছিল বিজ্ঞান কখনই সভ্যতার থেকে বেশী সম্মান পায়নি৷ গুপ্তযুগ ভারতের সুবর্ণ যুগ৷ গুপ্তযুগের পর বিজ্ঞানের উন্নতির দিকে নজর দেওয়া হয়নি৷ এরফলে হয়েছিল ক্রমাবনতি ও অধঃপতন৷ পাঠান যুগে সভ্যতা ও বিজ্ঞান কোনটিরই বিকাশ হয়নি, তাই সে যুগে সমাজের উন্নতিও স্তব্ধ ছিল৷

মানব সমাজের সার্বিক প্রগতির তথা উন্নতির জন্যে সভ্যতা ও বিজ্ঞান উভয়কে একই সঙ্গে প্রোৎসাহিত করে এগিয়ে নিয়ে যেতে হৰে৷ যেখানেই তুমি সভ্যতার উন্নতি দেখৰে, সেখানেই লক্ষ্য করৰে বৌদ্ধিক উন্নতি এর সঙ্গে রয়েছে৷ আবার যেখানে  বিজ্ঞানের চর্র্চ রয়েছে, সেখানেও ৰৌদ্ধিক বিচার-বিশ্লেষণ প্রয়োজন৷ তাই সভ্যতা ও বিজ্ঞান উভয়ের ক্ষেত্রেই বৌদ্ধিক জ্ঞান অপরিহার্য৷ সভ্যতা ও বিজ্ঞানের সুন্দর সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই আধ্যাত্মিক ও ৰোধি জ্ঞানের বিকাশ সম্ভব৷ যেখানে সভ্যতা ও বিজ্ঞানের সমন্বয় আদৌ নেই, সেখানেও ৰোধিজ্ঞানের বিকাশ সম্ভব হলেও, সভ্যতা ও বিজ্ঞানের মধ্যে সুষম সমন্বয় থাকলে, আধ্যাত্মিক প্রগতি ত্বরান্বিত হৰে৷ সুতরাং যাঁরা জ্ঞানী তাঁরা এই দু’য়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেই প্রগতির পথে এগিয়ে চলৰেন৷ এই দু’য়ের মধ্যে সম্বন্বয় সাধন ছাড়া ৰোধির জগতে প্রকৃত প্রগতির কথা চিন্তা করা অর্থহীন ৷

আজ আমাদের কর্তব্য কী? আমরা বিজ্ঞানের চর্র্চ করৰো, কিন্তু সেই সঙ্গে সভ্যতার উন্নতির দিকেও সমান লক্ষ্য রাখতে হৰে৷ প্রাচীন ভারত ও আধুনিক ভারতের মধ্যে একটা তুলনামূলক আলোচনা করলে দেখা যাৰে আজকের যুগের বিজ্ঞানের উন্নতি সে-যুগের বিজ্ঞানের উন্নতি থেকে অনেক ৰেশী৷ কিন্তু সে যুগের সভ্যতা, বিশেষ করে বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র ও অষ্টাবক্র মুনির যুগে সভ্যতা অবশ্যই অনেক উন্নত স্তরের ছিল৷ আজকের যুগে সভ্যতা ক্ষয়িষ্ণু, কারণ বিজ্ঞান পাচ্ছে সভ্যতার চেয়ে উচ্চতর মর্যাদা৷ আজকে বিজ্ঞানের উন্নতির মত, যদি সভ্যতাকেও উঁচুতে তুলে ধরা যায়, তাহলে উন্নতির চরম শিখরে ওঠা সম্ভব হৰে৷

(মূল ইংরেজী থেকে অনূদিত)

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

‘কৃষ্ণ’ নামের একাধিক ব্যাখ্যা
মনকে ভারমুক্ত রাখ
অষ্টকমল
ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

পূর্বার্দ্র তত্ত্ব
যোগাযোগের প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে স্থানীয় ভাষার ব্যবহার বাঞ্ছনীয়
মানব প্রগতি
সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
আরও

সম্পাদকীয়

বিদ্বেষ বিষে জর্জরিত বিজেপি
বাঙালী আর একটা অগ্ণি স্ফুলিঙ্গের অপেক্ষায়
প্রতিকুলতাকে প্রতিহত করে এগিয়ে চলার দুর্জয় ইচ্ছাশক্তি বাঙালীর আছে
মশাহীন দেশের তকমা ধরে রাখতে পারল না আইসল্যান্ড
বিকশিত বাঙলার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয় মানবতার আর্থিক মুক্তি চাই

প্রবন্ধ শিরোনাম

গোরাচাঁদ ও একতারা
ভারত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার রক্ষা ও সংবিধানকে বাঁচিয়ে রাখার প্রধান দায়বদ্ধতা হলো যৌথভাবে কেন্দ্র ও রাষ্ট্রের নির্বাচন কমিশনেরই আর স্বৈরাচারিতাকেও নিয়ন্ত্রণ করা!
হিংস্র দুঃসময় বাঙালীর দুয়ারে
আর্থিক বিকাশ শেষ কথা নয়
গোরাচাঁদ ও একতারা
নাগরিকত্ব প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার---তথাকথিত এস আই আর এর নামে একজনও বাঙালীর নাগরিকত্ব হরণ করা চলবে না--- চক্রান্ত করে তথাকথিত এস আই আর-এর মাধ্যমে কোন বাঙালীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না
কেন্দ্র সরকারের ডি.এ নিয়ে বোটবাজীটা নির্বাচন প্রাক্কালে এটা কোন ধরনের কেন্দ্র সরকারের গণতান্ত্রিক সেবা
গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষার এস.আই.আর প্রক্রিয়া ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্বের আগ্রাসনের হাতিয়ার

পুরানো মাসিক খবর

  • February 2026 (220)
  • August 2022 (106)
  • July 2022 (93)
  • June 2022 (167)
  • May 2022 (92)
Pagination
  • Page 1
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved