প্রবীন প্রাউটিষ্ট নেতা শ্রী প্রভাত খাঁ এক আলোচনায় বলেন---গত ১৪ই নভেম্বর থেকে ২০শে নভেম্বর রাজ্যে মহা আড়ম্বরে পালিত হল সমবায় সপ্তাহ৷ প্রতিবছর এই এক সপ্তাহ গোটা দেশেই সমবায় সপ্তাহ পালিত হয়, কিন্তু এতে সমবায় ব্যবস্থা কতটা সফল হয়েছে৷ তিনি বলেন ঘটা করে সমবায় দিবস পালন করলেই সমবায় সফল হয় না৷ পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কেন্দ্রীত অর্থনৈতিক কাঠামোয় সমবায়ের সাফল্য এক প্রকার অসম্ভব৷
কারণ পুঁজিবাদ নিয়ন্ত্রিত বহুদলীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় অর্থনীতি প্রত্যক্ষভাবে ও রাজনীতি ও গণতন্ত্রের স্তম্ভগুলিকে পরোক্ষভাবে পুঁজিপতিরাই নিয়ন্ত্রণ করে৷ সমবায় ব্যবস্থা সার্থক রূপায়ন হলে দেশের আর্থিক ক্ষমতা স্থানীয় মানুষের হাতে চলে যাবে৷ এই আর্থিক ব্যবস্থা পুঁজিপতিরা কখনই মেনে নেবে না৷ তাছাড়া সমবায়গুলি পরিচালনার দায়ীত্বে থাকে রাজনৈতিক দলের নেতারা৷ তাই সমবায় ষোল-আনা দুর্নীতিমুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম৷
শ্রী প্রভাত খাঁর ভাষায়--- প্রাউট প্রবক্তার দৃষ্টিতে সমবায়ের সাফল্যের অপরিহার্য তত্ত্ব হল--- নীতিবাদ কঠোর তত্ত্বাবধান ও জনগণের আন্তরিক গ্রহণ যোগ্যতা৷ এর জন্যেও যে ধরনের পরিকল্পনা দরকার তা ধনতান্ত্রিক কাঠামোয় গড়ে তোলা সম্ভব নয়৷ উপরিউক্ত তিনটি তত্ত্ব ছাড়াও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর চাহিদা, খাদ্যাভ্যাস, ভৌগোলিক ও জলবায়ু গত অবস্থান অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে সমবায় গড়তে হবে৷ কারণ একই অর্থনৈতিক কাঠামোয় যুক্ত জন মণ্ডলীর শ্রম ও বুদ্ধি দিয়ে সমবায় গড়ে তুলতে হয়৷ অর্থাৎ সমবায়ের অংশীদার ও পরিচালনার বহিরাগতের কোনস্থান হবে না৷ কিন্তু ভারতবর্ষের সমবায়গুলি গড়ে তোলা হয় আর্থিক বিকাশের দিকে তাকিয়ে নয়, রাজনৈতিক স্বার্থে৷ তাই এখানে সমবায় সফল না হওয়াটা আশ্চর্যজনক নয়৷
সমবায়কে সফল করে তুলতে হলে পুঁজিবাদী আর্থিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন আনতে হবে৷ বর্তমান আর্থিক ব্যবস্থার খোল-নলচে পাল্টে বিকেন্দ্রিত আর্থিক ব্যবস্থায় ব্লকে ব্লকে কৃষি সহায়ক ও কৃষি ভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে প্রাউটের নীতিতে সমবায়ের মাধ্যমে৷ সমবায়গুলির পরিচালনার দায়ীত্ব সমবায়ের অংশীদারদের হাতেই রাখতে হবে৷ পরিশেষে শ্রী খাঁ বলেন---সমবায় সপ্তাহ পালনে সমবায়কে সফল করে তোলার বিষয়গুলি অবশ্যই আলোচনা হওয়া দরকার৷