Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

সমুদ্রের অক্সিজেন শুষে নিচ্ছে দক্ষিণ চিন সাগরের রহস্যময় ড্রাগন গর্ত?

পি.এন.এ.
Wed, 04-03-2026

সমুদ্রের বুকে একটা নীল গর্ত৷ আর সেটিকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য৷ কী আছে ওই গর্তের অন্দরে? কোনও অদৃশ্য শক্তি কি সেখানে পাহারা দিচ্ছে যকের ধন? গর্তটির ভিতরে অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই এই নিয়ে তুঙ্গে ওঠে জল্পনা৷ বিজ্ঞানীদের থেকে অবশ্য এ ব্যাপারে একাধিক তত্ত্ব সামনে এসেছে৷

দক্ষিণ চিন সাগরের ওই গর্তটির নাম ‘সানশা ইয়ংলে’৷ সমুদ্র বিজ্ঞানীদের কাছে অবশ্য সেটি ড্রাগন হোল বা ড্রাগনের গর্ত নামে বেশি পরিচিত৷ গত এক দশকের বেশি সময় ধরে এটিকে নিয়ে চলছে গবেষণা৷ তাতে রহস্য দূর হওয়া তো দূরে থাক, উল্টে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও বেড়েছে৷ গর্তটার গভীরতা নিয়েও যথেষ্ট অস্পষ্টতা রয়েছে৷ গবেষকদের কথায়, সমুদ্রের তলদেশে এই ধরনের গর্ত তৈরি হওয়া একেবারেই আশ্চর‌্যজনক নয়৷ কারণ, প্রবাল প্রাচীর বা ছোট টিলায় ধাক্কা খেয়ে প্রায়ই সেখানকার জলে তৈরি হয় ঘূর্নি৷ খুব ছোট এলাকা জুড়ে সেটা গোল হয়ে ঘুরতে থাকলে ওই ধাক্কায় জন্ম নেয় ছোট ছোট বর্তুলাকার গর্ত৷ কিছু কিছু জায়গায় সেগুলি বেশ অগভীর৷ আবার কয়েকশো মিটার নীচে চলে যাওয়া গর্তও রয়েছে৷

দক্ষিণ চিন সাগরে ড্রাগন হোল বা ড্রাগনের গর্তের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার পর এর রহস্য উদঘাটনে বিজ্ঞানীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল৷ গোড়ার দিকে একে পৃথিবীর গভীরতম নীল গর্ত বলে মনে করেছিলেন তাঁরা, যেটা প্রায় ৩০১ মিটার নীচে চলে গিয়েছে৷ যদিও পরবর্তীকালে মেক্সিকো উপসাগরে আরও গভীর সামুদ্রিক গর্তের হদিস মেলে৷দুনিয়ার তাবড় নীল গর্তগুলির মধ্যে শীর্ষস্থান হারালেও গঠন শৈলীর দিক থেকে ড্রাগন হোল কিন্তু অনন্য৷ বিজ্ঞানীরা কখনওই একে শুধুমাত্র রেকর্ডের তালিকায় থাকা কোনও প্রাকৃতিক ঘটনা হিসাবে দেখননি৷ বরং জলবায়ু পরিবর্তন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কী ভাবে সেটা প্রাকৃতিক ভাবে সংরক্ষণ পেল, সেটা বোঝার চেষ্টা করেছেন তাঁরা৷ সমুদ্রের বুকে তৈরি হওয়া নীল গর্তকে সাধারণ ভাবে উল্লম্ব খাদ বলা যেতে পারে৷ কিন্তু ড্রাগন হোল একেবারেই সে রকম নয়৷ বিস্তারিত জরিপে দেখা গিয়েছে, যত নীচে নেমেছে, ততই কাত হয়ে গিয়েছে ওই গর্ত৷

২০১৭ সালে ড্রাগন হোলের রহস্য উদঘাটনে কোমর বেঁধে লেগে পড়েন বিজ্ঞানীরা৷ সামুদ্রিক দিকনির্ণয়কারী সরঞ্জাম এবং উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন রোবট নামিয়ে সংশ্লিষ্ট গর্তটির ত্রিমাত্রিক এক মানচিত্র তৈরির চেষ্টা করেন তাঁরা৷ তাঁদের পরিশ্রম বৃথা যায়নি৷ মানচিত্র তৈরির ব্যাপারে অনেকটাই সাফল্য পায় ওই গবেষকদের দল৷ সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের দাবি, গর্তটির সঠিক গভীরতা হল ৩০১.১৯ মিটার৷ ড্রাগন হোলের ভিতরের দেওয়াল বাঁকানো এবং এর ভিতরে খাড়া কৌণিক বিন্দুতে কঠিন পাথুরে জমি রয়েছে৷ তা ছাড়া গর্তটির ভিতরে কিছু কিছু জায়গায় ধসের চিহ্ণ মিলেছে৷ গবেষকেরা মনে করেন, ড্রাগন হোল একেবারেই নতুন গজিয়ে ওঠা গর্ত নয়৷ এর জন্মের ইতিহাস বেশ পুরনো৷ দ্বিতীয় পর্যায়ে ড্রাগন হোলে অত্যাধুনিক ডুবো রোবট নামায় গবেষকদের দল৷ তার গায়ে আবার দিক নির্ণয়ের একাধিক সরঞ্জাম লাগানো ছিল৷ রোবটটি খুব দ্রুত নীল গর্তটির ভিতরে ঢুকে যায়নি৷ বরং ধীরেসুস্থে, কিছুটা সন্তর্পণে এগিয়েছে বলা যেতে পারে৷ ওই ডুবো রোবটের পাঠানো তথ্যের উপর ভিত্তি করে ত্রিমাত্রিক মানচিত্র আঁকতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা৷ তবে মানচিত্র তৈরি হলেও ড্রাগন হোলের রহস্যভেদ যে করা গিয়েছে, এমনটা নয়৷ কারণ গবেষকদের দাবি, গর্তটির ভিতরে রয়েছে অসংখ্য সুরু খাঁজ ও ঘরের মতো জায়গা৷ হাজার হাজার বছর আগে সেগুলি কী ভাবে তৈরি হল, তা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে৷

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ড্রাগন হোলের ভিতরে সিঁড়ির ধাপের মতো একটা জায়গা রয়েছে৷ সেটা কিছুটা এঁকেবেঁকে নীচের দিকে নেমে গিয়েছে৷ এই বৈশিষ্ট্যগুলি প্রাচীন সমুদ্রপৃষ্ঠের সঙ্গে সারিবদ্ধ, যেটা শীতকালে তৈরি হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে৷

দক্ষিণ চিন সাগরের ওই গর্তটির সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হল এর রসায়ন৷ ড্রাগন হোলের উপরের দিকের ৯০ থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত অক্সিজেন রয়েছে৷ ফলে এখনও সেখানে সামুদ্রিক জীবের অস্তিত্ব দেখতে পাওয়া যায়৷ কিন্তু, তার চেয়ে নীচে নামলে আর সেটা পাওয়া যায় না৷ ফলে সেখানে কোনও প্রাণের অস্তিত্ব নেই৷

ড্রাগন হোলের গভীরতম স্তরে হাইড্রোজেন সালফাইডের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা৷ এটি জীবন ধারণকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে৷ গর্তটির ভিতরের জলস্তরের মধ্যেও একাধিক রাসায়নিক জটিলতা রয়েছে, যা অন্যান্য সামুদ্রিক নীল গর্তে প্রায় বিরল, বলছেন বিশ্লেষকেরা৷

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved