প্রাকৃতিক সুগন্ধীর স্নায়ু ও মনের ওপর হিতকর প্রভাব ঃ
কেয়া–Pandanus fascicularis Lam. ঃ
পরিচয় ও প্রজাতি ঃ কেত কন ঞ্চ কেতক (কেতক ঞ্ছকে ঞ্ছ কেআঞ্ছ কেয়া)৷ কেয়াফুল গ্রীষ্মপ্রধান দেশে বনেজঙ্গলে নদীর ধারে স্বাভাবিক নিয়মে জন্মে থাকে৷ এমনকি রাজস্থানের মরুভূমিতেও আমি কেয়ার গাছ জন্মাতে দেখেছি৷ দেখেছি হিমালয়ের কিছু ঊর্ধ্ব দেশেও৷ দেখেছি তামিলনাড়ুর তরঙ্গায়িত রক্ত মৃত্তিকায়, কোঙ্কণ উপকূলের লবণাক্ত সমুদ্র বিধৌত এলাকায়, দক্ষিণ সুন্দরবনের কুম্ভীর শাসিত খাড়ি এলাকায়৷ অতি ৰৃহৎ অর্থাৎ ৩০–৩৫ ফুট থেকে ছয়–সাত ইঞ্চি পর্যন্ত অজস্র প্রকারের কেয়ার প্রজাতি রয়েছে৷
কেয়ার ঔষধীয় গুণাগুণ ঃ কেয়া ফুলের গন্ধ শুধু তৃপ্তিদায়কই নয় রুচিকারক তথা পরিপাকশক্তি–ৰর্ধক্৷ ঙ্মমন ও স্নায়ুর পক্ষে স্নিগ্ধকারক৷ৰ কেয়া থেকে নানান প্রসাধন সামগ্রী প্রস্তুত করা হয়৷ কেয়া থেকে কেয়াবাসিত খদির বা কেয়া–খয়ের প্রস্তুত হয়৷ কেয়াফল হরিণের প্রিয় খাদ্য৷ ৰৃহদাকার কেয়া গাছের যে ফল তা দক্ষিণ ৰাংলার মানুষ অম্বল বেঁধে খায়৷ কেয়া পাতার আঁশ থেকে এককালে বস্ত্র প্রস্তুত করা হত৷ ঙ্ম এখনও এই বস্ত্র তৈরী হতে পারে ৰ৷
বন রচনায় কেয়া ঃ দেশের ঝোপজঙ্গল শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে কেয়াও নির্মূল হতে চলেছে৷ অথচ নদীতীরে কেয়া থাকা দরকার৷ তাতে ভূমির অবক্ষয় (soil erosion) রোধ করা যায়৷ পশ্চিম রাঢ়ের সেচ খালের পাশে কেয়া গাছ লাগানোর প্রয়োজন রয়েছে৷ যে কোন অরণ্যে কিছু পরিমাণ কেয়া গাছ থাকা খুবই দরকার, কারণ অরণ্যের তৃণভোজী জীব মাত্রেই কেয়া ফলের বীজ খেতে ভালবাসে৷
কেওড়া–জল বা কেওড়া–নির্যাস প্রস্তুত প্রণালী ঃ কেতকরকঞ্ছকের কেআরঞ্ছ কেয়ারাঞ্ছ কেওড়া৷ কেয়ারই প্রকারভেদকে [Processed] কেওড়া বলা হয়৷ কেয়ার দ্বারা সুবাসিত জলকে আমরা সাধারণতঃ কেয়া–জল না বলে কেওড়া–জল ৰলে থাকি৷
একটি বয়ামে একটি প্রস্ফুটিত কেয়া ফুলের পাপড়িগুলি ভালভাবে ছাড়িয়ে দিয়ে (ছিঁড়ে দিয়ে নয়) ফুলটি শুইয়ে রেখে দাও৷ এবার একটি মিহি বস্ত্র খণ্ডকে জলে সপ্সপে করে ভিজিয়ে সেই ফুলটার ওপরে শুইয়ে রেখে দাও৷ এবার ওই বস্ত্রখণ্ডটির ওপরে আর একটি কেয়া ফুলের পাপড়ি ছাড়িয়ে ফুলটিকে শুইয়ে রেখে দাও৷ তার ওপর আর একটি মিহি বস্ত্রখণ্ড জলে সপ্সপে করে ভিজিয়ে রেখে দাও৷ এরকম কয়েকটা স্তর করতে পার৷ এরপর বয়ামের মুখ বন্ধ করে দাও৷ ওই বয়ামটাকে কোন শুকনো অথচ রৌদ্রহীন জায়গায় রেখে দাও৷ তৃতীয় দিনে ওই বয়াম থেকে কেয়া ফুলগুলি ও ন্যাকড়াগুলি বের করে নাও৷ এবার দেখবে ন্যাকড়াগুলোতে কেয়ার গন্ধ ভুরভুর করছে৷ এবার ওই ন্যাকড়াগুলোকে নিঙড়ে ওই নিঙড়ানো জলকে সযত্নে কোন পাত্রে ঢ়েলে দাও৷ দেখবে ওই জলেতে কেয়া ফুলের গন্ধ উপচে পড়ছে৷ এই হলো কেয়া ফুলের ঘন নির্যাস৷ এক ৰোতল সাধারণ পরিশ্রুত জলে কেয়ার এই ঘন নির্যাস কিছু পরিমাণ ঢ়েলে দিলে, ৰোতলের সমগ্র জল কেয়া ফুলের গন্ধে ভরপুর হয়ে যাবে৷ ওই ৰোতলের জলকে বলব কেওড়া জল৷
যেভাবে কেওড়া জল তৈরী হল সেইভাবে কেওড়া আতরও তৈরী করতে পার৷ তফাতের মধ্যে এই যে আতর তৈরী করতে গেলে বস্ত্রখণ্ডগুলি জলে না ভিজিয়ে চন্দন তেলে ভিজিয়ে নিতে হবে৷৩৪ (দ্রব্যগুণে রোগারোগ্য থেকে গৃহীত)