গোখরো বা শঙ্খচূড়ের মতো সাপের বিষের প্রতিষেধক আবিষ্কারে সাফল্য পেল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (আইআইএসসি), বেঙ্গালুরু৷ প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন গবেষক, ডেনমার্কের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি-র (ডিটিইউ) সঙ্গে যৌথ ভাবে তৈরি করেছে একটি রিকম্বিন্যান্ট, ন্যানোবডি-ভিত্তিক অ্যান্টিভেনম৷ এটি ভারতীয় একাধিক প্রজাতির বিষের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে৷
আইআইএসসি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় সাপের কামড়ে, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক৷ সাপের বিষে বিভিন্ন ধরনের টক্সিন থাকে, যা স্নায়ু, রক্ত বা কলাকোষে আক্রমণ করে৷ ফলে বিভিন্ন প্রজাতির সাপের বিষের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কার্যকর চিকিৎসা তৈরি করা খুব কঠিন৷
গবেষকেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে যে সব অ্যান্টিভেনম প্রচলিত, সেগুলির কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে৷ সব ধরনের সাপের বিষে একই ধরনে অ্যান্টিভেনম কাজে আসে না, আবার তার পার্শপ্রতিক্রিয়াও এক একজন রোগীর ক্ষেত্রে এক রকম৷ তা ছাড়া, পরীক্ষা চালানোর ক্ষেত্রে অনেক প্রাণহানি (মনুষ্যেতর) ঘটে থাকে৷ গোটা পদ্ধতিটি যথেষ্ট খরচ সাপেক্ষ৷
এই সমস্যার সমাধানেই আইআইএসসি-র সেন্টার ফর ইকোলজিক্যাল সায়েন্সেস-এর সহযোগী অধ্যাপক কার্তিক সুনাগর এবং ডিটিইউ-র অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস লাউস্টসেন বিভিন্ন ভারতীয় গোখরো প্রজাতির বিষের বিরুদ্ধে কার্যকর একটি অ্যান্টিবডি তৈরি করেন৷ ‘সায়েন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন’ পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণায় জানা যায়, বিভিন্ন ভারতীয় গোখরোর বিষের সাহায্যে উটজাতীয় প্রাণীর অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়৷ এর আগে লাউস্টসেন ও তাঁর সহকর্মীরা বিভিন্ন আলপাকা ও লামার রক্ত থেকে অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করে তা মাইক্রোবিয়াল কোষের সাহায্যে পরীক্ষাগারে অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করেছিলেন৷
সাধারণ অ্যান্টিভেনমের ক্ষেত্রে ঘোড়ার মতো প্রাণীকে বারবার বিষ দিয়ে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে হয়৷ কিন্তু এই রিকম্বিন্যান্ট অ্যান্টিবডি মাইক্রোবিয়াল এবং মানব-উপযোগী এক্সপ্রেশন সিস্টেমেও তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে গবেষকেরা৷ আইআইএসসি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ইঁদুরের উপর করা এক পরীক্ষায় এই ন্যানোবডি ককটেলটি স্পেকট্যাকলড কোবরা, মনোকলড কোবরা এবং ভারতের দুই প্রজাতির কিং কোবরার বিষের বিরুদ্ধে কাজ করে তার কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে৷ ন্যানোবডি ককটেলটি বিষের কার্যকলাপ নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি বিষকে তার নির্দিষ্ট রিসেপ্ঢরের সঙ্গে যুক্ত হতেও বাধা দেয়৷ গবেষকেরা জানান, বিষ প্রয়োগের ৩০ মিনিট পরেও অ্যান্টিভেনমটি কার্যকর ছিল এবং পক্ষাঘাত বা স্নায়ুবিষক্রিয়ার উপসর্গ থাকা ইঁদুরগুলিকেও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে৷ তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে আরও চিকিৎসাগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাপের প্রজাতিকে সুরক্ষার আওতায় আনতে অতিরিক্ত অ্যান্টিবডি উপাদান যোগ করা যেতে পারে৷ ফলে বিভিন্ন অঞ্চল বা নির্দিষ্ট সাপের প্রজাতি অনুযায়ী রিকম্বিন্যান্ট অ্যান্টিভেনম তৈরি করা সম্ভব হতে পারে৷