Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

শোভাঞ্জন বা শোজনে

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

পরিচয় ও প্রজাতি ঃ তোমরা শোভাঞ্জন বা শোজনের অথবা Moringa oleifera pterygosperma Gaetn. সঙ্গে ভাল ভাবেই পরিচিত৷ শোভাঞ্জন > শোহাঞ্জন > শোআঞ্জন > শোজিনা > শোজনে৷ শোভাঞ্জন শব্দের ভাবারূঢ়ার্থ হ’ল চোখের শোভা৷ শীতকালে যখন শাদা শোজনে ফুলে গাছ ভরে যায় তখন তা দেখতে ভারী সুন্দর লাগে৷ তাই এর নাম শোভাঞ্জন৷ শোজনের ফুল আসে শীতের মাঝামাঝি সময়ে৷ ডাঁটা ধরে শীতের শেষে–সেই সময়ে যে সময়ে বসন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব হয়৷

বার মেসে শোজনের ফুল একটু হলদেটে বা ঘিয়ে রঙের, স্বাদও একটু কম লোভনীয়৷ দেখতেও ততটা সুন্দর নয়৷ নাজনের ডাঁটা একটু মোটাসোটা৷ স্বাদ শোজনের চেয়ে কিছুটা কম৷ বারমেসে শোজনেকে কলকাতায় আমরা নাজনে বলি, বর্দ্ধমানে বলি শাজনা৷ অসম, ৰাংলা, ওড়িষ্যা, মিথিলা ও পূর্বভারতের সর্বত্রই মাটি ও আবহাওয়া শোজনের (ও নাজনের) পক্ষে বিশেষ অনুকূল৷

রক্ত–পরিষ্কারক, চর্মরোগ বিনাশক, যকৃত ও অগ্ণ্যাশয়ের পক্ষে সহায়ক ঃ শোজনেতে সমাবিষ্ট হয়েছে অজস্র গুণ৷ শোজনের মূল (শেকড়গ্গ, ছাল, পাতা, ডাঁটা ও ৰীজ–সব কিছুরই ঔষধীয় মূল্য রয়েছে৷ শোজনে যকৃতের পক্ষে ভাল, রক্ত–পরিষ্কারক, কিঞ্চিৎমাত্রায় রক্তৰর্দ্ধকও৷ শোজনে চর্মরোগ বিনাশক, ক্ষুধাৰর্দ্ধক ও লালাস্রাবী–অর্থাৎ পরিপাক কার্যেও সহায়ক৷ শোজনেতে যে সকল ভাল ভাল গুণ রয়েছে, নাজনেতেও সেই গুণগুলোর সবক’টিই রয়েছে–ঈষৎ অল্প মাত্রায়৷ তাই নাজনেও একটি সুখাদ্য৷ তোমরা শীতের সময় সুযোগ পেলেই শোজনে ব্যবহার করো৷ অন্য সময়ও মধ্যে মধ্যে নাজনে খেও৷ এতে যকৃত, মূত্রাশয়, রক্ত ও চর্ম ভাল থাকবে৷

শোজনে মূলের ছাল ঃ শোজনে মূলের ছাল জিহ্বার আড়ষ্টতা দূর করে৷

শোজনে গাছের ছাল ঃ শোজনে গাছের ছাল কন্ঠস্বরকে মধুর করে৷

শোজনের ফুল ঃ শোজনের ফুল পরিমিত হিসেবে খেলে অগ্ণ্যাশয়ের কাজে সাহায্য করে [ শোজনে ফুল খাওয়ার সবচেয়ে ভাল উপায় হ’ল ৰড়া বা চচ্চড়ী রেঁধে খাওয়া৷ শোজনে ফুলের ঝোল তৈরী করলে তাতে তিক্ততা ও কষাভাব বেশী থাকবেই, তাই এই ভোজন খুব সুখকর হয় না৷]

শোজনের ডাঁটা ও ৰীজ ঃ শোজনের ডাঁটা দন্তমূলের (মাড়ি) শক্তিৰর্দ্ধক৷ শোজনের ডাঁটা একটি সুলভ উচ্চমানের প্রোটিন৷ শোজনে ৰীজের বিষক্রিয়া যথেষ্ট ও অনেক ব্যাধির বিষকে নষ্ট করে দেয়৷ তাই শোজনের ৰীজকে গরাত্মক বলা হয়৷ শোজনের ডাঁটা চিবোবার সময় এমন ভাবে চিবোবে যাতে তার মধ্যস্থিত ৰীজটিও ভাল ভাবে চর্বিত হয়ে উদরসাৎ হতে পারে৷

শোজনের ক্কাথ ঃ শোজনের ক্কাথ (পাতা ও ডাঁটার ঘন ঝোল বা সুরুয়া বা নির্যাস) জীবনীশক্তি–ৰর্দ্ধক রূপে প্রাচীনকাল থেকেই স্বীকৃত ঙ্ম প্রথম পাতে শোজনে পাতার ঝোল, ডিস্পেপসিয়া বা অজীর্ণ রোগেরও ঔষধ কাঁচা শোজনে পাতার রস এক চামচ ভোরে খালি পেটে কয়েক দিন খেলে যকৃত ও অগ্ণ্যাশয়ের কাজে সহায়ক হয় ৰ৷

শোজনে ৰীজের তেল ঃ শোজনের পাকা ডাঁটার ৰীজ থেকে যে তেল পাওয়া যায় সেই তৈল নানান চর্মরোগের ঔষধ৷

অন্যান্য ব্যবহার ঃ কম বয়সের ছেলেমেয়েদের যখন বয়ঃব্রণ বা মুখ–ব্রণ হয়, সে সময় পরিমিত মাত্রায় শোজনের ফুল, ছাল, পাতা, ডাঁটা, ৰীজ যে কোন একটি খেলে ব্রণের প্রকোপ প্রশমিত হয়৷ শোজনের মূল, পাতা, ফুল ও ডাঁটা বসন্তরোগের (গুটিকা) প্রতিষেধক৷

শোজনে ও মুগা রেশম ঃ হেমন্তের শেষে শোজনে গাছে প্রচুর পরিমাণে শুককীট (cater pillar) দেখা যায়৷ এদের থেকে উন্নত মানের অ–তুঁত রেশম (non-mulberry silk) তৈরী করা হয়৷ এই শোজনে পাতা খাওয়া শুককীটের দ্বারা যে অ–তুঁত রেশম তৈরী হয় তাকে মুঙ্গা বা মুগা বলা হয়৷ শোজনে বা শোভাঞ্জনের অন্য নাম মুদগক৷ তার থেকে মুংগা/মুঙ্গা শব্দ আসছে৷ শোজনে গাছের পাতার মাদকতায় মুগা–রেশমের প্রজাপতি এতেই ডিম পাড়ে৷ বাচ্চারা যখন শোঁ–পোকা হয়ে জন্মায় তখন ওই গাছের কাছাকাছি জায়গায় যায় কার সাধ্যি! এই শোঁ পোকারাই শেষ পর্যন্ত মুগা রেশমের গুঁটি ৰাঁধে৷

এই মুংগা বা মুগা শিল্প প্রাচীনকালে অসমে বেশ উন্নতি লাভ করেছিল৷ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শোজনে চাষ করে ৰাংলায় প্রচুর পরিমাণে মুগা রেশম প্রস্তুত করা যায়৷ এমন কি এদিকে একটু বেশী নজর দিলে সমগ্র ৰাংলার বস্ত্রের প্রয়োজন এক মুগা রেশমেই মিটিয়ে দেওয়া যায়৷ একটু চেষ্টা আর একটু আন্তরিকতা থাকলে আজ যাদের দরিদ্র কর্ষক বলছি তাদেরও মুগা বস্ত্র (রেশম) পরাতে পারি৷ রাঢ়ের টাঁড় জমি যা অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকে তাতে শোভাঞ্জনের চাষ করে মুগার উৎপাদন ৰাড়ানো আদৌ অসম্ভব নয়৷         (শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের ‘দ্রব্যগুণে রোগারোগ্য’ থেকে)

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved