Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

‘কান্দি’ আর ‘কাঁথি’ এক নয়

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

কাঁদির সঙ্গে কাঁথি নামের কোন সম্পর্ক নেই৷ কাঁথি নামটা এসেছে ‘কান্থিক’ থেকে যার মানে চাদর বা আবরণ৷ ‘চাদর’ শব্দটা কিন্তু ফার্সী৷ উর্দুতে ‘চাদর’ স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দ অর্থাৎ ‘মেরা চাদর’ নয়, হবে ‘মেরী চাদর’৷ মুর্শিদাবাদ জেলার কাঁদি আর মেদিনীপুরের কাঁথি দু’টোর উচ্চারণ ইংরেজদের কাছে খুবই কাছাকাছি, তাই তাঁরা কাঁথির জন্যে ‘কণ্টাই’ Contai) শব্দ ব্যবহার করতেন৷ কাঁথি এই নামকরণের পেছনে দু’টো কারণ নিহিত রয়েছে৷ একটা হচ্ছে কাঁথির নামজাদা বস্ত্রশিল্প---বস্ত্র অর্থাৎ আবরণ৷ এক কালে কাঁথির তাঁত বস্ত্র বর্হিভারতে রপ্তানী হত৷ দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে কাঁথির বৈদুষ্যের খ্যাতি (বৈদষ্য একটি আবরণ)৷ এককালে কাঁথি বিদ্যাচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল৷ যথেষ্ট সংখ্যক সংস্কৃত পণ্ডিতের এখানে বাস ছিল৷ এখন নেই নেই করেও কাঁথি একেবারে হীনপ্রভ হয়ে যায় নি৷

লেগুয়া থেকে সরকারী দপ্তর উঠে যাবার পর কাঁথির বিস্তৃতি ঘটে৷ এখন অনেক ব্যাপারেই শহরটি অনেক জেলা-শহরের থেকেও উন্নত৷ সেকালে অনেক জেলা-শহরেই কলেজ ছিল না৷ কাঁথিতে কলেজ তখনও ছিল৷ আমার পরিচিত ওড়িষ্যার অনেক বয়স্ক মানুষেরা কাঁথি কলেজ থেকে লেখাপড়া শিখেছিলেন৷ তৎকালীন ওড়িষ্যার পাঁচটি জেলার (কটক, পুরী, বালেশ্বর, অঙ্গুল-খোন্দমহল, সম্বলপুর) মধ্যে কেবলমাত্র কটকে র‌্যাভেনশ কলেজটি ছিল৷ তাই কাঁথির বিদ্যাগত গুরুত্ব মানতে হবে বৈ কি!

সেকালের বিহার ও ওড়িষ্যা প্রদেশে কলেজের স্বল্পতা নিবন্ধন আমি ও আমার অনেক বন্ধু কলকাতার কলেজে পড়তে আসতে বাধ্য হয়েছিলুম৷ কাঁথির সংস্কৃত ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না৷ সেখানে একটি সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারলে মন্দ হত না৷ আমার দৃঢ় অভিমত যে কবি কালিদাস এই কাঁথি এলাকার অধিবাসী ছিলেন৷ কাঁথির বহুমুখী উন্নতির অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে৷ সেদিকে সংশ্লিষ্ট মানুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি৷

খুব ভাল হয় যদি হলদিয়া থেকে কাঁথি-দীঘা হয়ে দাঁতন পর্যন্ত একটা রেলওয়ে লাইন টানা যায়৷ এতে হলদিয়া বন্দরের যেমন উন্নতি হবে তেমনি কাঁথি শহর নোতুন দিনের আলো পাবে৷ সৈকত-শহর দীঘা আরও জনপ্রিয় হবে ও দক্ষিণ মেদিনীপুর নোতুন আলোয় ভেসে উঠবে৷ শুধু তাই নয়, এতে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা, পাণ-চাষীরা, কলা-চাষীরা ও ফুল-চাষীরা তাঁদের পণ্যের উপযুক্ত মূল্য আশা করতে পারবেন৷ সমুদ্র তীর বরাবর এ্যারোকেরিয়া বর্গীয় (জাপানী ঝাউ গাছ লাগালে শোভা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সামুদ্রিক ঝড় প্রতিরোধেও অনেকটা সুবিধা হবে কারণ, ওই ধরনের গাছের ঘুর্ণিঝড় প্রতিরোধের কিছুটা ক্ষমতা আছে৷ হলদিয়া থেকে সমুদ্র বরাবর সুবর্ণরেখার মোহানা পর্যন্ত মেরিন-ড্রাইভ গোছের একটি রাস্তা তৈরী হ’লে আরও ভাল হয়৷ এতে শুধু ভ্রমণকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হবে তাই নয়, পথিপার্শ্বে ছোট-বড় ব্যবসা কেন্দ্র ও শহর গড়ে উঠবে৷ তাতে স্থানীয় মানুষের আর্থিক উন্নয়নে বিশেষ সুবিধা হবে৷ কাঁথি-জুনপুটের মধ্যবর্তী এলাকায় সমুদ্র-নির্ভর শিল্প গড়ে তোলা যায়৷ কাঁথির কাছে রসুলপুর নদীর মোহানায় ছোট একটি বন্দরও গড়ে তোলা যায়৷ প্রাকৃতিক সুযোগ-সুবিধা থাকায় বন্দর তৈরীর খরচও পড়বে যৎসামান্য৷

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved