বর্তমান অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচার একমাত্র পথ ‘প্রাউট’

লেখক
সত্য দেব 

অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপের বুকে ঝড় উঠেছিল, রাজতন্ত্র ও অভিজাততন্ত্র থেকে মুক্তি চাই৷ রুশো, ভলতেয়ার প্রভৃতি দার্শনিক ছিলেন এই ঝড়ের পুরোভাগে৷ তাঁদের সাথে এগিয়ে এলেন আরও একজন চিন্তানায়ক–তিনি হচ্ছে অ্যাডাম স্মিথ৷ তিনি দাবী তুললেন–মানুষকে অর্থনৈতিক জগতেও সমস্ত বিধিনিষেধের বন্ধন থেকে মুক্তি দিতে হবে৷ তাই এই দাবী–বিখ্যাত ‘Laissez faire’  স্লোগানের মধ্য দিয়ে মূর্ত্ত হয়ে উঠল৷ তিনি বললেন, মানুষ নিজের স্বার্থ (এখানে–অর্থনৈতিক স্বার্থের কথাই দ্রুত বলা হচ্ছে) নিজেই ভাল করে বোঝে, তাই এ ব্যাপারে তাকে পূর্ণ–স্বাধীনতা দিলে–সে যেমন দ্রুত নিজেকে আর্থিক উন্নতি করতে পারবে, তেমনি ব্যষ্টির আর্থিক উন্নতি সমাজেরও আর্থিক উন্নতি ঘটাবে৷ [‘‘by pursuing his own interest he (man) frequently promotes that (interest) of his society more effectively than he really intends to promote it’’]  তাই ব্যষ্টিকে পূর্ণ স্বাধীনতা দাও–রাষ্ট্র তার উপর যত কম বিধিনিষেধ আরোপ করবে ততই মঙ্গল৷ সমাজতত্ববিদদের ভাষায় এর নাম ‘ব্যষ্টিস্বাতন্ত্রবাদ’৷

অ্যাডাম স্মিথ যে তার তত্ত্ব দিয়েছিলেন, একটা বিশেষ পরিস্থিতি তাকে সেই তত্ত্ব দিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল৷ তখন ইউরোপে শুরু হয়েছে শিল্প বিপ্লবের যুগ৷ সাবেকী ধরণের কুটীর শিল্পের জায়গায় মাথা তুলে উঠছে যন্ত্রশিল্প ঃ জেমস ওয়াটের ষ্টীম ইঞ্জিন (১৭৬৯) থেকে হারগ্রেভের কাপড় কল (১৭৬৫) আরও কতকিছু৷ সে যুগের জ্ঞান বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কার যন্ত্রসভ্যতার মাধ্যমে মূর্ত্ত হয়ে উঠতে চলেছে, কিন্তু পদে পদে রাজার বা শাসক গোষ্ঠীর বাধা নিষেধ৷ এই বাধা নিষেধের ডোর ছিন্ন করার যুগোপযোগী দাবী তাই উচ্চারিত হয়েছিল অ্যাডাম স্মিথের কণ্ঠে৷ বলা বাহুল্য, অ্যাডাম স্মিথ সমাজকে দেখেছেন শুধু অর্থনীতি ও সর্বাধিক শিল্পোৎপাদনের চশমা পরে, অর্থনীতির বাইরে মানুষের যে একটা সত্তা রয়েচে সে সব চিন্তা করার অবকাশ তাঁর ছিল না৷ সে যে শোষণ করতে পারে সেটুকুও তার চিন্তার বাইরে ছিল৷

যাই হোক, অ্যাডাম স্মিথের দর্শন থেকে জন্ম নিল ধনতন্ত্র৷ প্রথমটায় এর বিপদ সম্পর্কে মানুষ সচেতন ছিল না, দেখল মার্কেন্টাইলিজমের বাধা নিষেধের জোয়াল ফেলে দিয়ে এই নোতুন শিল্প সভ্যতার জয়যাত্রা উদ্দাম গতিতে এগিয়ে চলেছে৷

কিন্তু ধনতন্ত্র যত এগিয়ে চলতে লাগল ততই দেখা দিল এর এক মারাত্মক উপসর্গ৷ গ্রামীণ কুটীর শিল্প ভেঙ্গে তছনছ হয়ে গেল, কেননা যন্ত্রশিল্পের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সে দাঁড়াতে পারবে কেন? গ্রামের মানুষ বেকার হয়ে এসে কলকারখানার দরজায় ভীড় জমাল৷ আর এদিকে শিল্পমালিকরা শ্রমিকদের যতদূর সম্ভব কম পারিশ্রামিক দিয়ে মুনাফার পাহাড় জমাতে লাগল৷ ফলে রুজি–রোজগারের জন্যে শ্রমিকদের কাজ করতে হত ১৬ ঘণ্ঢার ওপর৷ কঠোর পরিশ্রম করতে হত মেয়েদের–শিশুদেরও৷ আর মালিকরা ওদেরই পরিশ্রমলব্ধ উৎপাদন থেকে দিনে দিনে ধনকুবের হয়ে চলল৷

শ্রমিকদের ওপর মালিকশ্রেণীর এই অমানুষিক অত্যাচারের চিত্র কার্লমার্কসকে নোতুন দর্শন দিতে উদ্বুদ্ধ করল৷ তিনি যা বললেন, তার মূলকথা হ’ল–যুগে যুগে সমাজ একদল পরিশ্রম করে ভোগ্যদ্রব্য উৎপাদন করছে, আর একদল তাদের শোষণ করে প্রথম শ্রেণীর পরিশ্রম লব্ধ ফসল ভোগ করছে, যারা পরিশ্রম করছে–তারাই হচ্ছে বঞ্চিত৷ এই দুই শ্রেণী হ’ল যথাক্রমে সর্বহারা ও পুঁজিপতি শ্রেণী–প্রলিটারিয়েট ও বুর্জোয়া শ্রেণী৷ প্রলিটারিয়েটদের সবাইকে মিলিত হয়ে বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করতে হবে ও বুর্জোয়াদের উৎখাৎ করে সমস্ত উৎপাদন মাধ্যমগুলি সহ রাষ্ট্রশক্তি আদি সমাজের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার উপর একাধিপত্য করতে হবে, তখন সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে সর্বহারার একনায়কতন্ত্র, আর শোষক বুর্জোয়া যখন নিঃশেষ হয়ে যাবে–স্বাভাবিক ভাবে উচ্ছেদ হয়ে যাবে সমাজের যত পাপ–দুর্নীতি আর শোষণের বীজ৷ তখন ধীরে ধীরে সরকারের প্রয়োজন কমতে কমতে তা লুপ্ত হয়ে যাবে–তখন থাকবে না কোন পুলিশ মিলিটারী–কোর্ট–কাছার্৷ কেউ কাউকে শোষণ করবে না–কেউ কাউকে ঠকাবে না–গড়ে উঠবে কমনিজমের স্বর্গরাজ্য৷

কথাগুলি শুনতে এত ভাল যে নিপীড়িত মানুষ এই নিয়ে আন্দোলনে মেতে উঠল৷ রাশিয়া, চীন প্রভৃতি কয়েকটি দেশে কমিউনিষ্ট শাসনও প্রতিষ্ঠিত হ’ল৷ কিন্তু প্রথম ঝোঁকে কমিউনিষ্ট আন্দোলন যা এগিয়ে গেল–তারপর আন্দোলনে পড়ল ভাঁটা৷ লক্ষণীয় বিষয় হ’ল ঃ মার্কসের ভবিষ্যৎ বাণী হিসেবে–তার দর্শনের সূত্র অনুসারে পুঁজিবাদের চরম বিকাশের পরই আসবে সর্বহারা শিল্পশ্রমিকদের বিপ্লব–সর্বাহারা রাজ৷ কিন্তু যে সব দেশে ধনতন্ত্র চরম ভাবে বিকশিত হয়েছে–সে সব দেশে কমিউনিজম প্রতিষ্ঠিত হওয়া তো দূরের কথা–সে সম্ভাাবনাও আজ সুদূর পরাহত হয়ে পড়েছে৷ যে সমস্ত দেশে কমিউনিষ্ট বিপ্লব হয়েছে–সে সব দেশে বুদ্ধিজীবী সমাজের ক্রমবর্দ্ধমান অসন্তোষ, আজও পর্যন্ত সর্বহারা নাম করে যারা শাসনযন্ত্রে অধিষ্টিত রয়েছে তাদের জবরদস্ত একনায়কতন্ত্রী দমননীতি, নিরপেক্ষ পত্র–পত্রিকা–পুস্তক্ তথা মানুষের স্বাধীন মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, নীতি, ধর্ম তথা মানুষের উচ্চ মূল্যবোধগুলির ওপর ষ্টিমরোলার চালনা–এ সমস্ত আজ অবশিষ্ট সমাজের মনে প্রশ্ণ জাগিয়ে তুলেছে–এই কি শোষণ–মুক্তির পরাকাষ্ঠা? শোষণ যে কেবল অর্থনৈতিকই হতে হবে, তা তো নয়–শোষণ অন্যান্য ক্ষেত্রেও হতে পারে–মানুষের স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার–তার নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশের অধিকার–এ সবই তো মৌলিক মানবীয় অধিকার৷ যেহেতু মানুষ–‘মানুষ’–পশু নয়–সেহেতু সে কেবল দৈহিক ক্ষুধা মিটিয়েই সন্তুষ্ট হতে পারে না–তার মানসিক ও আধ্যাত্মিক ক্ষুধা রয়েছে–এখানে যদি মানুষের সামনে নিষেধের দেওয়াল তুলে দেওয়া হয়–তাহলে মানুষ তো শুকিয়ে মরবে–জেল জীবনের চেয়ে এ জীবন কোন হিসেবেই বা উন্নততর? এটা বিশেষ দেশের বিশেষ পরিস্থিতিতে পুঁজিবাদী শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া কার্লমার্কসের মনকে এমনিভাবে আচ্ছন্ন করে দিয়েছিল যে সে অবস্থায় তিনি জীবনের সর্বাঙ্গীন সমস্যা সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেন নি, তাই তাঁর দশন একটা বিশেষ যুগের বিশেষ ধরণের পরিস্থিতিতে সমাজের কিছু রোগের অব্যর্থ দাওয়াই হিসেবে কাজ করলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে–নোতুনতর রোগের উপসর্গের ক্ষেত্রে তার কার্যকারিতা অনেক পরিমাণে, কোথাও বা পূর্ণতঃ লুপ্ত হয়ে গেছে৷

তাছাড়া মানুষের সব আচরণ জড়বস্তুর মত দুর্লঙঘ্য নিয়ম মেনে চলবে–এমনটি নয়, আর নয় বলেই মার্কসের ফরমুলা অনুসারে–না বুর্জোয়া শ্রেণী না শোষিত সর্বহারা শ্রেণী–এমনকি মার্কসীয় তাত্ত্বিকরা আর বাঁধা পথে চলবে না৷ তার ফলে সর্বত্র কম্যুনিষ্ট আন্দোলন বিপর্যস্ত হয়ে যাচ্ছে৷ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে৷ এই কমিউনিষ্ট আদর্শ নিয়ে হাজারো পরস্পর বিবদমান দল গঠিত হচ্ছে, মাকর্স কোথায় বলেছিলেন, বিশ্বের সমস্ত সর্বহারা এক জাতি, এক প্রাণ–তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই–সে তো অনেক দূরের কথা পাশাপাশি দুটো বৃহৎ কম্যুনিষ্ট রাষ্ট্র রাশিয়া আর চীন–ঐক্যবদ্ধ হতে পারল না, শুধু তাই নয়–বরং মার্কিন সহ অন্যান্য পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে প্রস্তুত, অথচ পরস্পর লড়ছে উসোরী নদীর দুই তীরে৷

বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষ তাই দিশেহারা, তা হলে তাদের মুক্তির পথ কোনটা–এই প্রশ্ণে আজ তাদের মনে তুমুল ঝড় উঠিয়েছে৷ ঠিক এই অবস্থায় এসেছে নোতুন সমাজ দর্শন–প্রাউট (প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্ব) যার প্রবক্তা মহান সত্যদ্রষ্টা ঋষি ও মানবতাবাদী দার্শনিক শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার৷ শ্রীসরকার প্রাউট দার্শনিক বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে এই দর্শনের মূল স্তম্ভগুলিকে৷ নিম্নে তার প্রধান কয়েকটির ওপর আলোকপাত করা হচ্ছে–তুলনামূলক আলোচনা করে এই যথার্থতা তুলে ধরা হচ্ছে৷

সংশ্লেষণাত্মক মতবাদ

জড়বাদ ও ভাববাদের দ্বন্দ্ব আজকাল দার্শনিকদের কাছে একটা বিরাট তর্কের বিষয় হয়ে উঠছে৷ কেউ জড়বাদের সমর্থক–কেউবা ভাববাদের৷ বলা বাহুল্য, মার্কসিজমে জড়বাদের শুধু কট্টোর সমর্থনই আছে বললে ভুল করা হবে–মার্কসসিজমের ভিত্তিই জড়বাদ৷ মার্কসিষ্টরা পুঁজিবাদীদের ভাববাদী বলে গালি দেন৷ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পুঁজিবাদীরাও কট্টোর জড়বাদী৷ তারাও কোন ‘ভাব’ নয়, জড়–টাকা–ধন–দৌলতকেই জীবনের সবকিছু মনে করে৷ তাই তারা তা উপার্জনের জন্যে সব শক্তি ও সব রকমের কৌশল প্রয়োগ করে৷ প্রকৃত ভাববাদী হলে ধন–দৌলতের পেছনে ক্ষেপা কুকুরের মত ছুটত না, বা এর জন্যে নীতি ও মানবতা বিসর্জন দিত না৷ তবে মুখে তারা একটা ভাববাদ বা তথাকথিত ধর্মের বুলি কপচাতে থাকে, ধার্মিক সেজে ভণ্ডামী করে৷ আরও অর্থ–সম্পদ লাভ করার ‘সর্ট কার্ট’ পন্থা অনুসারে তারা তাদের কল্পিত দেবদেবীদের কাছ থেকে কিছু কৃপা আদায় করার ফিকিরের সন্ধানে থাকে, কিন্তু এটাকে কম্মিনকালেও ধর্ম বলা যেতে পারে না৷ কার্ল মার্কস তাদের ভণ্ডামী দেখে ধর্মের বিচার করেছেন, সাধুবেশী রাবণের আচরণ দেখে সাধুর চরিত্র বিশ্লেষণ করে যেমন বিজ্ঞতার পরিচয় নয়, তেমনি কার্লমার্কস এই ভণ্ডদের বা অর্থলোভী কিছু পাপকে (এরা আরও ভণ্ড) দেখে ধর্মের বদনাম করতে উঠে পড়ে লেগেছিলেন–ও ধর্মকে জনগণের শোষণের হাতিয়ার বলে, ধর্মপন্থীদের বুর্জোয়ার দালাল বলে ফতোয়া জারী করে বসেছেন৷ অর্থাৎ মার্কসবাদীদের মতে খৃষ্ট, বুদ্ধ, চৈতন্য, রামকৃষ্ণ–এরা বুর্জোয়ার দালাল, ও শোষক বুর্জোয়াদের দ্বারা নিয়োজিত জনস্বার্থবিরোবী সমাজের দুষ্ট ক্ষত৷ মার্কস বাদের এই মৌলিক ত্রুটির দিকটি আরও বুঝিয়ে বলবার কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না৷ ভিত্তি যে দর্শনের এতটা ফাঁপা–তাদের দর্শনের ইমারতটা কতটা মজবুত সহজেই অনুমেয়৷

জড়বাদীরা বলেন জড় থেকে সবকিছুর সৃষ্টি, এ ব্যাপারে তারা বৈজ্ঞানিক গবেষণার দোহাই দেন, কিন্তু যে বৈজ্ঞানিকদের জড়বাদীরা প্রধান সাক্ষী মানছেন, সেই বৈজ্ঞানিক শিরোমণি আইনষ্টাইন থেকে শুরু করে এডিসন, জিনস প্রভৃতি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রের দিকপালরাই আজ জড়ের উৎস সন্ধানে বেরিয়ে ? বস্তুহীন তরঙ্গ, এমনকি মন বা চৈতন্যের সমুদ্রের সন্ধান পেয়ে বসেছেন৷ বিজ্ঞানী জিনস Little is left of the forbidding materialism of the Victorian Scientists : modern physics is moving in the direction of philosophical Idealism’ (Presidential Address to the British Association, Sept. 1934).

জড়বাদীর সর্বপ্রধান সাক্ষী বিজ্ঞানীরাই যখন বিরুদ্ধে রায় দিলেন তখন জড়বাদ আর টিকছে কই? তাই দার্শনিক রাসেল ত্মন্দ্বব্দব্দন্দ্বপ্ত বলছেন–‘জড়বাদ আর বেঁচে নেই, তার মৃত্যু ঘটেছে’৷

এবার দেখা যাক ‘ভাববাদ’৷ ভাববাদীরা এই জগৎকে এই নিত্য ভাবজগতের অবভাস বা ছায়া মনে করেন৷ ‘ভাববাদী’দের সমগোত্রীয় মায়াবাদীরাও বলেন–‘ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা’৷ এদের কথা শুনে একজন মহাপুরুষ বলেছিলেন–‘লুচি পোলাওটা খাবার সময় এদের কাছে এসব সত্যি, অন্য সময় জগৎ হ’ল মিথ্যা’’৷ সমাজের কাছ থেকে রসদ আহরণ করে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন, অথচ সমাজের জটিল সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে এ সবকে মায়া বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন, এটা স্রেফ আত্মপ্রবঞ্চনা মাত্র৷ সেক্ষেত্রে প্রাউট প্রবক্তা বলছেন ‘‘ব্রহ্মা সত্য জগদপি সত্যমাপেক্ষিকম’’৷–জীবন যতদিন আছে ততদিন এ জগৎও সত্য, এ জগতেরও সমস্ত কর্ত্তব্য সুষ্ঠুভাবে করতে হবে–সমস্ত সমস্যার সমাধানও বীরের মত করতে হবে৷ প্রাউট দর্শন তাই আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রনৈতিক, সাহিত্য, শিল্প–সমস্ত দিকের একটা সমন্বয় সাধন করেছে৷ মানব সংসৃক্তির তথা সভ্যতার সমস্ত উৎকর্ষগুলির মধ্যে এই যে এক সংশ্লেষণের সেতু রচনা–এইটাই প্রাউট দর্শনকে অভিনবত্ব দান করেছে–ও বর্তমান সভ্যতাকে একটা বিরাট বিধবংসী অন্তর্দ্বন্দ্ব থেকে, অবক্ষয় থেকে রক্ষা করছে৷              (ক্রমশঃ)