Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

‘কৃষ্ণ’ নামের একাধিক ব্যাখ্যা

শ্রী শ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী

আজ গীতার একটা শ্লোক নিয়ে আলোচনা করব৷ শ্লোকটাকে গাইডিং বা কন্ড্রোলিং শ্লোকও বলতে পার৷ ব্যাখ্যাটা বিস্তৃতভাবেই করব৷ ধৃতরাষ্ট্রঃ উবাচ (ধৃতরাষ্ট্র বললেন) –

‘‘ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেতা যুযুৎসবঃ৷

মামকাঃ পাণ্ডবাশ্চৈব কিমকুর্বত সঞ্জয়৷৷’’

এটা হচ্ছে গীতার প্রথম শ্লোক৷ এ সম্বন্ধে আগেও ৰলেছি, আজ কেবল মুখবন্ধটুকু বলছি৷ বইটার নাম ‘গীতা’৷ ‘গৈ’ ধাতুর উত্তর ‘ক্ত’ প্রত্যয়, স্ত্রিয়াং ‘ঙীপ্’ করে ‘গীতা’৷ ‘গৈ’ ধাতুর মানে গান গাওয়া ব্ধপ্স ব্দনুন্ধগ্গ৷ ‘গীতা’ মানে যা গাওয়া হয়েছে৷ এটা ভাববাচ্য৷ ভাববাচ্যে কী যেন একটা অস্পষ্ট থেকে যায়, তাই এটাকে স্পষ্ট করা দরকার৷ গাওয়া হয়েছে৷ কে গেয়েছে – না, ‘যা ভগবতা গীতা সা গীতা’ অর্থাৎ ভগবান যা গেয়েছেন৷ এক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ যা গেয়েছেন তা–ই গীতা৷ ‘ভগবতা’ মানে ‘কৃষ্ণেন’, কৃষ্ণের দ্বারা৷ মুখৰন্ধে এটাও বলতে হবে, কৃষ্ণ কে?

‘কৃষ্ণ’ শব্দের তিনটে ব্যাখ্যা আছে৷ ‘কৃষ্’ ধাতু থেকে ‘কৃষ্ণ’ শব্দ এসেছে৷ ‘কৃষ্’ ধাতুর একটা মানে হচ্ছে আকর্ষণ করা, সবাইকে টেনে নেওয়া৷ কৃষ্ ন প্রত্যয় করে ‘কৃষ্ণ’ শব্দ নিষ্পন্ন হয় অর্থাৎ যে সত্তা বিশ্বৰ্রহ্মাণ্ডের সব কিছুকে নিজের দিকে টানছে, আকর্ষণ করছে, বলছে – ‘‘আয়, আয়....আমার কাছে আয়....তোর ভাববার কিছু নেই....তুই আমার কাছে চলে আয়৷ আমি তোর আশ্রয়, আমি তোকে বিপদ থেকে বাঁচাব৷ তোর ঘাবড়াবার কিছু নেই, ভয় পাবার কিছু নেই, আমি তো রয়েছি’’৷ এই কথাটা যিনি বলছেন, সবাইকে নিজের দিকে টেনে আনছেন, তিনিই কৃষ্ণ৷ মন চাইছে কৃষ্ণের দিকে যাব না, তবু মন ছুটে ছুটে সেই দিকে যাচ্ছে৷

বৈষ্ণব কবি বলছেন ঃ ‘‘উচাটন মন না মানে বারণ, শুধু তারই পানে ছুটে যায়’’৷ ভাবছি যাব না, কৃষ্ণের দিকে তাকাব না, তবু কে যেন টেনে নিয়ে যাচ্ছে৷ তাহলে ‘কৃষ্ণ’ শব্দের মানে হ’ল the supreme attractive faculty.

‘কৃষ্ণ’ মানে আবার কালো রঙও হয়৷ কালো রঙ মানুষের মনকে সব থেকে বেশী আকর্ষণ করে৷ যত রঙ আছে তার মধ্যে কালোর দিকে আগে চোখ পড়ে৷ এই জন্যে কালো রঙকে কৃষ্ণ বর্ণ বলা হয়৷ এক্ষেত্রে এই কথাটা মনে রাখা দরকার যে দ্বাপর যুগে যিনি কৃষ্ণ ছিলেন তিনি কিন্তু কালো ছিলেন না৷

‘কৃষ্ণ’ শব্দের তৃতীয় অর্থ হচ্ছে ‘কৃষি ভূঃ’ বা ‘কৃষিভূঃ’৷ ‘কৃষ্’ ধাতুর মানে হ’ল ‘আমি আছি’ এই ৰোধ৷ তোমাদের সকলের মধ্যে ‘আমি আছি’ – এই রকম একটা ৰোধ আছে না ‘‘ম্যায় হুঁ’’, ‘অহং অস্মি’ ‘I exist’ – প্রতিটি মানুষের মধ্যে ‘আমি আছি’ – এই ৰোধ রয়েছে৷ সেই ‘আমি আছি’–ৰোধটায় ধাক্কা লাগলে মানুষ বিরক্ত হয়, চিন্তিত হয়, ক্রুদ্ধ হয়, ভীত–সন্ত্রস্ত হয়৷ এখন এই যে ‘আমি আছি’ ৰোধ, এটা ‘কৃষ্’ ধাতু থেকে আসছে৷ আর ‘ভূ’ ধাতুর মানে হ’ল হওয়া, থাকা৷ ‘কৃষ্ণ’ শব্দের মানে হ’ল যিনি আছেন বলে আমি আছি৷ তিনি অর্থাৎ কৃষ্ণ আছেন বলেই জগৎ আছে, জীব আছে৷ কৃষ্ণের যদি অস্তিত্ব না থাকত, তাহলে জীবের, জগতের অস্তিত্বও থাকত না৷

কৃষ্ণ হলেন পরমপুরুষ৷ পরমপুরুষ না থাকলে জীবেরও অস্তিত্ব থাকত না, বিশ্বৰ্রহ্মাণ্ডও থাকত না৷ তিনি আছেন বলেই জগৎও আছে৷ তাই তাঁকে ‘কৃষ্ণ’ বলা হচ্ছে৷ আমার অস্তিত্ব তাঁর অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল৷ যেমন, ৰাঙলা দেশ আছে বলেই না কলকাতা আছে, কলকাতার অস্তিত্ব ৰাঙলার অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল৷ সুতরাং সে বিচারে ৰাঙলা হ’ল কলকাতার কৃষ্ণ অর্থাৎ ৰাঙলা আছে বলেই কলকাতা আছে৷ আবার ভারত আছে বলেই না ৰাঙলা আছে৷ ভারত হ’ল ৰাঙলার কাছে কৃষ্ণ৷ আবার এশিয়া আছে বলেই না ভারত আছে, তাই এশিয়া হ’ল ভারতের কাছে কৃষ্ণ৷ আর এই পৃথিবীটা আছে বলেই না এশিয়া আছে, তাই পৃথিবীটা হ’ল এশিয়ার কাছে কৃষ্ণ৷ আবার এই যে সৌরমণ্ডল – সূর্য আর গ্রহ–উপগ্রহ নিয়েই এই সৌরমণ্ডল, solar system – এটা আছে ৰলেই না আমাদের এই ক্ষুদ্র পৃথিবীটা আছে৷ তাই সৌরমণ্ডল হ’ল এই পৃথিবীর কাছে কৃষ্ণ৷ আর পরমপুরুষ আছেন বলেই না এই সৌরমণ্ডল–গ্রহ–ন এই সমস্তই রয়েছে৷ সুতরাং পরম পুরুষ হলেন গোটা বিশ্বৰ্রহ্মাণ্ডের কাছে কৃষ্ণ৷ এটা হ’ল কৃষ্ণের তৃতীয় মানে৷ ‘কৃষিভূঃ’ – ‘কৃষ্’ ধাতুর অস্তিত্বের দরুণ ‘ভূ’ ধাতুর অস্তিত্ব অর্থাৎ অস্তিত্বের দরুণ অস্তিত্ব৷

আবার আজ থেকে প্রায় ৩৫০০ বছর আগে দ্বাপর যুগে এক বিরাট পুরুষের জন্ম হয়েছিল মথুরায়৷ তাঁর ৰাৰার নাম ছিল বসুদেব৷ বসুদেবের ছেলে – এই জন্যে তাঁর একটা নাম হ’ল বাসুদেব৷ তাঁর এক কাকার নাম ছিল নন্দ যিনি গো পালন করতেন, আর তাঁর পিতা বসুদেব ছিলেন জেলের সুপারিন্টেন্ডেন্ট৷ মথুরা জেলের জেল–সুপারিন্টেন্ডেন্ট৷ তাঁর এক জ্যাঠামশাই – জ্যেষ্ঠতাত ছিলেন মহর্ষি গর্গ৷ শিশুর যখন জন্ম হ’ল, মহর্ষি গর্গ শিশুর নানান লক্ষণ দেখে গুণাবলীর পর্যালোচনা করে তার নাম রাখলেন ‘কৃষ্ণ’৷ আমাদের আলোচ্য কৃষ্ণ অর্থাৎ গীতার কৃষ্ণ হলেন সেই দ্বাপর যুগের কৃষ্ণ৷

আমি পাশাপাশি এই তিন জনকেই নিয়ে যাব, নিয়ে গিয়ে তারপর একটা পয়েন্টে কয়েনসাইড করিয়ে দেখাব তিন কৃষ্ণই এক৷ তোমরা জান, নরোত্তম দাস ঠাকুর কৃষ্ণের অষ্টোত্তর শত নাম লিখেছিলেন৷ তিনি এক জায়গায় লিখেছিলেন ঃ

‘‘অনন্ত রাখিল নাম অন্ত না পাইয়া৷    

     কৃষ্ণ নাম রাখেন গর্গ ধ্যানেতে জানিয়া৷’’                    ১২ জানুয়ারী ১৯৮০, কলিকাতা

 

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

সংশ্লেষণের মহত্ত্ব
‘কৃষ্ণ’ নামের একাধিক ব্যাখ্যা
মনকে ভারমুক্ত রাখ
অষ্টকমল
ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

পূর্বার্দ্র তত্ত্ব
যোগাযোগের প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে স্থানীয় ভাষার ব্যবহার বাঞ্ছনীয়
মানব প্রগতি
সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
আরও

সম্পাদকীয়

ধর্মের নামে বজ্জাতি
বিদ্বেষ বিষে জর্জরিত বিজেপি
বাঙালী আর একটা অগ্ণি স্ফুলিঙ্গের অপেক্ষায়
প্রতিকুলতাকে প্রতিহত করে এগিয়ে চলার দুর্জয় ইচ্ছাশক্তি বাঙালীর আছে
মশাহীন দেশের তকমা ধরে রাখতে পারল না আইসল্যান্ড

প্রবন্ধ শিরোনাম

আঞ্চলিক শ্রীবৃদ্ধির পথ ধরে বিশ্বৈকতাবাদের প্রতিষ্ঠা
ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক খেলা বন্ধ হোক
হিংস্র দুঃসময়ের সম্মুখীন বাঙালী
1 বাউল মহারাজ আবুল সরকারের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ
গোরাচাঁদ ও একতারা
ভারত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার রক্ষা ও সংবিধানকে বাঁচিয়ে রাখার প্রধান দায়বদ্ধতা হলো যৌথভাবে কেন্দ্র ও রাষ্ট্রের নির্বাচন কমিশনেরই আর স্বৈরাচারিতাকেও নিয়ন্ত্রণ করা!
হিংস্র দুঃসময় বাঙালীর দুয়ারে
আর্থিক বিকাশ শেষ কথা নয়

পুরানো মাসিক খবর

  • March 2021 (139)
  • February 2021 (117)
  • January 2021 (207)
  • December 2020 (82)
  • November 2020 (149)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 4
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved