প্রভাতী

ছীতল অইয়া জায়

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

গুপ্তযুগের সবচেয়ে ৰড় রাজা ছিলেন সমুদ্রগুপ্ত৷ কিন্তু গুপ্তযুগের কথা বলতে গিয়ে যে নামটি প্রথমেই ভেসে ওঠে তিনি চন্দ্রগুপ্ত৷ যদিও সমুদ্রগুপ্ত দিগ্বিজয়ী বীর হিসেবে প্রসিদ্ধি অর্জন করেছিলেন, ....ভারতে এক অতি  ক্ষৃহৎ সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিলেন....সাংসৃক্তিক জীবনে বিরাট পরিবর্ত্তন এনেছিলেন কিন্তু গুপ্তযুগের অনল–পুরুষ ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত৷ তাঁর প্রজা–প্রীতি ছিল ইতিহাসপ্রসিদ্ধ৷ তাঁর প্রেরণা ও প্রচেষ্টাতেই সংসৃক্ত ভাষা নবজীবন লাভ করেছিল৷

চন্দ্রগুপ্তের কথা বলতে গিয়ে  একটা মজার গল্প মনে পড়ে গেল৷ কালিয়া নামে ৰাঙলায় একটি গ্রাম আছে৷ গ্রামটি অত্যন্ত শিক্ষিত৷ এমন গ্রাম পৃথিবীতে আর দু’টি আছে কিনা সন্দেহ৷ কালিয়ার কাছাকাছি গ্রাম ৰাদিয়া৷ সে গ্রামটিও ক্ষেশ শিক্ষিত৷ একবার কালিয়ার ছেলেরা কোনো এক উৎসব উপলক্ষ্যে ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটক মঞ্চস্থ করবার তোড়জোড় চালাচ্ছিল৷ বিভিন্ন ভূমিকার জন্যে উপযুক্ত অভিনেতা/অভিনেত্রীর খোঁজ চলছিল৷ এমন সময় দূর গাঁয়ের একজন অপরিচিত মানুষ ..... নাম তাঁর সম্ভবতঃ দশমিকরঞ্জন দাশগুপ্ত ....ঝড়ের কাকের মত অথবা ভগ্ণদূতের মত এসে কর্মকর্তাদের বললে–‘‘আমারে এ্যাকডা পার্ট দ্যাৰা না?’’

কর্মকর্তারা শুধোলেন–কেমন পার্ট চান? দশমিক বললে–ক্যাৰোল রাজার পার্ট করমু৷ স্যানাপতি কিংবা সাকর–নফরের পার্ট করমু না৷...কোন্ নাটক অইত্যাসে?

কর্মকর্তারা বললেন–‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটক হচ্ছে৷ এ নাটকে দু’জন রাজা আছেন–চন্দ্রগুপ্ত ও আলেক্জাণ্ডার৷

দশমিক বললে–‘‘আলেক্সাণ্ডার নামডা উস্সারণ করা শক্ত৷ আমারে সন্দ্রগুপ্তের পার্টডা দ্যাৰানি?’’

কর্মকর্তারা বললেন–‘‘আচ্ছা, তাই হবে৷ আপনি পারবেন তো’’

দশমিক বললে–‘‘হ, পারমু৷ আমি পারমু না তো পারক্ষ ক্যাডা? আমারে পার্টডা লিখায়ে দ্যাবানি৷ রিহার্স্যালের দরকার পরক্ষ না৷ এক্কেরে ষ্ট্যাজে আইস্যা দিখায়ে দিমু এ্যাক্টিং কারে কয়৷’’

*      *      *

নাটকের পুরোদমে রিহার্স্যাল চলছে৷ আলেক্জাণ্ডারের ভূমিকায় যিনি নাক্ষছেন তাঁকে স্মারক ত্নব্জপ্সপ্পহ্মব্ধন্দ্ বলছেন–বলুন, ‘‘সত্যই সেলুকাস কী বিচিত্র এই দেশ’’৷ এমন সময় হঠাৎ হন্তদন্ত হয়ে দশমিক এসে হাজির৷ সে বললে–‘‘এ্যাডা কতা জিগাই৷ সন্দ্রগুপ্ত কোন দ্যাশের রাজা সিল?’’

কর্মকর্তারা বললেন–‘‘মগধের৷’’

দশমিক শুধোলে–‘‘মগধ আমাগো কাইল্যা–ৰাইদ্যা তাইক্যা ক্ষর না সোট?’’

কর্মকর্তারা বললেন–‘‘দেখুন, আমাদের কালিয়া–ৰাদিয়া তো গ্রাম .....আর মগধ একটা দেশ–প্রকাণ্ড দেশ’’

দশমিক বললে–‘‘হ ক্ষুসসি৷ পার্টডা ৰালোই৷’’

খানিকক্ষণ নিস্তব্ধ৷ স্মারক চুপ করে বসে আছেন৷ অভিনেতা /অভিনেত্রীরাও চুপ করে বসে আছেন দশমিক কী বলছে তা শোনবার জন্যে৷

দশমিক বললে–‘‘সন্দ্রগুপ্ত ....... সন্দ্র........... গুপ্ত............ সন্দ্র............. গুপ্ত.............. সন্দ্রগুপ্ত৷ আচ্ছা, সন্দ্রগুপ্ত স্যানগুপ্ত না দাশগুপ্ত?’’

কর্মকর্তারা বললেন–‘‘সেনগুপ্তও নয়, দাশগুপ্তও নয়, কেবল গুপ্ত৷’’

দশমিক বললে–‘‘ক্যাৰোল গুপ্ত তবে তো নীস্ বৈদ্য......ক্যাৰোল গুপ্ত অইলে তো নীস্ বৈদ্য অয়.....তবে ও পার্ট করমু না.......করমু না.....করমু না৷ আমারে আলেক্সাণ্ডারের পার্টডা দ্যাৰা৷’’

‘‘কী সুন্দর পার্ট আহাহাহাহা কী সুন্দর কতা  আহাহাহাহা হইত্তোই ছেলুকাছ, কি ৰিসিত্র এই দ্যাশ হুইন্যা মন–প্রাণ ছীতল অইয়া জায়’’

উপস্থিত ৰুদ্ধি

‘তন্’ ধাতুর অর্থ হ’ল ৰেড়ে যাওয়া, অভিব্যক্ত হওয়া৷ যে মানুষ তার ভাবধারাকে নাচে–গানে অভিনয়ে–আবৃত্তিতে অভিব্যক্ত করতে পারে তার জন্যে ‘তন্’ ধাতু+ড প্রত্যয় করে ‘ত’ শব্দ ব্যবহৃত হয়৷ তাই এক্ষেত্রে ‘ত’–শব্দের একটি অর্থ হ’ল ণট বা অভিনেতা৷

অভিনেতার মধ্যেও অনেক সময় অদ্ভুত রকমের উপস্থিত ৰুদ্ধি দেখা যায়৷ সে বিচারে তিনি দু’দিক দিয়েই ‘ত’৷ অভিনয় জগতের ‘ত’–এদের উপস্থিত–ৰুদ্ধি সম্ক্ষন্ধে বা উপস্থিত ৰুদ্ধির স্বভাব সম্ক্ষন্ধে অনেক গল্প প্রচলিত আছে৷ দু’একটি গল্প তোমাদের শোনাচ্ছি ঃ

 সেটা তখন ইংরেজ আমল৷ আমি তখন দিনাজপুরে৷ উত্তর ৰাঙলার অন্যান্য শহরের মত দিনাজপুরও একটি মাঝারি রকমের ছিমছাম শহর ছিল৷ শহরটি ছিল আমার খুব প্রিয়৷ দিনাজপুর–বাসীর স্বভাবের একটি বৈশিষ্ট্য আমার খুবই ভাল লাগত৷ ওঁরা*(*ওনারা, যেনারা, তেনারা শব্দগুলি গ্রাম্য দোষে দুষ্ট৷ ওঁরা, যাঁরা, তাঁরা–ই শুদ্ধ ওনারা, যেনারা, তেনারা না লেখাই ভাল৷) ছিলেন খুবই নাচ–গান–ভিনয় প্রিয়৷ সেকালে স্থায়ী অভিনয়মঞ্চ কোলকাতার বাইরে আর কোনো শহরেই ৰড় একটা ছিল না৷ কিন্তু দিনাজপুরে তা–ও ছিল৷ কয়েকজন স্থানীয় অভিনেতা তখন রীতিমত প্রথিতযশা হয়ে পড়েছেন৷ কেবল শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলের দিকেও থিয়েটারের রমরমা৷ সেই সময়টায় ওই দিকটায় ‘সীতা’ নাটকটি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে৷ সীতার ভূমিকায় অভিনয় করে যিনি দু’হাতে যশ কুড়িয়েছিলেন, তাঁর নাম ছিল সম্ভবতঃ আব্দুল লতিফ৷

সীতা নাটকের অভিনয় চলছে৷ শহরে হাজার হাজার গোরুর গাড়ীর ভীড়৷ গ্রামের লোক ঝেঁটিয়ে এসেছে অভিনয় দেখতে৷ হাতে পাট বেচার তাজা টাকা৷ দরকার পড়লে অভিনয়ের জন্যে ক্ষেশ কিছু খরচ করতেও তৈরী৷

অভিনয় চলছে৷ নাটক তার চরম স্তরে (climax) এসে পৌঁছেছে৷ এবার সীতার পাতাল প্রবেশ৷ ধরিত্রী মাতাকে সম্বোধন করে সীতাকে যা বলতে হবে তার মোদ্দা কথা হচ্ছে–‘‘মাতঃ বসুন্ধরে, দ্বিধা হও, আমি তোমার  স্নেহময় অঙ্গে স্থানলাভ করি’’৷ আব্দুল লতিফে.র নাটকের ভাব ষোল আনাই জানা, ভাষাও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঠোঁটস্থ৷ এই বিশেষ স্থানটিতে সীতা ধরিত্রী মাতাকে সংশোধন করে যা বলবেন তার ভাবটিও তাঁর জানা আছে৷ কিন্তু ভাষা একটু গোলমেলে হয়ে গেছে৷ সেই মাহেন্দ্রক্ষণে ‘‘মাতঃ বসুন্ধরে’’ বলার পরই স্মারকের (prompter) এসে গেল দারুণ কাশি৷ সে কাশির চোটে আর কথা বলতে পারছে না অথচ সীতা তো আর তার প্রত্যাশায় মুখ ৰন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না৷ সে তখন উপস্থিত ৰুদ্ধি প্রয়োগ করে বললে–‘‘মাতঃ বসুন্ধরে, তুই ফাঁক হ, মুই ভিতরত্ ঢুকিম্’’৷

দেখলুম, এ জিনিসটা শ্রোতারা সহজেই গ্রহণ করলেন৷ নাটকের কিছুমাত্র রসভঙ্গ হ’ল না৷

এস তুমি

লেখক
কল্যাণী ঘোষ

তাল তমালের বনের ধারে

আমার কুঁড়েঘর৷

সেখানেই থাকি আমি

নইতো যাযাবর৷

পথিকের আনাগোনা

দেখি দু’চোখ মেলে

কেউ আসেনা আমার কাছে

যায় যে অবহেলে৷

মন বলছে আসবে ‘তুমি’

আমার কাছটিতে৷

নয়ন মুদে বসে আছি

আসনখানি পেতে৷

মালা গেঁথে অপেক্ষা

করবো ‘তোমায়’ বরণ৷

নয়ন জলে ধোওয়াবো

‘তোমার’ রাতুল চরণ৷

ভক্তি অর্ঘ্য দিয়ে ‘তোমায়’

করবো আত্মসমর্পণ৷

থেকো ‘তুমি’ আমার সাথে

দিবারাতি অনুক্ষণ৷৷

যুগের দাবী

লেখক
শ্রীরামদাস বিশ্বাস

যুগের দাবী নাওগো মেনে

                অন্ধকারে আর থেকো না৷

আঁধার রাতে ভয়ের সাথে

                বৃথা তুমি আর যুঝ না৷৷

আসছে যাহা জেনো তাহা

                অবশ্য তা’ সত্যবহ

পুরাতনে আঁকড়ে কেন

                অনন্তকাল চুপটি রহো

শ্বাশ্বত যা চিরকালই

                একই রবে তাও বোঝ না৷৷

লক্ষ্য তোমার শ্বাশ্বত হোক

                সেই তো তোমার আদর্শ

অপরিবর্তনীয় সে

                লক্ষ কোটি আলোক–বর্ষ

অনাগতে করতে বরণ

                আদর্শকে ছেড়ো না৷৷

একান্ত

লেখক
প্রভাত খাঁ

একান্তই তুমি আমার৷ এটাই

আমার গর্ব ও অহংকার৷ দয়া

করে এইটুকু  কেড়ে নিওনা দোহাই

তোমায়৷ তোমার রাতুল চরণ

আমায় স্পর্শ করে ধন্য হতে দাও৷

তোমার চোখের মিষ্টি হাসিটা

যেন আমি মুগ্ধ বিমূূ হয়ে

দু’চোখ ভরে পাই৷ আমার

এমন গুণ নেই যা দিয়ে তোমায়

আমার করে ধরে রাখি৷ প্রিয়তম

তুমি অহেতুক কৃপাকণা

দানে আমায় ধন্য করো৷

তোমায় আমার মাঝে কেউ

দূরত্ব সৃষ্টি করুক এটা আমি

আর সহ্য করবো না৷ শুধু তুমি

আমার, তাই এ বাঁধন আমি

আলগা করবো না৷

জলটান

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

সংস্কৃত ‘মদ’ ধাতুর একটি অর্থ হল যা শুষে আরাম পাওয়া যায় (ভাবারূঢ়ার্থ), যোগারূঢ়ার্থে জল, সরবৎ, পানা, ফলের রস ও যে কোন তরল বস্তু যা পানীয় পর্র্যয়ভুক্ত৷ উপরি-উক্ত যে বস্তু খেলে জলটান হয় অর্র্থৎ যে আহার গ্রহণের পর বার্রার  জলতেষ্টা পায় সেই বস্তুকে ম+ড= ‘ম’ নামে আখ্যাত করা হয়ে থাকে৷ যেমন কম জলে  ছাতু গুলে খেলেও বার বার জলতেষ্টা পায়৷ এই ধরনের জলতেষ্টাকে ‘জলটান’ লা হয়৷

তোমরা সেই লাগড়ের  জলটানের  গল্প শুণেছ তো! যদি না শুণে থাক তো একবার লি৷ ব্রজবল্লভ বসাক থাকতেন লাগড়ে--- তাঁর পৈতৃক ভদ্রাসনে৷

কিন্তু ব্রজবল্লভ বসাকের  অন্তরঙ্গ  বন্ধুরা শে কিছুটা দূরে থাকতেন ন-হুগলীতে, অপর অন্তরঙ্গ বন্ধু বিজিত বসু  থাকতেন  ৰাজেশিবপুরে৷ বিজিত ৰারুজ্জের  ছেলেটি লেখাপড়া সমাপ্ত করে সদ্য সেই যে কী যে একটা সরকারী বিভাগ আছে যেখানে খাদ্যশস্য ওজন করে দাম দিয়ে গুদামজাত করা হয় সেই বিভাগটিতে অল্পদিন হল কাজ পেয়েছে৷ আর বিজিত বসুর  ছেলেটি এম.এ. পাশ করেছে, হুগলীর কোন একটি কলেজে  তার পেপেচুরির চাকরি হলো-হলো৷

একদিন প্রাতর্ভ্রমণ সেরে ব্রজবল্লভ বসাক বাড়ী ফিরে আসতেই তাঁর স্ত্রী সেয়ানাসুন্দরী বললেন, ‘‘ওগো শোন, তোমার বন্ধু বিজিতৰাৰু এইমাত্র খর পাঠিয়েছেন, আজ রাত্তিরে ওঁর ছেলের উ-ভাত৷ তোমাকে নেমতন্ন রক্ষা করতে যেতেই হৰে৷ নইলে উনি মনে ভারী দুঃখু পাৰেন৷ কাজকর্মে অত্যধিক ব্যস্ত থাকায় নিজে আসতে পারলেন না৷ নইলে তিনি নিজেই এসে তোমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন’’৷

ব্রজবল্লভ বসাক সেয়ানা সুন্দরীকে শুধোলেন---‘‘কোন জায়গাটার  নাম করেছে ৰল তো--- ৰনহুগলীর না ৰাজেশিবপুরের’’৷

সেয়ানাসুন্দরী ললেন---‘‘অত তো জিজ্ঞেস করিনি৷ কারণ যে লোকটি এসেছিল সে ললে  বিজিতৰাৰু ব্রজৰাৰুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ৷ নাম নিলেই ্যুঝতে পারৰেন’’৷

ব্রজবল্লভ বসাক বললে---‘‘তাও তো জিজ্ঞেস করিনি কারণ লোকটি বললে, নেমতন্নকারীর নাম শুণলেই ব্রজৰাৰু  বুঝতে পারবেন, বেশী বলার দরকার  পড়বে না’’৷

ব্রজবল্লভ মহাফাঁপরে পড়লেন৷ তিনি এবার বাস্তব বুদ্ধি প্রয়োগ করলেন৷ বিজিত বাঁডুজ্জের ছেলেটি চাকরী করে৷ সুতরাং চাকরী পাওয়ার পরে নিশ্চয় তার বিয়ের ঘটকালি শুরু হয়েছিল৷ তাই তার বিয়েই বেশীই সম্ভব৷ বিজিত বসুর ছেলেটি পেপেচুরির কাজ পার্ৰে, তারপরে পাত্রীর সন্ধান হবে, তারপরে দেনাপাওনার কথা হবে, ঠিকুজী গোষ্ঠী বিচার করে তারপরে পাকা দেখা হবে৷ তারপরে না বিয়ে! শতকরা ৯৯.৯ ভাগ সম্ভাবনা বিজিত বাঁড়ুজ্জের ছেলের বিয়ে৷

বলাগড় থেকে ৰাজেশিবপুর যেতে গেলে সোজা ট্রেনে  যাওয়া যাবে না৷ গঙ্গা পার হতে হবে৷  কিন্তু বনহুগলী যেতে গঙ্গা পার হতে হয় না৷ কিন্তু নহগলী যেতে গঙ্গা পার হতে হয় না৷ ব্রজবল্লভ বসাক কী করৰেন! ঘনিষ্ঠ বন্ধু তো৷ আত্মীয়ের  চেয়ে বন্ধুর টান বেশী৷ তাই তিনি যেভাবেই হোক বনহুগলীতে গিয়ে পৌঁছুলেন সন্ধ্যে একটু আগেই৷ বন্ধুর ছেলের বিয়ে...... একেবারে ৰাইরের লোকের মত এসেই হাতটি ধুয়ে পাতে সে  পড়া যায় না৷  দরকার পড়লে ময়দা মাখতে হৰে, নুচি লেতে হৰে, এমনকি  কোমরে গামছা জড়িয়ে নুচি ভাজতে হৰে কিংবা  হাতে ডালের ৰালতি,ডান হাতে হাতা নিয়ে  পরিবেশন করতে হবে৷ ঘাম মোছবার জন্য কাঁধে একটি গামছাও রাখতে হবে৷ তাই একটু আগেই  যাওয়া দরকার৷

বনহুগলীতে পৌঁছলেন ব্রজবল্লভ বসাক৷ কিন্তু এ কি! বিজিত বাঁড়ুজ্জের বাড়ী দেখে বিয়ে বাড়ী লে তো মনেই হচ্ছে না৷  বাইরের দিকে একটা আলোও জ্বলছে না৷ সামনে বৈঠকখানায় একটা কম পাওয়ারের আলো টিমটিম করে জ্বলছে৷ কড়া নেড়ে দরজা খোলাতে হল৷

বিজিত বাঁড়ুজ্জে বললেন--- ‘‘এসো এসো, ব্রজ, তোমার যে আজকাল টিকিই দেখতে পাই না৷

ব্রজবল্লভ ঘরে ঢুকে যা দেখলেন তাতে তার মনে নেৰে  এল সন্দেহের  কালো ছায়া৷ এ াড়ী তো বিয়ে-ৰাড়ী নয়৷ পরিস্থিতি সামলাবার জন্যে বিজিত বাঁড়ুজ্জের সঙ্গে তিনি দু’চারটি কুশল সংবাদের আদান প্রদান করলেন ৷ বিজিত বাঁড়ুজ্জের চোখ মুখ দেখে মনে হল তার ঘুম আসছে৷ তখন রাত্রি পৌনে ন’টা৷ বিজিত বাঁড়ুজ্জে হাঁই তুূলতে তুলতে ললেন, ‘‘একটু সকাল সকাল খাই কী না  আর  বোঝ তো বয়স হয়েছে--- বিশেষ কিছু সহ্য হয় না৷ রাত্তিরে খই দুধ খেয়ে শুয়ে পড়ি৷ ওটা একটু হাল্কা জিনিস তো৷’’

ব্রজবল্লভ বসাক ললেন, হ্যাঁ, আমিও অনেকক্ষণ ধরে উঠৰ উঠৰ করছিলাম৷ অনেকদিন পরে তোমাকে দেখে এত আনন্দ হচ্ছে যে কী ল৷ ......আচ্ছা চলি৷ তা তোমার  ছেলেটি এখন কী করছ? তার বিয়ে-থার কী হল?’’

বিজিত বাঁড়ুজ্জে বললেন,---‘‘পাত্রীর খোঁজ তো চলছে, তবে পাত্রী পছন্দ হচ্ছে তো দেনা-পাওনায় মিলছে না, আবার দেন-পাওনা মিলছে তো পাত্রী পছন্দ হচ্ছে না৷ তবে আশা করি সামনের  মাঘ মাসে বিয়ের ব্যবস্থা হৰে৷ সে   খবর তো তুমি আগেই  পেয়ে যাৰে’’৷

ব্রজবল্লভ বসাক বাড়ীতে ফিরে এলেন৷ কড়া নাড়তেই সেয়ানা-সুন্দরী দরজা খুলে দিলে৷ ঘরে ঢুকেই  ব্রজবল্লভ স্ত্রীর দিকে একটু বিষণ্ণ্ মুখে তাকালেন৷

স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন---বিয়েবাড়ীতে কেমন খাওয়া-দাওয়া হ’ল?

ব্রজবল্লভ বসাক বললেন---‘‘আগে এক গেলাস ঠাণ্ডা জল দাও দিকি’’৷

ব্রজবল্লভ ধপাস্ করে চেয়ারে সে হাতটা রাখলেন ডানগালের নীচে৷ জোরে একটা               দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললেন৷ মনে মনে বললেন, নুচি-পোলাও দুই-ই৷ সেয়ানাসুন্দরী জল নিয়ে এলো৷ ব্রজবল্লভ বসাককে বললে,---‘‘কী খেয়েছো তোমাকে আর বলতে হবে না, আমি  ঝে নিয়েছি’’৷

ব্রজবল্লভ বসাক ললেন---‘কী খেয়েছি ৰল  দেখি’?

সেয়ানাসুন্দরী বললে,---‘নিশ্চয়ই পোলাও’৷

ব্রজবল্লভ শুধোলেন--- ‘কী করে ৰুঝলে’?

সেয়ানাসুন্দরী ললে---‘ওটুকু আমি জানি গো জানি, পোলাও খেলে দারুণ জলটান হয়’৷

তোমায় আমি ভালবাসি

লেখক
রামদাস বিশ্বাস

আমার গানের সুরে নীল–নীলিমায় দূরে

তোমার গীতির ধারা বয়ে যায়৷

তোমার প্রেমের স্রোতে অনন্ত এই পথে

আমার জীবন যায় ভেসে যায়৷৷

গান শোণাতে বাজাও বাঁশী

মধুর চেয়েও মিষ্টি হাসি

হাসো তুমি কাছে–দূরে বিশ্বভূবন ঘুরে ঘুরে

দোলাও হৃদয় মধুর দ্যোতনায়৷৷

তোমায় আমি ভালবাসি

ভালবাসি ভালবাসি

আমার মুখে তোমার ভাষা আমার বুকে

তোমার আশা

আমার আশা যাচি গো তোমায়৷৷

নোতুন দিনের স্বপ্ণ

লেখক
সুখরঞ্জন সরকার

নোতুন যুগ এসে গেছে, এলো নতুন দিন,

নোতুন দিনের স্বপ্ণে আমার  মন হ’ল রঙিন৷

নোতুন দিনে মনটাকে তাই নোতুন করে নিয়ে,

মিশে যাব সবার মনে ভালোবাসা দিয়ে৷

মনের মাঝে উঠছে বেজে, নোতুন নোতুন সুর,

এই সুরেতে মনের বিষাদ করব আমি দূর৷

সবার সাথে মিলে মিশে বাঁধব সুখের ঘর,

সবাই আমার হবে আপন থাকবে না কেউ পর৷

হাসিমুখে সবার সাথে করব আলাপন,

করব নাকো কারো সাথে অসদ্ আচরণ৷

সুখ–দুঃখের সমভাগী হব সবার সনে,

হিংসা দ্বেষের ঘৃণ্য বাসা বাঁধবো নাকো মনে৷

ধর্ম বর্ণের বিঘ্ণ বিভেদ ভুলে যাবে মন,

সেই তো হবে মানবপ্রেমের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন৷

নোতুন দিনে সবার মনে জ্বালবো জ্ঞানের বাতি,

সহজ সরল মাটির মানুষ হবে পথের সাথী৷

বিশ্বপ্রেমে মনের বাঁধন অটুট হবে যবে,

নোতুন দিনের স্বপ্ণ তখন সফল হবেই হবে৷৷

 

প্রতীক্ষা

লেখক
জ্যোতিবিকাশ সিন্হা

নিঃশব্দ বালুকাবেলা

বিজন নদী তীর ---

দূর আকাশে সাঁঝের ধোঁয়াশা

ঘরে ফেরা বিহগীর স্বপ্ণমাখা চোখ

গোধূলি-স্নাত অশরীরী জিজ্ঞাসা

খোঁজে বাতায়ন৷

 

একাকী নিঃসঙ্গ পথিক-

পলাশরাঙা, মহুয়ার নেশা ঝরা

বিসর্পিল পথে মেশে৷

গাঢ় নীল পাহাড়ী দিগন্ত

শিশির-স্নিগ্দ সবুজের চোরা বালি

একটা দু’টো লাজুক তারায়

আমার আধ-বোজা জোনাক -চাউনি

এখনো  কার একান্ত প্রতীক্ষায়৷৷

 

টেবীর খোঁপা

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘ক্রম্’ ধাতু+ ড+ কস্+ অচ=  ক্রকষ ৷  ‘ক্রকষ’  শব্দের অর্থ হল কোন কিছুকে সাজিয়ে গুজিয়ে আসর মাত করে দেওয়া--- কোন অসুন্দর জিনিসকে সাজানোর গুণে সুন্দর ক’রে  দেওয়া --- অভিনয়ের সময় গ্রীণরুমে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নানান বস্তুর সাহায্যে অনুপম করে সাজিয়ে দেওয়া৷ যে কালো কুচ্ছিৎ ভুতুম প্যাঁচার মত দেখতে তাকেও  রজতোজ্জ্বল শিবতুল্য করে তোলা, পেত্নী-শাঁকচুন্নীকে তিলোত্তমা করে গড়ে তোলা৷ আলোছায়ার খেলা দেখিয়ে কচুরিপানায় ভরা এঁদোপুকুরকে নীল মহোদধিতে পরিণত করে তোলা৷ এ সই ক্রকষ৷ ক্রকষের খেলা প্রসঙ্গে একটি গল্প মনে পড়ল৷

আমার এক বন্ধু ছিল--- নাম ছিল ৰুবাই৷ ৰুবাই-এর দিদির ডাক নাম ছিল টেৰী৷ ভাল নাম এখন মনে  পড়ছে না---সম্ভবতঃ অনিন্দিতা৷ ৰুৰাইয়ের দিদির তখন বিয়ের কথা চলছে৷ নানান দেশ থেকে ৰরপক্ষ আসছে কনের ইন্টারবিউ (উপস্থিত পরীক্ষা) নিতে৷ যাদের  কনে  পছন্দ হচ্ছে তাদের সঙ্গে পাওনা-গণ্ডায় দানে-খাঁইয়ে মিলছে না৷  যাদের পছন্দ হচ্ছে না, তারা বলে যাচ্ছে--- গিয়ে জানৰ......লিখে জানৰ৷ কন্যাপক্ষ এসব টেকনিক্যাল  ভাষার (প্রযুক্তিগত বাগ্বিন্যাস) মর্ম ৰোঝেন৷ গোড়ার দিকে তাঁরা থালা সাজিয়ে  ষোড়শোপাচারে পাত্রপক্ষকে আপ্যায়ন করতেন৷  শেষের দিকে সারতে লাগলেন একটা ছোট সাইজের রসগোল্লা, একটা তেকোণা নিমকি আর এক গ্লাস চা দিয়ে ৷ পাত্রী টেৰী গরমকালে ঘামে ভিজতে ভিজতে, আর শীতকালে ঠাণ্ডায় ঠক্ ঠক্ ক’রে কাঁপতে কাঁপতে ইন্টারবিউ দিয়ে  আসতে লাগল৷ পছন্দ অনেকেরই হ’ল৷ কিন্তু দেনাপাওনায় মিলল না৷ তাই কোন জায়গায় বিয়ে কেঁচে গেল, কোন জায়গায় হ’তে হ’তে ফস্কে গেল৷

একবার পাত্রপক্ষ এলেন ভাটপাড়া থেকে৷ তাঁদের আবার ভারী বায়নাক্কা৷ তাঁরা মেয়ের পা জলে ভিজিয়ে মেয়েকে হাঁটতে ললেন---পায়ের ছাপ দেখৰেন যে মেয়ে খড়ুমে-পা  কিনা অর্থাৎ পায়ের  সামনের দিকের ছাপ ও পেছনের  ছাপের মাঝে সংযোজক  ছাপ থাকছে কিনা৷ যদি থাকে তবে মেয়ে লক্ষ্মীশ্রী লে গণ্য হবে৷ যদি সংযোজক ছাপ না থাকে তবে সে মেয়ে অলক্ষ্মী  ৰলে গণ্য হৰে৷

সেদিন দেখলুম টেৰী প্রত্যেকটা পরীক্ষাতেই  লেটার মার্ক পেয়ে পাশ করে গেল কিন্তু বিপর্যয় দেখা গেল শেষ মুহূর্তটিতে৷ এই ইন্টারবিউয়ের কিছুদিন আগে টেৰী একবার গেছল মামার ৰাড়ী নদে জেলার মুড়াগাছায়৷ ওর মামা-মামীমার  সঙ্গে টেৰী ফিরে তো এল...সঙ্গে নিয়ে এল ওখানকার হাঁড়িভরা নামজাদা ছানার জিলিপি আর  কাঁচাগোল্লা৷ কিন্তু অজ্ঞাতসারে সঙ্গে করে নিয়ে এল হাড়-কাপানো মি -ওপচানো সেকালকার মালোয়ারী জ্বর, আজকাল যাকে শিক্ষিতরা ‘ম্যালেরিয়া  লে থাকেন৷

এককালে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে এই ম্যালেরিয়া  জ্বর প্রবল প্রতাপে  রাজত্ব করত৷ লোকে লক্ষ্য করে দেখলে যেখানে সাধারণতঃ ৰদ্ধ জলাশয় আছে সেখানেই এর প্রাদুর্র্ভব৷ ভারতে এই রোগ ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছিল কিছুটা পার্বত্য এলাকায়, তরাই অঞ্চলে ও  পূর্বভারতে৷ খুঁটিয়ে দেখে  আরও  নজরে পড়ল যেখানে  ৰড় ৰড়  জলাভূমি, লি,ৰাওড়, হাওড়, ৰাদা, জলা আছে সেখানেই এই রোগের প্রাদুর্র্ভব৷ রোগটি ব্যাপক আকারে দেখা দিত অসমে, বাঙলার ময়মনসিং জেলায়, রাজশাহী, যশোর, নদীয়া ও বর্দ্ধমানে৷ রোগটির  কোন ধা নাম গোড়ার দিকে ছিল না৷  সার্হেরা ভাবতেন খারাপ জলাভূমি এলাকায় রোগটি হয়৷ তাই নাম দিলেন  mal-areal-fever) অর্থাৎ খারাপ এলাকার জ্বর৷ পরবর্ত্তী কালু নামটি পালটে করে দেওয়া হল ম্যালেরিয়া ফিবার বা ম্যালেরিয়ার জ্বর৷  বাঙলা ভাষায় শব্দটাকে সাজিয়ে গুছিয়ে করে দেওয়া হ’ল মালোয়ারী জ্বর৷ বর্ধমানের নামডাক যে কেবল চাষেতেই তা নয়৷

 এই ম্যালেরিয়া জ্বরেও বর্ধমান হয়ে উঠল সার সেরা৷  সেখানে ম্যালেরিয়া জ্বরের রাশ   নাম হল বর্ধমান জ্বর ৷ তোমরা  জান তো, বাঙলার প্রতিটি মানুষের তিনটি নাম৷ একটি হল তার ডাক নাম--- যে নাম ৰাড়ীতে পাড়াতে চলে৷ দ্বিতীয়টি  চলে  সুকলে-কলেজে-কোর্টে-কাছারীতে৷  সেটাকে আমরা বলি  ভাল নাম, উত্তর ভারতে লে শুভ নাম৷ তৃতীয় নামকে লে রাশি নাম বা রাশ নাম--- তা ঠিকুজি--কোষ্ঠীতে থেকে যায়৷ ব্যবহারে ড় একটা লাগে না৷ উত্তর ভারতে  লে থাকে---

‘‘এক এক  মিঞআ কা তীন তীন নাম

ফৈজু-ফৈজল-ফুজুল্ ইমাম্৷

তনীগো নুংগা দস্তরখান

তনীগো ঘোড় ৰাৰুর্চিখান’৷

সেকালের মহামান্য সরকার  ৰাহাদুর বর্দ্ধমানে এক নামজাদা ৰিলিতি ডাক্তার পাঠিয়েছিলেন এই রোগের সঙ্গে যথাযথভাবে পঞ্জা লড়ার জন্যে৷ চিকিৎসক অভিজ্ঞতা অর্জন করলেন প্রচুর৷ কিন্তু ম্যালেরিয়াকে শাঈস্তা করা তো দূরের কথা,  বর্দ্ধমান জ্বরকে কায়দায় আনতেই পারলেন না৷

হ্যাঁ,বাঙলায় যেখানে ছিল মজা নদী বা হাওড় বা ৰিল  ৰেশী, সেখানেই রোগটি ৰেশী ছড়িয়েছিল৷ দামোদরে বাঁধ দেওয়ার ফলে দামোদরের শাখানদীগুলি  মজে গিয়ে মশার জন্মপীঠে পরিণত  হয়েছিল৷ সেজন্যে বর্দ্ধমান হয়েছিল ম্যালেরিয়ার---ডিপো মজে গেছল খড়িনদী, বাঁকা নদী, গাঙ্গুড়, নদী বেহুলা, কানা নদী, কানা-দামোদর সাই৷ ঠিক তেমনি পদ্মার পূর্ৰাভিমুখী গতির ফলে মজে গেছল ভাগীরথী, জলঙ্গী, খড়ে ,ভৈরব, নবগঙ্গা, কুমার , চিত্রা প্রভৃতি--- মজে গেছল গড়াই, মধুমতী, আড়িয়লখাঁ, পুরোনো ব্রহ্মপুত্র, ফুলেশ্বরী--- মজেছিল আত্রাই, গড়ল , হুড়া সমুদ্র (হুড়া সাগর)৷ তারই  ফলশ্রুতিতে উৎসন্নে গেল নদীয়া, যশোর, ফরিদপুর, দ্ধমান ও রাজশাহী৷ সুতরাং  বর্দ্ধমান মালোয়ারিতে সেরা হলেও  এটা তার গায়ে-লাগোয়া প্রতিবেশী নদীয়া সহ্য করবে কেন মুখবুজে৷ তার ভাগীরথী মজেছে, খড়ে মজেছে, মাথাভাঙ্গা-ইচ্ছামতী মজেছে...মজেছে, অঞ্জনা, কঙ্কনা, বুড়িগঙ্গা, মুড়িগঙ্গা, যমুনা, ভৈরব, কুমার, গড়াই, পাগলাচণ্ডী৷ ভাগ্যিস তখন চুর্ণী নদীটা ছিল  না৷  থাকলে হয়তো সেও মজতো--- নদীয়াকে একেবারে ধনে-প্রাণে মজাতো৷ তাই মালোয়ারিতে সেও বর্দ্ধমান কে টেক্কা দিতে শুরু করলে৷  কেষ্ নগর শহরে সূর্র্যেদয় থেকে  সূর্র্যস্ত পর্যন্ত আকাশ-বাতাস বিদীর্ণ করে একটি ধবনিই উত্থিত হচ্ছিল---‘‘বল হরি, হরি বোল’’৷

(পরবর্তী অংশ আগামী সংখ্যায়)

নানান ভাবে এদের পাবে

লেখক
শিবরাম চক্রবর্ত্তী

অনেককে ভাই দেখতে পাই

                প্রায় পাগলের ন্যায়

এরা সবাই নানান ভাবে

                কিছু করে দেখায়৷

জ্ঞানের পাগল, কাজের পাগল

                কেউ বা পাগল ধনে

ভাবের পাগল হয়ে কেউবা

                সাগরেদ্দর ঢেউ গোনে৷

নামের পাগল, যশের পাগল

                খ্যাতির পাগল শেষে

খুব বাহবার বিড়ম্বনায়

                যায় সুনামে ফেঁসে৷

দেশের পাগল দশের পাগল

                গড়ার পাগল কেউ

এমন পাগল অনেক হলে

                ভালর ওঠে ঢেউ৷

ধ্যানের পাগল যোগের পাগল

                ইষ্টে পাগল যারা

জনগণের হিত না সেধে

                মুক্তি পায় না তাঁরা৷