অমৃতলাভের আশায় অন্ধ আবেগে ছুটছে উদ্ভ্রান্ত মানুষ মরছে পদপিষ্ট হয়ে৷ মহাকুম্ভে অমৃতলাভের আশায় জনস্রোত নয়াদিল্লি রেলস্টেশন থেকে প্রয়াগরাজ৷ ধর্মের নামে ব্যবসায় মত্ত উত্তরপ্রদেশ সরকার, কেন্দ্র সরকারের সেদিকে দৃষ্টি নেই৷ সরকারের লক্ষ্য সেই সব কোটিপতিদের দিকে৷ তাদের জন্যে লাখো টাকার তাঁবুরের আসা যাওয়ার ভি.আই.পি ব্যবস্থা৷ আর পদপিষ্ট হয়ে যারা অকালে ঝরে গেল তাদের প্রকৃত হিসাব কি সরকারের কাছে আছে৷ তাদের হিসাবকে আর রাখে! যদিও সরকারী হিসেবে মহাকুম্ভের বলি ৫৫ জন৷ কিন্তু সরকারী তথ্য বিশ্বাস করে ক’জন!
যে মহাকুম্ভের গল্প ফেঁদে এত মানুষকে আবেগে ভাসিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল সেই মহাকুম্ভের সত্যতা নিয়েই এখন প্রশ্ণ উঠছে৷ ১৪৪ বছর পর মহাকুম্ভের গল্প ফেঁদে মানুষকে টেনে আনার আসল উদ্দেশ্য কি ব্যবসা করা! বিজেপি সাংসদ খাণ্ডেলওয়ালার দাবি ব্যবসা তিন লক্ষ কোটি ছাড়িয়ে যাবে৷ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন ১৪৪ বছর পর মহাকুম্ভের দাবী বিশ্বাসযোগ্য নয়৷ আমি এ বিষয়ে অজ্ঞ তবে যাঁরা গবেষণা করেন তারাই আসল সত্য বলতে পারবেন৷ অধ্যাপক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি বলেন--- যদি ১৪৪ বছর আগে মহাকুম্ভ হয়ে থাকে তবে সাল তারিখ জানাক৷ বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার পুরোহিত কমলেশ ভট্টাচার্য বলেন ১৪৪ পর বছর এই প্রথম এমন মহাযোগতত্ত্ব কতটা গ্রহণযোগ্য সন্দেহ আছে৷ যারা মহাযোগ তত্ত্বের প্রচার করছে তাদের কাছেও কোন প্রামান্য তথ্য নেই৷ সুকৌশলে একটা মিথ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল ব্যবসার লক্ষ্যে৷ অর্দ্ধ শতাধিক লাসের উপর দাঁড়িয়ে যোগীর সরকার সেই লক্ষ্যে সফল৷
প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়---সাম্রাজ্যবাদী শোষকরা তাদের শোষণকে যুক্তি ও তথ্যের ওপর দাঁড়ি করানোর জন্যে প্রথমেই তারা জাতীয় সমর্থন আদায় করতে সচেষ্ট হয়৷ জাতীয়তাবাদের সেন্টিমেন্ট দিয়ে তারা তাদের শোষণকে যুক্তি সিদ্ধ ও নিয়মতান্ত্রিক বলে প্রতিষ্ঠা করতে চায়৷
স্বাধীন ভারতের জন্মলগ্ণ থেকেই বা তারও আগে থেকেই ভারতে ফ্যাসিষ্ট শোষক জেঁকে বসেছে৷ জাতীয় কংগ্রেস থেকে সুভাষচন্দ্রের পদত্যাগ, দেশত্যাগ ও দেশে না ফেরার পিছনেও আছে ফ্যাসিষ্ট শোষকের চক্রান্ত৷ ফ্যাসিষ্ট শোষকের হাতে পড়ে স্বাধীন ভারতের স্বরূপ কি হবে সুভাষচন্দ্রের দূরদৃষ্টিতে তা ধরা পড়েছিল৷ তাই তিনি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার কথা বলেছিলেন, দেশীয় পুঁজিবাদের বিরুদ্ধ ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের কথা বলেছিলেন৷
স্বাধীনতার পর তিল তিল করে যে হিন্দু জাতীয়তাবাদ ভাবাবেগ ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছিল, ফ্যাসিষ্ট শোষকদের প্রচ্ছন্ন মদতে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে তা আজ ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে৷ ১৪৪ বছর পর মহাকুম্ভের মিথ হিন্দুত্ববাদের অন্ধ আবেগকে উস্কে দিয়েছে৷ পরিণতি মৃত্যুর মিছিলে জনস্রোতে লক্ষাধিক টাকার ব্যবসা৷ এই আবেগ গ্রাস করেছে ভারতের বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের জনগোষ্ঠী গুলিকে৷ স্বাধীনতার ৭৭ বছর পরেও অশিক্ষা অচেতনতা কিভাবে অন্ধ আবেগে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে মানুষকে মহাকুম্ভ (!) তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল৷ কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড বলছে প্রয়াগরাজের জল স্নানের অযোগ্য৷ সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন---ওই জল পাণেরও যোগ্য৷ উনি কি ওই জলপান করতে প্রস্তুত আছেন?
অনেক চেষ্টা করেও পশ্চিমবঙ্গে এখনও এই আবেগ ঝড় তুলতে পারেনি৷ তবে হাওয়া বহিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ সেই প্রবাহে কিছু মানুষ ছুটছে৷ ঝড় যে তুলতে পারেনি তার কৃতিত্ব বাঙলার উন্নত চিন্তাধারা ভাষা কৃষ্টি সংস্কৃতি৷ তবে স্বাধীনতার পর থেকেই বাঙলার এই উন্নত ভাষা কৃষ্টি সংস্কৃতি ধবংস করতে কিছুটা হলেও সফল সাম্রাজ্যবাদী শোষক গোষ্ঠী৷ তবে মানুষকে অশিক্ষার অন্ধকারে রেখে কিভাবে অন্ধবিশ্বাস কুসংস্কারের আবর্জনায় ডুবিয়ে শোষণ করতে হয় মহাকুম্ভ তার ভয়ংকর এক দৃষ্টান্ত৷ অন্ধ আবেগে মানুষ ছুটছে সামনের জনকে পদপিষ্ট করে, একবারও ভেবে দেখলো না দূষিত গঙ্গায় ডুব দিয়ে কোন অমৃত লাভ হবে!
ভারতবর্ষের মানুষ আজ এক ভয়ঙ্কর অগ্ণিপরীক্ষার সামনে৷ ধর্মীয় মৌলবাদ ও ফ্যাসিষ্ট শোষক জোটবদ্ধ৷ অন্ধ আবেগ ও আর্থিক শোষনের জাল ছিন্ন করে মানুষ কে নতুন পথের দিশা খুঁজে নেবে? এটাই আজ ভারতবাসীর কাছে লাখ টাকার প্রশ্ণ৷
- Log in to post comments