প্রভাতী

বাড়তি নম্বর ছিল পকেটে

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

প্রাচীনকালের মানুষ জামার পকেট রাখত সাধারণতঃ দুটি কারণে৷ একটি কারণ ছিল শীতের সময় হাত দু’টোকে পকেটে ভরে এই ব্যথার জগতেও খানিকটা স্বর্গসুখ ভোগ করা আর দ্বিতীয় কারণ ছিল–টাকা–পয়সা বা যেসব নেশার জিনিস আর পাঁচ জনকে দেখানো যায় না সেগুলোকে লুকিয়ে রাখা৷ ইংরেজীতে যাকে ‘পকেট’ বলি ফার্সীতে তাকেই বলি ‘জেব’, ভাল ৰাংলায় ‘কোষ্ঠক’৷ উত্তর ভারতে এই ফার্সী ‘জেব’ শব্দটি আজও ভাল ভাবেই চলে–উর্দুতে তো চলেই৷ স্থানীয় লোকভাষাগুলিতে যেমন অঙ্গিকা, মৈথিলী, ভোজপুরী, মগহী, অবধী প্রভৃতি ভাষাতেও ‘জেব’ শব্দটি ভালভাবেই চলে৷

আমার ব্যষ্টিগত জীবনেও ‘জেব’ শব্দটি অতীতের এক সোণালী স্মৃতিতে মাখানো রয়ে গেছে৷ সে সময় আমাকে যিনি ফার্সী পড়াতেন তাঁর নাম ছিল মউলবী হিদায়েতুল্লা৷ মানুষটি ছিলেন বড়ই ভাল৷ আমাদের মুঙ্গের জেলা তথা অঙ্গদেশের সাধারণ মানুষ খুব সোজা ৰুদ্ধির হয়৷ তিনি তার ব্যতিক্রম ছিলেন না৷ তিনি ইংরেজী জানতেন না কিন্তু উর্দু, আরবী, ফার্সীতে ছিলেন সুপণ্ডিত৷ মাতৃভাষা অঙ্গিকা ছাড়া বাংলাও জানতেন৷ আমি তাঁর ছিলুম অত্যন্ত স্নেহের পাত্র৷ ক্লাসে সবাইকার সামনেই আমাকে ববুয়া (খোকা) বলে ডাকতেন৷ একবার পরীক্ষার পরে দেখা গেল আমি ফার্সীতে একশ’র মধ্যে একশ’ তিন নম্বর পেয়েছি৷ গোটা ইস্কুলে হল্লা...হৈ হৈ ব্যাপার....রৈ রৈ কাণ্ড৷ মওলবী সাহেব একচোখোমি করেছেন৷ একশ’র মধ্যে এক’শ তিন নম্বর দিয়েছেন৷ কেউ কেউ ৰললে–জানতুম, মওলবী সাহেব খুবই ভাল–এখন দেখছি একটু আদিখ্যেতাও করেন৷ একশ’ এর মধ্যে একশ’ তিন নম্বর কি দেওয়া যায়

আমাদের ইংরাজী সাহিত্য ও ফোনেটিক্স পড়াতেন মিঃ বি সি মিটার৷ তিনি মউলবী সাহেবকে শুধোলেন–মওলবী সাব, ইয়ে’ আপনে ক্যা কিয়া একশো মেঁ একশো তিন নম্বর আপনে কৈসে দিয়া মিটার সাহেব মওলবী সাহেবকে কথাটা জিজ্ঞেস করেছিলেন স্কুলের মাসড্রিলের সময়ে অর্থাৎ সে সময়ে স্কুলের সমস্ত ছাত্র মাঠে জড় হয়েছিল মিলিত ড্রিল করবার জন্যে৷ মওলবী সাহেব কিছুমাত্র বিস্মিত হলেন না....ৰিন্দুমাত্র ঘাৰড়ালেন না.....তিলমাত্র হতচকিত হলেন না৷ বরং তিনি জোর গলায় সবাইকে শুণিয়ে শুণিয়ে বললেন–মাটার সা’ব, ম্যাঁ ক্যা কহুঁ৷ বাচ্চা ইতনা উম্দা লিখা হৈ জো মেঁনে আপনে জেব সে তিনি লম্বর দে দিয়া৷

সাহস শক্তি বুদ্ধি

লেখক
প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

নদীয়ার বাজারের মধ্য দিয়ে এদিক ওদিক চাইতে চাইতে হেঁটে চলেছে যতি৷ হঠাৎ সে দেখলো, দোকানীরা সব দোকান বন্ধ করে দিচ্ছে৷ লোকজন যে যেদিকে পারছে পালাচ্ছে৷ সবাই উত্তেজিত৷ সবাই ভীত সন্ত্রস্ত্র৷ পথের লোকজন আর খদ্দেররা সব আশেপাশের বাড়িতে ঢুকে পড়ছে৷ মুখে তাদের এককথা---‘পালাও পালাও’৷

যতি তখনো ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারেনি৷ তাই সে একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে পেছন ফিরলো৷ দেখলো, রাজবাড়ির একটা খ্যাপা ঘোড়া বাঁধনছিঁড়ে উন্মাদের মতো বেগে ছুটে আসছে৷ তারই ভয়ে লোকজন সব দিশেহারা৷

যতি প্রথমটায় কি করবে ভেবে পেলো না৷ তাই সে থমকে দাঁড়িয়ে রইল৷ অমনি পাশের একটা বাড়ি থেকে শোণা গেল কয়েকটা ভয়ার্ত চীৎকার--- এই খোকা পালিয়ে যা, পালিয়ে যা৷ পাগলা ঘোড়া আসছে৷ লাথি মেরে হাড় গুঁড়িয়ে দেবে৷ পালিয়ে যা৷

কিন্তু ভয় কাকে বলে যতির তা জানা নেই৷ সে তৎক্ষণাৎ মালকোঁচা মেরে হাতার আস্তিন গুটিয়ে পথের পাশে এসে দাঁড়ালো৷

ঠকাঠক, ঠক ঠক... ঠকাঠক ঠকঠক... একেবারে এসে পড়লো যতির কাছে৷

যতি অমনি দুহাত দুদিকে ছড়িয়ে ঘোড়াটার পথ রোধ করে দাঁড়ালো৷

আশেপাশের বাড়ির লোকেরা রুদ্ধ নিঃশ্বাসে দেখতে লাগলো---পাগলা ঘোড়া আর পাগলা খোকার কীর্ত্তি৷

অকস্মাৎ বাধা পেয়ে অমন দুর্দ্ধর্ষ রণংদেহী ঘোড়াটা থতমত খেয়ে থমকে দাঁড়ালো৷

আর যতি অমনি একলাফে ঘোড়াটার কপালের ঝুঁটি ধরলো আঁকড়ে৷

যতির এহেন বেয়াদপিতে ঘোড়াটা পিছ-পা করে খাড়া হয়ে উঠলো৷ আর রাগে চিঁহিচিঁহি ডাক ছাড়তে লাগলো৷

যতিও অমনি চিৎকার করে উঠলো--- বেঁধে ফেলুন এবার একে বেঁধে ফেলুন৷ আর সঙ্গে সঙ্গে ঘোড়াটার গ্রীবা ধরে সে বাদুড়ের মতো ঝুলে পড়লো৷ আর অনবরত শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে চাপ দিতে লাগলো৷

কিন্তু কেউই এগিয়ে এলো না ঘোড়াটাকে বাঁধতে৷ কারণ,ঘোড়াটার তখনো তেজ কমেনি৷ তার দৌড়াত্ম্য তখনও যতির আয়ত্বের বাইরে৷

চললো ঘোড়া-মানুষের ধস্তাধস্তি৷ ঘোড়া যত চায় ঘাড় উঁচু করতে যতি তত তাকে টেনে ধরে নীচের দিকে৷

দূরে দাঁড়িয়ে তখনো কিছু সংখ্যক প্রৌঢ় যতিকে পালিয়ে এসে প্রাণ বাঁচাবার সৎ উপদেশ দিচ্ছিলেন৷

পশুর ভয়ে মানুষ পালিয়ে যাবে তা হয় না, মরবে সে ও ভালো, তবু পালিয়ে আসবে না যতি৷

দেখতে দেখতে অত বড় বিশাল ঘোড়াটা অতটুকু ছেলে যতির কাছে সত্যি নতি স্বীকার করতে বাধ্য হলো৷ জয় হলো যতির৷ শান্ত হয়ে ঘাড় নীচু করে ঘোড়াটা যতির বশ্যতা স্বীকার করলো৷

তখন আশপাশ থেকে সব বীরপুরুষ ছুটে এসে ঘোড়াটাকে বেঁধে ফেললো৷

বাহবা পেল যতি৷ সবাই তার সাহস শক্তি আর বুদ্ধির তারিফ করতে লাগলো৷ আশপাশ বাড়ির ছাদ, জানালা অলিন্দ ও দরজার আড়াল থেকে ‘সাবাস সাবাস’ রব উঠলো যতির উদ্দেশ্যে৷

এবার শোন, এই যতির আসল পরিচয়৷ কে জানো এই যতি? হ্যাঁ এই সেই বাঘ মারা যতি-বাঘ মারা যতীন ---বাঘাযতীন৷ ১৮৭৯ খ্রীষ্টাব্দে ৮ই ডিসেম্বর তাঁর জন্ম দিন৷ জন্মস্থান বিশখালি, যশোহর জেলা৷ পিতা উমেশচন্দ্র৷ কুষ্ঠিয়ায় ছোরার আঘাতে একটি বাঘ মারেন বলে তাঁর নাম হয় বাঘাযতীন৷ ইনি বালেশ্বরে ইংরেজ পুলিশের সাথে যুদ্ধে আহত হন৷ অবশেষে বালেশ্বর হাসপাতালে মারা যান৷

সৃষ্টি রক্ষা

লেখক
আচার্য প্রবুদ্ধানন্দ অবধূত

শ্রষ্টার সৃষ্টি রক্ষা করিবে কে?

কাপালিক সাধক,আবার কে?

ভক্তের দল, ভক্তি ই বল

যারা সৃষ্টিকে ভালবাসে সর্বাগ্রে৷

এ দায়িত্ব পালনে মত্ত আছেন

ব্রহ্ম সাধক কাপালিক গণ,

স্কুল চালানো, আশ্রম চালানো,

দাতব্য চিকিৎসালয় চালানো,

বিভিন্ন সেবা মূলক কার্যে ব্যস্ত

তাঁদের অমূল্য জীবন৷

 

নোতুন সমাজ গড়ার ব্রত নিয়ে

ছুটে চলেছেন পৃথিবীর সর্বত্র,

হতাশা গ্রস্ত সমাজের আমূল

পরিবর্তনের নেশায় তাঁরা মত্ত৷

আনন্দমার্গ এক জীবন দর্শন

শ্রীশ্রীআনন্দমূর্তিজীর্ অবদান,

আত্ম-মোক্ষার্থম জগৎ হিতায় চ

লক্ষ্যে প্রাউট দর্শন আজ নিতান্তই প্রয়োজন৷

নব্যমানবতাবাদ তাঁর এক

নোতুন চিন্তাধারা নিঃস্বার্থ সেবার এষনা,

তাঁর প্রভাত সঙ্গীত অমূল্য

সম্পদ দিতেছে নিত্য প্রেরণা৷

এসো ভাইবোন, বুদ্ধিজীবিগণ,

আহ্বান জানাই সবারে,

শিল্পী,কবি, লেখক সকলেরই

প্রয়োজন একে অন্যের সবার তরে৷

কেন বা রবে সমাজ পিছিয়ে,

অন্ধকার, আবর্জনা দূর হোক,

বিধাতা সহায় দৃঢ় মনোবল নিয়ে

গড়িবো নুতন বিশ্ব মোরা হবই সার্থক৷

আত্মসমর্পণ

কৌশিক খাটুয়া

আমার বলিয়া যা’ কিছু সব

অহেতুক উন্মত্ত মহা কলরব,

সীমাহীন অসারতা,

উদ্দেশ্যে হীন বাতুলতা,

শূণ্য কুম্ভের ঝঙ্কার

অভ্রংলেহী অহঙ্কার,

মানসিক দৈন্যতা

কিম্বা ঘনীভূত আমিত্বের বিলাসিতা,

অনাগত আশঙ্কা,

কখনো বা বিজয় ডঙ্কা,

কাল্পনিক সাফল্য,মিথ্যা জয়মাল্য,

চিত্তকে করে সাময়িক প্রফুল্ল৷

একত্রিত করি অঞ্জলী ভরি

অর্ঘরূপে সমর্পিত তব চরণে,

ভারমুক্ত হতে হবে তোমায় বরণে৷

বিড়ম্বিত জীবনের ভাবজড়তার অবসাদে

অভিষেক হোক আজি তব মৃত্যুঞ্জয়ী রথে৷

ঝাবরমলের ইতিকথা

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

ধনসম্পদের প্রাচুর্য আছে কিন্তু অন্যকে খাওয়ায় না, নিজেও খায় না এমন লোকও পৃথিবীতে অনেক আছে৷ তাদের সম্পদ ‘ভ’ পর্যায়ভুক্ত নয়৷

আমার জানা এক শেঠজী (শ্রেষ্ঠী > শেট্ঠী> শেঠী > শেঠ দক্ষিণ ভারতে ‘চেট্টি’৷ প্রাচীন কালে ৫০০০০০ (পাঁচ লক্ষ) সীনক বা স্বর্ণমুদ্রার মালিককে শ্রেষ্ঠী ৰলা হত৷ ) ছিলেন যিনি টাকার বাণ্ডিলের ওপর ৰসেছিলেন৷ যাতে ঘরের কোনো ঘুলঘুলি ৰা নালি দিয়ে টাকা ৰেরিয়ে না যায়, সেদিকে সৰ সময় দৃষ্টি রাখতেন৷ ছেলেমেয়েদের জন্যে ৰাজার থেকে সৰ সময় হাত–ফেরতা (সেকেন্ড হ্যাণ্ড) জামাকাপড় কিনে দিতেন৷ পাইকারী কাপড়ের দোকানে যেসৰ ছেঁড়া শাড়ী রদ্দী মাল ৰলে ঘোষিত হত সেগুলো কিনে এনে ধরম–পত্নী পাপড় (পর্পটী > পপ্পডি > পপ্পড় > পাপড়) কুমারী দেবীকে উপহার দিতেন৷ ৰলতেন– কেউ শুধোলে ৰোলো, পোলাও রাঁধতে গিয়ে খুন্তীর খোঁচায় শাড়ীটা ছিঁড়ে গেছে৷

শেঠজী জলখাৰারে খেতেন জণ্ডা কা লাৰা অর্থাৎ ভুট্টার খই৷ লোককে ৰলতেন, কলাকন্দ (কলাকন্দ হচ্ছে উৎকৃষ্ট মানের ক্ষীরের সন্দেশ৷) আর ঘিওর (‘ঘিওর’ হল প্রচুর ঘি দিয়ে প্রস্তুত একটি পশ্চিম দেশীয় মিষ্টান্ন৷) না হলে জলখাবার খেতে ভাল লাগে না৷

শেঠজীর নামটা এ্যদ্দিন পরে ঠিক মনে পড়ছে না...... সম্ভবতঃ শেঠ ঝাবরমল ঝুনঝুনবালা.....ৰাড়ী ঝালবার৷ শেঠজী ছিলেন আমাদের শহরের সৰচেয়ে ধনী লোক৷ ভোরের দিকে কেউ তার নাম নিত না কারণ লোকের ভয় ছিল ভোরে ভোরে শেঠজীর নাম নিলে সারাদিন জণ্ডার লাবা খেয়ে থাকতে হৰে৷ শেঠজীর ছেলেটি আমার ভাইয়ের সঙ্গে পড়ত৷ নাম ছিল নাত্থুমল ঝুনঝুনবালা৷ নাত্থুমল লেখাপড়ায় ছিল খুৰ ভাল৷ সে যখন সকল বিষয়ে ফার্ষ্ট হয়ে ষ্ট্যাণ্ডার্ড এইটে উঠল, শহরের সৰাই খুব আনন্দিত৷ হেড মাষ্টারমশায় তাকে প্রথম পুরস্কার দেবার সময় উচ্ছ্বসিত ভাষায় আনন্দ প্রকাশ করলেন৷ ৰললেন–‘‘আমি আশা করি, এই ছেলেটি একদিন আমার স্কুলের তো বটেই গোটা দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে৷’’ কিন্তু ‘‘অবাক কাণ্ড ভাই, এমন ব্যাপার আর কখনো জন্মে দেখি নাই’’৷

নাত্থুমলের মুখে বিষাদের ছায়া, ঝাবরমলের মুখে তার চেয়ে ৰেশী বিষণ্ণতার কৃষ্ণমেঘ৷ ঝাবরমলকে জিজ্ঞেস করলুম–‘‘এমন আনন্দের দিনে তোমার কপালে চিন্তার ৰলিরেখা কেন

সে ৰললে–‘‘জানেন সরকার সাহেৰ, ছেলেটি যদি লেখাপড়া শেখে তাহলে ইয়ূনিভার্সিটিতে ‘প্রাপসার’ হৰে কিংবা সরকারী ‘আপসার’ হৰে৷ আমার গদ্দী কে দেখবে এর চেয়ে ঢ়ের ভাল হত যদি সে কয়েকটি পরীক্ষায় ফেল করত আর আমি সেই যুক্তিতে ওর পড়া ছাড়িয়ে দিতুম৷ তা ছাড়া আরও জানেন সরকার সাহেৰ, ও নিশ্চয় আমার কারখানার কর্মচারীদের মাইনে ৰাড়াবার জন্যে তাদের নিয়ে আন্দোলন করৰে, আমার বিরুদ্ধে তাদের লেলিয়ে দেৰে....তাদের নিয়ে এক মজৰুত ওলিয়ন (ইউনিয়ন .....মজ্দুর ইয়ূনিয়ন) গড়ৰে৷ তাই ভাৰছি কী করা যায়৷ ধরমপত্নীর সঙ্গে ৰাতচিৎ করলুম৷ সে ৰললে–ছেলেটি যখন এতই ভাল....এতই তেজ, ওকে লেখাপড়া শিখতে দাও তোমার যদি পয়সা খরচ করতে অনিচ্ছা থাকে, তাহলে ওকে আমার ৰাপের ৰাড়ীতে পাঠিয়ে দিচ্ছি৷ আমার ভাইয়েরা ওকে মানুষ করৰে৷’’

শেঠজীর সঙ্গে তার ধরমপত্নীর সেদিন দারুণ ওঠাপটক লড়াই হয়ে গেল৷ রাগে দুঃখে ক্ষোভে অভিমানে শেঠনী একদিন খেলেন না৷ তাতে অবশ্য শেঠজী একটু আনন্দিতই হলেন, কারণ তাতে একজনের একদিনের খোরাক ৰাঁচল৷

ৰাজারে নাত্থুমলের সঙ্গে আমার দেখা৷ সে কাঁদতে কাঁদতে আমার সামনে এসে দাঁড়াল৷ ৰললে–‘‘সরকার সাহেৰ, আমি রেললাইনে গলা দিয়ে মরৰ৷’’

আমি বললুম–‘‘কেন রে! তুই এতটুকু ছেলে, তোর এই দুর্ৰুদ্ধি হল কেন’’

সে ৰললে–‘‘পিতাজী ৰলেছে, আর আমি তোকে পড়াতে পারব না৷ কারৰারে মন্দী চলছে৷ ভুষিমালের ৰেৰসায় একলাখ টাকার লোকসান হয়েছে৷’’

আমি জিজ্ঞেস করলুম–‘‘কথাটা কি সত্যি’’

সে বললে–‘‘না সরকার সাহেৰ, কথাটা মোটেই সত্যি নয়৷ আসলে ৰাৰুজীর আড়াই লাখ টাকা লাভ হয়েছে৷ ইন্কামট্যাক্স, সেল্স্ট্যাক্স থেকে ৰাঁচবার জন্যে নকল খাতায় (দু’নম্বর খাতায়) এক লাখ টাকা লোকসান দেখিয়েছে৷’’

আমি ৰললুম–‘‘তাহলে কী ক রা যায় ৰল৷’’

নাত্থুমল ৰললে–‘‘সরকার সাহেৰ, আপনি একবার পিতাজীকে ৰলুন৷’’

আমি ৰললুম–‘‘তোর মাতাজী যে আমাকে ৰলছিলেন, তোকে মামার ৰাড়ীতে রেখে তিনি পড়াতে চান৷ তাতে কী তোর পিতাজীর আপত্তি রয়েছে’’

সে ৰললে–‘‘পিতাজী ৰলছে, ও যদি লেখাপড়া শেখে তাহলে ও শেঠ না হয়ে ৰাৰু হয়ে যাৰে৷ আমার ৰেৰসা খতম হয়ে যাৰে৷’’

নাত্থুমলের মুখের দিকে চেয়ে আমার মনটা ব্যথাভারাক্রান্ত হয়ে উঠল কিন্তু করৰার কিছু ছিল না, কারণ তখন মেধাবী ছাত্রদের জন্যে তেমন কোনো নিঃশুল্ক ছাত্রাবাস (students' home) ছিল না, তাই আমি কিছুই করতে পারলুম না৷

নাত্থুমল কাঁদতে কাঁদতে ৰাপের গদীতে গিয়েই ৰসল৷ সে লাল রঙের মোটা মোটা খাতাগুলোতে কী যেন লিখত৷ আমাকে রাস্তায় যেতে দেখলেই একবার তাকিয়ে লজ্জায় মুখ নীচু করত৷ আমার পক্ষে সে অবস্থাটা ছিল একেবারে অসহনীয়৷ তারপর থেকে সে আর কখনও আমার সামনে এসে দাঁড়ায়নি৷ ঝাবরমল একটি প্রতিভার অপমৃত্যু ঘটালে৷

একদিন ঝাবরমলের সম্ধী (আমাদের এখানে ৰেয়াইকে ‘সম্ধী’ ৰলা হয়৷) এলেন কোনো দূর দেশ থেকে৷ ঝাবরমলের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল৷ ৰেয়াই কতদিন থাকবেন কে জানে! ৰেয়াইমশাইকে তো আর ৰাজরার রুটি আর লংকার অচার খাইয়ে রাখা যাৰে না! তিনি এলেন ৰেলা প্রায় ১০–২১ টায়৷ ঝাবরমল দু’হাত ৰাড়িয়ে ৰেয়াইকে স্বাগত জানালেন,.....ৰল্লেন–‘‘আসুন...আসুন৷ আপনার কী কৃপা! আজ গরীৰের ঘরে চরণধূলি দিয়েছেন৷ তা আমার ৰেৰসায় মন্দী যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আপনাকে দেখে আমার সে দুঃখ দূর হয়ে গেল৷ তা আমার দুঃখ তো আপনি বুঝৰেনই৷ ৰেৰসা যদি তেজী চলত তাহলে আপনাকে যতটা স্বাগত করতে পারতুম ততটা হয়তো করতে পারৰ না৷ তবু যতটা পারি অবশ্যই করৰ৷’’

ৰেয়াই ৰললেন–‘‘তাতে কী হয়েছে, তাতে কী হয়েছে! সে জন্যে আপনি ভাবৰেন না শেঠজী৷’’

ঝাবরমলজী ৰললেন–‘‘জানেন ৰেয়াইমশায়, আমাদের ৰাড়ীর চউকার (হেঁসেল–অঙ্গিকায় ‘ভান্সা’) কাজ ৰেলা দশটার সময় শেষ হয়ে যায়৷ আপনি এসেছেন৷ আপনার জন্যে আবার নোতুন করে চুল্হা (উনুন বা আখা) জ্বালিয়ে রাঁধতে হৰে তো! আপনি ৰেয়াইমশায়, আপনার জন্যে দু’চারটে ভাল ভাল রান্না আবার তো করতে হৰে–তা সে আমার আর্থিক অবস্থা যেমনই হোক না কেন৷ রান্নাবান্না সারতে অন্ততঃ দু’ঘণ্টা লেগে যাৰে৷ আপনাকে তো আর অতক্ষণ না খাইয়ে রাখতে পারি না৷ হ্যাঁ, আমার উঠোনের কুয়োর জল খুৰই ভাল৷ আপাততঃ অন্ততঃ এক গ্লাস জল খেয়ে গলাটা ৰুকটা ঠান্ডা করে নিন৷ তার পরে চলুন, কাছেই রয়েছে এখানকার সৰচেয়ে উমদা*(*উম্দা মূলতঃ একটি ফার্সী শব্দ৷ ‘উম্দা’, ‘পরায়া’, ‘ৰুলন্দ্’ প্রভৃতি কয়েকটি হিন্দুস্তানীতে ব্যবহূত শব্দ পুংলিঙ্গ–স্ত্রীলিঙ্গ ভেদে ভিন্নতা প্রাপ্ত হয় না, অর্থাৎ উন্নত মানের জিনিসকে ‘উম্দা চীজ ’–ই ৰলৰ, ‘উম্দী চীজ’ নয় যদিও ‘চীজ’ শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ৷ তেমনি স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দের পূর্বে ‘পরায়া’ ব্যবহার করা যাবে, ‘পরায়ী’ হৰে না৷ ‘পরায়ী’ লেখা বা ৰলা একটি সাধারণ ভুল ন্তুপ্সপ্পপ্পপ্সু ন্দ্বব্জব্জপ্সব্জগ্গ৷ ‘ৰুলন্দ্’ শব্দটিও পুংলিঙ্গ–স্ত্রীলিঙ্গে অপরিবর্ত্তিত থাকবে–‘ৰুলন্দী’ হৰে না৷ ‘ৰুলন্দী’ ভাববাচক বিশেষ্য ত্ব্ব্দব্ধব্জ্ত্রন্তুব্ধ প্সব্ভুগ্গ, মানে উঁচাঈ–উচ্চতা৷ ) হোটেল৷ নাম ঃ ‘অতি বিশুদ্ধ্ পরোটা ভাণ্ডার’৷ একেবারে শুদ্ধ্ শাকাহার শুদ্ধ্ ঘি৷

পথশ্রমে ক্লান্ত হওয়া সত্ত্বেও ৰেয়াই ঝাবরমলের সঙ্গে সঙ্গে চলল ‘অতি বিশুদ্ধ্ পরোটা ভাণ্ডারের’ দিকে৷ হোটেলের মালিককে ঝাবরমল ৰললেন–‘‘ইনি আমার বেয়াইমশায়....খুব রঈস লোক.....প্রচুর টাকাপয়সার মালিক৷ কখনও অন্যের পয়সায় খান না৷ এমনকি আমি ওঁর অতি নিকট আত্মীয়....আমার পয়সাতেও কখনো খান না৷ এঁর জন্যে আপনার হোটেলে যে উম্দা উম্দা মেনু আছে তাই নিয়ে আসুন–কচৌরী, খড়ি ৰড়ি, রতুয়া, লড্ডু, ঘিওর, কলাকন্দ, সাৰুদানা কা পাপড়, আলু কা পাপড়, রাৰড়ি আর মালাই৷ এছাড়াও ৰেয়াইমশায় আর যা যা চাইৰেন তাও দিন৷’’

ৰেয়াইকে খেতে ৰসিয়ে দিয়ে ঝাবরমলজী বললেন–‘‘আমার দোকানে কাজ রয়েছে ৰেয়াইমশায়, আমি একটু চলি৷’’ যাৰার সময় হোটেলের মালিককে ৰললেন, ‘‘যদিও নীতিগতভাবে উনি অন্যের পয়সায় খান না, তৰু উনি আমার নিকট আত্মীয়......আমি ওঁকে কিছুতেই ছাড়ৰ না৷ আপাততঃ পেমেন্টটা উনিই করে দেৰেন৷ তবে সেটা পরে আমি জোর করে ওঁর পকেটে ঢুকিয়ে দোৰ৷ উনি আমার অতিথি, আমার টাকায় ওঁকে খেতেই হৰে৷’’ তারপর ৰেয়াইকে বললেন–‘‘ৰেয়াই মশায়, যা খাৰার খেয়ে নিন কিন্তু জল খেয়ে পেট ভরাৰেন না যেন৷ জলটা আমার ৰাড়ীতেই খাৰেন৷ অমন পাচক জল পৃথিৰীতে আর কোথাও হয় না৷’’

তারপর ঝাৰরমল ৰাড়ী চলে এলেন....ধরমপত্নীকে ৰললেন–‘‘দেখ, আমরা সৰাই একসঙ্গে তাড়াতাড়ি খেতে ৰসে যাই৷ ৰেয়াই মশায় এ ৰাড়ীতে আসার আগেই খাৰার পাট চুকিয়ে দিতে হৰে তো৷’’ এই যে ঝাবরমলজী এঁর সম্পত্তি থাকুক মানুষের এতে কিছুই যায় আসে না৷ তাই এঁর সম্পত্তি ‘ভ’ পর্যায়ভুক্ত নয়৷

চলার পথে অযুত বল৷৷ - তের পার্বণঃ কৃষি উৎসব ইতু পুজো

লেখক
প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

বাংলায় তথা সমগ্র ভারতে বহু প্রাচীনকাল থেকে সূর্য নানা নামে নানা রীতিতে পূজিত হয়ে আসছে৷ ঋগ্বেদের অন্যতম প্রধান দেবতা সূর্য৷ বিভিন্ন সময় পৃথিবীর ওপর দেবতা সূর্য৷ সময় ওপর অর পান যেমন পৃযা, বরুণ, বিভু মাতরিশ্বা, মিত্র ইত্যাদি! মিত্র কেন? ‘মিত্র অহরভিমানী’ ‘দেবঃ’ সায়নাচার্য মিত্রকে দিনের দেবতা রূপে গণ্য করেছেন৷ ইতুপূজা হচ্ছে মিত্র পূজা৷ অগ্রহায়ণ মাসের সূর্য মিত্র তুল্য৷ হেমন্তে মাঠে মাঠে শস্য ফলিয়ে জীবকে অনাহার থেকে উদ্ধার করেন বলেই সূর্য এই সময় মিত্র৷ কার্তিক সংক্রান্তি থেকে অগ্রহায়ণ সংক্রান্তি - ফসল ঋতুর সময়কাল অবাধ প্রতি রবিবার ইতু পূজা হয়৷ সূর্যই ইতু-এই ধারণা থেকেই রবিবার পূজার প্রচলন হয়েছে৷ কৃষিকার্ষে সূর্যের গুরুত্ব বুঝেই বোধহয় এই শস্য উৎসবে সূর্যকে দেবতা কল্পনা করা হয়েছে৷

কার্তিক মাসের সংক্রান্তির দিন একটা নতুন সরাতে মাটি দিয়ে তার ওপর ঘট স্থাপন করে, চারদিকে ধান মানকচু এইসব গাছ বসাতে হয়৷ সেইসব গাছের পাশে মটর, কলমি, বট, সরষে শুসনীর ডাল বসিয়ে কলাই পঞ্চশস্য (ধান মুগ মাষকলাই যব ও চেত সরিষা) ছড়িয়ে দেওয়া হয়৷

যেহেতু ইতু মেয়েলী ব্রত তাই পুরোহিতের প্রয়োজনের হয় না৷ পুজোর শেষে মেয়েরাই ইতুর ছড়া বলবে----

কাঠি মুঠি কুড়াতে গেলাম,

ইতুর কথা শুনে এলাম৷

এ কথা শুন্‌লে কি হয়?

অপুত্রের পূত্র হয়,

অশরণের শরণ হয়,

নির্ধনের ধন হয়৷

অন্তকালে স্বর্গে যায়৷৷

কোন কোন নৃতাত্ত্বিক ইতুপূজাকে সূর্র্যেপসনা বলে মানতে রাজি নন৷ তারা ইতুকে মাতৃদেবী রূপেই গণ্য করেন৷ তাঁদের মতে ঘটের গায়ে পুত্‌লি আঁকা এবং ঘটের ভেতরে শস্য দানা ও তৃণগুচ্ছ রাখা মাতৃকা রূপকেই সূচিত করে৷ যাই হোক, ব্রতের রীতি ও উপচার বিশ্লেষণ করে ইতুকে শস্য-উৎসব বলা যেতে পারে৷

‘‘ বাংলাতে এই হেমন্ত ঋতুতে সূর্যপূজা করা হয় একটু অন্যভাবে কিন্তু তা করা হয় প্রতি সূর্যবারে (রবিবারে) এই পূজাকে কথ্যবাংলায় বলা হয় ইতুপূজা (মিত্র/মিত্তির/মিত্তি/মিতু/ইতু৷)’’

                     ---শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের লঘুনিরুক্ত

প্রাউট সঙ্গীত

লেখক
সাক্ষীগোপাল দেব

চল্‌রে চল্‌রে চল্‌রে চল,

দেশের অরুণ তরুণদল

ভাঙতে হবে হাজার যুগের

শোষণ শাসন জগদ্দল৷৷

নেবে রে তুলে ত্যাগ নিশান

ডাকছে প্রাউট ঐ বিধান

কদম কদম এগিয়ে চল

কাঁপুক ধূলার ধরণী তল৷৷

ভেদ বিভেদের উৎপাটন

করবে তোলা সব মিলে

অত্যাচারী কর খতম

তোলরে তাকে কাঠ ঝিলে৷

প্রাউট শাসন কর কায়েম

মাটির বুকে জবরদস্ত

সংগচ্ছধবং মন্ত্র হোক

শামিয়ানা নেতা

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘কেণিকা’ শব্দের একটি অর্থ হল শামিয়ানা৷ শব্দটি ফার্সী৷ এ ক্ষেত্রে ৰাঙলার নিজস্ব শব্দ ‘কেণিকা’৷ রোদ ও অল্প বারিপাতের হাত থেকে কোনো উৎসব বা অনুষ্ঠানকে ৰাঁচাবার জন্যে শামিয়ানার ব্যবহার হয়ে থাকে৷ এই ‘শামিয়ানা’ শব্দটি ৰাংলা ভাষায় এসেছে ৰড় জোর ৪০০ বছর৷ ছোটৰেলায় আমি একজন শামিয়ানা–নেতার নাম শুনেছিলুম৷ তোমরা নিশ্চয় জানো, নেতা হবার জন্যে অনেকের সখের প্রাণ গড়ের মাঠ হয়ে থাকে৷ যোগ্যতা নেই, তবু নেতা হতে হবে৷ তাই তারা অনেক সময় অন্যকে দিয়ে ভাষণ লিখিয়ে নিয়ে নিজেরা তা কতকটা মুখস্থ করে জনসভায় ছেড়ে দেয়৷ হাততালির ব্যবস্থা আগে থেকেই করা থাকে৷ এদের জন্যে ‘শামিয়ানা–নেতা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়৷

আমার জানা জনৈক শামিয়ানা–নেতা কয়েকৰারই ম্যাট্রিকে ঘায়েল হয়ে শেষ পর্যন্ত নেতা হবার পদটি নিরাপদ মনে করে সেটিকেই ৰেছে নিলেন৷ ৰলা ৰাহুল্য, লিখিত ভাষণ মুখস্থ করে তার ভালই চলছিল৷ কিন্তু যতিচিহ্ণের ত্নব্ভুন্তুব্ধব্ভ্ত্রব্ধ জ্ঞান না থাকায় ভাষণ একটু ওলট–পালট হয়ে যেত৷ তাঁর সহকর্মীরা একদিন তাকে ৰললেন–‘‘দেখিয়ে, আপ্ পাঙ্ক্চুয়েশন শিখ লিজিয়ে৷’’

তিনি ৰললেন–প্রোনাউন ঔর প্রপার নাউন তো মুঝে মালুম হৈ (হ্যায়)৷ বহী চীজ না৷

সহকারীরা ৰললেন–পাঙ্কচুয়েশনভী ঐসা হী হৈ, পর্ থোড়া ইধ্র্–উধ্র্৷ জৈসা ‘বাটার’ ভ্র্ত্রব্ধন্দ্বব্জগ্গ ঔর ৰাটার ত্ব্ব্ভব্ধব্ধন্দ্বব্জগ্গ্–দোনো করীৰ্ করীৰ্ এক হী হৈ, দোনো হী তরল হৈ৷ মগর থোড়া ফারাক্ ভী রহতা হৈ৷

তাঁরা তখন শামিয়ানা–নেতাকে যতিচিহ্ণ ৰোঝালেন৷ ৰললেন–জৰ্ হমলোগ কমা লিখেঙ্গে উস্কে ৰাদ আপ্কো বান্ (ওয়ান) বল্নে কা টাইম ছোড়না পড়েগা৷ জব্ ফুলিষ্টপ্ লিখেঙ্গে তব্ আপ্কো বান, টু, থীরী (ওয়ান, টু, থ্রী) কা টাইম ছোড়না পড়েগা৷

শামিয়ানা–নেতা ৰললেন–হান্ জী, ম্যায় সমঝ্ লিয়া৷

সহকারীরা লিখে দিলেন–প্যারে সজ্জনোঁ, মুঝে আজ কাফী হর্ষ্ হৈ, কি ম্যায় আপলোগোঁকা পাশ্ পঁহুচ গ্যয়া৷ মগর কহ্না যহী হৈ কী শীর্ফ আজ হী কে লিয়ে নহীঁ, বল্কি অনন্তকালকে লিয়ে ম্যায় আপলোগোঁকা পাশ আনা চাহতা হুঁ–, ঔর অনন্তকাল তক্ আপ্লোগোঁকো সাথ রহনা চাহতা হু৷’’ শামিয়ানা–নেতা কমা, ফুলষ্টপ, আর ৰান–টু–থীরীর হিসাৰ ভালভাৰে শিখে নিলেন৷ এবার তিনি শামিয়ানার নীচে দাঁড়িয়ে ভাষণ শুরু করলেন–

‘‘প্যারে সজ্জনোঁ কমা বান মুঝে আজ কাফী হর্ষ্ হৈ কমা কি ম্যায় আজ আপ্লোগোঁকা পাশ্ পঁহুচ্ গয়া ফুলিষ্টপ ৰান, টু, থীরী (ওয়ান, টু, থ্রী) মগর কহ্না যহী হৈ কমা ৰান শীর্ফ্ আজ হী কে লিয়ে নঁহী ৰল্কি অনন্তকালকে লিয়ে ম্যায় আপ্লোগোঁকা পাশ আনা চাহতা হুঁ কমা ঔর অনন্তকাল তক্ আপ্লোগোঁকা সাথ রহনা চাহতা হুঁ ফুলিষ্টপ ৰান টু থীরী৷

শ্রোতা–জনতা সোল্লাসে হাততালি দিয়ে তাঁকে সম্ৰর্দ্ধনা জানালেন৷ নেতা তো হাততালিই চাইছিলেন৷ তাঁর ভাষণটা প্রদত্ত হয়েছিল সম্ভবতঃ অল ইণ্ডিয়া চোর এ্যাণ্ড ডাকু কন্ফারেন্সে (নিখিল ভারত চোর ও ডাকাত সম্মেলন)৷ তাহলে তোমরা ৰুঝলে শামিয়ানা–নেতা কাদের ৰলে৷

* * * *

ওই রকম একজন নেত্রীও ছিলেন৷ তিনি ছিলেন ৰ্রিটিশ ভারতের জনৈক দেশীয় রাজ্যের মহারাণী৷ তাঁর ভাষণ লিখে দিতেন ভারতের জনৈক নামজাদা ৰ্যারিষ্টার৷ একবার এলাহাৰাদে সর্বভারতীয় মহিলা সম্মেলন হয়েছিল৷ ৰ্যারিষ্টার সাহেৰের লেখা ভাষণটি মহারাণী ভালভাৰেই পড়ে নিয়েছিলেন৷ কিন্তু সভাস্থলে দাঁড়িয়ে বিপুল জনসমাবেশ দেখে মহারাণীর মাথা ঘুরে যায়......ভিরমি যাৰার উপক্রম হয়, সমস্ত ভাবনাই তাঁর তখন গুৰলেট হয়ে যায়৷ মহারাণী ছিলেন শামিয়ানা–নেত্রী৷ সুতরাং ভাষণের সুযোগ তিনি তো ছাড়ৰেন না, তা মুখস্থ থাক, বা না থাক ৰলৰেনই৷ তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিন–চার ৰার ৰললেন–ম্যায় ক্যা কহুঁ...ম্যায় ক্যা কহুঁ...ম্যায় ক্যা কহুঁ৷ তারপর রুমাল দিয়ে সযত্নে টিপ ৰাঁচিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বললেন–ৰড্ডী গরম...ৰড্ডী গরম...ৰড্ডী গরম৷ তারপরে মহারাণীর গলার স্বর আর ৰেরুল না, আগাগোড়া ভাষণটি ভুলে গেলেন আর কি! ‘‘এক গেলাস পানী’’ ৰলে ধপাস করে চেয়ারে ৰসে পড়লেন৷

এৰার ৰ্যারিষ্টার ভদ্রলোক উঠে দাঁড়ালেন৷ তিনি বললেন–আজ যে সকল বিদুষী মহিলা এই সভায় এসে ভাষণ দিয়ে আমাদের কৃতার্থ করলেন তাঁদের অন্যতমা হচ্ছেন আমাদের এই মহারাণী৷ সত্যিই এঁর ভাষণের তুলনা ভারতে কেন, সমগ্র বিশ্বে বিরল৷ এখন আমাদের খতিয়ে দেখার দিন এসেছে যে ভারতের মহিলারা আজ কত দুঃখে আছেন আর তাঁদের সেই দুঃখ দেখে মহারাণীর কোমল প্রাণ আজ কী পরিমাণ বিগলিত হয়েছে কী পরিমাণ দ্রবিত হয়েছে৷ মহারাণী প্রথমেই ৰললেন–‘‘ম্যায় ক্যা কহুঁ ম্যায় ক্যা কহুঁ ম্যায় ক্যা কহুঁ’’ অর্থাৎ ভারতীয় নারীর দুঃখ–দুর্দশার ইতিকথা এত পর্বতপ্রমাণ যে মহারাণী এর কোন্খানটা ৰলৰেন আর কোন্খানটা না ৰলৰেন ভেবে পাচ্ছেন না৷... ভারতীয় নারীর দুঃখের ইতিহাস মহারাণীর কোমল প্রাণকে এমন ওতঃপ্রোতভাবে গলিয়ে দিয়েছে যে মহারাণী ভেবে পাচ্ছেন না যে কোন্খানটি থেকে তাঁর বর্ণনা শুরু করৰেন আর কোথায় বা হৰে তার পরিসমাপ্তি৷ তাই মহারাণীর দরদী মন ৰলছে, ‘‘ম্যায় ক্যা কহুঁ...ম্যায় ক্যা কহুঁ...ম্যায় ক্যা কহুঁ’’৷ উঃ ভাবতেই পারছি না মহারাণীর কী অপূর্ব মমতা...মহীয়সী নারীর কী বিরাট হূদয়বত্তা! তারপর মহারাণী বললেন...মহারাণী কী ৰললেন...ৰললেন–ৰড্ডী গরম...ৰড্ডী গরম...ৰড্ডী গরম৷ অর্থাৎ অত্যাচারের নাগপাশে আজ ভারতীয় নারী পিষ্ট৷ শুধু যে রান্নাঘরের আগুনের উত্তাপেই তারা জ্বলেপুড়ে মরে যাচ্ছে তাইই নয়, অত্যাচারের নাগপাশের উষ্ণতাতেও তাদের দম ৰন্ধ হবার উপক্রম৷ সেই রান্নাঘরের উত্তাপ, সেই নাগপাশের দাবদাহ মহারাণীর কোমল মনকে স্পর্শ করেছে৷ মহারাণীর ওষ্ঠের মধুর হাসি মরুভূমির মারব জ্বালায় হারিয়ে গেছে৷ মহারাণী তাঁর অন্তরের বিদগ্ধ অনুভূতি, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন কবির মাধুর্য্যময় মুন্সীয়ানায় ছোট্ট কয়েকটি শব্দে বললেন–‘‘ৰড্ডী গরম...ৰড্ডী গরম...ৰড্ডী গরম’’ অর্থাৎ এ অত্যাচারের অনল জ্বালা আমি সহ্য করতে পারছি না......এ উষ্ণতার ক্লেশ আমার কাছে অসহনীয়৷ শ্রোতা–জনতা করধ্বনি দিলেন৷ ৰ্যারিষ্টার সাহেৰ শামিয়ানা–নেত্রীকে অদ্রিতুঙ্গে উঠিয়ে দিলেন৷

* * * *

তোমরা একজন শামিয়ানা–নেতার পরিচয় পেলে–একজন নেত্রীর পরিচয়ও পেলে৷ কেমন লাগল!

অভিপ্রায়

লেখক
কৌশিক খাটুয়া

আমি দু’হাত ভরে তুলেছি ফুল

 শুধু তোমার চরণে নিবেদনে,

 রঙিন ফুলে গাঁথা মালা

 হৃদয়ে সাদরে বরণে৷

 

আমি মন-বেদি পরে আলপনা আঁকি

 শুধু তোমার আকুল স্মরণে,

 কাঞ্চনে গাঁথা উদ্ভাসিত মনি

 তব সৃষ্টির শোভা বর্ধনে!

 

আমি অপার আনন্দে নন্দিত

 ভজনে, গানে ও কীর্তনে,

ভাবের গভীরে নিজেরে হারায়ে

 স্পন্দিত একি শিহরণে!

 

আমি তোমার সুরে সুর হতে চাই

 মোহন বেনুর রণনে,

আমি তোমার রঙে রঙ মিলিয়ে

 আপ্লুত হই মননে!

 

আমি রয়েছি তোমার কল্যান কাজে

 পীড়িতের দুঃখ মোচনে,

সেবক হইয়া সমাজে বিরাজি

 মঙ্গল ব্রত রূপায়ণে৷

 

আমি ধূসর ধুলির ধুলিকণা

 তব রাতুল চরণ পরশে,

আমি পুষ্পের মাঝে ফুলরেণু হয়ে

 মধু বিতরণ হরষে৷

 

কাব্যিক ভাবের ভাষা আমি

 শব্দবদ্ধ ছন্দ,

তোমার চরণে নিত্য নিবেদনে

 পাই অনাবিল আনন্দ!

 

আমি তোমার আদর্শে হব সুমহান

 ঐতিহ্যের অধিকারী,

জীবন সঁপিয়া তব পরিচয়

 যেন জনমনে দিতে পারি৷

 

বিশ্ববাসীর নিদ্রা ভাঙ্গিয়ে

 নবজাগরণের আহ্বান,

শুভ চেতনার কেতন উড়ায়ে

 গাই জীবনের জয়গান৷

 

সরিতার মত জীবনধারা

 সাগরে হারিয়ে যাই,

মানব জীবনে সার্থকতায়

লব পুরুষোত্তম কোলে ঠাঁই৷

এসেছে অঘ্রান

লেখক
প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে পাতা

ঝরছে শিশির কণা---

তাইনা দেখে প্রজাপতির

খুশির উন্মাদনা৷

আগ কঁহা লগী

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

গদ্গদ  বচ  ঘঞ ঞ্চ গদ্গদবাচ৷ তোমরা অনেক নেতার জ্বালাময়ী বত্তৃণতা প্রাক্–স্বাধীনতাকালে হয়তো শুণেছ৷ তাঁরা ভাষণে আগুন ছুটিয়ে দিতেন, যদিও বক্তব্যে বড় একটা কিছু থাকত না৷ শ্রোতার তলিয়ে ভাবার অবকাশ থাকে না৷ এই ধরণের অভ্যন্তরীণ মূল্যহীন যে ভাষণ তা’ ‘গদ্গদবাচ’৷

একবার বিহারে কোন এক জনসভায় জনৈক নেতা এলেন নির্ধারিত সময়ের দু’ঘণ্টা পরে৷ শ্রোতারা অধীর আগ্রহে কখনো রোদে মুখ পুড়িয়ে, কখনো বা জলে জামা ভিজিয়ে অপেক্ষা করে আছে৷ নেতার আসতে দেরী হ’ল কারণ তিনি একটি দূরবর্ত্তী স্থানের সুলভ শৌচালয়ের ফিতে কাটতে গেছলেন৷

তিনি এসে কিন্তু লজ্জিত হলেন না....তাঁর মুখে কিন্তু কিন্তু ভাবও ছিল না৷ তিনি শ্রোতাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেন–‘‘মালা লেনে কা টাইম নহী হ্যায়, ম্যায় বহুৎ ব্যস্ত হুঁ’’৷ সবাই ভাবল–নেতা তো, কতই ব্যস্ত! তাই মালা নিতে চাইছেন না৷ তাঁর জনৈক টাউট শ্রোতাদের এ্যাড্রেস করে বিহারের স্থানীয় ভাষায় বললেন–এঁর সময়ের অত্যন্ত অভাব৷ আর কাজও প্রচুর৷ নাওয়া–খাওয়া–শোয়া তো প্রায় উঠেই গেছে৷ দীর্ঘশঙ্কায় (মলত্যাগ) না গেলে নয়, তাই যান৷ আর ত্যাগ! ত্যাগের কথা আর বলবেন না৷ আগে দিনে দশ প্যাকেট সিগারেট খেতেন৷ আজকাল কেবল দীর্ঘশঙ্কার সময় এক প্যাকেট সঙ্গে নিয়ে যান, নইলে পেট পরিষ্কার হয় না৷ ভেবে দেখুন তো কী দারুণ ত্যাগ! আসছে ইলেকশানের সময় এঁর কথা আপনারা যেন কিছুতেই ভুলবেন না৷ আমি আবার আপনাদের জোড়া পায়ে সালাম দিতে আসব৷

তারপর নেতা শুরু করলেন তাঁর ভাষণ–বন্ধুয়োঁ, আজ ইস সুবসর পর আগ লগ গয়ী৷ ক্যা হুয়ী আগ লগ গয়ী৷ আগ কহাঁ লগী আগ লগ গয়ী আপকে দিল মে, মেরে দিল মে, দুঃখিয়া মানবতা কে দিলমে৷ আগ জ্বল রহী হ্যায়...আগ জ্বল রহী হ্যায়....জ্বলতী রহেগী৷

তবু শ্রোতারা মুগ্ধ....অভিভূত!                                           (শব্দ চয়নিকা, ১৮/২০)