প্রভাতী

হিন্দী মে ৰোলিয়ে

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

যে মানুষ হিন্দী ও ইংরেজী দু’য়ের কোনোটাই জানে না সে হিন্দী শুনে ভাবতে পারে ওটা ৰুঝি ইংরেজী৷ আবার ইংরেজী শুনে ভাবতে পারে ওটা ৰুঝি হিন্দী৷ বাঙলা–হিন্দীতে ‘গদি’ ও ‘গদ্দী’ নিয়ে এ রকম গণ্ডগোল হলেও হতে পারে৷ ‘‘মালিক গদ্দীমে হঁৈ ’’  বললে একজন ৰাংলাভাষী ভাবতে পারে মালিক ৰুঝি খাটের গদিতে শুয়ে আছে আর ৰাংলায় ‘মালিক গদিতে শুয়ে আছে’ শুনে বাংলা–না–জানা লোক ভাবতে পারে, ‘মালিক বোধ হয় দোকানের খাটে শুয়ে রয়েছে৷’ সেই যে গল্প জানো না৷ একবার একজন উৎকট রাষ্ট্রভাষাপ্রেমী পটনা ইষ্টিশানে পৌঁছলেন৷ তাঁকে যেতে হবে পটনা সেক্রেটারিয়েটে৷ কিন্তু তিনি তো ইংরেজীতে  ‘সেক্রেটারিয়েট’ বলবেন না৷ এমনকি ‘ইংরেজী’ শব্দটাও তিনি উচ্চারণ করবেন না৷ তিনি ইষ্টিশানে রিক্সাওয়ালাকে বললেন–‘‘সচিবালয় লে চলো জী’’৷ রিক্সাওয়ালাও খুব রাষ্ট্রভাষাপ্রেমী৷ সে তখনই  বললে –ক্যা সাহাৰ, আপ আংরেজীমে ‘সচিবালয়, সচিবালয়’  কর রহে হেঁ, হিন্দী মেঁ ৰোলিয়ে৷ ম্যাঁয় আংরেজী নেহীঁ সমঝ্তা হুঁ৷

রাষ্ট্রভাষাপ্রেমী নেতাটি ফ্যাসাদে পড়লেন৷ তিনি তখন ঘুরিয়ে নাক দেখাবার মত করে বললেন–‘‘সচিবালয় জী সচিবালয়, জিসকো কুছ্লোগ ভুলসে সেক্রেটারিয়েট (ইংরেজী তো তিনি বলবেন না) বী কহতে হেঁ৷’’

রিক্সাওয়ালা বললে–বহী ৰোলিয়ে–হিন্দীমে ৰোলিয়ে–সেক্রেটারিয়েট৷ আপ্ আংরেজীমে কিঁউ ‘সচিবালয়’ ‘সচিবালয়’ কহ্তে হেঁ

রাষ্ট্রভাষাপ্রেমী ভদ্রলোকটির মুসকিল–আশান হ’ল৷ তিনি যেন হাতে পূর্ণিমার চাঁদটি পেলেন৷

বাপ–বেটাকে নিয়ে সংসার৷ বাপ হাটে গেছে৷ বেটা বাপের জন্যে ভাত–ডাল–তরকারী রেঁধে রেখেছে৷ ৰাৰা খেতে বসে বলছে–রামচন্দ্র, রামচন্দ্র, ওরে রাউজা, দাইলনিতে কয় গণ্ডা মরিস্ দিস

বেটা বললে–সয় গণ্ডা৷  বাপ–দিৰারে কইসিলাম কয় গণ্ডা

বেটা–আজ্ঞা, আষ্ট গণ্ডা৷ বাপ–দিস কত

বেটা–আইজ্ঞা সয় গণ্ডা৷ বাপ–এ অন্ন কাউম্ না, এ অন্ন কাউম্ না৷

বেটা–এ্যাবার এ্যাডা ক্ষমা করেন, মাপ করেন৷ এক্কেরে কতা দিত্যাসি, এ্যামনডা আর অইবো না৷

বাপ–ত্র্যাতাযুগে যে রামচ ন্দ্র আসিল হ্যা পিতৃসত্য পালনের লাইগ্গা ১৪ বৎসর বনবাস গ্যাসিল৷ তুমি কলিযুগের রামচন্দ্র পিতৃ–আজ্ঞা লঙঘন করস্৷ দিবারে কইসিলাম কয় গণ্ডা মরিস

বেটা–আইজ্ঞা, আষ্ট গণ্ডা৷  বাপ–দিস কত

বেটা–সয় গণ্ডা৷  বাপ–তুমি পিতৃ–আজ্ঞা লঙঘন কর্স৷ এ অন্ন কাউম না, লাতি মাইর্যা তালা ৰাইঙ্গা ফ্যালাই দিমু৷

ও কী করে এসেছিল!

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

 

‘ইহ’ মানে ‘এই জগতে’৷ মনে রাখা দরকার ‘অত্র’ আর ‘ইহ’ এক জিনিস নয়৷ ‘অত্র’ মানে এখানে–এই স্থানে আর ‘ইহ’ ব্যবহূত হয় অনেক ব্যাপকার্থে......‘এই লোকে’/‘এই জগতে’৷ ‘ইহ’‘ঠক্’ প্রত্যয় করে আমরা পাচ্ছি ‘ঐহিক’ শব্দটি৷ তার বিপরীত শব্দ হচ্ছে ‘পরত্র’ থেকে ‘পারত্রিক’ ‘ইহলৌকিক’–বিপরীত শব্দ ‘পারলৌকিক’৷ ‘ইহলোক’–বিপরীত শব্দ ‘পরলোক’৷ ‘ইহ তিষ্ঠ’ না বলে ‘অত্র তিষ্ঠ’ বলা ৰেশী সঙ্গত হবে৷ ‘ইহ তিষ্ঠ’ মানে ‘এই জগতে থাকো’৷ আর ‘অত্র তিষ্ঠ’ মানে  ‘এইখানটিতে থাকো’৷ সুপ্রাচীনকাল থেকেই ‘ইহ’ শব্দটি অব্যয় রূপে ব্যবহূত হয়ে এসেছে৷

ইহলোক আর পরলোকের মধ্যে অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত থেকে যায় এক সূক্ষ্ম স্বর্ণরেখা৷

সে অনেক দিন হয়ে গেল৷ তখন দিল্লীতে নিজের ৰাড়ী ছিল না৷ থাকতুম কখনো হোটেলে, কখনো ভাড়া ৰাড়ীতে৷ সেবার হোটেলেই ছিলুম৷ সান্ধ্য–ভ্রমণ সেরে হোটেলে ফিরলুম রাত্রি প্রায় সাড়ে আটটায়৷ ৰাথরুমে গিয়ে ৰেসিনে হাত–মুখ ধুচ্ছি, হঠাৎ পেছন দিক থেকে শুনলুম আগেকার সুপরিচিত মিষ্টি আওয়াজ–‘কেমন আছো’ ভাবলুম–এ কী! এ যে আমার ছোটবেলাকার অতিপরিচিত দুলু পালিতের আওয়াজ! দুলু একাধারে আমার ঘনিষ্ঠ ৰন্ধু, আবার দূর সম্পর্কের আত্মীয়ও৷ দুলুর বাড়ী ছিল মগরার কাছে......অভিজাত পরিবারের ছেলে৷ দুলু পালিত, ব্রজগোপাল সান্ন্যাল ও আমার মধ্যে ছিল নিৰিড় ৰন্ধুত্ব৷ দুলু পালিত ও ব্রজ সান্ন্যাল ছিল অত্যন্ত রূপবান৷ ওদের মনের সৌন্দর্য ছিল আরও ৰেশী৷ পরোপকার ছিল তাদের সহজাত সংস্কার৷ কিন্তু এখানে এই হোটেলের ৰাথরুমে সেই দুলুর আওয়াজ কোত্থেকে এল! কী করেই বা এল! আমি স্বপ্ণও দেখছি না, সুস্থ শরীরে, সুস্থ মস্তিষ্কে ৰেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাত–মুখ ধুচ্ছি–এ তো শোনার ভুল হতে পারে না, ভাবার ভুলও হতে পারে না!

দুলু এবার একটু অভিমানের সঙ্গে বললে–‘‘তুমি কি আমার ওপর রাগ করেছো আমার দিকে তাকাচ্ছো না কেন’’

হ্যাঁ, ৰলে রাখি, দুলু আমায় বড্ড ৰেশী ভালৰাসত৷ সে  আমাকে  ছোটবেলায় কয়েকবারই ৰলেছিল–যেমন কৃষ্ণলীলার সুদামা–কৃষ্ণের সম্ৰন্ধ তেমনই আমাদের সম্ৰন্ধ৷ সুদামা কৃষ্ণকে বড্ড ভালবাসত৷ কৃষ্ণও সুদামাকে খুব ভালবাসত৷ ও আমাকে বলত–‘‘দেখ, আমরা একে অন্যকে এত ৰেশী ভালৰাসব যে কৃষ্ণ–সুদামাকেও হার মানিয়ে দোৰ৷’’

আমি ৰলেছিলুম–‘‘আমি তেমন পারৰ কিন্তু তুমি কি তেমন পারৰে’’

ও ৰলেছিল–‘‘নিশ্চয় পারৰ, দেখে নিও!’’

আজ সেই দুলুর আওয়াজ পেলুম৷ আর সে অভিমানের সুরে ৰলছে–‘‘আমি তার দিকে তাকাচ্ছি না কেন!’’

আওয়াজ আসছিল যেন আমার পেছনের দিক থেকে৷ পেছনের দিকে দেওয়ালে তাকিয়ে দেখি, দেওয়ালের গায়ে দুলু আলোকোজ্জ্বল পূর্ণাবয়বে দাঁড়িয়ে রয়েছে, আর আমার দিকে চেয়ে আনন্দে হাসছে৷ আমি তাকাতেই  সে আনন্দে উচ্ছল হয়ে উঠে ৰললে–‘‘কেমন আছো তোমার জন্যে ক’দিন হ’ল আমার মনটা ছটফট করছিল৷ এখন তোমাকে কাছে পেয়ে ৰাঁচলুম৷’’

আমি ৰললুম–‘‘আমি ৰেশ ভালই আছি৷ এৰার কলকাতায় গিয়ে তোমার সঙ্গে দেখা করৰ৷’’

ও ৰললে–‘‘নিশ্চয়, নিশ্চয়৷’’ তারপর একটুখানি পরে ৰললে–‘‘আমাকে তোমার পছন্দমত কোনো কাজে লাগিয়ে নাও৷ এতে আমার  সুৰিধে হৰে এই যে, সৰ সময় তোমার কাছে থাকা যাৰে৷ যদি কখনো কাছে না–ও থাকা যায় অর্থাৎ কাজ নিয়ে বাইরে কোথাও যেতেও হয় তাহলেও মনে এই পরিতৃপ্তি থাকৰে যে তোমার কাজ করতেই বাইরে যাচ্ছি৷’’

আমি ৰললুম–‘‘তেমনটিই হৰে৷ আমি ক’দিনের মধ্যেই কলকাতায় ফিরছি৷’’

এমন সময় টেলিফোনের আহ্বান আসায় শোবার ঘরে চলে এলুম৷ ফোন ধরতেই ওদিক থেকে আওয়াজ এল–‘‘আমি ব্রজগোপাল সান্ন্যাল কলকাতা থেকে ৰলছি৷’’

ব্রজগোপাল আমার ছোটৰেলাকার ৰন্ধু৷ ও ভালভাবেই জানত, দুলু পালিত আমাকে ছাড়া থাকতেই পারে না....কতকটা যেন ত্ব–এর পাশে হু–এর মত৷

আমি ব্রজকে ৰললুম–‘‘কী ৰলছো’’

ব্রজ ৰললে–‘‘আমাদের ছোটৰেলাকার ৰন্ধু দুলু পালিত ক’দিন ধরেই বড্ড ৰেশী অসুস্থ৷ আমি এখন ওর ৰাড়ী থেকেই ফোন করছি৷’’

আমি ৰললুম–‘‘কী হয়েছে’’

ব্রজ ৰললে–‘‘কী হয়েছে ৰোঝা যাচ্ছে না৷ নাড়ীর গতি স্বাভাবিক, কোনো রোগ–ভোগ নেই, জ্বর–জ্বালাও নেই৷ ডাক্তার ৰলছে, কোনো রোগই ধরা পড়ছে না’’৷

আমি ৰললুম–‘‘তৰে কী হয়েছে’’

ব্রজ ৰললে–‘‘ও কেবল শুয়ে শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে আর তোমার কথা ৰলছে৷ ৰলছে কতদিন দেখা হয়নি, আবার কৰে দেখা হৰে কে জানে! পরিচিত কাউকে দেখলেই তাকে তোমার কথা জিজ্ঞেস করছে, আর ৰলছে, কৰে দেখা হবে কে জানে!’’

আমি ব্রজকে জানালুম যে, সব কাজকর্ম ফেলে রেখে আমি কালকের প্লেনেই  দিল্লী থেকে কলকাতা পৌঁছোচ্ছি৷ আর বিমান বন্দর থেকে সোজা ওর বাড়ীতেই যাৰ৷

ব্রজ আশ্বস্ত হয়ে ফোন ছেড়ে দিল৷ আমি আবার ৰাথরুমে গেলুম দেওয়ালের দুলুর সঙ্গে আরও কথা ৰলতে–সেই কোটপ্যান্টপরা আলোকোজ্জ্বল দুলু৷ ৰললুম–‘‘তারপরে ৰলো কী খৰর৷ এখন তাহলে ভালই আছো৷’’

ও বললে–‘‘ভাল ৰলে ভাল, খুব ভাল৷ তোমাকে কাছে পেয়ে কত যে ভাল লাগছে কী ৰলৰ৷ মনে হচ্ছে এমন ভালর মধ্যে মরাও ভাল৷’’ সেই যে কবি ৰলেছেন না–

‘‘এমন চাঁদের আলো মরি যদি সেও ভালো

 সে মরণ স্বর্গসমান৷’’

আমি ৰললুম–‘‘মরণের কথা–টথা ৰলবে না,

তাহলে আমি ভীষণ রেগে যাৰ৷ তোমাকে ৰকাঝকা করৰ৷ আমার মেজাজটা তো তুমি ভালভাৰেই জানো৷’’

ও ৰললে–‘‘তোমাকে আমি রাগতে দোৰ না, মরণের কথা ৰলৰ না৷’’

আমি ৰাথরুম থেকে হাত–মুখ ধুয়ে ফিরছি৷ ঘড়িতে তখন ন’টার ঢ়ং ঢ়ং আওয়াজ শুনলুম৷ আর দুলুর দিকে তাকাতেই দেখি, দুলুর চিত্র শাদা দেওয়ালে মিশে গেল৷ আমার খাবার সময় হয়েছে দেখেই ৰোধ হয় ও চলে গেল৷

শোবার ঘরে এলুম৷ কয়েক মিনিট পরে কলকাতা থেকে ফোন এল৷ আবার সেই ব্রজগোপাল সান্ন্যালের কন্ঠস্বর৷ ও ৰললে–‘‘তোমাকে অত্যন্ত দুঃসংবাদ জানাচ্ছি, আমাদের দুলু এইমাত্র ঠিক ন’টার সময় আমাদের ছেড়ে অন্যলোকে চলে গেল৷ ৰুঝলে, আমার সৰ কিছুই গোলমেলে ঠেকছে৷ ৰুঝতে পারছি না কোন্টা ইহলোক, কোন্টা পরলোক৷

প্রভু ক্ষমা কর তারে

লেখক
কৌশিক খাটুয়া

আমি এ’ যুগের যিশু---

বিশ্বপিতার কোলে হাস্যরত

এক অপাপবিদ্ধ শিশু৷

যদি বিশ্ববাসী উচ্চঃস্বরে

দুষে মোরে নিরবধি,

আমারে চিনিতে না পেরে

ক্রশবিদ্ধ করে যদি,

তবু বলে যেতে চাই

ক্ষমা কর প্রভু, ক্ষমা কর আজ তারে,

শরীরে মননে আঘাত হানিল যারা

 নির্মম অবিচারে৷

চিনিতে পারেনি আমি কোন জন

চিনিতে চায়নি তার হৃদয় মনন,

তাই অনায়াসে অকারণে দুষে

কার মঙ্গল আনে?

 অপূরণীয় ভুল, নাই সমতুল

আজ এরা নাহি জানে৷

যেদিন জানিবে সময় ফুরাবে

অনুতাপে মন প্রতিবিধানে

সত্যের অপমানে!

ক্ষমা কর তারে, ক্ষমতার ভারে

যে হারায় ঔচিত্য বোধ,

চাই শুভবুদ্ধির উদয়, হিংসার লয়,

চাইনাকো প্রতিশোধ৷

 

হৃদিরেখা

লেখক
আচার্য গুরুদত্তানন্দ অবধূত

নাম গোত্র পরিচয়হীন

তুমি এক হৃদিরেখা

চলেছো সবে  মাধুরী বিলায়ে

দিয়ে ক্ষণিক দেখা৷

কার আদেশে আসিয়া ভবে

গড়ে তোল সংসার

নিঃশেষে প্রাণ বিলিয়ে চলো

মানে সবে তাই হার৷

কলা কৃষ্টি নৃত্যগীতে

হরষিত করি সবে

জাগাও তুমি চেতনা মনে

আসিয়া  এ ভবে৷

ভাবতরঙ্গে বহিয়া চিতে

শোনাও মাধুরী সুর

মদালসারূপে জাগিয়ে প্রাণে

আনো সমাজ ভোর৷

ঘনঘোর যত সরিয়া গিয়াছে

এল’ চাঁদনী রাত

রূপালী-রঙে সাজালে সবে

নহে আর অশ্রুপাত৷

নদের নিমাই ভাবস্রোতে মেতে

বাঁচালো মানবতা

তরুলতাদেরও বাঁচাতে হবে

নাশিতে দানবতা!

পিতৃ–আজ্ঞা

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

বাপ–বেটাকে নিয়ে সংসার৷ বাপ হাটে গেছে৷ বেটা বাপের জন্যে ভাত–ডাল–তরকারী রেঁধে রেখেছে৷ ৰাৰা খেতে বসে বলছে–রামচন্দ্র, রামচন্দ্র, ওরে রাউজা, দাইলনিতে কয় গণ্ডা মরিস্ দিস

বেটা বললে–সয় গণ্ডা৷  বাপ–দিৰারে কইসিলাম কয় গণ্ডা

বেটা–আজ্ঞা, আষ্ট গণ্ডা৷ বাপ–দিস কত

বেটা–আইজ্ঞা সয় গণ্ডা৷ বাপ–এ অন্ন কাউম্ না, এ অন্ন কাউম্ না৷

বেটা–এ্যাবার এ্যাডা ক্ষমা করেন, মাপ করেন৷ এক্কেরে কতা দিত্যাসি, এ্যামনডা আর অইবো না৷

বাপ–ত্র্যাতাযুগে যে রামচ ন্দ্র আসিল হ্যা পিতৃসত্য পালনের লাইগ্গা ১৪ বৎসর বনবাস গ্যাসিল৷ তুমি কলিযুগের রামচন্দ্র পিতৃ–আজ্ঞা লঙঘন করস্৷ দিবারে কইসিলাম কয় গণ্ডা মরিস

বেটা–আইজ্ঞা, আষ্ট গণ্ডা৷  বাপ–দিস কত

বেটা–সয় গণ্ডা৷  বাপ–তুমি পিতৃ–আজ্ঞা লঙঘন কর্স৷ এ অন্ন কাউম না, লাতি মাইর্যা তালা ৰাইঙ্গা ফ্যালাই দিমু৷

 

প্রিয় সুধাসার

লেখক
কৌশিক খাটুয়া

তুমি কি ভুলেছ মোরে--------

বরণেও তুমি স্মরণেও তুমি

অরুণালোকের ভোরে,

শুনি তব দেখা মেলে

                     সবার মাঝারে,

তবু খুঁজে চলি ঘরে ও বাহিরে

     দিবসরাত্রি অষ্টপ্রহরে

             স্থান হতে স্থানান্তরে!

যেখানেই থাকো কর্মে রত

         কাছে থাকো, নয় দূরে৷

মনে যদি থাকো মনের রাজা

     বাহিরে অযথা খোঁজা,

কোথা দেবালয় সময় অপচয়

   করি নিয়ত তোমার পূজা৷

তুমি কি বোঝোনা কি বলিতে চাই

        না বলা মনের কথা,

পিছু পানে চাই খুঁজিয়া বেড়াই

        অদম্য ব্যাকুলতা!

থেকো নাকো দূরে

             মন আলোকিত করে

বসুধার সুধা ভরে’ অন্তরে,

বিহগ কুজনে অলি গুঞ্জনে

          আছো সরিতার সুরে,

অনুযোগে আছো ভাবে ও অভাবে

         অভিমানে হৃদয় জুড়ে৷

 তোমার বলে বলিয়ান হয়ে

       নিত্য কর্ম রূপায়ণ,

আমার কর্মে আমিই কর্তা

       নেপথ্যে মধূসুদন!

তোমার রঙে রঞ্জিত কর

             উদ্যান ফুলবন,

তোমার লীলায় অভিব্যক্ত

     ভূবন, জড় ও চেতন!

এইটুকু জানি মনেপ্রাণে মানি

    তুমি আছো তাই আছি,

স্রষ্টা বিহীন সৃষ্টি হলে

         কিভাবে ধরায় বাঁচি!

না চাহিলেও তুমি থাকো কাছাকাছি

   জড়িয়ে থাকা তব অভিরুচি,

প্রীতি-বন্ধনে ভাব-স্পন্দনে

     তোমার লীলায় নাচি!

তুমি যে আমার প্রিয় সুধাসার

        শিহরন জাগে মননে,

নিকটেও দূরে হৃদয় গভীরে

       ধরনীর কোনে কোনে৷

ভূলোকে দ্যুলোকে অসীম পুলকে

   সুরভী ছড়াও সোনালী গোলকে

লীলার ছন্দে পরমানন্দে

        সৃষ্টি নাচিছে ভূবনে ,

অশ্রু-হাসিতে তমসা নাশিতে

      বেঁধেছ প্রীতির বাঁধনে!

আঁধারেতে পথ দেখাও আমারে

          ধ্রুবতারা হয়ে সাথে,

বুঝিলাম আমি সাথে থাকো তুমি

         সমুখে যাত্রা পথে

নাইকো বিরতি নাই কোনো যতি

          তুমি অগতির গতি,

ছিলে আছো সাথে থাকবে সদাই

         জানাই চরণে প্রণতি৷

নতুন ধান্যে নবান্ন

লেখক
প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

নতুন আমন ধান ঘরে ওঠার সঙ্গে শুরু হয় নবান্ন উৎসব৷ আমন ধান অর্থাৎ শালি ধান৷ আমন হেমন বা হৈমন্তিক শব্দের অপভ্রংশ৷ নবান্ন-নতুন  অন্ন৷ এই উৎসব অগ্রহায়ণ মাসে অনুষ্ঠিত হয়৷ এটি একটি বার্ষিকী ক্রিয়া৷ দুধ, গুড়, নারকেল, কলা, প্রভৃতির সাথে নতুন আতপ চাল খাওয়া একটা সংস্কার বিশেষ৷

এই উৎসবের কোন দিনক্ষণই নেই৷ অবশ্য অনেকে বিশেষ শুভদিন দেখেই এই উৎসব পালন করেন৷ নতুন চাল, গুড় আর দুধ--- নবান্নের প্রধান উপকরণ৷ বাড়ির মেয়েরা স্নান করে, শাঁখ বাজিয়ে  পিতৃপুরুষকে স্মরণ করেন  নতুন চাল খাওয়ার জন্য৷  পিতৃপুরুষ কিভাবে খাবেন? বলা হয়,কাকরূপে খান৷ তখন কাক হয়ে যায় পিতৃপুরুষের বিদেহী আত্মার প্রতীক৷ তাই  কাক খাওয়ার পর বাকি খাদ্য প্রসাদ হয়ে যায়৷ আর সেই প্রসাদ বাড়ির সকলে খান৷ এই উৎসবে  ব্রাহ্মণ পুরোহিতের দরকার পড়ে না৷

তের পার্বণ শস্যদাত্রী তুষূ ব্রত

লেখক
প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

এপার ওপার দুই বাংলাতেই তৃষু বা তোষলাব্রত অনুষ্ঠিত হয়, সার মাটি দিয়ে ক্ষেতের উর্বরতা বৃদ্ধিই এই ব্রতের উদ্দেশ্য৷ ব্রতের শুরু অগ্রহায়ণের সংক্রান্তি থেকে, আর শেষ পৌঁষের সংক্রান্তিতে!

তুষু পূজা আদতে শসাদাত্রী লক্ষ্মীরই পূজা! কারণ পৌষ মাস লক্ষ্মী মাস! ধানের খোসা অর্থাৎ তুষ থেকে তুষুর উৎপত্তি৷ অথবা পৌষ মাস পুষ্যা  নক্ষত্রের অপর নাম ‘তষ্য’৷ অনেকের মতে তিষ্যা নক্ষত্রকালীন উৎসব বলেই এর নাম তুষু৷’’

 এই ব্রতটি মেয়েরা এলোচুলেই সম্পন্ন করে৷ ‘‘গাইয়ের গোবর, সরষে ফুল/আসন পিঁড়ি এলোচুল৷’’ এই ‘‘এলো চুল’’ গোছা গোছা অঢেল শস্যের প্রতীক৷

‘প্রতিদিন সকালে ব্রতধারিণী মেয়েরা স্নানান্তে আলোচালের তৃষ আর গোবর সহযোগে ছবুড়ি ছ-গণ্ডা অর্থাং ১৪৪ খানি গুটি তৈরি করে৷ নতুন সরা বা তিজেলে বেগুন পাতা বিছিয়ে তার ওপরে প্রতিদিন ৪ খানি করে গোবরের গুটি রাখতে হয়৷ প্রতিটি গুটিতে পাঁচ গাছি করে দুর্বঘাস গুঁজে দিতে হয়৷ তার ওপর ছড়িয়ে দিতে হয়  নতুন আতপচালের তুষ আর কুঁড়ো৷ এছাড়া সরষেফুল,, মূলোরফুল, শিমফুল, বেগুনফুল ইত্যাদি দিয়ে বলতে হয় -

তূঁষ তুঁষলি, তুমিকে৷

তোমার পূজা করে যে -

ধনে ধানে বাড়ন্ত,

সুখে থাকে আদিন্ত৷

পৌষ সংক্রান্তিতে সূর্যোদয়ের আগেই ব্রতধারিণী মেয়েরা একটি সরায় ঘিয়ের প্রদীপ জেলে সেগুলি, সারি সারি মাথায় করে নদীতে যায়৷স্নানান্তে তুষুর সরা নদীতে ভাসিয়ে, পুজোর সারমাটি আর সূর্য - চাষের এই দুই অপরিহার্য উপাদানের বন্দনায় মেয়েরা কত-না গান গায়, নদীর জলে ঝাঁপাঝাঁপি করে৷ আর খেলে বালি খেলা৷

আচার্য অতুলানন্দ অবধূত স্মরণে নিবেদন

লেখক
আচার্য প্রবুদ্ধানন্দ অবধূত

বীর বিপ্লবী অতুলানন্দ দা

করিলে জীবন দান,

আত্মাহুতির মাধ্যমে জানালে সম্মান,

গুরুদেবের প্রতি অন্যায় অবিচারের

সহিলেনা অপমান৷

মিথ্যা তদন্তের অজুহাতে

অধার্মিক সি. বি. আই দল

ঢুকিল আনন্দমূর্তিজীর কারাগারে,

অলক্ষ্যে তাঁর আংটি চুরি করিল,

হেনস্থা করিল অনশন রত গুরুদেবকে

অযথা বারে বারে৷

ন্যায্য বিচারের দাবীতে তুমি জানালে অভিযোগ,

কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে,

দিলে হুংকার তাঁর প্রতি

বিষপ্রয়োগ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে৷

১৯৭৪এর ১১ই ডিসেম্বরে

পাটনায় কারাগারের মধ্যেই

আত্মাহুতির মাধ্যমে নিবেদিলে তব প্রাণ৷

গুরুদেবের প্রতি ভক্তি ও ধর্ম রক্ষার্থে দধীচী তুমি,

ইতিহাসে অনন্য উদাহরণ৷

আজও আমরা ভূলিনিকো তোমায়,

স্মরণ করি তোমার বীরত্ব,

সদা হাসিমুখ বলিষ্ঠ প্রাণ,

বীরভূমবাসী তুমি নমস্য!

তোমারে জানাই প্রণাম৷

সহিংস শিক্ষা ব্যবস্থা

লেখক
কৌশিক খাটুয়া

ছাত্র না ওরা বিদ্বেষ ভরা

   হিংস্র অমানুষের দল,

ক্লাশের বন্ধু পিটিয়ে হত্যা

      শূণ্য মায়ের কোল৷

বন্ধুত্ব মিথ্যা, সাম্প্রদায়িকতা সত্যি

   মানব সমাজে একি বিপত্তি,

পাড়া-প্রতিবেশীর ভিন্ন ধর্মমতে

        উধাও ভ্রাতৃ প্রীতি,

সহিংসতার ইতিহাস বলে,

     ‘‘এটাই সমাজের রীতি’’!

সংবিধানের সমানাধিকার----

কারো নিজ স্বার্থে তার ব্যবহার,

কেউ আপন কর্মে হারায় স্বাধিকার

বিচিত্র দেশ আছে স্বেচ্ছাচার!

বদ্ধ দুয়ার মনের বিকার

        দেখা দিল দূর্নীতি,

সহাবস্থান নয় রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাতে

        বধূর বিবর্ণ সিঁথি!

অভিধানে হারালো দুটি শব্দ

   নাই ‘‘প্রীতি’’ আর ’’নীতি’’৷

বিবেকহীন, বর্বরতার অধীন

 কেমন ছাত্র, এত অর্বাচীন!

বিদ্যা-বুদ্ধির হয়নি মুক্তি

      বোঝেনা কী সমীচিন!

আধুনিক শিক্ষার এইতো প্রগতি,

  স্বজাতি বিদ্বেষ, বর্বর মতি!

দেশবাসীকে কে দেখাবে পথ

 দেশনায়কের হলে ভীমরতি!

বিস্তার নাই, আছে সংকীর্ণতা

মানবিকতা নাই রয়েছে ক্লীবতা,

বাঁশবাগানে শিয়াল  রাজা

    ‘‘হুক্কাহুয়ায়’’ জাগায় প্রজা,

সব শিয়ালের একই ডাক

     ‘‘বিধর্মীরা নিপাত যাক’’!

কুসংস্কার আর গোঁড়ামির দাস---

   নিরস্ত্র কে আঘাত হেনে

     এ’’ কোন বীরত্ব প্রকাশ!

আধুনিক শিক্ষা বিসর্জনে

রক্ষণশীলতা প্রবল মননে,

    বিধর্মী হত্যা, চরম লক্ষ্য

নিঠুর উচ্ছ্বাস নারী নির‌্যাতনে!

‘‘ধর্মনিরপেক্ষতা’’ জাতীয় স্তম্ভ,

    কূপমণ্ডুকের মিথ্যা দম্ভ

          করে তা’’ অস্বীকার,

পাড়া-প্রতিবেশীর প্রতি নাই দায়ভার

   মগজ ধোলাইয়ে মনের বিকার,

      নাই কোনো প্রতিকার৷

  নীতিকথা গুলি লিপিবদ্ধ

     পুস্তকের মান বাড়াতে,

     ভ্রষ্টাচারীর ক্ষমতা নাই

    সমাজের রোগ সারাতে৷