(১৪) ‘‘তং জাড্যাৎ তারয়েৎ যস্তু সঃ তন্ত্রঃ পরিকীর্তিত’’৷ অর্থাৎ ‘ত’-রূপী জড়তার হাত থেকে যা ত্রাণ করে তা-ই তন্ত্র৷ দীর্ঘকাল থেকে তন্ত্রের দু’টি শাখা রয়েছে---বিদ্যাতন্ত্র ও অবিদ্যাতন্ত্র৷ বিদ্যাতন্ত্রের ধ্যেয় হচ্ছেন পরমপুরুষ৷ বিদ্যাতন্ত্রের ধ্যেয়কে ৰলা হয় শ্রেয়৷ এই শ্রেয়ের সম্প্রাপ্তিতেই ত্রিবিধ দুঃখের বিমুক্তি........ সমস্ত ৰন্ধনের নির্মুক্তি৷ অবিদ্যাতন্ত্রের লক্ষ্য জড়বস্তুর প্রাপ্তি---নাম, যশ, প্রতিষ্ঠা, বিদ্যা, অর্থ প্রভৃতি৷ এই অবিদ্যাতন্ত্রের লক্ষ্যকে বলা হয় প্রেয়৷ এই প্রেয়তেই নিহিত রয়েছে সমস্ত বন্ধনের নাগপাশ......সমস্ত বন্ধনের অক্টোপাশ৷ বুদ্ধিমান মানুষ তাই শ্রেয়কে ৰেছে নেৰে, প্রেয়কে নয়৷
অন্যচ্ছ্রেয়োহন্যদুতৈব্ প্রেয়স্তে
উভে নানার্থে পুরুষং সিনীতঃ৷
তয়ো শ্রেয় আদদানস্য সাধু ভবতি
হীয়তেহর্থাদ্ য উ প্রেয়ো ৰৃণীতে৷৷’’
***
শ্রেয়শ্চ প্রেয়শ্চ মনুষ্যমেত
স্তৌ সম্পরীত্য বিবনক্তি ধীরঃ৷
শ্রেয়ো হি ধীরোহভি প্রেয়সো ৰৃণীতে
প্রেয়ো মন্দো যোগক্ষেমাদ্ ৰৃণীতে৷৷’’
শ্রেয়ের এক পথ, প্রেয়ের আর এক পথ৷ তারা ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে মানুষকে পরিচালনা করে৷ যে শ্রেয়ের পথ ধরে তাকে ৰলি সাধু আর যে মানুষ প্রেয়ের পথ ধরে সে মানুষ জীবনে পরমার্থ থেকে দূরে নিক্ষিপ্ত হয়৷ শ্রেয় আর প্রেয় মানুষকে বিপরীত ধারায় টানাটানি করে৷ বুদ্ধিমান মানুষ শ্রেয়ের পথ ধরে শিবত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় আর প্রেয়ের পথে চললে মানুষের সর্বাত্মক পতন ঘটে৷ এই প্রেয়ের পথ ধরে চলে যে অবিদ্যাতন্ত্র তা’ সাধারণতঃ ষটকর্মে বিভক্ত৷ এই ষটকর্ম হচ্ছে---মারণ (মেরে ফেলা), উচ্চাটন (কাউকে কোন স্থান থেকে উৎখাত করা), বশীকরণ (কাউকে বশে আনা), স্তম্ভন (কারো গতিরোধ করা, কেউ কথা বলছে, হঠাৎ তার বাকরোধ করে দেওয়া), সম্মোহন (কারও বুদ্ধিবৃত্তিকে স্থাণুত্বে পর্যবসিত করা) ও স্বস্ত্যয়ন (কারও দুঃখ-আপদ, গ্রহ-দুষ্টি দূর করা)৷ এই অবিদ্যাতন্ত্র শেষ পর্যন্ত কিন্তু মানুষের ধবংসের পথ প্রশস্ত করে দেয়৷ এই ধবংসের পথ ‘ম’-ৰীজাত্মক৷ তাই ‘ম’ শব্দের একটি অর্থ ‘অবিদ্যাতন্ত্রের ষটর্ম’৷
(১৫) ‘মক্ষ্’ ধাতুর অর্থ বিরক্ত করা, বিরক্ত হওয়া, রেগে যাওয়া, রাগিয়ে দেওয়া৷ যে জীব মানুষকে বিরক্ত করে তাকে ‘মক্ষ্ + ‘ইক + ‘আপ করে ‘মক্ষিকা’ ৰলা হয়৷ ‘মক্ষিকা’ বা ‘মক্ষী’ মানে মাছি৷ মাছির উপস্থিতি বিরক্তকর৷ তাই তাকে এই নাম দেওয়া হয়েছে৷ এই ‘মক্ষ্ + ‘ড’ প্রত্যয় করে যে ‘ম’ শব্দ পাচ্ছি, তার যোগারূঢ়ার্থ হচ্ছে ‘মাছি’৷
(১৬) ‘মহ্’ ধাতুর অর্থ হচ্ছে উপাসনা করা বা আরাধনা করা৷ প্রাচীনকালে যাঁরা বুদ্ধের উপাসনা করতেন তাঁদের ‘মহ + ক্ত’ করে ‘হ’ স্থানে ‘ঘ’ এনে ৰলা হত ‘মঘ’৷ এই ‘মহ্ ধাতু + ‘ড’ করে যে ‘ম’ শব্দ আসছে তার একটি অর্থ ‘ৰৌদ্ধ-সন্ন্যাসী’৷
(১৭) ‘মঞ্চ্’ ধাতুর অর্থ ওপরের দিকে চলা৷ মঞ্চ + অচ= মঞ্চ, মানে যা ওপরের দিকে রয়েছে platform ব dias)৷ এই ‘মঞ্চ’ থেকেই বাংলায় মাচা/মাচান শব্দ এসেছে৷ ‘‘বর্ষার লাউ/শশা মাচায় হয় এই উদ্দেশ্যে মাচা ৰাঁধা হয়েছে’’ ‘সে ৰাঁক্ড়োর মাচানতলায় থাকে৷’ এই ‘মঞ্চ্’+ ‘ড’ করে যে ‘ম’ পাচ্ছি তারও মানে মঞ্চ/মাচা/মাচান৷ (শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের লঘুনিরক্ত থেকে সংগৃহীত)