‘ণিশ্’ ধাতুর অর্থ দীর্ঘকাল ধরে ধ্যান করা বা তপস্যা করা৷ ‘ণিশ্’ ধাতু+ ‘ক্কিপ্’+‘স্ত্রিয়াম্ আপ’ করে ‘নিশা’ শব্দ পাই৷ এর অর্থ হ’ল, যে নারী দীর্ঘকাল ধরে তপস্যারতা বা ধ্যানমগ্ণা৷ দিনের কলকোলাহলের পরে আসে রাত্রির প্রশান্তি৷ মনে হয় যেন রাত্রি হচ্ছে ধ্যানমগ্ণা তপস্বিনী৷ তাই রাত্রির কাব্যিক নাম দেওয়া হয়েছিল ‘নিশা’৷ ‘ণিশা’ ৰানানটিও সেই গুপ্তযুগ থেকে ‘ন’ দিয়ে লিখিত হয়ে আসছে৷ নিশাচর, নিশাকর, নিশানাথ প্রভৃতি শব্দগুলির সঙ্গে তোমরা ভালভাবেই পরিচিত৷ এই ‘ণিশ্’ ধাতু+ ‘ড’ প্রত্যয় করে ‘ণ’ শব্দ পাচ্ছি৷ তার মানে হচ্ছে দীর্ঘকালের তাপস৷ প্রসঙ্গতঃ ৰলে রাখি ‘নিশি’ শব্দটি বৈয়াকরণিক বিচারে ভুল৷ সংস্কৃতে কোথাও কোথাও ‘নিশি’ শব্দের ব্যবহার থাকলেও সেগুলিকে নিপাতনে সিদ্ধ মনে না করে আর্ষ প্রয়োগ ৰলে মনে করাই ঠিক অর্থাৎ যিনি লিখেছেন, তিনিই লিখুন, আর সবাই যেন তা না লেখে৷ বাংলা গান-কবিতা-ছড়া ৰাদে অন্যত্র ‘নিশি’ শব্দের ব্যবহার যত দূর পার না করার চেষ্টা করবে৷
জলযান মাত্রেই সমুদ্র-গর্জন বা নদীর গর্জনের ভেতর দিয়ে যায় অর্থাৎ ‘ণ’-এর ভেতর দিয়ে যায়৷ তাই ‘ণ’ ৰলতে যদিও সমস্ত জলযানকেই ৰোঝানো উচিত ছিল কিন্তু তার বদলে কেবল ভেলাকেই ৰোঝানো হয় কারণ ভেলাই হচ্ছে আদিমতম জলযান৷ জলে তক্তা ভাসিয়ে ভেলা করা হয় অথবা তাল গাছের মাঝখানটা লম্বালম্বিভাবে তুলে নিয়েও যে বিশেষ ধরণের ভেলা হয় তাকে ডোঙ্গা ৰলে৷ এই ডোঙ্গা আর তক্তার বিমিশ্রণেই তৈরী হয়েছিল সাৰেকি ধরণের জলযান ‘শালতি’৷ এই শালতিরই উন্নত ধরণের সংস্করণ হ’ল নৌকা৷ নৌকা আরও উন্নত হয়ে হ’ল পাল-তোলা নৌকা তার চেয়ে আরও উন্নত হয়ে হ’ল দাঁড়ে-টানা জাহাজ আর সেই দাঁড়ে টানা জাহাজই Ship) যখন বাষ্প বা অন্য কোন প্রকারের শক্তিচালিত হ’ল তার নাম হ’ল ষ্টীমার৷ আজকাল পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরণের ষ্টীমারই চলছে৷ আর বড় আকারের ষ্টীমারকেই জাহাজ বাShip বলা হয়৷ অর্থাৎ জাহাজ বাShip শব্দটি তার পুরোণো অর্থ খুইয়ে বসেছে৷ বাংলায় একটা হেঁয়ালি ছড়া আছে না :
‘‘কোন কাষ্ঠ অধিক জ্বলে
বিনা আগুনে স্বর্ণ গলে৷
বিনা তেলে প্রদীপ জ্বলে
বিনা বোঁটায় বেগুন ঝোলে৷’’
আপাতঃ দৃষ্টিতে মনে হয় কোন কাঠ সৰচেয়ে ৰেশী জ্বলে (‘পুড়ে’) থাকে, আগুনের সাহায্য না নিয়ে সোণা গলানো হয়, তেল না দিয়েও প্রদীপ জ্বালানো হয়, বেগুন ৰোঁটা নেই তবুও সে বেগুন গাছে ঝুলছে৷ হেঁয়ালি ছড়াটির নিগুঢ়ার্থ হচ্ছে কোনকাঠ ৰেশী জলেতে চলে অর্থাৎ নৌকা স্বর্ণালঙ্কার গলাতে যদি পরানো হয় তার সঙ্গে আগুন রাখবার কী দরকার? এখানে গলে মানে গলাতে/কণ্ঠে৷ কোন একটি প্রদীপে তেল না ঢেলে প্রদীপটিকে যদি জলে ডুবিয়ে দিই তাহলে বিনা তেলে প্রদীপ জলে ৰলা যাৰে আর বিনা বোঁটায় আমরা তো ঝোলে ঝালে অম্বলে ভাজায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ৰোঁটাহীন বেগুনকেই খাই৷ ঝোল রাঁধার সময় বেগুনের বোঁটা কেটে বেগুনটিকে ঝোলে ফেলে দিলেই তো বিনা ৰোঁটায় ৰেগুন ঝোলে হয়ে গেল৷ (শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের লঘুনিরক্ত থেকে সংগৃহীত)