Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

পূর্বার্দ্র তত্ত্ব

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

পশ্চিমবঙ্গ, ৰাঙলাদেশ, ত্রিপুরা ও অসম সমন্বিত ভারতের পূর্বাঞ্চলের এই বিশাল ভূভাগটি জলবায়ুর দিক থেকেও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ৷ সমগ্র অঞ্চলের জলবায়ুই উষ্ণ ও আর্দ্র৷ সমুদ্র কাছাকাছি বলে শীত–গ্রীষ্মও ততটা প্রখর নয়৷ তথাপি এর পশ্চিম অংশের সঙ্গে পূর্বাংশের জলবায়ু–গত কিছুটা পার্থক্য আছে৷ পশ্চিমাংশের সমভূমিতে গ্রীষ্মে ১২০০ফারেনহাইট পর্যন্ত উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় আবার শীতকালে উষ্ণতা ৫৫০ ফারেনহাইটে নেমে আসে৷ কিন্তু পূর্বাংশে অর্থাৎ ত্রিপুরা–সমে জলবায়ু অপেক্ষাকৃত সিক্ত ও আর্দ্র৷ পশ্চিমের রাঢ় অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যেখানে গড়ে ৫০ –৫৫ সেখানে পূর্বাঞ্চলের অসম–মেঘালয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের গড় পরিমাণ ৫০৮ ৷ উত্তরে দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১২০ ইঞ্চি৷ দক্ষিণে সুন্দরবন অঞ্চলে গড়ে বৃষ্টিপাত হয় ১০০ ইঞ্চি৷ দক্ষিণ– পশ্চিম মৌসুমীবায়ু হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পশ্চিমে বেঁকে অসম, ত্রিপুরা, ৰাঙলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, রাঢ় ও বিহার প্রদেশের ওপর দিয়ে বৃষ্টিপাত করতে করতে আরও পশ্চিমে অগ্রসর হয়৷ কিন্তু যতই পশ্চিমে অগ্রসর হতে থাকে ততই এতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কমতে থাকে৷ বায়ু ক্রমশঃই শুষ্ক হতে থাকে৷ 

ভৌগোলিক পরিবেশ–পরিমণ্ডল স্থানীয় অধিবাসীর পোষাক–পরিচ্ছদ, খাদ্যদ্রব্য দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহার্য সামগ্রী, আচার–আচরণকে বিপুলভাবে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে৷ এমনকি স্থানীয় জলবায়ুই তার অধিবাসীর ভাবনাচিন্তা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও স্বভাবকে নিয়ন্ত্রিত করে৷ বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় দেখা গেছে আর্দ্র–জলবায়ুর অধিবাসীরা যে পরিমাণে কর্মপটু তার চেয়ে অনেক বেশী কর্মপটু শুষ্ক অঞ্চলের অধিবাসীরা৷ জলবায়ুর আর্দ্রতা ও উষ্ণতা একযোগে স্থানীয় অধিবাসীর কর্মক্ষমতাকে কমিয়ে ফেলে, আলস্যে অভিভূত করে৷ এই তত্ত্ব অনুযায়ী দেখা গেছে পূর্বাঞ্চল থেকে যতই পশ্চিমে অগ্রসর হওয়া যায় ও আর্দ্রতা যতই কমতে থাকে ততই মানুষ কর্মঠ হয় ও কর্মপটুতা লাভ করে৷ শুষ্ক জলবায়ু মানুষের কর্মশক্তিকে বৃদ্ধি করে৷ এই কারণে ভারতের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত অধিবাসীদের তুলনায় পশ্চিমের অধিবাসীদের কর্মপটুতা অনেক বেশী৷ ভারতরাষ্ট্রের উত্তর–পশ্চিমে অবস্থিত পঞ্জাব ও সর্ব পূর্বে অবস্থিত অসম৷ এই দুই অঞ্চলের জলবায়ুতে আর্দ্রতা ও শুষ্কতার হিসেব করলে দেখা যাবে উভয়ের জলবায়ুর মধ্যে এক বিরাট ব্যবধান৷ এই ব্যবধান উভয় অঞ্চলে অধিবাসীদের পোষাক–পরিচ্ছদ শুধু নয়, খাদ্যদ্রব্য ও চারিত্রিকতাতেও বিরাট পার্থক্য এনে দিয়েছে৷ ভারতের উত্তর–পশ্চিমে অবস্থিত পাঞ্জাবীরা সবচেয়ে শুষ্ক জলবায়ুর দেশে বাস করে বলে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীদের চেয়ে তারা অনেক বেশী কর্মক্ষম ও নিরলস৷ অন্যদিকে ভারতের সর্বাপেক্ষা পূর্ব–প্রান্তের অধিবাসী হিসেবে সর্বাপেক্ষা আর্দ্র ও ভিজা অঞ্চলের অধিবাসী বলে অসমীয়ারা ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীর চেয়ে অনেক পরিমাণে কম কর্মক্ষম ও তুলনায় অতিরিক্ত আলস্যপরায়ণ৷ তাই পাঞ্জাবের অধিবাসীর পক্ষে ভারতের যে–কোনো স্থানে স্থায়ী বাসিন্দা হবার পক্ষে কোনো অসুবিধা হয় না৷ কিন্তু পূর্বাঞ্চলের অধিবাসীর পক্ষে পশ্চিমে পাড়ি জমিয়ে পশ্চিমের অধিকতর শুষ্ক জলবায়ুতে পরিশ্রম করা তার পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে পড়ে৷ এই কারণে পাঞ্জাবীরা ভারতের যে–কোন প্রান্তে বসবাস করতে অসুবিধা ৰোধ করে না, কিন্তু পূর্বাঞ্চলের অধিবাসী পশ্চিমের শুষ্ক অঞ্চলে বাস করেতে ও কঠোর পরিশ্রম করতে অসুবিধায় পড়ে৷ পূর্বের অধিবাসী পশ্চিমের অধিক পরিশ্রমী মানুষদের মত সেইসব স্থানের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে না বা তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে ওঠে না৷

এই কারণেই পূর্বৰঙ্গ থেকে আগত উদ্বাস্তু যারা দেশবিভাগের পরে ভারতে বসবাস শুরু করে, মধ্যপ্রদেশের দণ্ডকারণ্যে গিয়ে সেখানকার গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া তেমনভাবে মানিয়ে নিতে পারেনি৷ অবশ্য তাদের এই মানিয়ে না নিতে পারার পিছনে অন্য অর্থনৈতিক কারণও বিদ্যমান, কেন না তাদের সেখানে প্রাণধারণ করার যথেষ্ট ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়নি৷ তুলনামূলকভাবে এই পূর্বৰঙ্গের উদ্বাস্তু যারা অসম, মেঘালয় ও আন্দামানে বাস করতে শুরু করেছিল, তারা সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে সহজেই খাপ খাইয়ে নিয়েছিল৷ এর প্রধান কারণ এইসব স্থানের উদ্বাস্তুরা স্থানীয় জলবায়ুর সঙ্গে তৎক্ষণাৎ মানিয়ে নিতে পেরেছিল৷ দণ্ডকারণ্যের উদ্বাস্তুদের আজও ভাসমান জনসমুদায় বলে মনে করা হয়, অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে যেমন অসম, মেঘালয়, মিজোরাম, ত্রিপুরা আর মণিপুর–উদ্বাস্তুরা সেখানকার স্থায়ী অধিবাসী৷ তারা অনেক স্থানেই ঝোপঝাড় আগাছা কেটে সাফ করে, গ্রাম তৈরী করে স্থায়ী জীবিকার ব্যবস্থা করে নিয়েছে৷

তাই পূর্বার্দ্র নীতি উদ্বাস্তু সমস্যার স্বাভাবিক ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান দিয়েছে, কেননা এই তত্ত্ব অনুযায়ী মানুষ স্থানীয় জলবায়ু ও অবস্থার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে নিতে পারে৷ পূর্বৰঙ্গের উদ্বাস্তু যারা পূর্ব ভারতে স্থায়ীভাবে বাস করছে, তারা এইজন্যে তাদের কর্মসামর্থ্যকে কাজে লাগাতে পেরেছে, আর তাই তারা স্থায়ী বাসগৃহ, জমিজমা তৈরী করে নিয়েছে৷ তারা পূর্বভারতে স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে নিজেদের আর্থিক ভাগ্যকে একাত্ম করতে পেরেছে৷ আজ তাদের উৎখাত করার চিন্তা করাও অসম্ভব ও অমানবিক৷ 

দেশ বিভাগের সময় কংগ্রেস নেতারা জোর গলায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে পূর্বৰঙ্গের সংখ্যালঘুরা ভারতের যে–কোনো প্রান্তে ইচ্ছামত বাস করতে পারে৷ সেই মানুষেরা সেই প্রতিশ্রুতিকে বিশ্বাস করেছিল আর তাই ৰঙ্গ বিভাজনও মেনে নিয়েছিল৷ বর্তমানে অসমে পূর্বৰঙ্গ থেকে আগত মানুষদের সেখান থেকে বিতাড়িত করার জন্যে আন্দোলন চলছে৷ কেন্দ্রীয় সরকারের কর্ত্তব্য তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করা আর আন্দোলনকারীদের সংযত করা, যাতে অসমে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী উদ্বাস্তুদের সর্ববিধ কল্যাণ সুনিশ্চিত হয়৷ যেমন উদ্বাস্তরা নদীয়া ও চব্বিশ পরগণা জেলায় এসেছিল তাদের অধিকাংশই সেখানকার স্থায়ী অধিবাসী হয়ে গেছে৷ তারা তাদের শারীরিক–মানসিক সামর্থ্যকে কাজে লাগাতে কোনো অসুবিধাই ৰোধ করেনি, কেননা তারা প্রায় একই রকমের ভৌগোলিক–আর্থিক–মান্ অঞ্চলের অধিবাসী আর স্থানীয় আবহাওয়া ও পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত৷ অবশ্য উদ্বাস্তুদের কিছু অংশ যারা চব্বিশ পরগণা জেলায় বসতি স্থাপন করেছেন, তারা এখনও সেখানে প্রায় ভাসমান জনসমুদায়৷ কেননা সেখানে তাদের জীবনধারণের উপযোগী উপযুক্ত ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়নি৷

ভাসমান জনগোষ্ঠীর একটি মানসিক অসুবিধা হচ্ছে এই যে, তারা নূতন স্থানকে নিজস্ব বলে সহজে মনে করতে পারে না, তাই তারা ফেলে আসা জমিজমা, বাড়িঘরের কথা ভুলতে পারে না৷ এই কারণেই স্থানীয় অধিবাসীদের মত তাদের সামাজিক–র্থনৈতিক সংহতি ৰোধ তৈরী হতে দেরী হয়৷                                 ১৯৮১, কলিকাতা

 

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

‘কৃষ্ণ’ নামের একাধিক ব্যাখ্যা
মনকে ভারমুক্ত রাখ
অষ্টকমল
ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

পূর্বার্দ্র তত্ত্ব
যোগাযোগের প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে স্থানীয় ভাষার ব্যবহার বাঞ্ছনীয়
মানব প্রগতি
সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
আরও

সম্পাদকীয়

বিদ্বেষ বিষে জর্জরিত বিজেপি
বাঙালী আর একটা অগ্ণি স্ফুলিঙ্গের অপেক্ষায়
প্রতিকুলতাকে প্রতিহত করে এগিয়ে চলার দুর্জয় ইচ্ছাশক্তি বাঙালীর আছে
মশাহীন দেশের তকমা ধরে রাখতে পারল না আইসল্যান্ড
বিকশিত বাঙলার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয় মানবতার আর্থিক মুক্তি চাই

প্রবন্ধ শিরোনাম

গোরাচাঁদ ও একতারা
ভারত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার রক্ষা ও সংবিধানকে বাঁচিয়ে রাখার প্রধান দায়বদ্ধতা হলো যৌথভাবে কেন্দ্র ও রাষ্ট্রের নির্বাচন কমিশনেরই আর স্বৈরাচারিতাকেও নিয়ন্ত্রণ করা!
হিংস্র দুঃসময় বাঙালীর দুয়ারে
আর্থিক বিকাশ শেষ কথা নয়
গোরাচাঁদ ও একতারা
নাগরিকত্ব প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার---তথাকথিত এস আই আর এর নামে একজনও বাঙালীর নাগরিকত্ব হরণ করা চলবে না--- চক্রান্ত করে তথাকথিত এস আই আর-এর মাধ্যমে কোন বাঙালীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না
কেন্দ্র সরকারের ডি.এ নিয়ে বোটবাজীটা নির্বাচন প্রাক্কালে এটা কোন ধরনের কেন্দ্র সরকারের গণতান্ত্রিক সেবা
গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষার এস.আই.আর প্রক্রিয়া ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্বের আগ্রাসনের হাতিয়ার

পুরানো মাসিক খবর

  • September 2021 (189)
  • August 2021 (158)
  • July 2021 (46)
  • May 2021 (125)
  • April 2021 (116)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 3
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved