দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নাম তোমরা সকলেই শুনেছ তাই না! তিনি একটি পত্রিকার সম্পাদনা করতেন৷ পত্রিকাটির নাম ‘নারায়ণ’৷ তাতে লিখতেন তৎকালীন বড় বড় নামজাদা লেখকরা৷ একদিন এক খ্যাতনামা উপন্যাসিক ও সেই পত্রিকায় কয়েকটি মূল্যবান প্রবন্ধ লিখলেন৷ প্রবন্ধ গুলোর বিষয়বস্তু ছিল রাজনৈতিক৷ যেমন শিক্ষার বিরোধ মহাত্মাজী ইত্যাদি৷
নারায়ণ পত্রিকায় যারা লিখতেন দেশবন্ধু তাদের প্রত্যেককেই টাকা দিতেন৷ কিন্তু উপন্যাসিককে টাকা দিতে গিয়ে তিনি মহা মুশকিলে পড়লেন৷ অত উঁচু ধরে একজন উপন্যাসিককে কতগুলো শক্তিশালী লেখার জন্য ঠিক কত টাকা দেওয়া উচিত তা তিনি ঠিক করতে পারলেন না৷ কিছুদিন ভেবেচিন্তে অবশেষে তিনি এক অদ্ভুত কাজ করে বসলেন৷ টাকার ঘরটা শূন্য রেখে গোটা চেকটাই পাঠিয়ে দিলেন উপন্যাসিকের কাছে৷ উপন্যাসিক এবার ইচ্ছেমতো টাকার অংক বসিয়ে নিতে পারেন৷
চেকখানি হাতে পেয়ে যৎপরোনাস্তি বিস্মিত হলেন উপন্যাসিক৷ কত সরল মনে মানুষের প্রতি কতখানি বিশ্বাস নিয়ে দেশবন্ধু এ কাজ করলেন তা ভেবে তিনি সত্যিই মুগ্দ হলেন৷ পরমুহুর্তে আবার ভাবলেন এটাই তো স্বাভাবিক মানুষ মানুষকে তো বিশ্বাস করবেই৷
যাইহোক, নির্দিষ্ট দিনে থেকে টাকার ঘরে ন্যায্য সংখ্যা বসিয়ে ব্যাঙ্কে গেলেন৷ চেক ভাঙানোর সময় দেখা হল এক বন্ধুর সঙ্গে৷ বন্ধু সবসময় জিজ্ঞেস করলেন তা যে কে তুমি কত টাকা লিখেছ?
উপন্যাসিক বলেন ১০০ টাকা৷
মাত্র৷ মুখ বেঁকিয়ে বন্ধুটি বললেন তুমি দেখছি নিতান্তই বেকুব৷ আরে দেশ বন্ধুর কি টাকার অভাব৷ কম করে ৫০০ টাকা লেখা উচিত ছিল৷
উপন্যাসিক এবার একটু গম্ভীর হয়ে গেলেন৷ বললেন দেখো ৫০০ লিখলে চিত্তবাবুর থলির ওয়েট বিশেষ কিছুই কম তো না জানি, আর তাঁর চিত্তে এতোটুকুনি আঁচর পড়তো না৷ কিন্তু তাতে করে আমার চিত্তে যে কালি পড়তো তা মুঝবার উপায় তুমি আমায় বাৎলে দিতে পারো?
বন্ধুটি নীরব৷ লজ্জায় মাথা হেঁট৷ কিছুক্ষণ পরে আমতা আমতা করে অন্য প্রসঙ্গ তুলে পালিয়ে গেলেন৷
বলতো কে এই উপন্যাসিক? এই উপন্যাস কি হলেন আমাদের শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়৷ তোমরা কি পারবে না তাঁর মত এরকম সততার পরিচয় দিতে?
- Log in to post comments