সম্পাদকীয়

কেন এই আক্রমণ?

সম্পাদক

১৯৮২ সালের ৩০শে এপ্রিল৷ গত কয়েক শতাব্দীর ইতিহাসে বোধকরি সবচেয়ে পৈশাচিকতম ঘটনা ঘটে গেল আজকের সভ্যতার পীঠভূমি কলকাতার বিজন সেতু ও বণ্ডেল গেটের মত জনাকীর্ণ এলাকায়৷ প্রকাশ্য দিবালোকে৷ আনন্দমার্গের ১৬জন সন্ন্যাসী ও ১জন সন্ন্যাসিনীকে বর্ণনার অতীত নৃশংসতম ভাবে খুন করল তৎকালীন শাসকদল সিপিএমএর গুণ্ডাবাহিনী৷ পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করল৷ স্পষ্টই বোঝা যায় এই হত্যার ষড়যন্ত্র একেবারে ওপর মহল থেকেই করা হয়েছিল৷

বাঙালী ঐক্য বিরোধী ষড়যন্ত্র থেকে সাবধান

সম্প্রতি রামনবমী উপলক্ষ্যে ও পরে হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষ্যে এ রাজ্যে বিজেপি ও তার শাখা সংঘটনগুলির তরফ থেকে সারা রাজ্যে ত্রিশূল, তলোয়ার, কুড়ুল, কুঠার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল হ’ল৷ এই বাঙলায় রামনবমী উপলক্ষ্যে এই ধরণের মিছিল আগে হয়নি৷ হনুমান জয়ন্তীতেও এই ধরণের অস্ত্র নিয়ে লাফালাফি আগে হয়নি৷ এ রাজ্যে হনুমান পূজো তো আগে হতই না৷ এবছর বিহার, উত্তরপ্রদেশের মতো কলকাতারও রাস্তার মাঝে বিজেপি সমর্থকরা বিশাল বিশাল হনুমান মূর্ত্তিও বসিয়েছে৷ কলকাতার বিধাননগর ষ্টেশনের পাশেও দেখলাম এই ধরণের বিশাল ২৪ ফুট হনুমান মূর্ত্তিও বসানো হয়েছে৷ 

শুভ নববর্ষ

আগামীকাল, শনিবারেই বাঙলার শুভ নববর্ষ৷ বাংলা ১৪২৩ সাল পেরিয়ে ১৪২৪ শুরু হবে৷ আমরা নোতুন বছরে পা দেব৷ এমনি এক বাংলা নববর্ষের প্রবচনে প্রাউট–প্রবক্তা পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার যিনি একাধারে মহান দার্শনিক, ইতিহাসবিদ্, ভাষাতত্ত্ববিদ্, শিক্ষাবিদ্, সঙ্গীতকার, যিনি মহাসম্ভূতি শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী রূপে সমধিক পরিচিত, তিনি আত্মবিস্মৃত বাঙালী জাতি সম্পর্কে বলেছেন, ‘‘বাঙালী নামধেয় জনগোষ্ঠী অতীতে জীবিত ছিল, আজও জীবিত ও আমি আশা করব, ভবিষ্যতে আরও দুর্দান্তভাবে জীবিত থাকবে৷ সেই জনগোষ্ঠীকে নোতুন করে শপথ নিতে হবে–এই নোতুন বছরটা তারা কীভাবে আরও সফল করে তুলবে৷ নিজেদের অস্তিত্বকে কীভাবে আরও প্রাণবান, প

কৃষিনীতির আমূল পরিবর্তন চাই

রাজশক্তির উত্থান–পতন হয়ে চলেছে৷ রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতবদল হচ্ছে৷ কিন্তু গ্রামের কর্ষকদের জীবন–কথার কোনো পরিবর্তন হচ্ছেনা৷ তারা গায়ের রক্ত জল করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলাচ্ছে৷ তারা খাদ্য উৎপাদন করছে৷ কিন্তু তারা, তাদের পরিবারবর্গ অর্দ্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে, সে খাদ্য মজুত হচ্ছে তাদের ভাঁড়ার ঘরে–এই খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে যাদের কোনো সম্পর্কই নেই৷ যে মাটিতে খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে, সে মাটিকেই তারা  চেনেই না৷ 

শিক্ষার বিশুদ্ধতা

শিক্ষাই মানব সমাজের মেরুদণ্ড৷ পশু জন্ম থেকেই পশু কিন্তু একটা মানুষ জন্ম থেকে মানুষের গুণাবলী অর্জন করে না, মনুষত্বের বিকাশের জন্যে, সমাজ-চেতনার বিকাশের জন্যে তাকে শিক্ষার ওপর নির্ভর করতে হয়৷ তাই প্রকৃত শিক্ষার ব্যবস্থা যদি না থাকে, শিক্ষা-ব্যবস্থা যদি ত্রুটিপূর্ণ হয়, তাহলে যথার্থ মানুষ তৈরী হবে না, সমাজ অমানুষে ভরে যাবে, ও সমাজ-ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা, ব্যাভিচার প্রভৃতি প্রবল রূপ নেবে৷ বর্তমানে সমাজে যে ব্যাপক উচ্ছৃঙ্খলতা, সমাজ-চেতনাহীনতা, ব্যাভিচারিতা তার মূল কারণ এটাই৷ তাই বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া দেশনেতাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য৷ আর শিক্ষার জন্যে একটা শান্ত পরিব

দূষিত রাজনীতি

সাংসদ কেডিসিংকে নিয়ে অনেক রহস্য ধীরে ধীরে উদ্ঘাটিত হচ্ছে ও বর্তমান রাজনীতির কুৎসিৎ চেহারাটাও ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে৷ প্রথমে নারদা ষ্টিং অপারেশন মারফৎ জনসাধারণ দেখল, কীভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধ ভাবে লেনদেন হচ্ছে, যাতে বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা জড়িত৷ তারপরআবার বিস্ময়ের সঙ্গে সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েলের স্বীকারোক্তি শোনা গেল, সে যে দলের নেতাদের দুর্নীতি তুলে ধরতে চায় সেই দলেরই এক সাংসদের কাছ থেকে সে ৮০ লক্ষ টাকা নিয়ে ওই ষ্টিং অপারেশনে ব্যবহার করেছে৷ জিনিসটা ধাধাঁর মতই মনে হল ! রাজনীতিতে তবে সবই চলে !