প্রভাতী

কে উল্টো–জামা, না মাথা?

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

আক্ল্মন্দ্ সিং সেবার কাঁথি গেছল৷ জুনপুট থেকে দীঘা পর্যন্ত সমুদ্রউপকূল ধরে খুক্ষ ক্ষেড়াত৷ খুক্ষ কাজুক্ষাদাম আর ক্ষাদামসন্দেশ খেত, দিনকাল ভালই কাটছিল৷ এমন সময় একবার তার কী যে খেয়াল হ, দুপুর বারটার শোতে সিনেমা দেখতে গেল৷ ছবিটি নাচগানহৈহল্লায় ভর্ত্তি৷ গল্পটা মুখ্যতঃ ট্র্যাজেডি৷ ওই ধরনের ছবিতে যেমনটি হয় এক্ষেত্রেও ব্যাপারস্যাপার তেমনটিই৷ নায়কনায়িকা দুজনেই সমুদ্রে ডুবে আত্মহত্যা করলে৷ দুটো চিতায় তাদের জ্বালানোও হল৷ তার পরের ছবিতে দেখানো হল তারা দুজনেই যথাকালে নরকে গিয়ে পৌঁছোল৷ যমরাজের উপস্থিতিতে তাদের মালাক্ষদল করে বিয়েও হয়ে গেল৷ মেয়েরা হুলুধ্বনি দিলেন৷ পুরুত তার পাওনা ক্ষুঝে নিয়ে চলে গেল৷ অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত ট্র্যাজেডিকে কমেডিতে রূপান্তরিত করা হল৷ আক্ল্মন্দ্ সিংয়ের ছক্ষিটা খুক্ষ পছন্দ হল৷ সে তিনটের শোয়েও ওই ছবিটাই দেখলে৷ এবার আরও ভাল লাগল৷ ছটার শোয়েও ওই ছবিটাই দেখলে৷ এবার আরও ভাল লাগল৷ এবার সে নাইট শোতেও ওই ছবিটাই দেখলে৷ এবার আরও ভাল লাগল৷ কিন্তু রাত্রি বারটার পরে আর কোন শো ছিল না৷ তাই ভারাক্রান্ত মনে তাকে হোটেলমুখো হতে হল৷

আক্ল্মন্দ্ সিং হোটেলের দিকে চলেছে৷ দক্ষিণে সমুদ্র৷ আরে ঝাউ ক্ষনের ফাঁক দিয়ে উঁকি মারছে ওটা কী চাঁদ, না সূর্য? ঘড়িতে ক্ষেজেছে একটা.....এটা দুপুর একটা, না রাত একটা আক্ল্মন্দ্ সিংয়ের মনে দুটো প্রশ্ণ নড়াচড়া করতে লাগল৷ প্রশ্ণ দুটো রীতিমত ডনবৈঠক মারতে লাগল৷ প্রথম প্রশ্ণ হআকাশে প্রকাণ্ড ক্ষড় ওটা কী? আর দ্বিতীয় প্রশ্ণএখন রাত একটা, না দিন একটা? যদি আকাশে ওটা চাঁদ হয়, তাহলে অত বড় চাঁদ কেন হবে? আর তা সামনাসামনি না এসে ঝাউক্ষনের ফাঁক দিয়েই বা কেন তাকাক্ষে? আর ওটা যদি সূর্য হয় তা হলে সূর্যের তাপে গনগনে গরম কেন হবে না আর এখন যদি রাত একটা হয় তাহলে নিশ্চয় ওটা চাঁদ, আর এখন যদি দুপুর একটা হয় তাহলে ওটা নিশ্চয় সূর্য৷

আক্ল্মন্দ্ সিং আকাশপাতাল ভেবে চলেছে.......আর আক্কেলদাঁতে* দাঁত ঘসে চলেছে৷

এমন সময় তার সামনে এসে দাঁড়াল একটা ট্রাক৷ সে ভাবলেট্রাক থামিয়ে ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করা যাক এখন রাত একটা না দিন একটা, আর আকাশে ওটা চাঁদ না সূর্য৷

ড্রাইভার ওকে দেখেই লাফিয়ে গাড়ী থেকে নেক্ষে পড়ল৷ আক্ল্মন্দ্ সিং সবিস্ময়ে তাকিয়ে দেখলে আরে ও যে ওরই ছোটবেলাকার সাথী ক্ষেয়াক্কিলে সিং৷ ওই ক্ষেয়াক্কিলে সিং আর তার ক্ষোন ক্ষিচ্ছুরাণী দেবীর সঙ্গে সে পাঠশালায় এক সঙ্গে পড়েছিল৷

দুজনেই তখন আহ্লাদে আটখানা৷ কতদিন পরে দেখা হল ক্ষেয়াক্কিলে সিং জিজ্ঞেস করলে–‘‘হ্যাঁরে আক্ল্মন্দ্, আজকাল করছিস কী?’’

আক্ল্মন্দ্ বললে–‘‘আপাততঃ মন্ত্রীর কাজ করে চলেছি৷ তুই, করছিস কী?’’

ক্ষেয়াক্কিলে সিং বললে–‘‘আমি আজকাল টরাক চালাই৷’’

আক্ল্মন্দ্ তখন আসল কথাটা পাড়লে৷ সে বললে–‘‘আচ্ছা ক্ষলতো, এখন দিন একটা না রাত একটা? আর আকাশে ওটা কীচাঁদ না সূর্য?’’

ক্ষেয়াক্কিলে সিং বললে–‘‘এদেশে তুইও বিদেশী, আমিও বিদেশী৷ কি করে ক্ষলব ওটা এদেশের চাঁদ না সূর্য আর কী করেই বা ক্ষলব  রাত একটায় এদেশে দিন না রাত আর দুপুর একটায় এদেশের রাত না দিন তাই আমরা যেমন ইচ্ছে ভেবে যেতে পারি৷ কারও কাছে কোন কৈফিয়ৎ দিতে হবে না’’

আক্ল্মন্দ্ সিং বললে–‘‘ঠিকই বলেছিস৷’’

*      *      *      *

তারপর থেকে রোজই সন্ধেয় আক্লমন্দ্ সিংয়ের সঙ্গে ক্ষেয়াক্কিলে সিংয়ের দেখাসাক্ষাৎ গল্পগুজব চলতে থাকল৷ আক্ল্মন্দ্ সিংয়ের পথঘাট তেমন জানা ছিল না৷ ক্ষেয়াক্কিলে সিং ট্রাকড্রাইভার৷ তাই সে পথঘাট জানত৷ ট্রাক নিয়ে সব জায়গায় যাওয়া চলে না৷ তাই সন্ধেয় সে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে আসত মোটর সাইকেলে চড়ে৷

একদিন সে মোটর সাইকেলে চড়ে আসছে.......দীঘা সৈকতে তখন একটু জোরালো হাওয়া বইছে৷ তার ক্ষুকের দিকের ক্ষোতামগুলোর ফাঁক দিয়ে হাওয়া ঢুকছে হু হু করে৷ তারপর জামার ভেতরে ঢুকে সেই হাওয়া পিঠের দিকের জামাকে চাপ দিচ্ছে৷ তার ফলে পিঠের দিকের জামাটা ফুলে উঠছে৷

ক্ষেয়াক্কিলে সিং ভাবলেআচ্ছা ফ্যাসাদ তো এটা এমন একটা ক্ষড় মানবিক সমস্যা, অথচ আজ পর্যন্ত কোন জ্ঞানীগুণী মানুষই এর সমাধান করেননি৷ সে ভাবলে যদিও আমি নামে ক্ষেয়াক্কিলে কিন্তু কাজেতে যে ক্ষেয়াক্কিলে নই সেটা আজই প্রমাণ করে দোক্ষ৷ সে জামাটা উল্টো করে পরে নিলে৷ জামার ক্ষোতামের ঘরগুলো রইল পিঠের দিকে আর জামার পিছন দিকটা  রইল তার বুকের দিকে৷ এবার মহা আরাম ক্ষুকের দিকে ক্ষোতামের ফাঁক দিয়ে হাওয়া ঢুকতে পারছে না৷ আর যদিও বা অল্পস্বল্প হাওয়া ঢুকছে, পেছনের দিকের জামা আর হাওয়ায় ফুলতে পারছে না৷ একটু অসুবিধে হচ্ছিল কেবল বুকপকেটে রাখা ফাউন্টেন পেনটাকে নিয়ে কারণ ওটা তখন পিঠের দিকে রয়ে গেছে কিনা

ক্ষেয়াক্কিলে নির্ভাবনায় মোটর সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে,......যাচ্ছে.....যাচ্ছে.....যাচ্ছে৷ সামনের দিক থেকে হঠাৎ দেখা গেলআসছে একটা প্রকাণ্ড ট্রাক৷ তখন সন্ধে হয়ে গেছে, তার দুপাশের আলোগুলো জ্বলজ্বল করে জ্বলছে৷ ক্ষেয়াক্কিলে সিং তাই দেখে ভাবলেতারই মত দুজন মোটর সাইকেলআরোহী পাশাপাশি সমান্তরাল ভাবে সামনের দিকে আসছে৷ সে ভাবলেদুটো মোটর সাইকেল যখন যথাযথ সমতা রক্ষা করে পাশাপাশি আসছে তখন আমি ঠিক ওদের মাঝখানটা দিয়ে মোটর সাইকেল চালিয়ে যাই৷

যা ভাবা তাই করা৷ সে দুটো বাতির ঠিক মাঝখানটিতে নজর রেখে নিজের গাড়ী চালিয়ে দিলে৷

ট্রাকড্রাইভার দেখলে, জেনেক্ষুঝে দেখেশুণে একটা মোটর সাইকেল সবেগে তার ট্রাকের দিকে ছুটে আসছে৷ সে তখন ষোল আনা ঝুঁকি নিয়ে সশব্দে তার ট্রাক থামিয়ে দিলে৷ কিন্তু ক্ষেয়াক্কিলে সিং তার মোটর সাইকেল থামাল না৷ মোটর সাইকেল এসে ধাক্কা দিল ট্রাকে৷ গাড়ীসহ ক্ষেয়াক্কিলে সিং ছিটকে পড়ল৷ মোটর সাইকেলটা ভেঙ্গে তুক্ষড়ে গেল৷ ক্ষেয়াক্কিলে সিং অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল৷ পুলিশী হুজ্জোৎ আর জনতার ঘেরাওয়ের ভয়ে ট্রাক ড্রাইভার চম্পট দিল৷

আক্ল্মন্দ্ সিং অনেকক্ষণ ধরেই ক্ষেয়াক্কিলে সিংএর আসা পথ চেয়ে ক্ষসে আছে ৷ কিন্তু ক্ষেয়াক্কিলে সিং আসছে না......আসে না.....আসে না.....আসেই না৷ খানিক পর আক্ল্মন্দ্ সিং ক্ষেয়াক্কিলে সিং যে রাস্তা দিয়ে আসে সেই রাস্তা ধরে এগিয়ে চললকোন দুর্ঘটনা হয়েছে কিনা তাই দেখতে৷ সে যা ভেবেছিল তাই ঘটেছে৷ তোক্ষড়ানো দোমড়ানো মোটর সাইকেলটা এক পাশে পড়ে রয়েছে আর তারই কিছু দূরে মুখ থুক্ষড়ে পড়ে রয়েছে ক্ষেয়াক্কিলে সিং৷ আক্ল্মন্দ্ সিং দেখলে, আঘাত গুরুতর হলেও প্রাণঘাতক নয়৷ তবে সব কিছুই পরীক্ষা করার পরে সে সবিস্ময়ে দেখলে ক্ষেয়াক্কিলে সিংয়ের মুণ্ডুটা একেবারে ঘুরে গেছে অর্থাৎ ক্ষোতামের ঘরগুলো যেদিকে মানুষের মুখ তো সেদিকে থাকে, কিন্তু ক্ষেয়াক্কিলে সিংয়ের মাথাটা এমন ঘুরে গেছে যে ঘুরে তার ঘাড়টা ক্ষোতামের ঘরের দিকে এসে গেছে৷ কাছে পিঠে কোথাও ডাক্তার আছে কি না কে জানে ফার্ষ্ট এডের (প্রাথমিক চিকিৎসা ) ব্যবস্থা সে নিজেই করতে বসল৷ ক্ষেয়াক্কিলে সিংয়ের মুণ্ডুটা ঘুরিয়ে ক্ষোতামের ঘরগুলো যেদিকে সেদিকে করে দেবার জন্যে প্রাণপণ চেষ্টা করে যেতে লাগল৷ একে দারুণ আঘাতে ক্ষেয়াক্কিলে সিং হত চৈতন্য, তারপর এই মুণ্ডু ঘোরানোর কসরৎএ দুয়ের মণিকাঞ্চন সংযোগে ক্ষেয়াক্কিলে সিংয়ের কী দশা হয়েছিল, তা সহজেই অনুমেয়৷

গল্প শেষ হল৷ আক্ল্মন্দ্ সিং নামটা কেমন ছিল তা পাঠকেরাই বিচার করুন৷

অথ জি এস টি

লেখক
ভবেশ কুমার বসাক

দাদা আপনি আছেন কেমন

খবর আপনার কী?

দাদা বলেন---খবর এখন

শুধুই জি এস টি৷

কেনা-বেচা সব কিছুতেই

সার্ভিস ট্যাক্সের ধাক্কা

ভাল-মন্দ কিছুই বুঝিনা

ওষুধগুলো অক্কা৷

জি এস টি-র জন্যে এবার

দাম বেড়েছে যত,

সেই হিসেবে ব্যাঙ্কে আবার

সুদ কমেছে তত৷

কালীচরণ

লেখক
প্রভাত খাঁ

          পবিত্র শ্রাবণী-পূর্ণিমায়

          কালিচরণ দীক্ষা নেন কাশিমিত্র ঘাটে

          মহাসম্ভূতি বাবার করুণায়৷

          এ যেন সেই ভয়ংকর কালিয়াদমন

          তরণ তারণ শ্রীকৃষ্ণের হাতে

          দ্বাপরে ব্রজভূমে তাঁর সেই বাল্যলীলায়৷

          তাঁরই নির্দেশে কালিকানন্দ হয় কালিচরণ

          জনারণ্য ছেড়ে যান

          অধ্যাত্মসাধনে পর্বত জঙ্গলে

          হিংসাদ্বেষ ছাড়ি’ জগৎ কল্যাণে৷

          মনে পড়ে রত্নাকর দস্যুবৃত্তি ছাড়ি’

          ‘রাম নাম’ জপ করি হয়ে বাল্মীকি

          মহাকাব্য রামায়ণ রচি ‘মহাকবি ’ হন৷

          পৃথিবীর বুকে ধর্মসংস্থাপনে

                                          ও আধ্যাত্মিক বিপ্লবে

          বিপথগামী কালিচরণই হন কালিকানন্দ

          এটি তাঁরই অক্ষয়কীর্ত্তি প্রথম দীক্ষিত

          জগৎকল্যাণে এক ব্রতী সুসন্তান৷

বন্দেমাতরম্

লেখক
প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

কত শহীদ জীবন দিয়ে

          রাখল জাতির নাম

প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে

          ধরল সংগ্রাম৷

বন্দী হ’ল কারাগারে

          পরলো মরণ-ফাঁসি,

বুক ফুলিয়ে শির উঁচিয়ে

          হাসলো বীরের হাসি৷

হাতে পায়ে পরলো শেকল

          গেলো দীপান্তর,

জ্বাললো আগুন, মারলো শত্রু,

          করলো না ভয়-ডর৷

দাসত্ব মেনে বিদেশীর সাথে

          জীবন করেনি লগ্ণী,

স্বরাজ-স্বপ্ণে মুক্তি-যজ্ঞে

          ওরা লেলিহান অগ্ণি৷

সহ্য করেছে কত যন্ত্রণা

          লাঞ্ছনা নির্মম,

একটি শুধু মন্ত্র জপে’---

‘        বন্দেমারতম্’৷৷

 

গঞ্জের গজার গপ্পো

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘ঠাঠ’ মানে আধার৷ এই আধার অর্থে ‘ঠাঠ’ শব্দের সঙ্গে তোমরা কেউ কেউ হয়তো পরিচিত আছ৷ পুরোহিতেরা তাঁদের নারায়ণের  সিংহাসনের যে আধারটিতে শালগ্রাম শিলা বসিয়ে রাখেন সেটিকেও ঠাঠ বলা হয়৷ তোমরা সেই ঠাঠের শালগ্রাম শিলার গল্প জানো তো? তবে শোনো, তাড়াতাড়ি শোনাচ্ছি৷

এক পুরোহিত তাঁর নারায়ণের সিংহাসন সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন দু’ক্রোশ দূরে এক শাঁসালো রসালো যজমানের বাড়িতে৷ অর্ধপথে এসেই পুরোহিত মশায় দেখলেন তিনি সিংহাসনের ঠাঠে শালগ্রাম শিলা রাখতে ভুলে গেছেন৷ কী করা যায়............কী করা যায় পুরোহিতেরা মানুষ চরিয়ে খান৷ সঙ্গে সঙ্গে মগজে বুদ্ধি খেলে গেল৷ রাস্তার পাশে পড়ে–থাকা একটা শুকনো শামুককে নিয়ে তিনি ঠাঠে বসিয়ে দিলেন৷ ভাবলেন–যজমান অতশত বুঝবে না৷ তারপর পুরোহিত মশায় যজমান বাড়িতে এসে যথারীতি পুজোয় বসলেন–অঙ্গন্যাস, করন্যাস, আচমনাদি যথাবিধি সারলেন৷ এবার মন্ত্রপাঠ করে পঞ্চপাত্র থেকে ছোট্ট হাতায় খানিকটা জল নিয়ে শালগ্রাম শিলার  ওপর ঢেলে শালগ্রাম শিলাকে* স্নান করাতে লাগলেন৷

এদিকে ব্যাপারখানা যা হবার তাই হল৷ জল পেয়ে শুকনো শামুকের খোল জেগে উঠল৷ সে তখন ঠাঠ ছেড়ে চলতে শুরু করলে– ঠাঠ ছেড়ে সিংহাসনে, সিংহাসন ছেড়ে মেঝেতে  তার চলার ধারা নির্ক্ষাধ গতিতে হতে থাকল৷ পুরোহিতের তো তখন চক্ষু ছানাৰড়া৷ যজমান বললে–এ কী হল ঠাকুর মশায়, এ কী হল ঠাকুর মশায়

একটু আগেই বলেছি, পুরোহিত মানুষ চরিয়ে খান৷ তাঁর উর্বর  মস্তিষ্কে আবার বুদ্ধি খেলে গেল৷ তিনি যজমানের দিকে চেয়ে বললেন, তোর কী সৌভাগ্য রে বেটাচ্ছেলে, তোর বাড়িতে এসে ঠাঠ ছেড়ে নারায়ণ চলতে শুরু করে দিয়েছে৷ এ যে সমগ্র মানুষ জাতির ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা৷ অচল নারায়ণকে সচল হতে দেখে আজ শুধু তোর আর আমার নয়, বিশ্বের সমস্ত মানুষের আজ পৃথিবীতে আসা সার্থক হল৷ তবে এই ইতিহাস–সার্থক ঘটনাটিকে আরও ৰেশী মর্যাদা দিয়ে এক কাজ কর, তুই যা কিছু পুজোর উপকরণ–নৈবেদ্য, ধুতি–শাড়ী, দান–দক্ষিণা দিবি বলে ঠিক করেছিলি তার দশ গুণ বাড়িয়ে দে যাতে ঘটনাটা চিরদিন মনে থাকে–তোরও মনে থাকে, আমারও মনে থাকে৷

যজমান দেখলে–একটা শামুক জল পেয়ে চলছে৷ ত বুও ভয়ে ভক্তিতে মুখে কুলুপ এঁটে থাকতে হল৷ সে কেবল একবার ভয়ে–ভক্তিতে পুরোহিতকে বললে– ঠাকুর মশায়, কালীর জন্যে একটা শাড়ি দিয়েছিলুম৷ এখন কি দশটা শাড়ি দিতে হবে

পুরোহিত মশায় বললেন–এক কথা কতবার বলব

যজমান বললে–ঠাকুর মশায়, কালী তো দিগম্বরা৷ শাড়ি তো তিনি পরেন না৷

পুরোহিত মশায় বললেন–এত বিদ্যে কে তোকে দিয়েছে বল তো শ্মশানে তিনি শাড়ি পরেন না, কিন্তু শহরে বাজারে যখন আসবেন তখন নিশ্চয়ই সামাজিক মর্যাদা অনুযায়ী ভাল শাড়ি পরেই আসবেন৷ হয় মুর্শিদাবাদী ছাপা সিল্কের শাড়ি কিংবা বেনারসী শাড়ি৷ তা এখনই যদি চুঁচড়ো–চন্নগরের বাজারে অতগুলো মুর্শিদাবাদী, বেনারসী শাড়ি জোগাড় করতে না পারিস তাহলে দুৃ’চারটে ভাল পাড়ের ভাল খোলের ধনেখালি–শান্তিপুরী শাড়ি হলেও কাজ চলবে৷ মায়ের তাতে কোনো আপত্তি হবে না, আমার তো হবেই না৷

যজমান বললে–কিন্তু ঠাকুর মশায় শিব ঠাকুর তো দিগম্বর, কিংবা তিনি বাঘছাল পরে থাকেন৷ তাঁকে দশটা ধুতি দিয়ে কী হবে–কী কাজে লাগবে?

পুরোহিত মশায়–তুই কিছুটা জ্ঞানের কথা বললি বটে, তবে শেষ রক্ষে করতে পারলি না৷ শিবের সম্বন্ধেও ওই একই কথা৷ তিনি শ্মশানে বাঘছাল পরে থাকেন বা দিগম্বর হয়ে ঘুরে ৰেড়ান কিন্তু দিন দুপুরে আমাদের চুঁচড়ো–চন্নগরে তো আর দিগম্বর হয়ে বা বাঘছাল পরে আসবেন না৷ আসবেন হয় ফিনফিনে ধুতি আর গিলে–করা পাঞ্জাবী পরে কিংবা ফুলপ্যান্ট আর বুশ শার্ট পরে৷  তবে দেখ ফুল প্যাে ন্টর অনেক ঝামেলা৷ আগে থেকে মাপ নিতে হয়৷ ভাল দর্জি দিয়ে কাটিং–সেলাই করাতে হয়৷ অত ঝামেলায় কেন যাবি  তার চেয়ে ভাল খোলের ভাল পাড়ের কয়েকটা শান্তিপুরী–ফরাসডাঙ্গ্ ধুতি দিলেই চলবে৷ আমাদের চুঁচড়ো–চন্নগরের বাজারে যে–কোনো সময় পয়সা ফেললেই ডজন ডজন ফরাসডাঙ্গা–শান্তিপুর্ ধুতি পাওয়া যাবে৷ আলু বেচার টাটকা টাকা তো তোর হাতেই রয়েছে৷ শিব ঠাকুর আশুতোষ আপনভোলা মানুষ৷ যা দিবি তাতেই সন্তুষ্ট হবেন৷ তুই যদি চটের মত মোটা ধুতিও দিস শিব ঠাকুরের তাতে কোনো আপত্তি হবে না কিন্তু আমার তো আক্কেল আছে৷ আমি কোন্ প্রাণে বলব–ঠাকুর, এই ধুতিটা কোমরে জড়াও৷ আমি প্রাণ থাকতে তা পারব না৷ আমি তো আর জ্ঞান–গম্যি খুইয়ে বসিনি৷

মা সেদিন স্বপ্ণাদেশে বললেন–দেখ, পৌরোহিত্য করতে তোকে অনেক হাঁটাহাঁটি করতে হয়, রোদ–জল সইতে হয়৷ সেদিন গোটু থেকে সুগিন্দে (সুগন্ধ্যা) হয়ে চন্নগর যাবার পথে তোকে রোদে জলে নাস্তানাবুদ* হতে হয়েছিল৷ তোর দুঃখু দেখে আমার বুক ফেটে যাচ্ছিল৷ তোর যজমানকে বলিস, তোকে যেন একটা আধুনিক মডেলের সাইকেল আর ভাল জাতের একটা ছাতা দেয়৷ তুই তো মায়েরই সন্তান৷ তোকে সাইকেল, ছাতা দিলে মা সন্তুষ্ট হবেন৷

মা আমায় আরও বললেন–তোর যজমানকে বলিস দু’টো জিনিসই চন্নগর গঞ্জেই পাওয়া যাবে৷ এজন্যে কলকাতা দৌড়ুতে  হবে না৷ আর গঞ্জে যখন যাচ্ছেই তখন সের পাঁচেকের মত গঞ্জের নামজাদা গজাও যেন নৈবিদ্যিতে দিয়ে দেয়৷ তাতে নৈবিদ্যির শোভা বাড়বে...... ৰেশ খোলতাই হবে৷

যজমান বললে–ঠাকুর মশায় তুমি যেমনটি বলেছ তেমনটিই হবে৷

যজমান সব কিছু দিলে বটে কিন্তু মনের মধ্যে খুঁতখুঁতুনি রয়েই গেল৷ সে যে নিজের চোখে দেখেছে জল পেয়ে শামুকটি চলতে শুরু করে দিয়েছিল৷

তোমরা তা হলে গঞ্জের গজার গপ্পো বুঝে নিলে তো.....

* নেপালে উদ্ভূত নারায়ণী গণ্ডক (গণ্ডকী) নদীতে হিমালয় থেকে অনেক ছোট ৰড় বিভিন্ন আকারের নুড়ি নেবে আসে৷ সারণ জেলার একটি জায়গায় নদীগর্ভে অল্প একটু ঘূর্ণি আছে ও নদীর গভীরতাও একটু ৰেশী৷ নুড়িগুলি তারই আশেপাশে এসে জড়ো হয়৷ সুদূর নেপাল থেকে আসতে আসতে পারস্পরিক ঘাত–প্রতিঘাতে নুড়িগুলি একটি বিশেষ আকার প্রাপ্ত হয়৷ কতকটা গোলাকার কিন্তু ঠিক গোলাকারও নয়৷ একটু নড়বড়ে৷ প্রাচীনকালে দেশে যখন মহাযানী ক্ষৌদ্ধমতের প্রাধান্য ছিল সে যুগের ক্ষৌদ্ধরা শূন্যবাদের প্রতীক হিসেবে সেই কতকটা শূন্যের

মত দেখতে শিলাখণ্ডকে বুদ্ধরূপে পূজা করত ৷ সারণ জেলার শালগ্রাম নামক  গ্রামটির কাছে পাওয়া যেত বলে শিলাখণ্ডগুলিকে বলা হত শালগ্রাম শিলা৷ পরবর্তীকালে....শঙ্করাচার্যের পরে.....মহাযানী ক্ষৌদ্ধমত, শাঙ্কর শৈব মতে বা ক্ষ্রাহ্মণ্য  ধর্মের মধ্যে মিলেমিশে যায়৷ সেই সময় বুদ্ধকেই বিষ্ণুর অবতার রূপে স্বীকার করে সমীকরণের ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করে ফেলা হয়৷

কবি জয়দেব তাঁর দশাবতার স্তোত্রে  বুদ্ধকে বিষ্ণুর অবতার বলে বর্ণনা করে লিখলেন–

          ‘নিন্দসি যজ্ঞবিধেরহহ্ শ্রুতিজাতং৷

          সদয়হূদয়দর্শিতপ্৷

          কেশবধৃত বুদ্ধশরীর, জয় জগদীশ হরে৷৷’’

বুদ্ধকে বিষ্ণুর অবতার রূপে স্বীকার করলেন বটে কিন্তু শ্লোকটিতে মনের খুঁতের কথাটিও ব্যক্ত করে দিলেন৷ শ্লোকটির মানে হচ্ছে–‘‘এটা খুবই দুঃখের বিষয় যে বেদবিহিত যজ্ঞবিধিকে তুমি নিন্দা করেছিলে– অহো অহো কারণ পশুহত্যা দেখে তোমার হূদয় দ্রবীভূত হয়েছিল৷ হে বুদ্ধরূপধারী নারায়ণ, আমি তোমাকে নমস্কার করছি৷’’

বুদ্ধত্বের প্রতীক শালগ্রাম শিলাকে সে সময়কার মানুষ বিষ্ণু বা নারায়ণের প্রতীক রূপে পুজো করতে শুরু করে দিলে৷ অর্থাৎ শালগ্রাম শিলা বুদ্ধশিলা থেকে নারায়ণ শিলা হয়ে গেল৷

পেটে লোক ভরে’ দেয় দৌড় জোরে

লেখক
শিবরাম চক্রবর্ত্তী

টো টো ঘোরে টো–টো করে

          পেটে লোক ভরে’,

মাথা পিছু নিয়ে কিছু

          দেয় দৌড় জোরে৷

শব্দের দূষণ অঙ্গের ভূষণ

          সইতে সে না পারে,

তাইতো তারে একেবারে

          আগেই বর্জন করে৷া

সব যুগলে কথা বলে

          পথ কেহ না ছাড়ে,

পাশ কাটাতে গায়ে লাগতে

          যদি এসে মারে৷

এলেই মোড় কমায় জোর

          চালাক গোবর্ধন,

জ্ঞানে টনটন বাজায় হর্ন

          খুব জোরে সে তখন৷

স্তু প্রার্থনা স্তু

লেখক
মনোজ পাতর

অন্ধকারের ভাবজড়তা ছিন্ন করে–

আলোর দিশা দাও হে প্রভু মুক্ত দ্বারে৷

চিত্ত করো ভয় শূন্য মুক্ত করো প্রাণ,

জ্ঞানের শিখা জ্বালিয়ে দিও ভালবাসার গান৷

মানব সেবার ব্রত দিও ধন্য করো জীবন,

সৃজনশীল ক্ষমতা দিও – বিশ্বপ্রেমের বন্ধন৷

সত্যনিষ্ঠার মন্ত্রবলে যেন করতে পারি জয়–

জনমানসের মন্ত্র যেন বলতে পারি অভয়৷

নোতুন–নোতুন প্রেরণা দাও–দাও ঈশ্বর প্রেমে

এ জীবন ধন্য করো আলোক সংগ্রামে৷

 

তুমি যে......

লেখক
জ্যোতি বিকাশ সিন্হা

জীবন তরী, লড়াই গুরু

দমকা হাওয়া, বুক দুরুদুরু

ভ্রষ্ট জনের দুষ্ট কর্ম

নষ্ট করে সমাজ ধর্ম

ঝঞ্ঝাশনি, আঁধার রাতে

নিঃশঙক মানুষ এগিয়ে যাবেই

তুমি যে গো রয়েছো সাথে৷

আসবে যাবে জীবন মরণ

সকল সময় তোমার শরণ

মত্ত যতই দুঃশাসননাচার

সত্যধর্ম সদা হাতিয়ার

নবারুণ রাঙা নবীন প্রভাতে

উদ্বেল মানুষ নোতুন আবেগে

তুমি যে গো রয়েছো সাথে৷৷

 

দাদাঠাকুরের চিঠি - মানসিক একাগ্রতা

লেখক
দাদাঠাকুর

ছোট্ট বন্ধুরা, জীবনে তোমরা যে কাজই করতে চাও, মনের একাগ্রতা না থাকলে সে কাজে কখনও সফল হতে পারবে না৷ তোমরা লেখাপড়া করো, এখন পড়ার সময় যদি তোমার মন পাঠ্য বিষয়ে না থেকে নানা কিছু চিন্তা করতে থাকে, যেমন–খেলার কথা, টিভির কথা, খাবারের কথা ইত্যাদি যদি তোমার মনে আসতে থাকে তাহলে পড়া কিছুতেই তোমার মনে থাকবে না৷ কেননা, পাঠ্য বিষয়ে তোমার মনোযোগ নেই, মনের একাগ্রতা নেই৷ আর যদি মন একাগ্র থাকে, অন্য কিছু তোমার মনে না আসে তাহলে যা পড়বে তাই তোমার মনে থাকবে৷ এ প্রসঙ্গে মহাভারতের একটা ঘটনা বলি শোন৷

কৌরব পাণ্ডবদের গুরু ছিলেন দ্রোণাচার্য৷ একদিন দ্রোণাচার্য শিষ্যদের অস্ত্র শিক্ষার পরীক্ষা নিতে চাইলেন৷ রাজপুরীর বাইরে ছিল মস্ত একটা মাঠ৷ সেখানে একটা মঞ্চ তৈরী হল৷ মঞ্চ থেকে অনেক দূরে, একটা গাছের উঁচু ডালে একটা কাঠের পাখী রাখা হল৷ শর দিয়ে যে রাজকুমার ওই কাঠের পাখীটার মাথা কাটতে পারবে সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে৷

দ্রোণাচার্য প্রথমে ডাকলেন জ্যেষ্ঠ রাজপুত্র যুধিষ্ঠিরকে৷ আচার্য বললেন–ওই দেখো ভাস পক্ষী বৃক্ষের উপর৷ উহারে করিয়া লক্ষ্য রাখো ধনুঃশর৷৷

যুধিষ্ঠির তার ধনুকে শর লাগিয়ে লক্ষ্য স্থির করে দাঁড়াল৷ তখন দ্রোণাচার্য জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘বৎস, তুমি কী দেখতে পাচ্ছ?’’ যুধিষ্ঠির বলল, ‘‘একটা গাছ দেখছি৷ তার উপর একটা পাখি দেখছি৷ তাছাড়া মঞ্চে যাঁরা বসে আছেন তাঁদেরও দেখতে পাচ্ছি৷’’ আচার্য বললেন, ‘‘বৎস যুধিষ্ঠির তোমার অস্ত্র শিক্ষা হয়নি৷ তুমি যেতে পার৷’’

যুধিষ্ঠিরের পরে এল দুর্যোধন৷ তাকে আচার্য ডেকে বললেন–

ওই দেখো ভাস পক্ষী বৃক্ষের উপর৷

উহারে করিয়া লক্ষ্য রাখো ধনুঃশর৷৷

দুর্যোধন ধনুকে শর লাগিয়ে দাঁড়াল৷ আচার্য জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘বৎস, তুমি কী দেখছ?’’ দুর্যোধন বলল, ‘‘গাছটা দেখছি, পাখিটাও দেখছি৷ মঞ্চে যাঁরা বসে আছেন তাঁদেও দেখছি৷’’ আচার্য বললেন, ‘‘না, বৎস তোমারও অস্ত্র শিক্ষা হয়নি৷ তুমি যেতে পার৷’’

দুর্যোধনের পরে দ্রোণাচার্য অর্জুনকে ডাকলেন৷ আচার্য বললেন–

ওই দেখো ভাস পক্ষী বৃক্ষের উপর৷

উহারে করিয়া লক্ষ্য রাখো ধনুঃশর৷৷

অর্জুন ধনুকে শর যোজনা করে স্থির হয়ে দাঁড়াল৷ আচার্য জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘বৎস, তুমি কী দেখছ?’’ অর্জুন বলল, ‘‘গাছে একটা পাখি দেখছি৷ আচার্য বললেন, ‘‘ভালো করে লক্ষ্য স্থির করো৷ এখন কী দেখছ?’’ অর্জুন বলল, ‘‘শুধু পাখীটা দেখছি৷’’ আচার্য আবার বললেন, ‘‘আরো ভালো করে লক্ষ্য স্থির করো৷ এখন কী দেখছ?’’ অর্জুন বলল, ‘‘পাখীটার মাথাটা মাত্র দেখছি৷’’ দ্রোণাচার্য বললেন, ‘‘ছাড় অস্ত্র, কাটো পক্ষীশির৷’’ আচার্যের কথা শেষ হতে না হতে অর্জুনের শরে কাঠের পাখিটার মাথা কাটা পড়ল৷ দর্শকেরা জয়ধবনি করে উঠল৷ অর্জুন আচার্যকে প্রণাম করল৷ আচার্য বললেন, ‘‘বৎস, অর্জুন, মনে রেখো–সকল বিদ্যার মূল একাগ্রতা৷ তোমার একাগ্রতা আছে তুমি অস্ত্র বিদ্যার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছ৷’’

 

গদ্দী মেঁ কৌন্ হ্যায়?

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

মানুষ আরামের অন্বেষণ করে৷ তাই এই অর্থে ‘ঢুণ্ঢ’ড করে যে ‘ঢ’ শব্দ পাই  তার একটা অর্থ হ’ল আরামের উপকরণ (ভাবারূূার্থ), যোগারূূার্থে ‘গদি’৷ গদি বলতে ক্ষোঝায় যা শয়নকে বা উপবেশনকে আরামদায়ক করে দেয়৷ খাটের তোষকের নীচে যে গদি ব্যবহার করি ক্ষা চেয়ারের ওপর যে গদি ব্যবহার করি তার জন্যে ‘ঢ’ ব্যবহার করা যেতে পারে৷

উত্তর ভারতে সাধারণতঃ ‘গদ্দা’ ব্যবহূত হয়৷ তবে ‘গদ্দী’ শব্দে ব্যবহার যে নেই এমন নয়৷ তবে উত্তর ও পশ্চিম ভারতে ‘গদ্দী’ বলতে ক্ষোঝায় দোকানদার যেখানে বসে তার কাগজপত্র দেখে বা হিসেব–নিকেশ করে সেই  স্থানটি অর্থাৎ অফিস৷ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের অফিসকেও গদ্দী বলা হয়৷ গদ্দীর কথায় শেঠজীর সেই গপ্পটাও মনে পড়ে গেল৷

শেঠজীর বাড়াবাড়ি অসুখ........মৃত্যুশয্যায়৷ বাড়ীতে কান্নার রোল উঠেছে৷ খবর পেয়ে শেঠজীর পাওনাদারেরা উদ্বিগ্ণ৷  শেঠজীর অধমর্ণদের মুখে আনন্দের পাতলা ঝিলিক, যেন জল মেশানো ভেজাল দুধের পাতলা সরটি৷ শেঠজীর পুত্রেরা শশব্যস্ত হয়ে বিক্রয়কর, আয়কর ও আৰগারী বিভাগের খাতাপত্র সামলাতে ব্যস্ত৷

শেঠজী মরণাসন্ন৷ সেদিনকার মত গদ্দী ৰন্ধ করে তাঁর সাত ছেলে করজোড়ে শয্যাপার্শ্বে  এসে দাঁড়াল৷ শেঠজী নাম করে করে তাদের খবর নিতে লাগলেন৷ প্রথমে খোঁজ করলেন প্রথম পু–ের৷ শেঠজী বললেন– রামনজ র  হাজির? রামনজ র হাত জোড় করে বললে–জী পিতাজী, হাজির৷ এবার দ্বিতীয় পু–ের খোঁজ করে বললেন–রামপরীৰণ হাজির৷ রামপরীৰণ বললে–জী পিতাজী, ম্যাঁয় উপস্থিত হুঁ৷ এবার তৃতীয় পু–ের খোঁজ নিয়ে শেঠজী বললেন–রামসুরথ হাজির? রামসুরথ বললে–জী পিতাজী, ম্যাঁয় আপকা চরণ–কমলোঁ মেঁ হুঁ৷ এবার চতুর্থ পু–ের খোঁজ নিয়ে শেঠজী বললেন–রামসিংহাসন হাজির? রামসিংহাসন বললে–জী পিতাজী, আপকা দাস হাজির৷ এবার পঞ্চম পু–ের খোঁজ নিয়ে বললেন–রামইক্ক্ষাল হাজির? রাম ইক্ক্ষাল বললে–জী পিতাজী, ম্যাঁ আপকা চরণোঁ মেঁ হুঁ৷ এবার ষষ্ঠ পু–ের খোঁজ নিয়ে বললেন–রামবেশন  হাজির? রামবেশন বললে–জী পিতাজী, দাস উপস্থিত হ্যায়৷ এবার সপ্তম পু–ের খোঁজ করে শেঠজী বললেন–রামনুঠা হাজির? রামনুঠা বললে–দাস আপকে সেবা মেঁ হাজির হ্যায়৷ এবার শেঠজী ক্রোধে অগ্ণিশর্মা হয়ে বললেন–তুমলোগ  সাতোঁ ভাই  ইহাঁ পর হাজির হো তো গদ্দী মেঁ কৌন হ্যায়? শেঠজী রাগে গর্জন করতে থাকায় হূদপিণ্ডের  ক্রিয়া ৰন্ধ হয়ে গিয়ে শেঠজীর মৃত্যু হ’ল৷

হ্যাঁ, তাহলে ৰুঝলে বাংলা ‘গদি’ ও উত্তর ভারতের ‘গদ্দী’ এক জিনিস নয়৷ একটার সঙ্গে অপরটা তোমরা গুলিয়ে ফেলো না৷