প্রভাতী
এমন বৃষ্টি
এমন বৃষ্টি এখনও দেখিনি আমি
ঘন কালো মেঘ মুষলধারায়
বৃষ্টি আসিছে নামি
দিনের আলো ঢেকে দিয়ে
যেন রাত্রি এসেছে নামি
সকলি গিয়াছে থামি৷
জলে থৈ থৈ পথ মাঠ ঘাট
বনাঞ্চল হ’ল যে শ্মশানঘাট
বাঁধ ভেঙ্গে নদী বন্যা ঘটাল
জলে জল একাকার৷
গ্রামের বাড়ী মাটিতে লুটালো
বিদ্যালয় বন্ধ হ’ল
ফসল জলে নষ্ট হ’ল
কত মানুষের মৃত্যু হ’ল
গ্রাম থেকে গ্রাম চুরমার
গরীব আরও গরীব হ’ল
হাহাকার শুধু হাহাকার৷
যারা বেঁচে আছে কে দেবে ঠাঁই
কে দেবে খাবার আরও যা দরকার
অসহায়–এদের কে হবে সহায়
দেবে আশ্বাস
নদীর বাঁধ ভাঙ্গবে না আর
দূর হবে সংশয়৷
পাবে তারা নিস্তার৷
আত্মপরিচয়
পরমপুরুষ আমার পিতা
পরমাপ্রকৃতি মাতা
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে বসবাসকারী
সকলে ভগিনি ও ভ্রাতা৷
ত্রিভূবন আমার স্বদেশভূমি
ধরিত্রী আমার বাসগৃহ
সৃষ্ট জগতের সবাই আপন
পর নহে মোর কিছু ও কেহ৷
বসুমতীর কোল শয্যা আমার
আকাশ আমার ঘরের ছাদ
প্রকৃতির কোলে ঘুমিয়ে উঠি
স্নেহ সুধা পাই দিবারাত৷
মেঘ সাগরের কাছ থেকে পাই
স্নান ও পানের জল,
নিত্য ভোজের জন্যে পাই
গাছগাছালির ফল৷
বসুধা ও তটিনি শিক্ষিকা মোর
পবন ও পৃথিবী শিক্ষক
অতন্দ্র প্রহরী পাহাড় ও পর্বত
এরাই যে মোর রক্ষক৷
এই পরিচয় রইল আমার
এই মোর ঠিকানা
সবারে জানাই নমস্কার
করি শুভকামনা৷
আনন্দস্রোত
নদী চলে যায় সাগরে পানে
জোয়ার ভাঁটার টানে টানে
ঢেউগুলি সব আছড়ে পড়ে
সমুদ্র কিনারে৷
মন পবনের নাওয়ে বসে
সাগর জলে ভেসে চলে
পুষ্পরথে আকাশপথে
মেঘের দেশে উড়ে চলে৷
পরী সেজে পাড়ি দেবো
স্বর্গ রাজ্যে চলে যাব
পরমানন্দের স্রোতে
জীবনটাকে ভাসিয়ে দেবো৷
পাঞ্চজন্য
সৃষ্টি করে বিশ্বটাকে
রইলে সবার অলখে
সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় খেলা
করছ তুমি পলকে৷৷
সাজিয়ে দিলে আলোর মেলায়
মাতছো কত রঙের খেলায়
করছো লীলা সবার সাথে
উঠছো চিতে ঝলকে৷৷
তোমার লীলায় তুমি হারা
নেইকো কিছুই তুমি ছাড়া
সৃষ্টি থেকেই খুঁজছো তুমি
সৃষ্টি ছাড়া তোমাকে৷৷
চার ভাই–ই কবি
হ্যাঁ, সেই চার ভাই ছিল পণ্ডিত পিতার মূর্খ সন্তান* (*‘সন্তান’ শব্দটি পুংলিঙ্গ, স্ত্রীলিঙ্গ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহূত হয়৷ সম্–তন্ ঘঞ্ প্রত্যয় করে ‘সন্তান’ শব্দ ক্ষ্যুৎপত্তিগত ভাবে অবশ্যই পুংলিঙ্গ৷ কিন্তু ব্যবহারে উভয়লিঙ্গ৷ ‘সন্তান’ শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ রূপ দিতে গিয়ে অনেকে ‘সন্ততি’ শব্দটিকেও টেনে আনেন যার কোন প্রয়োজন নেই৷)
ৰড় ভাইটি মূর্খ ও বোকা৷ মেজটি তথৈবচ৷ সেজটিও তথৈবচ৷ কিন্তু ছোটটি মূর্খ হলে কী হবে, ৰুদ্ধিমান–তার ওপর আবার বিদুষক৷ অর্থকৃচ্ছ্রতার মধ্য দিয়ে চার ভাইয়ের দিন কাটছিল৷ হঠাৎ তারা খবর পেল, এক দেশের রাজা ঘোষণা করেছেন কেউ যদি তাঁকে স্বরচিত কবিতা শোনায়, তাহলে তিনি তাকে উপযুক্ত উপঢৌকন দেবেন৷ কিন্তু কবিতা লেখা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়৷ কারও ভাব আছে তো ভাষা নেই, কারও ভাষা আছে তো ভাব নেই৷ কারও আবার দুইয়ের একটাও নেই৷ যাঁর দুটোই আছে, সে–ই হয় কবি৷ তা না হলে ওই যে, –
‘‘পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির,
তাতে কী বা যায় আসে ভোঁদার পিসীর–’’
মত কবিতাই আসবে৷
রাজা যখন দেখলেন, জোড়া পঙ্ক্তির কবিতা লেখার মত কবি আর কেউই রাজসভায় আসছে না, তখন তিনি বললেন–‘‘এক লাইনের কবিতা হলেও চলবে৷ যেমন, কী যে লিখি ছাই মাথা ও মুণ্ডু আমিই কী বুঝি তার কিছু৷’’
চার ভাইয়ের মুস্কিল–আশান হ’ল৷ ঘাম দিয়ে ম্যালেরিয়ার জ্বর ছাড়ল৷
ৰড় ভাই বললে–‘‘আম্মো পারি৷’’
মেজ ভাই বললে–‘‘আম্মো লিখতে পারি’’৷
সেজ ভাই বললে–‘‘আম্মো কবিতা লিখতে পারি’’৷
ছোট ভাই বললে–‘‘আম্মো মিত্রাক্ষর ছন্দে কবিতা লিখতে পারি’’৷
তারা ঠিক করলে পরের দিন সকাল সাতটার সময় মাহেন্দ্রযোগে রাজদরবারে কবিতা শোনাতে যাবে৷ শেষ রাত্তিরে কাব্যিক মেজাজ আনবার জন্যে ৰড় ভাই গাড়ু হাতে মাঠে গেল৷ ফুরফুরে হাওয়া বইছে...কবিতার আমেজ আসছে...চাঁদের কালো দাগগুলো দেখে মনে হচ্ছে, সেঁকবার সময় রুটিটা ক্ষোধ হয় একটু পুড়ে গেছে৷ এমন সময় ৰড় ভাই দেখলে, তার সামনে তিনটে গর্ত৷ গর্ত তিনটেতেই জল৷ তিনটে জলে তিনটে চাঁদ৷ আর আকাশে রয়েছে আর একটা চাঁদ৷ তাহলে পৃথিবীতে আছে মোট চারটে চাঁদ৷ ৰড় ভাইয়ের মনের গহনে কাব্যিক হাওয়া বয়ে গেল৷ সে এক লাইনের কবিতা তৈরী করে ফেললে–‘‘চন্দ্র চারু৷’’ ৰড় ভাই গাড়ু হস্তে দ্রুত পদ–বিক্ষেপে বাড়িতে ফিরে এল৷ আর ভাইয়েদের বললে–‘‘পেয়েছি, পেয়েছি...ইউরেকা ...ইউরেকা৷ এক লাইনের একটি উত্তম মানের কবিতা এখন আমার ঠোঁটস্থ’’৷
মেজভাই আর কালবিলম্ব না করে গাড়ু হাতে সেইদিকেই ছুটল,–বসল গিয়ে একটি ৰকফুলের গাছের নীচে৷ কবিতার মেজাজ আর আসে না৷ চাঁদ ডুবে গেছে...মহা ফ্যাসাদ৷ এমন সময় একটা ৰকফুল তার মাথায় এসে পড়ল৷ মগজে কবিতার ডাঙগুলি খেলে গেল৷ এক পঙ্ক্তির কবিতা সে তৈরী করে ফেললে–
‘মাথায় ফুল পড়ে–ৰকধারু৷’
সে পড়ি–কী–মরি করে গাড়ু নিয়ে ফিরে এল, কারণ খানিক বাদে রাজদরবারে যেতে হবে৷
সেজভাইয়ের আর তর্ সয় না৷ সে গাড়ু নিয়ে যখন মাঠে গিয়ে বসল, তখন সূর্য উঠছে৷...সূর্যের আলোয় তাঁৰার গাড়ু শুধু যে চক্চক করছে তা–ই নয়, গরম হয়েও উঠেছে৷ তার মাথায় কবিতার হা–ডু–ডু খেলে গেল৷ সে এক পঙ্ক্তির কবিতা তৈরী করে ফেললে–‘‘সুর্যের উত্তাপে তাম্র গাড়ু’’৷
সে গাড়ু হাতে দৌড়ুতে দৌড়ুতে বাড়ি ফিরল৷ এমনকি গাড়ুটা পুকুরে ডোবাতেও ভুলে গেল৷ খানিক বাদে তাকে রাজদরবারে যেতে হবে তো
তিনভাই সাজগোজ করে রওয়ানা* (*শব্দটি হিন্দুস্তানী–‘রবানা’৷ অনেকে ভুল করে ‘রওনা’ লেখেন৷) হ’ল৷ ছোট ভাইও ওদের সঙ্গ নিলে৷ দাদারা বললে–‘‘তুই আমাদের সঙ্গে কেন যাচ্ছিস? তুই কি আমাদের মত কবি?’’
সে বললে,–‘‘এতখানি পথ তোমাদের সঙ্গে যেতে যেতে আমার গায়েও কবিতার হাওয়া লাগবে৷ রাজসভায় গিয়ে আমিও কবিতার ট্রায়াল দোব৷’’
চার ভাই যথাসময়ে রাজসভায় এসে উপস্থিত৷ এক এক করে তাদের ডাক পড়ল৷ ৰড়ভাই গিয়ে এক পঙ্ক্তির কবিতা শোনালে–‘চন্দ্র চারু’৷
রাজামশায় খাজাঞ্চিকে ডেকে বললেন–‘‘একে পঁচিশ টাকা বখ্শিস্ দাও৷’’
মেজভাই এসে শোনালে–‘‘মাথায় ফুল পড়ে ৰকধারু৷’’
রাজামশায় খাজাঞ্চিকে ডেকে বললেন–‘‘একে পঁচিশ টাকা দক্ষিণা দাও৷’’
সেজভাই এসে এক পঙ্ক্তির কবিতা শোনালে–‘সূর্যের উত্তাপে তাম্র গাড়ু’৷
রাজামশায় খাজাঞ্চিকে ডেকে বললেন–‘‘একে পঁচিশ টাকা বিদেয়ী দাও৷’’ তারপর ছোট ভাই এসে রাজাকে বললে,–‘‘রাজামশায়, আমি তো মিত্রাক্ষর কবিতা শোনাব৷’’ রাজামশায় বললেন–‘‘উত্তম উত্তম, শোনাও শোনাও৷’’ সে প্রথমে তিন ভাইয়ের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে তারপরে নিজের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বললে–
‘এই যে আমরা চারটি ভাই–গোরু৷’
রাজামশায় সন্তুষ্ট হয়ে খাজাঞ্চিকে ডেকে বললেন–‘‘এঁকে পঞ্চাশ টাকা প্রণামী দাও৷’’
এখানেই গল্পের শেষ নয়৷ রাজামশায় ছোটভাইটিকে রাজদরবারে বিদুষক হিসেবে চাকরিতে ৰহাল করলেন৷
আফিমের মৌতাত
‘ধস’ ধাতুর অর্থ হচ্ছে হত্যা করা, আঘাত করা, জখম করা, ঝরিয়ে দেওয়া৷ যে বস্তুটি আঘাত করে জখম করে তাকে ‘খস’ (খসূচ্) বলা হয়৷
কেউ যদি অত্যধিক পরিমাণে মদ গেলে তাহলে তার যকৃৎ জখম হয়ে যায়৷ তেমনি কিছু কিছু এমন বস্তুও আছে যারা স্নায়ুকোষকে ঝিমিয়ে দেয় ও দীর্ঘকাল ধরে এই ঝিমুনির জের চলতে চলতে শেষে স্নায়ুকোষ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে৷ স্নায়ু (নার্ভ সেল) আর কাজ করে না....বিহ্বল দৃষ্টিতে তখন ফ্যালফ্যাল করে চাইতে থাকে৷ চিন্তার প্রাখর্য তো থাকেই না, চিন্তার সামর্থ্যও শেষ হয়ে যায়৷ এই ধরণের ঘটনাটি ঘটে দীর্ঘ দিন ধরে অতিরিক্ত পরিমাণে সিদ্ধি, গাঁজা, চণ্ডু, চরস ও আফিং খেলে৷ মর্ফিন (মর্ফিয়া) ঘটিত বস্তুতে এই জঘন্য গুণ রয়েছে৷ স্নায়ুকোষ যাতে রোগগ্রস্ত না হয় সেইজন্যে গাঁজাখোর, আফিংখোররা বেশী মাত্রায় দুগ্ধ পান করে থাকে৷ তাতেও ঠ্যালা সামলানো দায় হয়৷ শেষ পর্যন্ত মানুষ জড় হয়ে যায়৷ মদ্যপানে মানুষ জড় হয় না–অতিরিক্ত উত্তেজনা জাগে৷
মদ্য একটি অতি উত্তেজক বস্তু৷ উত্তেজক হলেও কফি কোকো–চা অল্পমাত্রায় উত্তেজক৷ তাই তারা বড় রকমের ক্ষতি করতে পারে না৷ তবে স্নায়ুর সাময়িক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় ওই বস্তুগুলি পান বা গ্রহণ করলে ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়৷ আর আফিং, গাঁজা, চণ্ডু, চরস এরা ঘটায় উল্টোটা৷ উত্তেজনার বদলে আনে অবসন্নতা৷ এই অবসন্নতা শেষ পর্যন্ত মানুষকে জড়ত্বে পর্যবসিত করে৷ একটা ভুল ধারণা আছে যে আফিম খেলে বুঝি পেটের রোগ সারে৷ কথাটা ডাহা মিথ্যা৷ আফিংখোর নেশার ঘোরে ভাবে এতে বুুঝি তার পেটের রোগ সারছে৷ একবার একটা ঘটনা হয়েছিল৷ এক ট্রেনে এক সাধুবাবা যাচ্ছেন.... যাচ্ছেন হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী৷ ট্রেনের অন্যান্য সহযাত্রীদের সঙ্গে বেশ ভাল ভাল কথা বলতে বলতে যাচ্ছেন৷ হঠাৎ সন্ধ্যের দিকে সাধুবাবা ছটফট করে উঠলেন৷ সবাই শুধোলেন, ‘‘ক্যা হুয়া, ক্যা হুয়া, সাধুবাবা৷
সাধুবাবা বললেন–‘‘মাথা ঘুরছে’’৷
সবাই শুধোলে–‘‘ক্যা হুয়া, ক্যা হুয়া, ক্যা হুয়া–হুক্কা হুয়া, হুক্কা হুয়া, হুক্কা হুয়া৷
সাধুবাবা জানালেন, তিনি সঙ্গে আফিমের ডিবেটি আনতে ভুলে গেছেন৷ এই সময় তিনি একটু আফিং সেবন করেন৷ সহযাত্রী ছিলেন জনৈক কলকাতার বাবু৷ তিনি বললেন ‘‘একটু অপেক্ষা করুন সাধুবাবা৷ হয়তো বা আমি একটু আফিং যোগাড় করতে পারব’ খন’’৷
বাবুটি পরের ইষ্টিশনে নেবে গেলেন৷ প্লাটফর্মের নীচের দিক থেকে একটু আফিং রঙের ভিজে মাটি তুলে এনে গুলি পাকিয়ে সাধুবাবাকে হাঁ করতে বললেন৷ বাবুটি সেই গুলি সাধুবাবার মুখে ছুঁড়ে ঢুকিয়ে দিলেন৷ খানিক বাদে সাধুবাবা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেন৷ তাঁর মাথা ঘোরাও বন্ধ হয়ে গেল৷ তিনি আবার গল্পগুজৰ জুড়ে দিলেন৷
কথা প্রসঙ্গে এও বললেন–দেখলেন তো আফিংয়ের গুণ৷ সামান্য একটু খেলুম৷ তাতেই মাথা ধরা সেরে গেল৷
সাধুবাবা খানিকক্ষণের জন্যে গাড়ীর বাথরুমে গেলে কলকাতার বাবুটি অন্যান্য সহযাত্রীদের বললেন–আমি প্ল্যাটফর্মের নীচের থেকে ভিজে মাটির গুলি পাকিয়ে সাধুবাবার মুখে ছুঁড়ে দিলুম৷ তাতেই তাঁর রোগ সেরে গেল৷ আফিংয়ে রোগ সারে সেটা কেবল একটা মানসিক কল্পনা মাত্র৷ আফিং অবসাদ আনে৷ সেই অবসাদের আসা বা অবসন্নতায় যাওয়াটা নেশাগ্রস্ততা ছাড়া কিছুই নয়৷ আমি আরও লক্ষ্য করেছি, ওই যে গুলিটা আমি সাধুবাবার মুখে ছুঁড়ে ঢুকিয়ে দিলুম সেটা মুখের ভেতরও যায়নি৷ সাধুবাবার দাড়িতেই আটকে গেছে৷ অর্থাৎ আফিংয়ের নেশার চেয়ে অবসন্ন হতে চাওয়াটাই নেশা৷ এককালে এই আফিং–গ্রস্ত হয়ে চীন ধবংস হতে বসেছিল....এককালে আফিমের নেশায় অসমও ধবংস হয়ে যেতে বসেছিল৷ তাই আফিংয়ের নেশা থেকে সাবধান৷
শুণেছি ভারতের কোন একটি তীর্থে–তীর্থটিকে পক্ষীতীর্থ বলা হয়–সেই তীর্থের পুরোহিত একটি নির্দিষ্ট সময়ে পাহাড়ের ওপর দেবতার প্রসাদ এক থালা রেখে দিয়ে আসেন৷ আর শকুনি জাতীয় কয়েকটি পক্ষী সেই নির্দিষ্ট সময়ে সেই প্রসাদ ভক্ষণ করতে আসে ৷ এই অপরূপ অলৌকিক দৃশ্য দেখবার জন্যে তীর্থে অনেক যাত্রী–সমাগম হয়ে থাকে৷ আমি মনে করি, আসল ব্যাপারটি হচ্ছে ওই তথাকথিত প্রসাদের সঙ্গে কিছুটা আফিং মেশানো হয়৷ ওই আফিংমের নেশায় গ্রস্ত হয়ে পাখীরা নির্দিষ্ট সময়ে এসে ওই আফিং–মেশানো প্রসাদ খেয়ে অবসন্নতাকেই ডেকে আনতে চায়৷
একবার শোণা গেছিল যে কোন একটি হোটেলে বা রেস্তরাঁয় চা খাবার জন্যে কলেজের ছেলেদের ভীড় লেগে যেত৷ খোঁজ নিয়ে হয়তো দেখা যেত যে সেখানেও হয়তো এই পক্ষীতীর্থের মত ঘটনাই অলক্ষ্যে ঘটে চলেছে৷
আফিংয়ের বিষ সাপের ফেনার মতই হানিকারক৷ সাপের বিষ থেকে এ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদের ঔষধ তৈরী হয় ঠিকই, তেমনি আফিং থেকে মর্ফিন/মর্ফিয়া ইন্জেকশনও তৈরি হয়৷ তবে ঔষধ তৈরি হয় বলেই স্বাভাবিকভাবে নেশার ঝোঁকে যাবার আশায় মর্ফিয়া ইনজেক্শান নেবে এটা তো সমর্থন করা যায় না৷ ‘অহিফেন’ শব্দের অর্থ সাপের ফেনা৷ মনে রেখো, ফেন বা ফেনা বানানে ‘ন’ ও ‘ণ’ দুই–ই চলবে৷ অহিফেন থেকে ‘অহিফাম’–শব্দ এসেছে আর ‘অহিফাম’ থেকে এসেছে ইংরাজী ‘ওপিয়াম’ (ত্থহ্মন্ব্ভপ্প) শব্দটি৷ (শব্দচয়নিকা–১৪শ খণ্ড)
খোকার ডিমাণ্ড
এই যে খোকা কি হয়েছে
কাঁদছো কেন এত
কেউ কি তোমায় খুব বকেছে
দোষ করেছো কত?
কেন রে সোনা আবার কাঁদো
শরীরটা কি খারাপ,
পেটের ব্যামো? কপাল ব্যথা?
জ্বর এসেছে? খুব তাপ?
প্রশ্ণ শুণে খোকার মা
বলেন একটু হেসে,
কী যে বলি ডিমাণ্ড করছে
এখনি এই বয়সে৷
কী এমন ডিমাণ্ড শুণি
কিসে গলবে মন,
মা বলেন চাইছে খোকা
ফোর-জি মোবাইল ফোন৷
ছো–শিল্পীর গল্প
নাম তার পুরুলিয়া
পাথরের দেশ৷
উঁচু নীচু মালভূমি
নেই ভূষা বেশ৷৷
সহজ সরল যত
মানুষের দল৷
অল্পেতে সন্তোষ
হাসি খল্ খল্৷৷
নেই কোন ছল্প্যাঁচ
সদা সংশয়৷
শীর্ণ বুকের তলে
মস্ত হূদয়৷৷
একদিন সেই দেশে
ছো–নাচ দেখতে৷
এল এক বাবু ভায়া
বাস পুবদেশেতে৷৷
ধামসা মাদল আর
সানাইয়ের শব্দ৷
রঙিন মুখোশ দেখে
সেই বাবু স্তব্ধ৷৷
নাচ দেখে মশগুল
পরদিন প্রভাতে৷
খুশি মনে ছুটে যান
শিল্পীর সভাতে৷৷
সভা মানে কঁুড়েঘর
খড়ের ছাদন
মাটিতে শিল্পীদল
নিদ্রা মগন৷৷
রাতে যারা সাজে বীর
কিম্বা অসুর
ভাঙা ঘর ভাত নেই
জীবন বেসুর৷৷
শ্রাবণী পূর্ণিমা তিথি
শ্রাবণী পূর্ণিমা তিথি
সদ্গুরু রূপে আবির্ভূত
হলেন আনন্দমূর্ত্তি
কালীডাকাত মন্ত্র পেল
ছাড়ল ডাকাতি
আজকে যারা বিপথগামী
তাদের আকুতি
মোদের জীবনে আলো দাও
ঘুচুক আঁধার রাতি৷
জীবন বেসুর৷৷
c
খোকার ডিমাণ্ড
শ্রীহীন
এই যে খোকা কি হয়েছে
কাঁদছো কেন এত
কেউ কি তোমায় খুব বকেছে
দোষ করেছো কত?
কেন রে সোনা আবার কাঁদো
শরীরটা কি খারাপ,
পেটের ব্যামো? কপাল ব্যথা?
জ্বর এসেছে? খুব তাপ?
প্রশ্ণ শুণে খোকার মা
বলেন একটু হেসে,
কী যে বলি ডিমাণ্ড করছে
এখনি এই বয়সে৷
কী এমন ডিমাণ্ড শুণি
কিসে গলবে মন,
মা বলেন চাইছে খোকা
ফোর-জি মোবাইল ফোন৷