প্রভাতী

সংগ্রামই হোক জীবনধর্ম

লেখক
প্রভাত খাঁ

(১)

সংগ্রামই যখন জীবন-ধর্ম

             বলে মনে করি

তাই করোনা বাইরাসকে

             মোরা নাহি ডরি ৷

অভীমন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে

  এগিয়ে চলো ভাই,

বাঁচার মতো বাঁচতে হবে

  লক্ষ্যভেদে তাই ৷

বিশ্ব মায়ের সন্তান মোরা

  একই মায়ের কোলে

জনম মোদের---তাই অভেদ জ্ঞানে

চলতে হবে ভেদ জ্ঞান ভুলে ৷

 

(২)

 সারা বিশ্ব দূষণের শিকার হয়ে

করোনা বাইরাসে আক্রান্ত ও বিধ্বস্ত ৷

ভ্রষ্টাচারী শাসকগণ সংকীর্ণ স্বার্থে

মারণাস্ত্রের লড়াইয়ে ধরার বুকে ব্যস্ত !

সেই বিষময় ফল এই বাইরাসের স্রষ্টা

তাই তো এই মাটির বুকে

  মহামারির করাল দংষ্ট্রা ।

 

(৩)

 সমাজের বুকে সম্বিত ফেরাতে হবে

  মিলনের মহামন্ত্রে

ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক মানব সমাজ গড়ার

  নির্দ্দেশ দেন স্রষ্টা ৷

ধর্মাশ্রয়ী, আদর্শবান

  নীতিবাদীরা এক হয়ে

মানবতা রক্ষায়

  সার্থক করো জীবনটা৷

মানুষের মনে বিশ্বাস জাগাও

  আশার সঞ্চার করো

মানবতাকে সর্বাগ্রে রেখে

  মানব মনকে বড়ো করে গড়ো ৷

 

কথা বেচে

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

প্রকাণ্ড বড় মিউজিয়াম (প্রত্নশালা)৷ কিউরেটর (তত্ত্বাবধায়ক) নিযুক্ত হয়েছেন একজন অতিজল্পক মানুষ৷ বিতর্কেই তিনি বেঁচে আছেন........বিতর্কেই তিনি চাকরি বজায় রেখেছেন.........বিতর্কেই তিনি পদোন্নতির আশা পোষণ করেন ৷ দর্শনার্থীদের সম্বোধন করে তিনি একটি ছোট্ট করোটি (মাথার খুলি) দেখিয়ে বললেন---‘আপনারা জেনে হয়তো অবাক হবে....সত্যিই তো, অবাক হবারই কথা...........এই করোটিটি হচ্ছে ইতিহাস ধন্য পুরুষ রাণা প্রতাপের৷ উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিলেন একজন ইতিহাসের অধ্যাপক৷ তিনি বললেন, কিন্তু স্যার, রাণা প্রতাপ তো ছিলেন তাগড়া আকারের দশাসই চেহারার মানুষ৷ তাঁর করোটি এত ছোট হবে কেন?

কিউরেটর বললেন--- আপনি ভারী সুন্দর কথা বলেছেন........এই তো ইতিহাসের অধ্যাপকের মতই কথা৷ তাহলে শুনুন--- এই করোটিটি রাণা প্রতাপের অল্প বয়সের৷ তখন তিনি ছোট ছিলেন, তাই তাঁর করোটিও ছোট ছিল৷ তিনি যখন বড় হয়েছিলেন, তাঁর করোটিও বড় হয়েছিল, আপনি যেমন বলছেন,স্যর.....কিন্তু সেই বড় করোটিটি আমাদের মিউজিয়ামে নেই৷ কিন্তু স্যর, আমরাও হাত গুটিয়ে বসে নেই৷ সেটি জোগাড় করার জন্যে আমরা উদয়াস্ত চেষ্টা করে যাচ্ছি৷ আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আসছে বার যখন আপনার পদার্পণ হবে, তখন আপনাকে সেটা দেখাতে পারব৷

 

পিতৃ-আজ্ঞা

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

বাপ-বেটাকে নিয়ে সংসার৷ বাপ হাটে গেছে৷ বেটা বাপের জন্যে ভাত-ডাল-তরকারী রেঁধে রেখেছে৷ বাবা খেতে বসে বলছে--- রামচন্দ্র, রামচন্দ্র, ওরে রাউজা,দাইল নিতে কয় গণ্ডা মরিস্ দিস?

বেটা বললে--- সয় গণ্ডা৷

বাপ--- দিবারে কইসিলাম কয় গণ্ডা?

বেটা--- আজ্ঞা, আষ্ট গণ্ডা৷

বাপ--- দিস কত?

বেটা--- আইজ্ঞা সয় গণ্ডা৷

বাপ--- এ অন্ন কাউম্ না, এ অন্ন কাউম্ না৷

বেটা--- এ্যাবার এ্যাডা ক্ষমা করেন, মাপ করেন৷ এক্কেরে কতা দিত্যাসি, এ্যামনডা আর অইবো না৷

বাপ--- ত্র্যাতাযুগে যে রামচন্দ্র আসিল হ্যা পিতৃসত্য পালনের লাইগ্গা ১৪ বৎসর বনবাস গ্যাসিল৷ তুমি কলিযুগের রামচন্দ্র পিতৃ-আজ্ঞা লঙ্ঘন করস৷ দিবারে কইসিলাম কয় গণ্ডা মরিস?

বেটা---আইজ্ঞা, আষ্ট গণ্ডা৷

বাপ--- দিস কত?

বেটা--- সয় গণ্ডা৷

বাপ--- তুমি পিতৃ-আজ্ঞা লঙ্ঘন  করস৷ এ অন্ন কাউম না, লাতি মাইর্যা তালা াইঙ্গা ফ্যালাই দিমু৷

 

অবসর

লেখক
জয়তী দেবনাথ

নানা কর্মে ব্যস্ত আমরা

                              সারা জীবনভোর,

কর্মব্যস্ত এই জীবনে

                              কোথায় অবসর ।

তাইতো কেউ অবসর খোঁজে

                              একটু বিরতি,

কেউবা ভাবে অবসর মানে

                              কাজের দারুণ ক্ষতি ।

জীবন মাঝে তবুও দেখো

                            হয়তো কদাচিৎ

অল্প-বিস্তর অবসর সময়

                             এসে উপস্থিত ।

কবিগুরুর বাক্য কভু

                            মিথ্যা হবে না---

‘উদ্বৃত্ত না থাকিলে

                             অবসর কাটে না ।’

অবসর সময় বসে তাই

                        উদ্বৃত্ত খুঁজে---

নতুনভাবে চিনলাম আজ

                        নিজেকেই নিজে ।

কবিগুরুর কথাটাই

                       মানছি সত্য আজ,

নিজের মাঝে উদ্বৃত্ত খোঁজাও

                       মস্ত বড় কাজ ।

 

উপস্থিত বুদ্ধি

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘তন্’ ধাতুর অর্থ হ’ল বেড়ে যাওয়া, অভিব্যক্ত হওয়া । যে মানুষ তার ভাবধারাকে নাচে–গানে অভিনয়ে–আবৃত্তিতে অভিব্যক্ত করতে পারে তার জন্যে ‘তন্’ ধাতুর উত্তর ড প্রত্যয় করে ‘ত’ শব্দ ব্যবহূত হয় । তাই এক্ষেত্রে ‘ত’–শব্দের একটি অর্থ হ’ল ণট বা অভিনেতা ।

অভিনেতার মধ্যেও অনেক সময় অদ্ভুত রকমের উপস্থিত বুদ্ধি দেখা যায় । সে বিচারে তিনি দু’দিক দিয়েই ‘ত’ । অভিনয় জগতের ‘ত’–এদের উপস্থিত–বুদ্ধি সম্বন্ধে বা উপস্থিত বুদ্ধির স্বভাব সম্বন্ধে অনেক গল্প প্রচলিত আছে । দু’একটি গল্প তোমাদের শোনাচ্ছি:

সেটা তখন ইংরেজ আমল । আমি তখন দিনাজপুরে । উত্তর বাঙলার অন্যান্য শহরের মত দিনাজপুরও একটি মাঝারি রকমের ছিমছাম শহর ছিল । শহরটি ছিল আমার খুব প্রিয় । দিনাজপুর–বাসীর স্বভাবের একটি বৈশিষ্ট্য আমার খুবই ভাল লাগত । ওঁরা*(*ওনারা, যেনারা, তেনারা শব্দগুলি গ্রাম্য দোষে দুষ্ট । ওঁরা, যাঁরা, তাঁরা–ই শুদ্ধ ওনারা, যেনারা, তেনারা না লেখাই ভাল ।) ছিলেন খুবই নাচ–গান–ভিনয় প্রিয় । সেকালে স্থায়ী অভিনয়মঞ্চ কোলকাতার বাইরে আর কোনো শহরেই বড় একটা ছিল না । কিন্তু দিনাজপুরে তা–ও ছিল । কয়েকজন স্থানীয় অভিনেতা তখন রীতিমত প্রথিতযশা হয়ে পড়েছেন । কেবল শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলের দিকেও থিয়েটারের রমরমা । সেই সময়টায় ওই দিকটায় ‘সীতা’ নাটকটি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে । সীতার ভূমিকায় অভিনয় করে যিনি দু’হাতে যশ কুড়িয়েছিলেন, তাঁর নাম ছিল সম্ভব: আব্দুল লতিফ ।

সীতা নাটকের অভিনয় চলছে । শহরে হাজার হাজার গোরুর গাড়ীর ভীড় । গ্রামের লোক ঝেঁটিয়ে এসেছে অভিনয় দেখতে । হাতে পাট বেচার তাজা টাকা । দরকার পড়লে অভিনয়ের জন্যে বেশ কিছু খরচ করতেও তৈরী ।

অভিনয় চলছে । নাটক তার চরম স্তরে (climax)  এসে পৌঁছেছে । এবার সীতার পাতাল প্রবেশ । ধরিত্রী মাতাকে সম্বোধন করে সীতাকে যা বলতে হবে তার মোদ্দা কথা হচ্ছে–‘‘মা: বসুন্ধরে, দ্বিধা হও, আমি তোমার  স্নেহময় অঙ্গে স্থানলাভ করি’’ । আব্দুল লতিফে.র নাটকের ভাব ষোল আনাই জানা, ভাষাও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঠোঁটস্থ । এই বিশেষ স্থানটিতে সীতা ধরিত্রী মাতাকে সম্ম্বোধন করে যা বলবেন তার ভাবটিও তাঁর জানা আছে । কিন্তু ভাষা একটু গোলমেলে হয়ে গেছে । সেই মাহেন্দ্রক্ষণে ‘‘মা: বসুন্ধরে’’ বলার পরই স্মারকের (prompter) এসে গেল দারুণ কাশি । সে কাশির চোটে আর কথা বলতে পারছে না অথচ সীতা তো আর তার প্রত্যাশায় মুখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না । সে তখন উপস্থিত বুদ্ধি প্রয়োগ করে বললে–‘‘মা: বসুন্ধরে, তুই ফাঁক হ, মুই ভিতরত্ ঢুকিম্’’ ।

দেখলুম, এ জিনিসটা শ্রোতারা সহজেই গ্রহণ করলেন । নাটকের কিছুমাত্র রসভঙ্গ হ’ল না ।

 

শুভ ভাবনা

লেখক
আচার্য গুরুদত্তানন্দ অবধূত  

 করোনা হ'রে নেয় প্রাণ
দেশে দেশে মৃত্যুপরী
ডাক্তার নার্স অসহায়
লেগেছে শবের ভীড়
কালোদিন একি পৃথিবীর?

আম্ফান নেভালো আলো
নেবে এলো ঘনঘোর যত
তান্ডব চলে চারিধারে    

আতঙ্কে কাটে দিন রাত
কালো দিন একি পৃথিবীর?

চেতনা জাগালো প্রাণে
খেয়াল খুশী চলেনা আর
আছে কেহ দেখার সবে
বিধাতার  একি রুদ্ররোষ
মলিনতা সরাতে পৃথ্বীর  ।

আকাশে বিদ্যুত চমকে
করোনা কামড় বসায়
কামান গর্জে উঠে
পানীয়ের হাহাকার সবে
ঝড়ে অশ্রু এ পৃথিবীর ।

ছন্দিত হোক এ ধরা
নন্দিত হোক সব প্রাণ
বিধাতা সেই বুঝি চান
আসে ওই তাঁর আহ্বান
নবরূপ একি পৃথিবীর!

 

মধুর মিলন

লেখক
আচার্য গুরুদত্তানন্দ অবধূত

বকুল বেলার গেঁথেছিনু মালা
তোমায় পরাব বলে
হাসির ঝলক পলকেতে আসি যায় কোথা ফির চলে?

মনো মন্দিরে বসিয়া ভেবেছি
এই বুঝি তুমি এলে
জ্বালিয়েছি দীপ প্রীতি ভ'রে সবই
খুশিতে হেলে দুলে ।

স্বপন বিভোর কাটিলে ঘোর
দেখি চেয়ে আছো দাড়িয়ে
তোমারই ভাবনায় দিন চলে যায়
তোমাতেই যাবো হারিয়ে ।

আসিয়া নিজেই প'রে নিলে গলে
প্রীতি মালা খানি মোর
ভরিলে পরাণ মধু মুর্ছণায়
বাজিলো অলকার সুর ।

হেরিনু তোমায় অপলক নয়নে জুড়ালে তুমি প্রাণ
সরালে বেদন মধু রণনে
আমি যে তোমারই দান ।

করিলে আপন মধুর স্বপনে
সার্থক হ'ল জনম
মরমে পশিয়া চলেছো হাসিয়া
পূর্ণতা পেলো ধরম!

মধুর মিলন

লেখক
আচার্য গুরুদত্তানন্দ অবধূত

বকুল বেলার গেঁথেছিনু মালা
তোমায় পরাব বলে
হাসির ঝলক পলকেতে আসি যায় কোথা ফির চলে?

মনো মন্দিরে বসিয়া ভেবেছি
এই বুঝি তুমি এলে
জ্বালিয়েছি দীপ প্রীতি ভ'রে সবই
খুশিতে হেলে দুলে।

স্বপন বিভোর কাটিলে ঘোর
দেখি চেয়ে আছো দাড়িয়ে
তোমারই ভাবনায় দিন চলে যায়
তোমাতেই যাবো হারিয়ে।

আসিয়া নিজেই প'রে নিলে গলে
প্রীতি মালা খানি মোর
ভরিলে পরাণ মধু মুর্ছণায়
বাজিলো অলকার সুর।

হেরিনু তোমায় অপলক নয়নে জুড়ালে তুমি প্রাণ
সরালে বেদন মধু রণনে
আমি যে তোমারই দান।

করিলে আপন মধুর স্বপনে
সার্থক হ'ল জনম
মরমে পশিয়া চলেছো হাসিয়া
পূর্ণতা পেলো ধরম!

 

 

"!সংকেত "

লেখক
আঃ প্রবুদ্ধlনন্দ অবধূত

মাভৈঃ মাভৈঃ তালে

প্রকৃতি এগিয়ে চলে,

মানুষের কেরামতবি শেষ।

 

বুঝেও বোঝেনা সে

পাপ কাজে লিপ্ত যে সে,

করোনা, আমফানের সংকেত।

 

এখনও সময় আছে,

পরমপুরুষেরে ভালবেসে,

কর তাঁর নাম গান আজ।

 

লতা, বৃক্ষ, পশু-পাখিরেও

ভালবাসো,

পশু-বৃত্তি কে দম, নাশো।

গড়ে তোল আদর্শ সমাজ।

 

সমাজ

লেখক
মনস্বিতা সেনগুপ্ত

হারিয়ে যাচ্ছ সভ্যতা
বাড়ছে ব্যস্ততা
এই কংক্রিটের শহরে,
হারিয়ে যাচ্ছে মানবিকতা
বিলুপ্ত হচ্ছে সংস্কৃতি,
হারিয়ে যাচ্ছে মনুষ্যত্ব
জন্ম নিচ্ছে হিংসা।

আমরা বলি  বদলে যাচ্ছে সমাজ,
কিন্তু কোথাও  এই আধুনিকতার পৃথিবী তে
আজও হয় হিন্দু মুসলমান বিচার,
জাত ধর্মের এই খেলায় আমরা ফিরে যাই  পুরোনো সভ্যতায় ।

আজও  বিভেদ হয় দরিদ্র বড়লোকে,
তারা খায় না ভাত এক থালায়
আমরা স্বপ্ন দেখি নতুন সমাজের,
কিন্তু কোথাও আজও রাস্তায়
পড়ে  থাকা ছোট মেয়ে টা  যায় না স্কুলে  করে ভিক্ষা ।

নতুন সমাজে  বাবা মায়েদের স্থান হয় বৃদ্ধাশ্রমে
হয়ত একেই বলে উন্নত সমাজ,
এই সমাজে  বন্ধু বলা খুবই দুষ্কর,
চলার পথে কেউ হাত ছেড়ে দেয়
আবার কেউ সেই হাত টাই শক্ত করে ধরে নেয় ।

নামছে বিকেল একলা বসে জানলায়,
দেখি
 ব্যস্ত শহরের ব্যস্ত  মানুষ,
ঘরে ফেরে,
কোথাও যেন দিনের শেষে হাঁপিয়ে ওঠে আমার তিলোত্তমা,
সে আশা করে স্বপ্ন দেখে এক নতুন ভোরের,
যে ভোরের হয়  না জাত ধর্মের বিচার,
যে ভোরে আছে মনুষ্যত্ব,
আছে মানবিকতা,
আছে ভালোবাসার,
 আর আছে একটুখানি বিশ্বাস,
তবেই তো গড়ে তোলা যাবে উন্নত সমাজ ।।