December 2017

প্রাউট–প্রবক্তা প্রভাতরঞ্জনের সাহিত্য চেতনা

ডঃ গোবিন্দ সরকার,  প্রাক্তন অধ্যাপক, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন আবাসিক মহাবিদ্যালয়

‘এ গান থামিবে নাক এ দাবী দমিবে না

পথ বেঁধে দিল আলোকোজ্জ্বল প্রাউটের প্রেষণা’৷

গানটি শুনেই প্রথম প্রশ্ণ জাগে ‘প্রাউট’ কী? মানব দরদী প্রভাতরঞ্জন ‘প্রাউট’ বলতে বুঝিয়েছেন–‘প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্ব’৷ Progressive Utilisation Theory üÑËŽÂËÂó PROUT. এই জীবনবাদ তত্ত্বে একদিকে যেমন ব্যষ্টি জীবনের চাহিদার সঙ্গে সামূহিক জীবনের প্রয়োজনের  এক মধুর সমন্বয় সাধন করেছে, অন্যদিকে বস্তু জগতের সঙ্গে অধ্যাত্ম–জগতের দ্বন্দ্বের সমাধান করেছে৷

ব্যষ্টিগত ও সামূহিক জীবনে নেশার সুদূরপ্রসারী কুফল

নেশার ত্রিদোষ ঃ নেশার জিনিস আমরা তাকেই বলি যার তিনটি লক্ষণ–(১) নিয়মিত সময়ে নেশার জিনিস না পেলে মন উশ্খুশ্ করে, কোন কাজে মন বসে না৷ (২) নেশার জোর যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ সে ৰুদ্ধিভ্রষ্ট অবস্থায় থাকে ও স্থায়ীভাবে নেশা করতে থাকলে, ৰুদ্ধিভ্রষ্টতাও স্থায়ী হয়ে যায়৷ (৩) নেশার তৃতীয় দোষ হচ্ছে যকৃত, কন্ঠ, কিডনী অবশ্যই তাতে আক্রান্ত হয়৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোষ্ঠক্ষদ্ধতা রোগও দেখা দেয়৷

পঞ্জাব, হিন্দোস্তাঁ ও বঙ্গাল (বাঙলা) সুবা

পাঠান–মোগল যুগে আগ্রা প্রদেশ ও অযোধ্যা প্রদেশের মিলিত নাম ছিল হিন্দোস্তান বা হিন্দোস্তাঁ (প্রসঙ্গতঃ বলে রাখি যে ‘স্তান’ বা ‘স্তাঁ’ শব্দটি ফার্সী যার সংসৃক্ত প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘স্থান’৷ উর্দ্দুতে এই ফার্সী রীতি অনুসরণ করা হয়৷

‘‘সারে জাঁহাঁসে আচ্ছা হিন্দোস্তাঁ হমারা

হম বুলবুলেঁ হেঁ ইসকী যহ্ গুলিস্তাঁ হমারা’’

গোবিন্দবাবুর ঝকমারি

গণ + অন্ন = গণান্ন৷ ভাবারূঢ়ার্থে ‘গণান্ন’ বলতে বোঝায় যে অন্ন বা খাদ্য অনেকের জন্যে পাক করা হয়েছে৷ যোগারূঢ়ার্থে গণান্ন বলতে বোঝায়–বিশেষ ধরনের গণ–নবান্ন উৎসব৷

খাদ্যের রাজা খিচুড়ি

খাদ্যের রাজার তকমা পেল খিচুড়ি৷  গত ৩,৪, ও ৫ নভেম্বর নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া গেটে কেন্দ্রীয় সরকার  আয়োজিত বিশ্বখাদ্য উৎসবে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল আমাদের আদিম অকৃত্রিম খিচুড়ি ৷  কী শীতে কী বর্র্ষয় কিছু নেই তো চাল-ডাল দিয়ে খিচুড়ি বানাও৷ আবার নানান্ কিছু মিশিয়েও সুস্বাদু খিচুড়ি বানানো যায়৷ পূজোতেও খিচুড়ি ভোগ, খিচুড়ির  প্রসাদ সর্বত্র প্রচলিত৷ এই সুস্বাদু, সহজপাচ্য, পুষ্টিকর আমজনতার খাদ্যটিকেই এখন ভারতের জাতীয় খাদ্য (ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া ফুড) হিসেবে তুলে  ধরা হয়েছে৷

মুকুলের কুলত্যাগ

গত ৩রা নভেম্বর নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে এসে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা মকুল রায় বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করলেন৷ এতদিনে নাকি তাঁর চৈতন্যোদয় হ’ল! তিনি বললেন, যে লক্ষ্যে, যে উদ্দেশ্যে তৃণমূল তৈরী করেছিলাম, তৈরী হয়েছিল, আজ সেই কক্ষপথ থেকে তারা বিচ্যুত হয়েছে, তাই আজকে এপথ নিতে হ’ল৷ তৃণমূল অবশ্য দলত্যাগী মুকুলের কথার কোনো মূল্য দিতে  চায় না৷  মুকুলের দলত্যাগে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না বলে তাঁরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন৷

নোটবন্দীর বর্ষপূর্তিতে সমীক্ষা ঃ নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চমক সৃষ্টির অপকৌশল

গত ৮ই নভেম্বর কেন্দ্রের  মোদি-সরকার নোটবন্দী ঘোষণা করেছিল ৷ এবছর  ৮ই নভেম্বর তার একবছর পূর্ণ হ’ল ৷ এখন পেছনের  দিকে তাকানোর পালা৷  মোদি সরকার হঠাৎ ৫০০ টাকা ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল ঘোষণা করে চমক সৃষ্টি করেছিল, বলেছিল এরফলে দেশের কালো টাকা অর্থনীতির অবসান হবে, সমস্ত জাল নোট বাতিল হবে, আর জাল নোট নিয়েই যত সন্ত্রাসবাদীদের রমরমা৷ তাই সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপও বন্ধ  হয়ে যাবে৷

এখন কারও বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না, সরকার যে এসব চমকপ্রদ ঘোষণা করছে  কীসের জন্যে৷ দেশকে কালো টাকা থেকে উদ্ধারের জন্যে নয়৷ আসলে, নিজেদের  ব্যর্থতা ঢেকে মানুষের দৃষ্টিকে  অন্যপথে ঘোরানোর জন্যে৷

মুজিবের বত্তৃণতাকে রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ সম্মান

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে দেওয়া মুজিবের ঐতিহাসিক বত্তৃণতাকে ‘মেমারী অব দ্য ওয়ার্ল্ড’-ও ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিল রাষ্ট্রসংঘের ‘ইউনেস্কো’৷ শেখ মুজিবর রহমান তাঁর এই ১৭ মিনিটের  জ্বালাময়ী বক্তৃতায় তৎকালীণ পূর্ব পাকিস্তানের  বাঙালীদের  সর্বস্বপণ করে স্বাধীনতার  লড়াইয়ে নামতে উদ্বুদ্ধ করে৷ তারপরই  শুরু হয়ে যায় পূর্ব-পাকিস্তানের  স্বাধীনতা সংগ্রাম ও তার ফলে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ৷

সমাজের সর্বস্তরে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে গার্ল্স্ প্রাউটিষ্টের উদ্যোগে সিম্পোসিয়াম

গত ৫ই নভেম্বর সোনারপুর রেলষ্টেশনের নিকটে সত্যজিৎ রায় ইনষ্টিটিউট হলে জি.পি., (গার্ল্স্ প্রাউটিষ্ট)-এর পক্ষ থেকে এক সিম্পোসিয়ামের আয়োজন করা হয়৷ সিম্পোসিয়ামের বিষয় ছিল ‘নারীর মর্যাদা’৷ বর্তমান সমাজে যে নানানভাবে নারী নির্যাতন চলছে তার প্রতিবাদে ও এই সমস্যার সমাধান কোন্ পথে---মূলত এই বিষয়ে বিভিন্ন বক্তা আলোকপাত করেন৷ এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নেতাজী ভাবনা মঞ্চের প্রেসিডেণ্ট ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপিকা ডঃ পূরবী রায়৷

মেরি কম আবার সেরা

পাঁচটি সোনা ও একটি রুপো জিতে এখন ছয়-ছয়টি পদকের অধিকারী মহিলা বক্সার মেরি কম৷  গত মঙ্গলবার জাপানের সুবাসা কোমুরাকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে চমক দিয়েছিলেন ভারতের সোনার মেয়ে৷ আর বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার কিম হ্যাং মি-কে লড়াই করতেই দেননি মেরি কম৷ ৫-০ ব্যবধানে ফাইনাল রাউণ্ডের ফলই বলে দিচ্ছে মেরি কেমন আক্রমণাত্মক ছিলেন৷ বক্সিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী যে তিনটি রাউণ্ড হয়---বাউটের সবকটিতেই তিনি রাজত্ব করে চ্যাম্পিয়ন হলেন৷ মেরি কমের এটি পঞ্চম স্বর্ণ পদক জয়৷