Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

নাচাতে নাচাতে

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

ঠাকুরের অর্থাৎ শ্বশুরের কন্যা এই অর্থে ঠক্করদুহিতা > ঠক্কুর জুহিআ > ঠাকুরঝিআ > ঠাকুরঝি৷ ননদকে বাংলায় ‘ঠাকুরঝি’ বলে সম্বোধন করা হত ও আজও করা হয়ে থাকে৷ 

ননদের স্বামী নন্দাইকে (ননন্দাপতি>ননন্দাঅই>নন্দাই) সম্ৰোধন করা হত ‘ঠাকুর জামাই’ বলে৷ ঠাকুর জামাই মানে ঠাকুরের জামাই অর্থাৎ শ্বশুরের জামাই৷ রাঢ়ের কোনো কোনো অংশের পুরুষেরা পত্নীর ভগিনীকেও ‘ঠাকুরঝি’ বলে সম্বোধন করে৷ ভাষাবৈজ্ঞানিক মতে এ ব্যবহার শুদ্ধ৷ 

‘ননন্দা’ মানে যে আনন্দিতা নয়৷ ভ্রাতৃজায়া ঘরে আসার সময় সব ননদের না হলেও কোনো কোনো ননদের মনে একটা বিক্ষোভ জন্মায়৷ সে ভাবে, অন্য বাড়ির মেয়ে এসে আমার বাপের বাড়িতে সর্বময়ী কর্ত্রী, একেবারে রাজরাণী হয়ে বসল আর আমি কি না পরের বাড়িতে গিয়ে দু’বেলা হেঁসেল ঠেলছি!

সেকালে ননদ ও ভাজ দু’য়েরই শিক্ষার স্তর খুব উন্নত ছিল না৷ তাই ছোটখাট ব্যাপারে একে অন্যকে ঠেস দিয়ে কথা শোনাত, একে অন্যকে সহ্য করতে পারত না৷ আজকাল কিন্তু চাকা ঘুরে গেছে৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ননদ–ভাজ দুই–ই শিক্ষিত৷ তাই দু’য়ের মধ্যে আজকাল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দারুণ ভাব৷ এ যেন একেবারে–

‘‘ভাবে গদগদ তেলাকুচো

কেঁদে মরে গেল কাল ছুঁচো৷’’

সেকালে কিন্তু সব ক্ষেত্রে না হোক, অনেক ক্ষেত্রেই ননদ–ভাজে দিব্যি রেষারেষি চলত৷ সেই যে গল্প আছে না ঃ

ননদ–ভাজে ঘাটে গেছে চান করতে৷ এমন সময়ে কুমীর এসে ননদকে ধরে নিয়ে গেল৷ ভাজ কিন্তু কথাটি চেপে রাখল৷ মনে মনে তার খুব আনন্দ, কারণ ননদ তাকে জ্বালা দিত৷

         ‘‘ননদিনী রায়বাঘিনী, ননদিনী কুলের কাঁটা, 

         উঠতে বসতে দেয় গো খোঁটা৷৷’’

সে বাড়িতে এসে কাউকে কিচ্ছুটি বললে না, একবারও মুখটি খুললে না, কেননা মুখ খুললেই তো বিপদ৷ খাওয়া–দাওয়া শিকেয় উঠবে.......রাঁধা ভাতের হাঁড়ি ফেলে দিতে হবে.......শুক্তো–ঘণ্ট–ডাঁটা–চচ্চড়ি গোরু–ছাগলে খাবে৷ ভাজ তাই মুখে কুলুপ এঁটে রইল৷ তারপর পেট ভরে ৰেড়াল ডিঙ্গোতে পারে না এমন পরিমাণ ভাত খেয়ে, লাউডগা–পোস্তবাটা থেকে শুরু করে ঝালের ঝোল, অম্ৰল সব কিছু চেটেপুটে খেয়ে হাতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াল৷ আর মনে মনে বললে, কী জ্বালা হয়েছে, এঁটো পাতা আবার আমাকেই তুলতে হবে!

         ‘‘ঢ়লাঢ়লা পুঁইয়ের পাতা মলুকচালের ভাত ৷

         খেয়ে দেয়ে রইনু বসে কে ফেলাবে পাত৷’’

বউ কোনোক্রমে গেল আঁচাতে৷

কুম্ভীরবর্গীয় সমস্ত জানোয়ারেরাই চলবার সময় একটু লাফাতে লাফাতে যায় (সে বিরাট আকারের কুমীর থেকে শুরু করে টিকটিকি পর্যন্ত সবাই এই রীতিতেই চলে) ও এই একই রীতিতে শিকার ধরে ৷ শিকার ধরে মুখে নিয়ে যাবার সময় তারা নিজেরা লাফাতে লাফাতে যায় বলে দেখে মনে হয় শিকারটাও ৰোধহয় নাচতে নাচতে যাচ্ছে৷ কুমীর যখন ননদকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল তখন কুমীরটা নিশ্চয় ওই ভাবেই যাচ্ছিল৷ বউ দেখলে খ্যাঁটনের পালা তো চুকে গেছে৷ এখন ননদকে কুমীরে নিয়ে গেছে বললেও ক্ষতি নেই৷ হাঁড়ি যদি ফেলে দেওয়াও হয়, হাঁড়িতে এক কণা ভাতও অবশিষ্ট নেই৷ বউ সবই চেটেপুটে খেয়ে নিয়েছে৷ তাই বউ (অর্থাৎ ভাজ) আঁচাতে আঁচাতে ঘাটের আর সবাইকে ডেকে বললে ঃ 

         ‘‘ভাল কথা মনে পড়ল আঁচাতে আঁচাতে৷

         ঠাকুরঝিকে নিয়ে গেল নাচাতে নাচাতে৷৷’’

সবাই বললে–তোমার ঠাকুরঝিকে কুমীরে নিয়ে গেছে এই খবরটা এতক্ষণ চেপে রেখেছিলে কেন ভাজ বললে– এতক্ষণ কথাটা মনে ছিল না৷ আঁচাতে আঁচাতে মনে পড়ল৷

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved