Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

ওধ ঃ উচ্‌+ ঘঞ্‌ করে ‘ওধ’ শব্দ নিষ্পন্ন হচ্ছে৷ এতে ‘চ’-এর স্থানে ‘ধ’-এর আগম হচ্ছে৷ ‘উচ্‌’ ধাতুর অর্থ হ’ল ‘জড়ো হওয়া’৷ এই ‘ওধ্‌’ শব্দের ভাবারূঢ়ার্থ হচ্ছে ছোট ছোট অনেক কিছু জড়ো হয়ে একটি সমাহার তৈরী করা৷ যোগারূড়ার্থ হচ্ছে ছোট নদী যার সংস্কৃতে অন্য নাম হচ্ছে ‘সরিতা’৷ ছোট নদী---সরিতা, ৰড় নদী---সরিৎ৷ সমুদ্র অর্থেও কোথাও কোথাও ‘সরিৎ’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে৷ অনেক ছোট ছোট জলধারা বিভিন্ন পথ ধরে যখন একত্রিত হয় তখন সে ছোট নদীতে পরিণত হয়৷ এই ধরণের ছোট নদীরই নাম ‘ওধ’৷ রাঢ়ী ৰাংলায় এর অন্যে নিজস্ব শব্দ রয়েছে ‘‘জোড়’’, ‘‘জোড়া’’, ‘জুড়ি’৷ যেমন ‘শুকজোড়া অর্থাৎ যে ছোট নদীটি মধ্যে মধ্যে শুকিয়ে যায় ‘জোড়াসাঁকো’ অর্থাৎ যেখানে জোড়ের ওপর সাঁকো (সেতু) রয়েছে ‘জরিডি’ অর্থাৎ নদীর প্রায় ওপরে যে ছোট গ্রামটি অবস্থিত৷ ‘ডিহি’/‘ডিহ্‌’ মানে ছোট গ্রাম, ‘ডিহা’ মানে ৰড় গ্রাম ‘কাঠজুড়ি’ অর্থাৎ যে নদী দিয়ে কাঠ ভাসানো হয় বা হত৷ মশান - জোড়---মশান’ হচ্ছে দেবতা, আর ‘জোড়’ মানে ছোট নদী৷ তাই ‘মশান-জোড়’ মানে দেব-নদী৷ কেউ কেউ ভুল করে ‘ম্যাসাঞ্জার’ ৰলে থাকেন৷ এই প্রবণতা বৰন্ধ হওয়া উচিত৷ দেবতা অর্থে ‘মশান’ শব্দ মালপাহাড়ীরা এখনও কিছু কিছু ব্যবহার করে থাকেন৷ এই ‘ওধ্‌’ শব্দটি যেহেতু ‘ঘঞ’ প্রত্যয়ান্ত তাই এটি পুংলিঙ্গবাচক৷ এর স্ত্রীলিঙ্গ রূপ ‘ওধা’ ও ‘ওধিকা’ দুই-ই হতে পারে৷ ‘ওধী’ রূপটি আমি কখনও দেখিনি৷ রাঢ়ী ৰাংলায় যে ‘কাঁদর’ শব্দটি ৰহুলভাবে প্রচলিত সেটিকে কিন্তু ‘ওধ’ ৰলা চলে না৷ ‘কাঁদর’ একটি তদ্ভব শব্দ---এসেছে ‘কন্দর’ শব্দ থেকে যার অর্থ হচ্ছে অভ্যন্তরস্থিত গর্ত৷ জীবিত নদীর আশেপাশে যে সকল নাতিদীর্ঘ গভীর গর্তের খালের মত অস্থায়ী জলাশয় দেখা যায় যারা বর্ষার জলে ভরে ওঠে তারাই কাঁদর বা নদী-কন্দর৷ ৰাংলায় ও অন্যান্য ভাষায় ‘ওধ’ শব্দটি অক্লেশে ব্যবহার করা যেতে পারে৷ নদী পরিকল্পনাকে ‘ওধী পরিকল্পনা’ বললেও কোন দোষ নেই৷

ওর ঃ হিন্দী ভাষায় ‘ওর’ মানে ‘তর্ফ’ (উস্কী ওর৷ ‘ওর’ শব্দটি হিন্দীতে স্ত্রীলিঙ্গবাচক), ৰাংলায় ‘দিকে’ (এদিকে, ওদিকে, সেদিকে)৷ ৰাংলা ভাষায় প্রাচীন কালে ‘ওর’ শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হ’ত ‘শেষ’ অর্থে৷ যেমন--- ‘‘জষ্টি মাসে ষষ্ঠী ৰাটা বাঁধে জষ্টির ডোর৷

           আষাঢ়েতে রথযাত্রা নাইকো লোকের ওর৷’’                       (শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের লঘুনিরক্ত থেকে সংগৃহীত)