মনে পড়ে বহু বছরের আগের এক রাজনৈতিক দাবী এই ভারত যুক্তরাষ্ট্রে৷ যেটা ছিল ‘দলহীন গণতন্ত্র’ দেশে প্রতিষ্ঠিত হোক্৷ কারণ সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে যে দলতন্ত্রীদের সরকার সেগুলি নাকি মোটেই দেশের সামগ্রিক কল্যাণকে স্বীকার না করে সেই ইন্দিরাগান্ধী জরুরী অবস্থা গায়ের জোরে ঘোষণা করে শুধুমাত্র দল ও সম্প্রদায়ের স্বার্থের কথাভাবে৷ মনে পড়ে শুধু দলীয় স্বার্থেই সারা দেশকে কারাগারে পরিণত করেন প্রায় ২৩ মাস ধরে! সাধারণ নির্বাচনে হেরে গিয়ে তিনি জরুরী অবস্থা তুলে নেন, কিন্তু যারা ক্ষমতায় এলো তারাও নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগ নিয়ে লড়াই করে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শেষ হয়ে যায়৷ ইন্দিরা গান্ধী আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে৷ তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তনে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন হয় না৷
কারণটি কী? না, দলতন্ত্রের কুৎসীত দলবাজি যেটি মুষ্টিমেয় ধনীরা ও উচ্চমধ্যবিত্তরাই আর্থিক ও সামাজিক দিক থেকে উপকৃত হচ্ছেন আর কোটি কোটি নিম্নমধ্যবিত্তরা শেষ হয়ে যাচ্ছে চরম দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও বেকার সমস্যায় আর নানা ধরণের করের বোঝায়! টাকার মান নেমে আসছে দ্রুত নিচের দিকে৷ কিন্তু কে কার কথা শোণে! যাদের হাতে শাসন তাঁরা ছল বল কৌশলে সেই গদী সামলাতে প্রয়োজনে দেশকে শ্মশানেও পরিণত করে দিতে পিছপা নয়? তার উপর সেই সংসদীয় গণতন্ত্র! যেখানে দলের জোর আর টাকার জোর! চরম দুর্নীতিতে, বেকারত্ব নিরাপত্তাহীনতায় আর চারিত্রিক অধঃপতনে সেই মহান ভারতবর্ষ আজ বিশ্বে পরিহাসের পাত্র! জীবনযাত্রার মান তলানীতে গিয়ে পৌঁচেছে! কিন্তু সরকারী প্রতিশ্রুতির কোন খামতি নেই? সেই নির্বাচন প্রাককালে! নির্বাচন শেষ! আর সব ঠাণ্ডা৷ সেই নির্মম শোষণের শাসনই আরো মারাত্মক হচ্ছে!
তাই গণতন্ত্রের নামে যে শাসন চলছে এটাকে গণতান্ত্রিক সরকার তারাই বলে চলেছে? যারা দলবাজিতে মত্ত! জনগণ তাদের কাছে কেউ নয়! তারা সব ব্যাপারে অস্বীকৃত! মুষ্টিমেয় ধনীরাই ভাগ্যবিধাতা৷ তাই নৈতিকতাকে মান্যতা না দিলে আর সংবিধানকে সম্মান না দিলে এই দেশ বাঁচবে না আর৷ লোকসংখ্যা বহুল দেশটা ধীরে ধীরে শ্মাশানেই পরিণত হতে বেশী দেরী নেই! তাই এই দেশের শাসকদের দয়া করে একটু মানবতাবাদী ও সৎনীতিবাদী ও প্রকৃত আন্তরিকতার সঙ্গে সার্বিক কল্যাণের ভিত্তিতে সেবা দিতেই হবে৷ তাই নৈতিক দৃঢ়তা আর সংযম, আবশ্যিক শাসকদের!
আজ দেশে যে সামাজিক অবক্ষয়, অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুর্নীতিগ্রস্ত শাসক প্রশাসন এর মূলে আছে পুঁজিবাদ নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রিত অর্থনীতি ও শোষন৷ কিন্তু স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও জনগণ সেই তিমিরেই পড়ে আছে, সামান্যতম সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চেতনা অধিকাংশ নাগরিকের নেই৷ এই সুযোগ নিয়েই গণতন্ত্রের খুঁড়োর কলে জনগণকে ছুটিয়ে নির্মমভাবে শোষণ চালিয়ে যাচ্ছে ধূর্ত শোষক শ্রেণী অসৎ দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক নেতাদের ঘাড়ে বন্ধক রেখে৷ এই পরিস্থিতি থেকে ত্রাণের একমাত্র পথ জনগণকে সচেতন হতে হবে ও প্রকৃত মানব কল্যাণের পথ খুঁজে নিতে হবে৷ যেটা দলতান্ত্রিক শাসক ও পুঁজিপতি শোষক কেউ চাইবে না, তবু এটাই পথ এ পথেই চলতে হবে৷
- Log in to post comments