সংবাদ দর্পণ

বাঙালী বিরোধী চক্রান্তের প্রতিবাদে কলকাতার অসমভবন ও মণিপুর ভবনের সামনে আমরা বাঙালীর বিক্ষোভ প্রদর্শন

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

Demonstration 1কলকাতা ঃ ৩১শে জুলাই এন.আর.সি’ চূড়ান্ত খসড়া তালিকা থেকে ৪০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ায় ৩১শে জুলাই বিকেল অসম ভবনের সামনে আমরা বাঙালীর পক্ষ থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয় ও অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়৷ এখানে এন.আর.সি’র নামে বাঙালী বিরোধী চক্রান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে ও উত্তরপূর্বাঞ্চলের সমগ্র বাঙালী অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে বাঙালীস্তান গড়ার দাবী জানিয়ে বক্তব্য রাখেন আমরা বাঙালীর কেন্দ্রীয় সচিব বকুল চন্দ্র রায়, জয়ন্ত দাশ, উৎপল কুন্ডু রায় চৌধুরী, বিভূতি দত্ত প্রমুখ৷

অনুরূপভাবে মণিপুর বিধানসভায় বাঙালী বিরোধী ‘মণিপুর পিপলস্ বিল-২০১৮’ পাশ করা ও মণিপুরের বাঙালী অধ্যুষিত জিরিবাম জেলায় বাঙালীদের বিক্ষোভ মিছিলের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস প্রয়োগ ও গুলি চালনার প্রতিবাদে মণিপুর ভবনের সামনে ৩১শে জুলাই বিকেল ৪টা-৩০ মিনিটে বিক্ষোভ মিছিল প্রদর্শন করা হয় ও মণিপুরের রাজ্যপালের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়৷ এরপর মণিপুর ভবনের আধিকারিক মারফৎ মণিপুরের রাজ্যপাল নাজমা হেপতুল্লার উদ্দেশ্যে এক স্মারকলিপিও পেশ করা হয়৷ এখানে আমরা বাঙালীর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন বকুলচন্দ্র রায়, বিভূতি দত্ত, উজ্জ্বল ঘোষ, খুশী মন্ডল, সাগরিকা পাল, স্বপন দে প্রমুখ৷ তাঁরা বলেন, মণিপুরের রাজ্য সৃষ্টি হওয়ার বহু আগে থেকেই বাঙালীরা এখানে বাস করছে৷ বাঙালীদের নিজভূমি থেকে উৎখাত করার অধিকার কারুর নেই৷ নেতারা এখানেও বলেন, এসমস্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হল উত্তরপূর্ব অঞ্চলে সমস্ত বাঙালী অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে বাঙালীদের নিজস্ব বাসভূমি---‘বাঙালীস্তান’ গড়ে তোলা৷

 

বাঙালীস্তান গড়ে তোলা ছাড়া উত্তর পূর্বাঞ্চলের বাঙালীদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান নেই ঃ আমরা বাঙালী

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

কলকাতা ঃ এন আর সি-র চূড়ান্ত খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ বাঙালীর নাম বাদ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ‘আমরা বাঙালী’র কেন্দ্রীয় সচিব শ্রী বকুল চন্দ্র রায় আজ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাঙালীরা নিজেদের ভূমিতেই পুরুষানুক্রমে বাস করা সত্ত্বেও স্বাধীনতার পর থেকে সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক চক্রান্তে বারবার তাদের ওপর নানান ভাবে নির্যাতন চলছে৷ স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত উত্তর -পূর্বাঞ্চলের বাঙালীদের ওপর যেভাবে  বার বার নানান অজুহাতে নির্যাতন চলছে ও তাদের জীবন ও সম্পত্তি বিপন্ন হচ্ছে, এই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের দাবী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সমস্ত বাঙালী অধূ্যষিত এলাকা নিয়ে অবিলম্বে ‘বাঙালীস্তান’ গড়তে হবে৷ ভারতের সংবিধানের ধারা মেনেই এটা সম্ভব৷ আর এছাড়া বাঙালীদের নিরাপত্তাজনিত সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়৷ তিনি আরও বলেন অসমে বারবার ‘বাঙালী খেদা’ আন্দোলন, ‘নেলী’তে বাঙালী গণহত্যা, ডি-ভোটার তক্মা দিয়ে লক্ষ লক্ষ বাঙালীদের অন্যায়ভাবে ডিটেনশন ক্যাম্পে (জেলা কারাগারগুলির বর্ধিত অংশে) বন্দী রেখে তাদের ওপর অত্যাচার চালানো, মণিপুরে বার বার বাঙালীদের ওপর আক্রমণ ও বাঙালী বিতাড়নের চক্রান্ত, ত্রিপুরাতেও বাঙালীদের বিদেশী তক্মা দিয়ে ক্রমাগত নির্যাতন, এসব চলতেই আছে৷ তার ওপর গত ৩০শে জুলাই অসমে নূতন জাতীয় পঞ্জীকরণের চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করে এক ধাক্কায় প্রায় ৪০ লক্ষ বাঙালীর কার্যত নাগরিকত্ব হরণ করা হ’ল৷ যদিও বলা হচ্ছে তাদের আবেদনের সুযোগ রয়েছে৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও যে লক্ষ লক্ষ বাঙালীর জীবনে চরম অনিশ্চিততা ও অন্ধকার নেমে আসবে তাতে কোন সন্দেহ নেই৷

অথচ অসমের বৃহদাংশ মণিপুরের বৃহদংশ ও প্রায় সমগ্র ত্রিপুরা আসলে প্রাচীন বাঙলারই অংশ৷ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী ও অর্বাচীন ক্ষমতালোভী একশ্রেণীর রাজনৈতিক নেতাদের জন্যেই বাঙলার এই সমস্ত অবিচ্ছেদ্য অংশ অন্য রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বা অন্য নামে অভিহিত করে (যেমন ত্রিপুরা) বাঙালীদের নিজ ভূমে পরবাসী করে তোলা হয়েছে ও তাদের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তোলা হয়েছে৷

এই পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা সঙ্গতভাবেই দাবী রাখছি অবিলম্বে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সমস্ত বাঙালী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলিকে নিয়ে ‘বাঙালীস্তান’ গড়ে তোলা ছাড়া এই অঞ্চণ্ডেলর বাঙালীদের সমস্যার স্থায়ী কোন সমাধানের আশা নেই৷

 

চক্রান্ত করে অন্যায়ভাবে বাঙালীকে বিদেশী বানানো হচ্ছে ঃ মমতা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ৩০শে জুলাই  জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর  (এন.আর.সি) চূড়ান্ত  খসড়া প্রকাশ  করার পর দেখা গেল ৩.২৯ কোটি আবেদনকারীর মধ্যে ২.৮৯ কোটির নাম খসড়ায় জায়গা পেল, কিন্তু প্রায় ৪০.০৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ল৷  বাদ পড়ার মধ্যে অধিকাংশই  বাঙালী৷

আবার আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে, বলা হলেও এটা পরিষ্কার এক বিশাল  সংখ্যক  বাঙালীদের  জীবনে  নেমে আসবে শূচীভেদ্য অন্ধকার৷

এই পরিপ্রেক্ষিতে  পঃবঙ্গের  মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক  বৈঠকে যথার্থই বলেছেন, অসমে পরিকল্পিতভাবেই বাঙালী খেদাও চলছে৷ মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে  বলেন,  আমি প্রমাণ হাতে নিয়ে বলছি, বৈধ নথিপত্র ও পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষকে এন.আর.সি  থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া  হয়েছে৷ তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন,  অনন্ত চৌধুরী নামে একজনকার আধারকার্ড ও পাশপোর্ট দুই-ই আছে৷ চন্দন দত্তের ভোটার কার্ডও আছে৷  কিন্তু সেগুলো গ্রাহ্য করা হয়নি৷ তিনি বলেন প্রায় ত্রিশ বছর ধরে  নাটক করে ৮৬, ৮৪৯ জনকে ‘বিদেশী’ বলে চিহ্ণিত করেছে৷ কিন্তু এরা অনেকেই  চার/পাঁচ পুরুষ ধরে ওখানে আছে৷

তিনি বলেন ওরা ‘ডিভাইড এণ্ড রুল’ পলিশি নিয়ে  এইসব করছে  নির্বাচনের  দিকে লক্ষ্য রেখে৷

মমতার মন্তব্য বাঙালী খেদিয়ে অসমে কেন্দ্র গৃহযুদ্ধ বাধাচ্ছে৷

রথযাত্রার প্রাক্পর্বে  মানব রথ

সংবাদদাতা
অম্বর চট্টোপাধ্যায়
সময়

রথ যাত্রার প্রাকমুহুর্তে ---১৩ই জুলাই  সেরাম থ্যালাসেমিয়া প্রিভেনশন ফেডারেশনের  উদ্যোগে  শ্যামবাজার পাঁচমাথার সংযোগস্থলে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত  রোগীদের  ওষুধ প্রদান  ও আর্থিক  দিক থেকে পিছিয়ে  পড়া  ব্যষ্টিদের  ওষুধ, বস্ত্র, পুস্তক ও খাদ্য  বিতরণ  করা হয়৷

অনুষ্ঠানটি  শ্যামবাজার  পাঁচমাথার মোড় থেকে শুরু করে বাগবাজার, কুমারটুলি, উল্টোডাঙ্গা ও  কলেজষ্ট্রীটে ছড়িয়ে পড়ে৷

শ্যামবাজার অনুষ্ঠানে  বক্তব্য রাখেন সভাপতি  ডাঃ ভাস্করমণি চ্যাটার্জী, সম্পাদক  সঞ্জীব আচার্য প্রমুখরা৷ রথের  আদলে  একটি গাড়ীকে সাজিয়ে  শহরের বিভিন্ন স্থানে  নিরবচ্ছিন্ন প্রচার  চালানো  হয়৷  শ্যামবাজার অনুষ্ঠানে ‘‘মা অন্ন পূর্র্ণ’’ নামে এক  নাটক পরিবেশিত  হয়৷

বাগবাজারে  মূল অনুষ্ঠানটি  পরিচালিত হয় সৈকত মুখার্জীর পরিচালনায়, বাগবাজার পরিক্রমা শেষে  অনুপম দাসের  উদ্যোগে  কুমোরটুলির অনুষ্ঠানে  প্রারম্ভিক  ভাষণ দেন ফুটবল প্রশিক্ষক মৃদুল বান্যার্জী৷ কুমোরটুলির পর সংঘটনের  সদস্য  পার্থ দাসের  পরিচালনায়  ও উল্টোডাঙ্গা ব্যবসায়ী সমিতির সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়৷

 এখানে বক্তব্য রাখেন  পার্থ দাস, পুরপিতা অনিন্দ  কিশোর  রাউত প্রমুখরা৷ সর্বশেষে  অনুষ্ঠানটি  হয়  কলেজষ্ট্রিটে ৷ এখানে  বক্তব্য রাখেন   সুদীপ  রায় সহ  বহু ব্যষ্টি৷

শ্যামবাজার  থেকে  কলেজষ্ট্রিট পর্যন্ত  অনুষ্ঠান গুলিতে  শতাধিক  মানুষ  যোগদান করেন৷  শ্যামবাজারে মূল অনুষ্ঠানে  উপাস্থিত ছিলেন  ডাঃ শেখর  ঘোষ, সারদাত্মানন্দ মহারাজ৷ কার্যকরী কমিটির  সদস্য জয়ন্ত সাহা, কমলেশানন্দ মহারাজ, কুসুমিতা দাস, যুথিকা চট্টোপাধ্যায়সহ  বহু বিশিষ্ট ব্যষ্টিরা৷ 

 

পরলোকে আচার্য কীর্ত্যেশানন্দ অবধূত

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ২১শে জুলাই আনন্দমার্গের প্রবীণ সন্ন্যাসী আচার্য কীর্ত্যেশানন্দ অবধূত পরলোক গমন করেন৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭২ বছর৷ গত ৪০ বছর ধরে ভারতের বিভিন্ন স্থানে তিনি মার্গের বিভিন্ন দায়িত্বে কৃতিত্বের সঙ্গে কাজ করে পীড়িত মানবতার সেবা করেছেন৷ সর্বশেষে তিনি আনন্দনগরের  ভেটেরিনারী কলেজের প্রিন্সিপাল রূপে কর্মরত ছিলেন৷ বেশ কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী ও সর্বশেষে চেন্নাইয়ের এক নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন৷ এ অবস্থাতেই গত ২১শে জুলাই সকাল ১০টায়  তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন৷

তাঁর মৃত্যু সংবাদ শুণে  তাঁর শিক্ষাভাই, ছাত্র, মার্গের অন্যান্য সন্ন্যাসী, সন্ন্যাসিনী ও অনুগামী আর শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে  শোকের ছায়া নেমে আসে৷

গত ২২শে জুলাই কলকাতায় আনন্দমার্গের  প্রধান কার্র্যলয়ের  জাগৃতিভবনে ধর্মচক্রের পর  সবাই ২ মিনিট মৌনভাবে দাঁড়িয়ে থেকে  তাঁর বিদেহী আত্মার  শান্তির উদ্দেশ্যে পরমপুরুষের কাছে প্রার্থনা  করেন৷

শ্যামনগর  আনন্দমার্গ  আশ্রমে শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী  পদার্পণ দিবস পালন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ২০শে জুলাই শ্যামনগরের আনন্দমার্গ আশ্রমে শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী শুভ পদার্পণ দিবস পালিত হয়৷  সকাল ৭-৩০ থেকে  দুপুর ১-৩০ পর্যন্ত  অখন্ড ‘‘বাবা নাম কেবলম্’’ সংকীর্ত্তন অনুষ্ঠিত  হয়৷  গুরুপূজা ও স্ব্যাধায়ের পর আনন্দমার্গীরা নগর কীর্ত্তন বের করেন  ও  শহরের বিভিন্ন রাস্তাতে কীর্ত্তন সহকারে  পরিক্রমা করেন৷ 

উল্লেখ্য , বাবা  ১৯৬৮ সালের  ২০শে জুলাই  শ্যামনগরে ধর্মমহাচক্র করেছিলেন৷ সেদিনের স্মৃতিচারণা করে  বক্তব্য রাখেন  শ্রী দীনেশ বিশ্বাস ও শ্রী মোহন অধিকারী ৷ এছাড়াও আনন্দমার্গের আদর্শ ও ‘বাবা’র ওপর বক্তব্য রাখেন অবধূতিকা  আনন্দ নিরুক্তা আচার্র্য৷ সমস্ত অনুষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন শ্রী সন্তোষ কুমার  বিশ্বাস৷

৪ বছরের মোদিজীর বিদেশ সফরের ব্যয় ১,৪৮৪ কোটি টাকা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

নরেন্দ্র মোদিজী প্রধানমন্ত্রীর  গদিতে  বসার পর ২০১৪-র ১৫ই জুন থেকে ২০১৮-র ১০ই জুন পর্যন্ত তাঁর  বিদেশ সফরে  সরকারের খরচ হয়েছে ১,৪৮৪ কোটি টাকা৷ গত ১৯শে জুলাই রাজ্যসভায় ভারতের  বিদেশ মন্ত্রকের  প্রতিমন্ত্রী ভি. কে.  সিং -এর দেওয়া রিপোর্ট থেকে এই সংবাদ জানা গেছে৷ তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদিজী ২০১৪-১৫ তে  ১৩ টি দেশ সফর করেছেন, ২০১৫-১৬তে ২৪ টি দেশে সফর করেছেন, ২০১৬-১৭তে ১৮টি দেশে  সফর করেছেন আর ২০১৭-১৮ তে  ১৯টি দেশে সফর করেছেন৷

ভাগাড়কান্ডে  পুলিশ ৯০ দিনেও চার্জশিট  দিল না

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আমাদের দেশের আইন কত দুর্বল ---তার প্রকৃষ্ট  উদাহরণ হ’ল, ভাগাড় কাণ্ডের  অপরাধীদের   বিরুদ্ধে ৯০ দিনেও পুলিশ চার্জশিট দাখিল করতে পারল না৷ তার ফলে সহজেই ধৃতরা  জামিন পেয়ে যাবে৷ কেননা, আমাদের দেশের আইনেই বলা হয়েছে, ৯০ দিনের মধ্যে পুলিশ চার্জশিট দিতে না পারলে  অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যত বড় অপরাধের  অভিযোগ  থাকুক না কেন তারা সহজেই  জামিন পেয়ে যাবে৷ তারপর তো জামিনে  মুক্ত হয়ে তারা স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করতে পারবে৷ তারপর মামলা তো কোর্টে চলবে বছরের পর বছর ধরে৷ কবে ওই মামলার রায় বেরুবে তা অনিশ্চিত৷ তারপর তো টাকার  খেলা আছেই৷

 তাই, ভাগাড়ের মরা গোরু, কুকুর, বেড়াল প্রভৃতির পচামাংস বিভিন্ন হোটেলে-রেষ্টুরেন্টে দেদার সরবরাহ করার মত মারাত্মক অপরাধ করেও  অপরাধীদের  উপযুক্ত  সাজা হবার আশা  জনসাধারণ করছে না৷

নখদন্তহীন লোকায়ুক্ত বিল!

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে  দুর্নীতি প্রতিরোধের  লক্ষ্যে লোকপাল ও  লোকায়ুক্ত বিলের জন্যে  আন্না হাজারে  আন্দোলন করেছিলেন৷ সেই আন্দোলনকে  তখন  সমস্ত  বিরোধী দল সমর্থন  জানিয়েছিলেন৷ ১৯১১ সালের  এপ্রিলে  আন্না হাজারে  যখন  এই দাবীতে  অনশন  করেছিলেন,  তখন কেন্দ্রে কংগ্রেস-জোটের  সরকার  ক্ষমতাসীন  ছিল৷

কিন্তু আজও নানান অজুহাতে সেই  লোকপাল  বিল পাশ  হল’না ৷  রাজ্যে লোকপাল  বিলের  অনুরূপ বিলের  নাম ‘লোকায়ুক্ত’ বিল৷  যাতে  মুখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্য প্রশাসনের  উচ্চপদস্থ  যে কোনো মন্ত্রী ও সচিবের  বিরুদ্ধেও দুর্নীতির  অভিযোগের  তদন্তের  দায়িত্ব ‘লোকায়ুক্ত’ এর ওপর দেওয়ার  দাবী ছিল৷

সম্প্রতি বিধানসভায় এই লোকায়ুক্ত বিল পাশ করানোর  জন্যে  এই সম্পর্কীয় একটি বিলের কপি (দ্য ওয়েষ্ট বেঙ্গল  লোকায়ুক্ত বিল-২০১৮) বিরোধী ও শাসক  দলের বিধায়কদের কাছে  পাঠানো হয়েছিল৷ তাতে  বলা হয়েছিল ‘মুখ্যমন্ত্রী’র বিরুদ্ধে লোকায়ুক্ত  তদন্ত  করতে পারবে না৷

এ নিয়ে  বিরোধীরা  হৈ-হট্টগোল  শুরু করার পর সরকার পক্ষ থেকে  এই বিলের কপি ফেরৎ নেওয়া হয়৷ বলা হয় মুখ্যমন্ত্রীর  সম্মতি   না নিয়েই  বিলের কপি  ভুল করে  বন্টন  করা হয়েছে৷  এই বিলটিতে  আরও সংশোধন  করা হবে৷

এই বলে  তখন বিলের  খসড়া কপি  ফেরৎ নেওয়া হলেও  গত ২৪ তারিখে  আবার বিলটি  বিধায়কদের  মধ্যে  বিলি  করা হয়েছে৷

এই নোতুন বিলেও মুখ্যমন্ত্রীকে  ‘লোকায়ুক্ত’র আওতার বাইরে  রাখা  হয়েছে৷ অর্থাৎ  মুখ্যমন্ত্রীর  বিরুদ্ধে  তদন্ত  করা যাবে না৷ লোকপাল  বিলেও ‘প্রধানমন্ত্রী’ কে  লোকপাল  বিলের আওতার বাহিরে  রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ  আগ্রহী৷ রাজ্যের ক্ষেত্রেও একই চিত্র৷  সদ্য বিলি করা  কপিতে আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার  কোনও  সদস্য  বা সরকারী  কর্মচারীর  ক্ষেত্রে  রাজ্য  সরকারের আগাম অনুমতি  ছাড়া  ‘লোকয়ুক্ত’ তদন্ত  করতে পারবে না৷ অর্থাৎ নখদন্তহীন লোকায়ূক্ত বিল!

স্বাভাবিকভাবে আন্না হাজারে যে  লক্ষ্যে  লোকপাল  ও লোকায়ুক্ত  বিলের  জন্যে  আন্দোলন  করেছিলেন,  সেই  লক্ষ্য অধরাই থেকে  যাচ্ছে৷

৩০শে জুলাই অসমের চূড়ান্ত খসড়া নাগরিকপঞ্জী - বাঙালীরা চরমভাবে আতঙ্কিত

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

অসমে আগামী ৩০শে জুলাই পূর্ণাঙ্গ নাগরিকপঞ্জীর খসড়া প্রকাশিত হতে চলেছে৷ গত ৩১শে ডিসেম্বর আংশিক নাগরিকপঞ্জীর খসড়া প্রকাশের পর দেখা যায় ১ কোটি ৩৯ লক্ষ বাঙালীর নাম নাগরিকপঞ্জী থেকে বাদ পড়েছে৷ নাগরিকপঞ্জী থেকে নাম বাদ দেওয়া মানেই সরকারীভাবে তাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা৷

ইতোপূর্বে লক্ষ লক্ষ বাঙালীকে ডি-ভোটার (ডাউটফুল ভোটার) বলে চিহ্ণিত করে তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে৷ আর ডিটেনশন ক্যাম্প মানেই চরম নির্যাতনের শিকার হওয়া৷ অর্থাৎ পরিষ্কার ভাষায় তখন বলা হচ্ছে, তোমরা এদেশে অবাঞ্ছিত---তোমাদের এদেশে কোনও অধিকার নেই৷

আগামী ৩০শে জুলাই জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশিত হওয়ারপর যাদের নাম বাদ পড়বে (লক্ষ লক্ষ বাঙালীর নাম নাগরিকপঞ্জী থেকে যে বাদ পড়ছেই তাতে কোনও সন্দেহ নেই) তারা যাতে চরমভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে তেমন কিছু অঘটন না ঘটায়, তাই তার জন্যে তাদের প্রতি আগাম আশ্বাস বাণী শোনাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং থেকে শুরু করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সানুয়াল বা প্রতীক হাজেলার নেতৃত্বাধীন নাগরিকপঞ্জী কর্তৃপক্ষ৷ আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে খসড়া নাগরিকপঞ্জী প্রকাশের পর যাদের নাম বাদ পড়বে তাদের আবেদন করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হবে৷ আবেদন, পুনর্বিবেচনা এসব কিছুর পরে আগামী ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জী৷ সরকারের পক্ষ থেকে এখন যতই আশ্বাস দেওয়া হোক আগামী ৩০শে জুলাই খসড়া চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জী প্রকাশের পর যাদের নাম বাদ পড়বে তাদের যে চূড়ান্ত হয়রানির মধ্যে পড়তে হবে তাতে কোনও সন্দেহই নেই৷

কারণ এখনই খবর পাওয়া যাচ্ছে গত ৩১শে ডিসেম্বর প্রকাশিত আংশিক খসড়া নাগরিকপঞ্জী থেকে যাদের নাম বাদ গেছে অনেক জায়গাতেই সীমান্ত পুলিশ তাদের হাতে ‘বিদেশী’ নোটিশ ধরিয়ে দিয়ে তাদের নানানভাবে নির্যাতন করছে৷

স্বাধীনতার পর বার বার বিভিন্ন অজুহাতে অসম থেকে বাঙালী বিতাড়নের হুজুগ তুলেছে অসমের ব্রহ্মপুত্র এলাকার একটি মহল---যারা উগ্র জাতীয়তাবাদের কালো চশমা পরে পরিবেশকে উত্তপ্ত করতে সদা প্রস্তুত৷ তারা বহুবার বাঙালীদের ওপর জঙ্গী আক্রমণ চালিয়েছে, বাঙালীদের ঘরবাড়ী জ্বালিয়েছে৷ বাঙালীদের গণ হত্যার শিকার হতে হয়েছে৷

এটা বিস্ময়জনক যে, অসমে বাঙালীদের ওপর এইভাবে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও ক্রমান্বয়ে নির্যাতনের পরও পশ্চিমবঙ্গ তথা সারা ভারতের বাঙালীরা ও বাঙালী নেতা-নেত্রীবৃন্দ মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছেন কেন? কেন দল-মত-সম্প্রদায় নির্বিশেষে এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে একসঙ্গে গর্জে উঠছেন না৷ একমাত্র বাঙালীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদই অসম, মণিপুর সহ সমস্ত পূর্বাঞ্চলে বাঙালী নির্যাতনের অবসান ঘটাতে পারে৷