সংবাদ দর্পণ

বিজেপি বাঙালী-ঐক্য ভাঙ্গতে বদ্ধপরিকর

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

ইসলামপুর স্কুলে ছাত্র-হত্যাকে কেন্দ্র করে ২৬ শে সেপ্টেম্বর বিজেপির ডাকা বাঙলা বন্ধ্কে সফল করতে বিজেপি সমর্থকরা ৪টি সরকারী বাস জ্বালিয়েছে , অন্ততঃ ৪টি বাস ভাঙ্গচুর করেছে ৷ এতে কার লাভ হ’ল? কার ক্ষতি হ’ল? তৃণমূলের ? না, ক্ষতি হয়েছে পশ্চিমবাঙলার৷ এ রাজ্যের সম্পদ নষ্ট হয়েছে৷ নেতাদের ক্ষতি হয়নি৷ ক্ষতি হয়েছে জনগণের  এটা কি তারা বুঝেছে?

এই বাঙলা বন্ধের প্রভাব কলকাতা শহরে তো পড়েইনি বলা চলে৷ তবে জোর করে বন্ধ্ সফল করতে গিয়ে বন্ধ সমর্থকরা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বহু ক্ষেত্রে হিংসা ছড়িয়েছে ৷ অনেক ক্ষেত্রেই গাড়ি, দোকান পাট, ভাঙ্গচুর , অগ্ণিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে৷ ইসলামপুরে ৪টি সরকারী বাসে বনধ্ সমর্থনকারীরা আগুন ধরিয়েছে ও ৪টি বাস ভাঙচুর করেছে৷ পুলিশের সঙ্গে বণ্ধ সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষও হয়৷

কেশিয়াড়িতে দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা গুলি বিদ্ধ হয়ে মারা গেছে ১ জন৷ নাম বিভুরঞ্জন দাস৷ বিভূরঞ্জন বনধের দিনে দোকান খোলা রেখেছিল ও সে তৃণমূল সদস্য৷ গাড়ীতে করে অপরিচিত দুষ্কৃতীরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়৷ যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের সমর্থকরা গুলি করেনি ৷ তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ দুষ্কৃতীরাই খুন করেছে৷

তবে এটা অস্বীকার করা যায়না যে, বিজেপি বাঙালীদের মধ্যে হিন্দু-মুসলমান বিভেদ সৃষ্টি করে বাঙালী ঐক্য নষ্ট  করতে বদ্ধপরিকর৷ এতে আখেরে বাঙলারই ক্ষতি৷ বিজেপি নিজেরা ক্ষমতায় আসতে বাঙালী ঐক্য নষ্ট করতে চাইছে৷

অসমে  বাঙালী  নির্যাতনের প্রতিবাদে  ‘আমরা বাঙালী’

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

অসমে নূতন নাগরিকপঞ্জী তৈরীর  নাম করে প্রায়  ৪০ লক্ষ বাঙালীর নাগরিকত্বহরণ  করে’ তাদের বিতাড়নের  চক্রান্তের  বিরুদ্ধে  গত ১৯শে সেপ্টেম্বর  ‘আমরা বাঙালী’র পক্ষ থেকে উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারের নিকটে বল্লভপুর ষ্ট্রীট থেকে এক  প্রতিবাদ  মিছিল বোরোয়৷ এই  মিছিল বিধান সরণী হয়ে  বিভিন্ন  শ্লোগান  দিতে দিতে স্বামী বিবেকানন্দের  বাড়ীর  সামনে  এসে  পৌঁছায় ও এখানে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়৷ এই পথসভায় বক্তব্য রাখেন  আমরা  বাঙালীর কেন্দ্রীয় সচিব বকুলচন্দ্র রায়, গুয়াহাটি হাইকোর্টের  এ্যাডভোকেট  নজরুল  ইসলাম, জয়ন্ত দাশ, অরুণ ভট্টাচার্য, উজ্জ্বল ঘোষ  প্রমুখ৷

বক্তারা তাঁদের  বক্তব্যে  বলেন,  এটা খুবই বিস্ময়জনক  যে, যে বাঙালীরা  ভারতের  স্বাধীনতা  সংগ্রামে  সবচেয়ে  বেশী রক্ত  দিয়েছে, সেই বাঙালীদেরই আজ  অসম, ত্রিপুরা, মণিপুর---সর্বত্র  বিদেশী তক্মা দিয়ে  চরমভাবে নির্যাতন  করা হচ্ছে ও  দেশ থেকে তাড়ানোর  চেষ্টা  চলছে৷  স্পষ্টতই বাঙালীদের বিরুদ্ধে একটা  বিরাট ষড়যন্ত্র চলছে৷ সমস্ত বাঙালীদের  ঐক্যবদ্ধভাবে  এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে  হবে৷

পথসভার শুরুতে গান গেয়ে শোণান সাধনা গোলদার৷  হিতাংশু বানার্জীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ‘আমরা বাঙালী’র এই মিছিল ও পথসভা সাফল্যমণ্ডিত হয়৷

এন আর সি-র আধিকারিক প্রতীক হাজেলা অসমের বাঙালীদের রাষ্ট্রহীন করার ষড়যন্ত্র করছে ---বাঙালী যৌথ সমন্বয় সমিতি

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

নওগাঁ ঃ গত ২২ শে সেপ্টেম্বর বাঙালীদের ১৪টি জাতীয় সংঘটনের যৌথ মঞ্চ ‘বাঙালী যৌথ সমন্বয় সমিতি’র সভাপতি সুকুমার বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সরকার এখানে অভিযোগে করেছেন, অসমে স্থায়ীভাবে ৮০ লক্ষ বাঙালী হিন্দুর বাস৷ এর ৫০ শতাংশ অসমের আদি বাসিন্দা৷ বলা বাহুল্য, বাঙলারই বৃহদংশ ব্রিটিশরা অসমের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছিল৷ যেমন কাছাড়, নওগাঁ, গোয়ালপাড়া ইত্যাদি মূল বাঙলাভাষী এলাকা, বাঙলা থেকে কেটে অসমের সঙ্গে যোগ করা হয়েছিল৷ তাই এখানকার অধিবাসীদের বৈধ নাগরিকত্ব প্রশ্ণাতীত৷ অপর পক্ষে এর মধ্যে যে অপর ৫০ শতাংশ হিন্দু বাঙালী ওপার বাঙলা থেকে শরণার্থী হয়ে এসেছে, নেহেরু-লিয়াবত চুক্তি ও ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি অনুসারে তারা বৈধভাবে ভারতীয় নাগরিকে পরিণত হয়েছেন৷ তাদের শরণার্থী প্রমাণপত্র, শরণার্থীর ভিসা, ভোটার তালিকা ইত্যাদি ৫ ধরণের নথি বাতিল করার আর্জি আদালতে জানিয়ে আদালত থেকে নির্দেশ  আনিয়ে বাঙালী হিন্দুদের রাষ্ট্রহীন করা গভীর ষড়যন্ত্র চলছে৷

এছাড়াও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে অসমের ওই উগ্র জাতিবাদী গোষ্ঠীর চোখে হিন্দু মুসলীম নির্বিশেষে সমস্ত বাঙলীরাই অসমে অবাঞ্ছিত৷ তাই তারা নূতন এন.আর.সি তৈরীর নামে অসমে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী হিন্দু বাঙালীদের সঙ্গে সঙ্গে মুসলীম বাঙালীদেরও নাগরিকত্ব কেড়ে নেবার চক্রান্ত করেছে৷

এই পরিস্থিতিতে সমস্ত বাঙালীদেরই এই অন্যায়ের প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে৷

বাঙালী যৌথ সমন্বয় সমিতি তাই সমস্ত বাঙালীদের ঐক্যবদ্ধ মহাসংগ্রামের ডাক দিয়েছে৷

ষড়যন্ত্রকারী নোতুন নাগরিকপঞ্জীকরণের্ আধিকারিক প্রতীক হাজেলার স্বৈরাচারী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে রাষ্ট্রসংঘেও অভিযোগ জানানো হবে বলে ‘বাঙালী যৌথ সমন্বয় সমিতি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে৷

ব্যাঙ্ক, মোবাইল, গ্যাসের ক্ষেত্রে   আধারের  প্রয়োজন নেই

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

গত ২৬ শে সেপ্টেম্বর আধার কার্ড  সম্পর্কিত  সুপ্রিমকোর্টের রায়ে  জানানো হয়েছে, এখন থেকে  ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্টের  ক্ষেত্রে  ও মোবাইলে  নূতন  সিম কার্ড  কেনার ক্ষেত্রে  আধার  কার্ডের  প্রয়োজন  হবে না৷

তবে প্যান কার্ডের সঙ্গে ও আয়কর রিটার্নের ক্ষেত্রে  আধার সংযুক্তিকরণ বাধ্যতামূলক৷ কিন্তু যাবতীয় উন্নয়ন  প্রকল্পে ও সরকারী  ভরতুকি  পেতে আধার কার্ডের  প্রয়োজন হবে না৷ স্কুলে ভর্তির  ক্ষেত্রেও আধার কার্ড লাগবে না৷ নিট (ন্যাশানাল  এলিজিবিলিটি)  পরীক্ষায়ও আধার কার্ড  বাধ্যতামূলক  নয়৷  সি.বি.এস.ই (সেণ্ট্রাল বোর্ড অব সেকেণ্ডারী এডুকেশন)-এর  ক্ষেত্রেও আধার কার্ড লাগবে না৷ আধার  নিয়ে  সারা দেশুজুড়ে অসন্তোষ  ও বিতর্ক  চলছিল৷ এ নিয়ে  সুপ্রিম কোর্টে মোট ২৭ টি  মামালাও  দায়ের  করা হয়েছিল৷ সমস্ত  মামলাকে  একত্রিত  করে  ৩৮ দিন শুনানির  পর ২৬ শে সেপ্টেম্বর আধার সম্পর্কিত এই চূড়ান্ত রায় দিলেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত৷

সেরাম থ্যালাসেমিয়া প্রিভেনেশন ফেডারেশনের প্রচার অভিযান

সংবাদদাতা
অম্বর চট্যোপাধ্যায়
সময়

প্রতি বছরের মত এবারও গত ১৫ই আগষ্ট দেশের বাহাত্তর(৭২)তম স্বাধীনতা দিবসে সেরাম থ্যালাসেমিয়া প্রিভেনশন ফেডারেশনের উদ্যোগে শ্যামবাজার থেকে বিষ্ণুপুর (রাজারহাট) পর্যন্ত একটি বণার্ঢ্য থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা ‘‘কার্যাবলী’’ অনুষ্ঠিত হয়৷ শ্যামবাজারে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন সংঘটনের সহ-সভাপতি স্বামী সারদানন্দ মহারাজ৷ উদ্বোধন মঞ্চ থেকে শহীদ বীর সেনাদের উদ্দেশ্যে শপথ বাক্য পাঠ করা হয়৷ পায়রা উড়িয়ে ও সবুজ পতাকা নেড়ে অনুষ্ঠানিকভাবে এই সচেতনতা ‘‘কারর্যালী’’র শুভ সূচনা করেন সংঘটনের সভাপতি ডাঃ ভাষ্কর মণি চট্টোপাধ্যায় ও সম্পাদক সঞ্জীব আচার্য সহ অনেক সদস্য৷ র্যালীর যাত্রাপথে ১৩টি স্থানে সেরাম থ্যালাসেমিয়া প্রিভেনশন ফেডারেশনের সহযোগী সাথীরা এই র্যালীকে সম্বর্ধনা জানায়৷ সকাল ৯-৩০ মিনিটে ৬০টি গাড়ী-সমম্বিত র‍্যালীটি শুরু হয় বিকেলে বিষ্ণুপুর ‘জাগৃতি সংঘ’’-এর মাটে পৌঁছায় , সেখানে সমাপ্ত অনুষ্ঠানে  মূল বক্তা ছিলেন সংঘটনের সম্পাদক সঞ্জীব আচার্য্যসহ অন্যান্য বিশিষ্ট জনেরা৷ এই পুরো রাস্তাতেই চলে থ্যালাসেমিয়া রোধে অবিরাম প্রচার৷ অনুষ্ঠানে সমাপ্তি সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী রুদ্র রায়, আবীর চট্টোপাধ্যায় ও আরো অনেকে৷

আগামী বছরের স্বাধীনতা দিবসে এই র‍্যালীর শুভ কামনা করে ও সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়৷

কলকাতার বেহালা-সরশুনায় প্রভাত সঙ্গীত প্রতিযোগিতা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

কলকাতা ঃ গত ৯ই সেপ্টেম্বর আনন্দমার্গের সাংস্কৃতিক প্রকোষ্ঠ ‘রাওয়া’-র কলকাতা শাখার পক্ষ থেকে বেহালা-সরশুনায় প্রভাত সঙ্গীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়৷ প্রসন্নকুমার স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিল্পী সংঘে অনুষ্ঠানটি হয়৷ এই প্রতিযোগিতায় সঙ্গীত, নৃত্য ও অংকন মিলে ১৮৯ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে৷ ক,খ,গ,ঘ--- বয়স অনুসারে ৪টি গ্রুপে এই প্রতিযোগিতা হয়৷ এছাড়া সমবেত সঙ্গীত ও সমবেত নৃত্য প্রতিযোগিতাও হয়৷ এই প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন সঙ্গীতে শ্রীমতী ঝংকৃতা সরকার, নৃত্যে-শ্রীমতী মৌসুমী দে ও অংকনে শ্রী নিশিত শীল৷ তিন শতাধিক দর্শক ও তথা শ্রোতা উপস্থিত থেকে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন৷ সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী চলতে থাকে৷ প্রতিযোগিতায় যাঁরা ১ম,২য় ও ৩য় হন তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শ্রী নিরঞ্জন সাহা (অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট) ও শ্রী মানব মন্ডল৷

 সমবেত সঙ্গীতে প্রথম হয়েছে ‘গান্ধার মিউজিক এ্যান্ড ড্যান্স সুকল’ ও সমবেত নৃত্যে প্রথম হয়েছে ‘নৃত্য-গীত’ সংস্থা৷ শ্রী মাধব মন্ডল ও তাঁর সঙ্গে ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবীর অক্লান্ত পরিশ্রমে অনুষ্ঠানটি সাফল্যমন্ডিত হয়৷ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ছিলেন শ্রী কেশব চন্দ্র মন্ডল, শ্রী শিবুপদ আচার্য ও শ্রী ধীরেন্দ্রচন্দ্র বর্মন৷ উপদেষ্টা ছিলেন শ্রী শর্বরী কান্ত ঘোষ৷

আনন্দমার্গের নোতুন আশ্রমের শিলান্যাস ও অখণ্ড কীর্ত্তন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

উত্তর ২৪ পরগণা ঃ উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ঠাকুরনগরে আনন্দমার্গের নোতুন আশ্রমের শিলান্যাস হয়েছে গত ১৬ই সেপ্টেম্বর৷ এই জমিটি আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘকে দান করেছেন ডঃ তারা কর৷ এই উপলক্ষ্যে ওই দিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অখণ্ড কীর্ত্তন হয়৷ কীর্ত্তনের পরে সাধনা ও গুরুপূজা শেষে কীর্ত্তন সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন আচার্য সুরেশানন্দ অবধূত, আচার্য অভিব্রতানন্দ অবধূত ও শ্রী সন্তোষ কুমার বিশ্বাস৷ এরপর আশ্রম ভবনের শিলান্যাস করেন আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের প্রবীণ সন্ন্যাসী আচার্য ভবেশানন্দ অবধূত৷ ওই স্থলে ওই দিন একটি স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়৷ সেখানে প্রায় শতাধিক ব্যষ্টির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন ডাঃ নির্মল সরকার ও ডাঃ দীনেশ বিশ্বাস৷ রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ঔষধও প্রদান করা হয়৷

ময়ূরভঞ্জে আনন্দমার্গের অখন্ড কীর্ত্তন ও চিকিৎসা শিবির

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

ময়ূরভঞ্জ ঃ ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার জামদা ব্লকের অন্তর্গত নারানদা গ্রামে গত ৯ই সেপ্টেম্বর আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের পক্ষ থেকে ৬ঘন্টা অখন্ড কীর্ত্তন, নারায়ণসেবা ও পাশাপাশি চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়৷

‘‘বাবা নাম কেবলম্’’ মহামন্ত্রের ৬ঘন্টা ব্যাপী অখন্ডকীর্ত্তন পরিচালনা করেন আচার্য ব্রতনিষ্ঠানন্দ অবধূত৷ মিলিত সাধনার পর সাধনা ও কীর্ত্তন মাহাত্ম্যের ওপর বক্তব্য রাখেন সেবাধর্ম মিশনের স্থানীয় ভুক্তিপ্রধান শ্রী সুরেশ নায়েক৷ ধর্মআলোচনার পর ধর্মসভায় সমবেত অনেকেই আচার্য ব্রতনিষ্ঠানন্দজীর কাছে যোগসাধনা শেখেন৷

এরপর নারয়ণ সেবাতে দেড়শতাধিক গ্রামবাসীকে আপ্যায়িত করা হয়৷ পাশাপাশি বিনাব্যয়ে চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়৷ এই চিকিৎসা শিবিরে দেড় শতাধিক দুঃস্থ রোগীকে চিকিৎসা করা হয় ও তাদের ঔষধও দেওয়া হয়৷

সমগ্র অনুষ্ঠানটি ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন আচার্য ব্রতানিষ্ঠানন্দ অবধূত ও সহযোগিতায় ছিলেন লক্ষ্মন টুডু শরৎ মাইতি, রসানন্দ মাহাত, সুমন্ত মাহাত, মনোরঞ্জন মাহাত, নারায়ণ প্রধান প্রমুখ৷

চিকিৎসা শিবিরে বিনা পারিশ্রমিকে চিকিৎসা করেন ডাঃ যুধিষ্ঠির মাহাত (এ্যালোপ্যাথিক) ও ডাঃ কৈষিক দেব (এ্যালোপ্যাথি)৷

আনন্দমার্গীয় বিধিতে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ১৩ই সেপ্টেম্বর ব্যারাকপুরের ভক্তিপ্রাণা আনন্দমার্গী শ্রীমতী বীণাপানি পাল বার্ধক্য জনিত কারণে পরলোকগমন করেন৷ তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় আনন্দমার্গী মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে৷

গত ১৬ই সেপ্টেম্বর আনন্দমার্গীয় বিধিতে তাঁর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়৷ এতে প্রধান শ্রাদ্ধকর্ত্রী ছিলেন বীণাদেবীর কন্যা শ্রীমতী বেলা মণ্ডল৷ এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন আচার্য অভিব্রতানন্দ অবধূত৷ শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের পর তার স্মৃতিচারণ করেন শ্রীদীনেশ বিশ্বাস, শ্রীমতী স্বাতী সাহা প্রমুখ৷

 

ইটালির ভেরোনা শহরে প্রভাত সঙ্গীত দিবস পালিত

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আনন্দমার্গের সাংস্কৃতিক প্রকোষ্ঠ ‘রাওয়া’র ইটালির শাখার  পক্ষ থেকে গত ১৪ই সেপ্টেম্বর প্রভাত সঙ্গীতের ৩৬ বছর পূর্ত্তি উপলক্ষ্যে ইটালির ভেরোনা শহরে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে এক মনোজ্ঞ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷

স্থানীয় আনন্দমার্গী ‘টারসিসিও বেনেট্রো’ (সংসৃকতে প্রদত্ত নাম তপন কুমার) ‘ভজরে ইষ্ট নাম’ এই প্রভাত সঙ্গীতটি গেয়ে ও পরে ইটালী ভাষায় এটি অনুবাদ করে শুণিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন৷

এরপর আনন্দমার্গের প্রচারক আচার্য প্রবুদ্ধানন্দ অবধূত উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে প্রভাত সঙ্গীত ও এর বিশেষত্ব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন ৷ তিনি বলেন শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী, যাঁরা লৌকিক নাম শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার, ৫০১৮ টি প্রভাত সঙ্গীত রচনা করেন ও নিজেই তাতে সুরারোপণ করেন৷ গভীর আধ্যাত্মিক ভাবের, সমাজ চেতনা মূলক, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের গান,--- এমনিভাবে নানান ধরণের সঙ্গীত , বাংলা, ইংরেজী, হিন্দী, উর্দু প্রভৃতি ৮টি ভাষায় রচনা করেছেন৷

এরপর কলকাতা থেকে আগত প্রভাত সঙ্গীত শিল্পী রত্না সরকার বেশ কিছু প্রভাত সঙ্গীত পরিবেশন করেন৷ সঙ্গে সঙ্গে সেগুলির ইটালিতে অনুবাদ করেও শোনানো হয়৷ যাতে সবাই এর অপূর্বভাব গ্রহণ করতে পারে৷ শ্রীমতী রত্না সরকারের গাওয়া গানগুলির মধ্যে ছিল ‘প্রিয় আমার বন্ধু আমার’, ‘নয়ন মাঝারে রয়েছে’, ‘নয়নেরই তারা তুমি’, ‘এ গান আমার আলোর ঝর্ণাধারা’ প্রভৃতি৷ হলের সমস্ত স্রোতা শ্রীমতী রত্না সরকারের গাওয়া প্রভাত সঙ্গীতের ভূয়সী প্রশংসা করেন৷

ইটালীর আর এক আনন্দমার্গী ‘গিয়োমো (সংস্কৃতে তার নাম--- গণেশ) ‘‘তুমি যে এসেছ আজ’’, ‘‘সকল মনের বীণা’’ ‘‘স্বপনে এসেছ আনন্দঘন তুমি’’ প্রভৃতি প্রভাত সঙ্গীত গেয়ে সকলকে আনন্দ দেন৷