প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

নারীর প্রতি সামাজিক অবিচার

সমাজে বিভিন্ন ধরণের পাপাচারকে দেখে যারা শিউরে ওঠেন আর বলেন, ---গেল সব গেল৷ ধর্ম গেল, নীতি গেল, তাঁদের বোঝা উচিত এই তথাকথিত সবগেল কথাটার পেছনে যে কারণগুলো রয়েছে তার অন্যতম কারণ হচ্ছে সামাজিক অবিচার৷

সংস্কৃতি

মানুষ জাতের সংস্কৃতি একটাই৷ অনেক কালচারের কথা আমি মানতেই রাজী নই৷ হ্যাঁ, তবে এই মাত্র বলা যেতে পারে যে মানুষ জাতের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে নাচে-গানে উচ্চারণে তথা উৎসবাদি অনুষ্ঠানে স্থানীয় বৈচিত্র্য আছে, এই স্থানীয় বৈচিত্র্য বা আচার ব্যবহারের তারতম্যকে সংস্কৃতি গত ভেদ বলে মেনে নেওয়া চলে না ৷

পোষাক

বিশ্ব-ভাষার তুলনায় বিশ্ব-লিপির প্রয়োজন অনেক কম, আর বিশ্ব-পোশাকের কোনো প্রয়োজনই নেই৷ শুধু বিশ্ব-পোশাক কেন বিভিন্ন রাষ্ট্রের জাতীয় পোশাক থাকলেও কোন কিছু থাকা আমার মতে অবাঞ্ছনীয়৷

বিশ্বলিপি

বিশ্ব-জনের সাধারণ সুবিধার জন্যে একটি বিশ্ব-ভাষার প্রয়োজন যতখানি, একটি সাধারণ বিশ্ব-লিপির প্রয়োজন সে তুলনায় কিছুই নয়৷ তবে হ্যাঁ, পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষা একই লিপিতে লিখিত হলে ভাষা শিক্ষায় যে কিছুটা সুবিধা হবে একথা অনস্বীকার্য৷ বিশ্বের প্রচলিত লিপিগুলির মধ্যে রোমান লিপিই সব চেয়ে বেশী বিজ্ঞানসম্মত৷ তবে প্রচলিত সমস্ত ভাষাতে এই লিপির ব্যবহার করতে কতকগুলি বাস্তব অসুবিধা দেখা দেবে৷ তাছাড়া স্থানীয় লিপিগুলির প্রতি মানুষের একটা দুলতাও আছে৷ আমার মনে হয় বিভিন্ন ভাষায় রোমান লিপি গ্রহণ করা বা না-করাটা সেই ভাষা-ভাষা জন-গোষ্ঠীর ওপরে ছেড়ে দেওয়াই ভাল৷ তবে বিশ্ব-লিপি হিসেবে রোমান লিপিটি যত শীতে সংখ্যক

ভাষার সমস্যা ও সমাধান

যান্ত্রিক প্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দেশকালের ওপর মানুষের আধিপত্য ক্রমশই বেড়ে যেতে থাকে আর তাই একটি বিশ্বরাষ্ট্রের প্রয়োজনও মানুষ মর্মে মর্মে অনুভব করবে ৷ ক্রমশ মানুষকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে বেশী পরিমাণ মেলামেশা করতে হবে ও এই মেলা-মেশার খাতিরে একে-অন্যকে ভালভাবে বুঝবার চেষ্টাও করতে হবে ৷ মানুষজাতের অজস্র ভাষা৷ প্রতিটিই আমাদের ভাষা---আমাদের সকলকার ভাষা৷ এখানে আমার ভাষা---তোমার ভাষা বা দেশী-ভাষা বিদেশীভাষা --- এ জাতীয় মনোভাব অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ৷ এতটুকু মাত্র বলা যেতে পারে যে আমাদের অনেকগুলি ভাষা আছে, তবে তার মধ্যে মাত্র একটি বা কয়েকটি ভাষায় আমি নিজেকে ব্যক্ত করতে পারি৷

পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক কাঠামোয় যান্ত্রিকীকরণের সমস্যা ও সমাধান

বস্তুতঃ উন্নত ধরণের বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার অর্থই দ্রুত যান্ত্রিকীকরণ৷ প্রাচীনপন্থীরা এই যাত্রিকীকরণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মুখর৷ মোদ্দা কথাটা এই যে পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক কাঠামোয় যাত্রিকীকরণের অর্থ-ই জনসাধারণের অধিকতর দুঃখ---অধিকতর বেকারী৷ এজন্যেই প্রাচীনপন্থীরা এর বিরোধী৷ পুঁজিবাদকে না হটিয়ে জনকল্যাণ করতে গেলে যান্ত্রিকীকরণের বিরোধিতা করতেই হবে৷ কারণ যন্ত্রের উৎপাদিকা শক্তি দ্বিগুণ বেড়ে গেলে মনুষ্য শক্তির প্রয়োজন ঠিক অর্ধেকে নেবে যায়, আর তাই পুঁজিবাদীরা তখন ব্যাপকভাবে কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই করে৷ অল্পসংখ্যক আশাবাদী বলতে