জনগণকে সজাগ হতেই হবে

লেখক
প্রবীর সরকার

যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় রাজ্যগুলির আর্থিক স্বচ্ছলতা ও সামাজিক সুসংহতি দৃঢ় ও কঠোর থাকাটা বিশেষভাবে প্রয়োজন৷ তবেই যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা সার্থক হবে৷ কিন্তু ভারতের মতো বহুভাষাভাষীর দেশে এটারই দারুণ অভাব৷ কেন্দ্র সরকারের যেভাবে কেন্দ্রীয় শাসন পরিচালনা করা দরকার সংবিধান অনুসারে সেটা কিন্তু  প্রথম থেকেই দেখা যাচ্ছে অত্যন্ত নড়বড়ে ও পক্ষপাতিত্বমূলক যেখানে বিরোধী দলের শাসন রাজ্যগুলিতে সেখানেই বিমাতৃসুলভ আচরণ করে চলেছে কেন্দ্র ৷ কেন্দ্রে  যখন কংগ্রেস সরকার ইন্দিরার আমলে তখন পশ্চিম বাঙলায় জোট সরকার কে কতটা যে হেনস্থা করা হয়েছে সেটা দেখা গেছে দেশে জরুরী অবস্থা জারীর আগে পর্যন্ত৷ শেষে জরুরী অবস্থার পর যখন বাম রাজত্ব পশ্চিম বাঙলায় চালু হয় তখন কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার ছিল না ছিল না ছিল জনতা সরকার তখন কিন্তু দেখা যায় কিছুটা নোতুন সরকারের নরমভাবে৷ পরে কৌশল করে ইন্দিরা পুনরায় কেন্দ্রে এসে কেন্দ্রে গদী সামলাতে বামেদের বাহির থেকে সমর্থন নিয়ে চলায় কিছুটা রাজ্য সরকারকে সাহায্য করায় ও রাজ্যের অনেক অন্যায়কে উপেক্ষা করায় বামশাসন দীর্ঘ বছর এ রাজ্যে শাসনের সুযোগ পায়৷ যেটা কিন্তু মোটেই যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন বলা চলে না৷ এ রাজ্য চিরকালই বঞ্চিত হয়েছে বাম ঘেঁসার জন্য৷ যেটা দেখা গেল ও যাচ্ছে বর্ত্তমান জনতা দলের দলছুট বিজেপি সরকার দলছুট কংগ্রেস দলের তৃণমূল সরকারের উপর করে চলেছেন৷ এটাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার মোটেই উজ্জ্বল দৃষ্ঠান্ত নয়৷ এটা পশ্চিমবাঙলার রাজ্য শাসন কব্জায় করতে শাসক দলের সমর্থকদের দলে টানতে দিল্লি থেকে প্লেন পাঠাচ্ছে৷ এদিকে শেষের দিকে ইন্দিরা সরকার চরম স্বৈরাচারিতার পরিচয় দেন৷ তাঁরই আমলে ১৯৮২ সালে সিপিএম-এর রাজত্বে ৩০ শেএপ্রিল সমাজসেবামূলক ধর্মীয় সংঘটন আনন্দমার্গের ১৭জন সর্বত্যাগী তরুণ তরুণী সাধক -সাধিকাকে কলকাতার উন্মুক্ত দিবালোকে নির্মমভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ও গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে তাঁদের গাড়ি থেকে নামিয়ে হত্যা করা হয় কসবায় বন্ডেল গেটে ও বিজনসেতুতে৷ সেই হত্যাকাণ্ড বিংশ শতাব্দীর নারকীয় ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড৷ সেই হত্যাকাণ্ডে ইন্দিরা নীরব ছিলেন কোন প্রতিবাদ করেননি আর বিচারালয়ে সিপিএম ও আশ্রিত হত্যাকারীদেরও কারোর শান্তি হয়নি৷  এই হলো গণতন্ত্র! তাছাড়া পরবর্ত্তীকালে অনেক চেষ্টা করে বর্তমান তৃণমূল সরকার- এর আমলে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয় মাননীয় কলিকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ‘লালার এজলাসে৷ বিচারপতি তদন্ত রিপোর্ট সরকারের এ জলাসে জমাও দেন কিন্তু অদ্যাবধি সরকার সে ব্যাপারে কোন মতামত দান করেননি! এটাই হলো এ দেশের যুক্ত রাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দস্তুর৷ ২০২১ সালে বিধানসভার নির্বাচন৷ আনন্দমার্গের পক্ষ থেকে আশা করা হয়েছিল এর কোন সুরাহা সরকার করবেন৷ সুপ্রিম কোর্টের আইন জীবীদের সংঘটনের সম্পাদক মাননীয় জয়দীপ মুখোপাধ্যায় এ ব্যাপারে সংবাদপত্রে দাবী তোলেন বিচার তদন্তের ফলাফল প্রকাশে সরকারী উদ্যোগ নিতে৷ কিন্তু কোন কিছুই সরকার করেননি অদ্যাবধি৷ সরকার সত্য উদঘাটনে এগিয়ে এলেন কিন্তু সরকার কালক্ষয় করছেন কেন সেটা অজ্ঞাত রয়েই গেল৷

আজ যাঁরাই শাসনে আসেন তাঁরাই সর্বদা দলীয় স্বার্থটাই বড় করে দেখেন জনগণের কথা ভাবার সময় নেই৷ তাই দেশ ও দশের স্বার্থে তরুণ তরুণী ও দেশের সচেতন নাগরিকদের ভাবতে  হবে ও এগিয়ে আসতে হবে বিশাল ভারতের কি ভাবে ধান্দাবাজ দলগুলির হাত থেকে মুক্তিলাভ হয়৷ আজ প্রকৃত দেশ সেবকদের প্রয়োজন স্বার্র্থন্ধ রাজনৈতিক দলগুলো শুধু দলীয় স্বার্থে দেশকে ধবংস করে চলেছে কিছু ধনী ব্যষ্টিদের সেবাদাস হয়ে৷ রাজ্যবাসীদের সজাগ হতেই হবে৷