কেন পশ্চিমবঙ্গ দিবস!

লেখক
মনোজ দেব

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের তারিখ নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছে৷ রাজভবনের পাল মহাশয় ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ দিবস সেরে নিয়েছেন৷ নবান্নের কর্র্তব্যষ্টিরা তারিখ ঠিক করতে গুণীজনদের নিয়ে বৈঠক সেরে নিয়েছেন৷

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ দিবস কেন? পশ্চিমবঙ্গ দিবস যে দিনই পালন করা হোক সেটা বাঙালীর কাছে একরাস লজ্জার৷ বাঙলা মানে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, বাঙলা মানে ঝাড়খণ্ড, বাঙলা মানে ত্রিপুরা, বাঙলা মানে বিহার, অসম, মনিপুর, মেঘালয়ের সঙ্গে যুক্ত বাঙলার অংশ৷ পশ্চিমবঙ্গ বাঙালীর এক বিরাট ক্ষত যে ক্ষতের জ্বালায় আজও লক্ষ লক্ষ বাঙালী জ্বলছে৷ সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ বাঙালীকে অর্থনৈতিক দিক থেকে ও জনগোষ্ঠীগত দিক থেকে দুর্বল করার জন্য  বাঙলার ভৌগোলিক অংশ টুকরো টুকরো করে বিহার (যার বৃহৎ অংশ আজ ঝাড়খণ্ড), উড়িষ্যা, অসম, মেঘালয়ের সঙ্গে যুক্ত করে দেয়৷

১৯১২ সালে কংগ্রেস অধিবেশনে বাঙলার কংগ্রেস নেতারা এই প্রসঙ্গ তুললে সেদিন সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দেশ স্বাধীন হলে বাঙলার অংশ বাঙলাকে ফেরৎ দেওয়া হবে৷ কিন্তু স্বাধীনতার পর দিল্লীর সরকার ও রাজ্যগুলির ডবল ইঞ্জিন সরকার বাঙলার সঙ্গে চরম বিশ্বাস ঘাতকতা করে আর বাঙলার অংশ ফেরৎ দেয়নি৷ শুধুমাত্র সেদিন বিহারের মানভূম জেলার মানুষ স্বাধীন দেশের স্বাধীন সরকারের কাছে অনেক লাঞ্ছনা গঞ্ছনা অত্যাচার সহ্য করে মানভূমের এক অংশ পুরুলিয়া পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করে৷ ধানবাদ মহকুমা বিহারেই থেকে যায়৷ সেদিন যদি পশ্চিমবঙ্গের শাসক কংগ্রেস মানভূমের মানুষের আন্দোলনের পাশে থাকত তাহলে মানভূম জেলা বাঙলার সঙ্গে যুক্ত হত৷ কিন্তু বিধানচন্দ্র রায়ের বাঙলার স্বার্থরক্ষা অপেক্ষা নেহেরুর সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষার দায়ে অনেক বেশি ছিল৷ তাই সেদিন তিনি প্রতিবেশি রাজ্যগুলির সঙ্গে যুক্ত বাঙলার অংশ বাঙলাকে ফিরিয়ে দেবার ন্যায্য দাবীটুকুও তোলেননি৷ তাই আজও বাঙালী সেই ক্ষতের জ্বালা নিয়েই বেঁচে আছে৷ পশ্চিমবঙ্গ দিবস সেই ক্ষতের ওপর নুনের ছিটে৷

৬৫ বছর ধরে বাঙলার অর্থনীতি শিল্প সাহিত্য সংসৃকতি ধবংস করছে কংগ্রেস সিপিএম৷ দেশবন্ধু, সুভাষচন্দ্রে আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে উত্তর ও পশ্চিমভারতের গান্ধী নেহেরু মার্র্ক ধান্দাবাজ দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতির আমদানি করেছে  বাম-কংগ্রেসঙ্গী পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অনেক আশা নিয়ে তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছে৷ কিন্তু সেই তৃণমূলে আজ সেই হার্র্মদরাই গ্রামে গঞ্জে ছড়ি ঘোরাচ্ছে, যাদের হাত থেকে বাঁচতে বাঙলার মানুষ সিপিএমকে বিদায় দিয়ে তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনে৷ কিন্তু আজ বিজেপির সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে তৃণমূল নেতারা বাঙলার উন্নত সংসৃকতি বিসর্জন দিয়ে উত্তম পশ্চিম ভারতীয় সংসৃকতির আমদানি করছে৷ ১৫ বছর আগেও বাঙলায় কোনো হনুমান মন্দির ছিল না৷ কিন্তু আজ তো গ্রামে গ্রামেও হনুমানের মন্দির৷ পুরুষোত্তম রাম সর্বজীবের সর্ব অস্তিত্বে বিরাজ করছে৷ কিন্তু সব রামই তো আর পুরুষোত্তম নন৷ রামকে সামনে রেখে হনুমানকে ভক্ত বানিয়ে পুজো করতে করতে মানুষ চেতনাহীন সংগ্রাম বিমুখ হয়ে যাবে৷ পুঁজিপতি শোষকের অবাধ শোষণের রাস্তা তৈরী হবে৷ শৈবতান্ত্রিক বাঙলার সভ্যতার যেটুকু এখনও অবশিষ্ট আছে৷ তাও অচিরেই ধবংস হবে৷

একইভাবে বিজেপির সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস বাঙালীর বঙ্গভাগের ক্ষতের জ্বালায় আবার নুনের ছিঁটে দেবে৷ বাঙালী বিদ্বেষী বিজেপি সেটা দিতেই পারে৷ কিন্তু তৃণমূল কেন করবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস বিজেপিকে অনুকরণ করে! এটা একমাত্র বাঙালী বিদ্বেষীরাই করতে পারে৷ স্বাধীনতার পরেই আওয়াজ ওঠা উচিত ছিল, অনেক দেরী হয়ে গেছে, তবু আওয়াজ উঠুক আপামোর বাঙালীর জনগণের কন্ঠে---অবিলম্বে প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর সঙ্গে যুক্ত বাঙলার অংশ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে৷ যেদিন হবে সেদিনই হবে পশ্চিমবঙ্গ দিবসঙ্গী