Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

গণতন্ত্রের প্রধান স্তম্ভগুলো দিন দিন নড়বড়ে হচ্ছে

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

ভারতে কদর্য রাজনীতি ও দুর্নীতি ব্রিটিশ আমলেই শুরু হয়েছে৷  অহিংসা ও গণতন্ত্রের মুখোশের আড়ালে স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্র সেদিনই কংগ্রেসের মধ্যে আত্মপ্রকাশ করেছিল৷ বিশেষ করে আদর্শে ও কর্তব্যে অটল সুভাষচন্দ্রের জেদী আপোষহীন মনোভাবকে মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি কংগ্রেসের আপোষকামী সুবিধাবাদী নেতৃত্বের পক্ষে৷  তাই সুভাষকে কংগ্রেস থেকে উচ্ছেদ করতে স্বৈরাচারের পথই তারা বেছে নিয়েছিল৷

ব্রিটিশ শাসনে গান্ধীর অনুমোদনে বিভিন্ন রাজ্যে যে সব কংগ্রেসী মন্ত্রিসভা গঠিত  হয়েছিল দুর্নীতির শুরু সেখান থেকেই৷সেই সময় গান্ধীজীর সচিব মহাদেব দেশাই জহরলালকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন---‘আমাদের কয়েকজন মন্ত্রির কাজে যে সত্য ও অহিংসা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে সে সম্পর্কে খোলাখুলি ও পুরোপুরি যাতে লেখো---বাপুজী তাই-ই চান৷’ কাটমানির চলন সেই দিন থেকেই৷ ব্যাপারটা শুধু শব্দগত পার্থক্য৷ মন্ত্রিরা বেতন ছাড়লেও ভাতার আড়ালে অনেক বেশী টাকা নিয়ে নিত৷ বিভিন্ন প্রদেশে কংগ্রেসী মন্ত্রিসভাগুলি সততার পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে মাত্র ৫০০ টাকা বেতন নিত, কিন্তু ব্যাপার হ’ল তারা বেতন ছাড়লেও বেতনের টাকাটা ছাড়েন নি৷ জহরলালের ব্যষ্টিগত বন্ধু এডওয়ার্ড টমসন জহরলালকে এক চিঠিতে লেখেন---‘কংগ্রেসী মন্ত্রিসভা মাসে মাত্র ৫০০ টাকা বেতন নিচ্ছেন শুণে আমি যারপরনাই আনন্দিত হয়েছিলাম৷ শুণে খুবই খারাপ লাগল---এই যে আত্মোৎসর্গ এর বেশীরভাগই ভুয়ো, কেননা তাঁরা বাকিটা ভাতা হিসেবে নিচ্ছেন৷’ অর্থাৎ ত্যাগের ছল করে বেতন ছাড়লেও ভাতার নাম করে গাড়ী-বাড়ী ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিত৷ দুর্নীতির সেই শুরু, স্বাধীনতার পর ৭২ বছরে তা আরো শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েছে৷ শুধু নামের হেরফের, তখন যেটা ভাতা ছিল এখন সেটাই কাটমানি৷

স্বাধীন ভারতে দুর্নীতির জাল বিস্তার করলেও গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভগুলি স্বাধীন সত্তা বজায় রেখেই চলছিল৷ দলীয় হস্তক্ষেপের বাইরেই ছিল৷ অনেকটাই নিরপেক্ষতা বজায় রেখে চলছিল৷ কিন্তু আজ সেই স্তম্ভগুলোর ভিত যেন আস্তে আস্তে আলগা হচ্ছে৷

গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখার অন্যতম স্তম্ভ বিচারবিভাগ৷ সেই বিচারবিভাগেরই নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ণ উঠেছে৷ প্রশ্ণ উঠেছে সুপ্রিম কোর্টের ভেতর থেকেই৷ কোনও বিরোধী দল বা জনতার মধ্য থেকে নয়৷ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তাঁরই চারজন বিচারপতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছিলেন৷ এই নিয়ে জল অনেকদূর গড়িয়েছিল৷ সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে বলা হয় সাতটি ভারতীয় ভাষায় সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রকাশ করা হবে৷ দুঃখের বিষয় সেই সাত-এর মধ্যে বাংলা ভাষা স্থান পায়নি৷ শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের প্রথম সারির কয়েকটি ভাষার মধ্যে বাংলা ভাষার স্থান৷ ভারতেও বাংলা বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর ভাষা৷  যদিও নানা কারচুপির মাধ্যমে হিন্দীকে বৃহত্তম দেখানো হয়েছে৷ শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির বিচারেও বাংলা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষা৷ সেই বাংলাকে সাতের মধ্যে স্থান না  দেওয়ায় সুপ্রিম  কোর্টের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠতেই পারে৷ অথবা কোন শাসকের অঙ্গুলী হেলনে এটা হয়েছে মনে হতে পারে৷ সুপ্রিম কোর্ট কি তার স্বাধীন সত্তা হারাতে বসেছে?

গণতন্ত্রের আর একটি শক্ত স্তম্ভ নির্বাচন কমিশন৷ তারও স্বাধীন অস্তিত্ব আজ সন্দেহের ঊধের্ব নয়৷ সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে পদত্যাগ করেন৷ একইভাবে সিবিআই সংবাদ মাধ্যম সর্বস্তরেই শাসক দলের কালো হাতের ছায়া দেখা যাচ্ছে৷

গণতন্ত্রের আড়ালে তাহলে কী হিটলারি শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটছে? সুভাষচন্দ্রকে কংগ্রেস ছাড়া করতে হিন্দুস্থানী হিটলারের নামে কংগ্রেসের ভেতর থেকে প্রথম জয়ধবনি উঠেছিল ভারতের মাটিতে৷ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে গিয়ে দেশনেতারা কত নীচে নামতে পারে, কত হীন হতে পারে সেদিন দেখিয়েছিল কংগ্রেসের ভেতর থেকে সুভাষ বিরোধীরা৷

গান্ধী মনোনীত প্রার্থী পট্টভী সীতারামাইয়াকে পরাজিত করে সুভাষচন্দ্র দ্বিতীয়বার সভাপতি নির্বাচিত হলেন৷ গণতন্ত্রের মুখোশ খসে পড়ল কংগ্রেসের ভিতর থেকে৷ শুরু হল কদর্য রাজনীতির খেলা৷ যে কোন ভাবেই হোক সুভাষকে তাড়াতে হবে! কংগ্রেসে থেকে গান্ধীর মতের বিরুদ্ধে যাওয়া চলবে না৷ তাতে দেশ যদি অধঃপতে যায় যাক৷

কংগ্রেসের গঠনতন্ত্র অণুযায়ী যিনি কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হবেন তিনিই ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করবেন৷ কিন্তু কংগ্রেসের ভেতর থেকে প্রস্তাব নেওয়া হ’ল-সুভাষকে গান্ধীর মনোমত লোকদের নিয়ে ওয়ার্কিন কমিটি ঘটন করতে হবে৷ গান্ধীর আর সময় হ’ল না সুভাষকে সময় দেওয়ার৷ বরং গান্ধীবাদী নেতা শেঠ গোবিন্দ দাস এক সভায় বললেন---‘ফ্যাসিস্টদের মধ্যে মুসোলিনী, নাৎসীদের মধ্যে হিটলার, কমিউনিষ্টদের মধ্যে ষ্ট্যালিনের যে স্থান, কংগ্রেসসেবীদের মধ্যেও মহাত্মা গান্থীরও সেই স্থান৷’ সভার মধ্য থেকে আওয়াজ উঠল---হিন্দুস্থান কা হিটলার মহাত্মা গান্থীজী কী জয়!’ না, গান্ধী সেদিন এ কথার কোন প্রতিবাদ করেননি৷

ব্যথিত কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখলেন--- ‘অবশেষে আজ, এমনকি কংগ্রেসের মঞ্চ থেকেও হিটলারী নীতির জয়ধবনী শোণা গেল....৷ স্বাধীনতার মন্ত্র উচ্চারণ করার জন্যে যে বেদী উৎসৃষ্ট, সেই বেদীতেই আজ ফ্যাসিস্টের সাপ ফোঁস করে উঠেছে৷’

সুভাষচন্দ্রকে ঘিরে যে নীচ,হীন, কদর্য রাজনীতি কংগ্রেসে শুরু হয়েছিল সেই রাজনীতির শিকার হয়েই গান্ধীজীকে চলে যেতে হয়েছে৷ কিন্তু ভারতবর্ষের রাজনীতি থেকে হিটলারীতন্ত্র চলে যায়নি৷ গণতন্ত্রের মুখোশের আড়ালে হিটলারি শক্তির ভজনা চলছেই৷ দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও কংগ্রেস মুক্ত ভারত চাইলেও গান্ধী মুক্ত ভারত চাননি৷ বরং তিনি একটু বেশী গান্ধীভক্ত৷ তাই দেশ কংগ্রেস মুক্ত হলেও হিটলারিতন্ত্র থেকে মুক্ত হবে কি?৷ প্রশ্ণ উঠছে কারণ---হিন্দুস্থান কা হিটলার গান্ধীর ছায়া আজও শাসকদের আচ্ছাদিত করে রেখেছে৷  আজ যেভাবে গণতন্ত্রের স্তম্ভগুলো স্বাধীন সত্তা হারিয়ে শাসকের বশীভূত হচ্ছে, তাতে একদিন হয়তো কেউ আওয়াজ ওঠাবে---হিন্দুস্থান কা হিটলার কি জয়!

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
আরও

সম্পাদকীয়

নোতুন পৃথিবী গড়তে আদর্শ মানুষ চাই
অধঃপতিত সমাজ---উত্তরণের পথ কি
পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ

প্রবন্ধ শিরোনাম

তোমার আসা যাওয়া
মহানধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে শিক্ষাদান হবে মানসিকতার ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে কখনোই নয়
কৃত্রিম হিন্দী ভাষা নয় সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক হোক
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি প্রাউট প্রবক্তার সতর্ক বার্তা
তোমার আসা যাওয়া
সমবায়ের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদন করে গ্রামীন বেকারত্ব দুর করা সম্ভব
কালীপূজা ও তন্ত্রসাধনা
সমাজ শাস্ত্র

পুরানো মাসিক খবর

  • October 2017 (106)
  • September 2017 (136)
  • August 2017 (105)
  • July 2017 (111)
  • June 2017 (104)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 12
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved