Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

কৃষি বিপ্লব

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

কোন দেশের অর্থনীতির বিকাশ নির্ভর করে বিভিন্ন শ্রেণীর লোকের সামবায়িক শ্রমদানের ওপর৷ এই কারণেই প্রাচীন গৃহস্থালী অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে শ্রমবিভাজন অবস্থার উদ্ভব হয়৷ শ্রমিক, কর্ষক, ছুতোর, কামার, স্বর্ণকার, কুমার, বৈদ্য, কেরাণী প্রভৃতি প্রতেক্যের কার্যের মূল্যই অর্থনীতির সামূহিক বিকাশে সমান৷ প্রাচীন ভারতের অর্থনীতিতে সামবায়িক প্রচেষ্ট-ভিত্তিক ব্যবস্থার জন্যে এক স্থিতিস্থাপক অর্থনীতি বিদ্যমান ছিল৷ বৈদিক যুগে ভারতীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বর্ণাশ্রমের ওপর ভিত্তি গড়ে উঠেছিল ও এই চতুবর্ণ নিজ নিজ কর্ম সুষ্ঠু ভাবে করে যেত৷ একটি বিশেষ শাখা কৃষিকাজ করতে, বাকীরা করতো অন্য কাজ ৷ সাই মিলে আজকার মতো কৃষিক্ষেত্রে ভিড় জমাতো না৷ এই বর্ণাশ্রম-ব্যবস্থা ছিল উত্তরাধিকারী সূত্রে আবদ্ধ৷ ফলে অর্থনীতিতে ভারসাম্যহানির সুযোগ ছিল কম৷ কৃষিকার্য, ক্ষুদ্র ও হটাৎ উভয় প্রকারের ক্ষেত খামার, সার প্রভৃতির প্রয়োগ ,শস্যের ব্যাধি দূরীকরণের ব্যবস্থা, নদী নালা কেটে জল সেচের ব্যবস্থা, কৃষি-কার্যের উপযোগী পশুপালন প্রভৃতি বিষয়ে রাজা নিজে মনোযোগ দিতেন৷ জঙ্গল কেটে চাষযোগ্য জমির আয়তন বাড়ানো , যে সমস্ত জমিদার চাষ করতে না পারার জন্যে জমিগুলি অনাবাদি ফেলে রাখত, তাদের কাছ থেকে জমি নিয়ে যারা চাষ করতে পারে তাদি’কে সুযোগ দেওয়া প্রভৃতি তখনকার রাষ্ট্রের কর্তব্য ছিল৷ জমির মূল্য নির্ধারিত হ’ত জমির উর্বরতা অনুর্বরতার ওপর৷ কৃষি উৎপাদিত দ্রব্যের দাম রাষ্ট্র নিজে বেঁধে দিত৷ যার ফলে ব্যবসায়ীদের দ্বারা কর্ষকেরা শোষিত হার সুযোগ প্রায়ই ছিল না৷

কিন্তু ইংরেজরা ভারতে আসার পর অর্থনীতির এই ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়৷ তার প্রধান কারণ হ’ল দেশীয় কৃষি বা শিল্পের উন্নতির জন্যে ব্রিটিশ সরকার সর্বদা উদাসীন ছিল৷ তারা এরজন্যে কোন পরিকল্পনা করেনি বরং এমন এক নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিল যার ফলে কেরাণী গোষ্ঠীর লোক তৈরী হতে থাকে৷ এদের ব্রিটিশ শাসনের বিভিন্ন পদে চাকুরি নিতে শুরু করে দেয়৷ এর ফলে কৃষি ব্যবস্থার ওপর আঘাত লাগে বড় বেশী৷ দ্বিতীয়তঃ যে সমস্ত দেশীয় শিল্প-কারখানা ছিল সেগুলিও ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়৷ যেমন--- তাঁত শিল্প৷ ম্যানচেষ্টার থেকে মিলের তৈরী কাপড় সরবরাহ হওয়ার ফলে তাঁতের তৈরী কাপড়ের চাহিদা কম হয়ে যায়৷ এ্যলুমিনিয়ামের বাসন পত্র সরবরাহের ফলে ভারতের মৃৎশিল্প ধবংস হয়ে যায়৷ যে সমস্ত দু’চারটা কারখানা ওরা প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে পুরানো শিল্প গুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ এরফলে লোকে ধীরে ধীরে নিজেদের পেশা পরিত্যাগ করে কৃষিকার্যে ভিড় লাগাতে শুরু করে৷ সঙ্গে সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে জমির চাপ আরও বাড়তে থাকে৷ পরিণতি স্বরূপ জমির ভাগ বাঁটোয়ারা বাড়তে থাকে সমগ্র কৃষিযোগ্য জমি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়৷ এর ফলে উৎপাদনের হারও কমতে থাকে৷ বাহির থেকে খাদ্য আমদানি করে ভারতীয় অধিবাসীদের খাদ্য সরবরাহ করার ব্যবস্থা শুরু হয়ে যায়৷ কিন্তু দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় খাদ্য আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়াতে ভারতের খাদ্য সমস্যা তীব্রভাবে দেখা দেয়৷ বাঙলাদেশে ১৯৪৩ সালে যে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় তা থেকে মুক্তি বা উদ্বার পাবার জন্যে ওয়েবেল সরকার রেশন পদ্ধতি চালু করেন৷ এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করেও সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করেন৷ কিন্তু এই সমস্ত ব্যবস্থায় সমস্যা তো সমাধান হয়নি বরং অধিকাংশ লোককে ধীরে ধীরে খাদ্যের রেশনিং-এর ফাঁদে পড়তে হয়৷

ব্রিটিশ চলে যাবার পরও ১৯৪৭ সালে ১৪৫ লক্ষ লোককে রেশনের আওতায় আসতে হয়েছিল৷ এরফলে কালোবাজারী, ব্যবসায়ীদের মুনাফাখোরী ও দুর্নীতি প্রভৃতি ক্রমশঃ বৃদ্ধি পায়৷ ভারতের জাতীয় সরকার সেদিন এই সমস্যা দূর করার জন্যে হঠাৎ এই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে উঠিয়ে দেন৷ এই হঠকারিতার জন্যে খাদ্যমূল্য অত্যধিক বেড়ে যায়৷ ফলে পুনরায় খাদ্যের নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি চাল করতে হয়৷ পরে ভারতের নেতৃবৃন্দ ‘খাদ্যের উৎপাদন বাড়াও’ এই শ্লোগান (‘Grow more food’ campaign) দিয়ে খাদ্য-সমস্যা দূর করতে চেষ্টা করেন৷ তা কোন অংশেই সার্থক হতে পারে নি৷ এর কারণ হ’ল এই পদ্ধতিতে আাদী জমির উৎপাদনকে বাড়ানোর জন্যে কৃষিব্যবস্থার পরিবর্তন না করে বন-জঙ্গল কেটে জমির পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা চলে৷ সে সমস্ত জমি চাষযোগ্য হবে কিনা, সে সব বিচার বিবেচনা না করে’ জমির আয়তন বৃদ্ধিতে কোনই ফল হয় না৷ তাদের অধিকাংশ জায়গায় উপযুক্ত সেচব্যবস্থার সুবিধা না থাকার জন্যে কৃষিকার্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়৷ সর্র্র্েপরি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার আমলারা তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি গাফিলতি দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন৷ কারণ দেশের শাসন-ব্যবস্থার নীতির ফলে কোন দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ নেই৷ এরফলে অসৎ ব্যবসায়ীরা ভারতে কৃষিব্যবস্থাকে আধমরা করে রেখে, খাদ্য সমস্যাকে বাড়িয়ে নিজেদের স্বার্থ-পূর্তির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ সামগ্রিক বিচারে তাই ভারতের বর্তমান কৃষিব্যবস্থা অতীব দূর্বল৷

যে কোন উন্নত অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য হ’ল শতকরা ৩০ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ ভাগ লোক কৃষি ও বাকী লোকেরা শিল্পে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়োজিত থাকবে৷ কৃষিতে অধিক লোকের চাপ সুস্থ অর্থনীতির লক্ষণ নয়৷ কিন্তু ভারতের প্রায় ৭৫ শতাংশ লোক জমির ওপর নির্ভরশীল৷ ভারতীয় অর্থনীতির পক্ষে এটি বিপজ্জনক লক্ষণ৷ যারা কৃষি-কাজে আত্ম নিয়োগ করেছে তাদের বছরের মধ্যে বেশিরভাগ দিনই বেকার বসে থাকতে হয়৷ এতে করে মনুষ্যশক্তির অপচয় ছাড়া আর কিছুই হয় না৷ ভারতের এই কৃষিসমস্যা দূর করা আশু প্রয়োজন৷ এরজন্যে অধুনা ভারতের এক বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী কৃষিবিপ্লবের শ্লোগান দিতে আরম্ভ করেছেন৷ তাঁরা চীনের কৃষিবিপ্লবের পদ্ধতিকে অনুসরণ করে ভারতের সমস্যার সমাধান করতে চান, কিন্তু চীনের অর্থনৈতিক সমস্যা ও ভারতের অর্থনৈতিক সমস্যার আকাশ-পাতাল পার্থক্য৷ তাই কখনও সেখানকার পলিসি-তে এদেশের সমস্যার সমাধান হবে না৷ চীনের সমস্যা হ’ল কৃষি-ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি করা সত্ত্বেও তার বিরাট জনসংখ্যাকে খাওয়ান সম্ভব হয়ে উঠছে না৷ এই বিপুল জনসংখ্যার বাসস্থানের জায়গাও চীনে বর্তমানে নেই৷ তার ওপর জনসংখ্যা ক্রমশই বেড়ে যাচ্ছে৷ শিল্পক্ষেত্রে চীন প্রায় সমস্ত সম্পদ নিয়োজিত করে ফেলেছে৷ যে অল্প পরিমাণ শিল্পের সম্ভাবনা বাকী রয়েছে, চীন তা বর্তমানে ব্যবহার করে ভবিষ্যতকে আরও অন্ধকারময় করে দিতে চায় না বলে তার সংরক্ষণ করে চলেছে৷ সুতরাং চীনের অর্থনৈতিক সমস্যা এখন প্রধানতঃ তিনটি,  ১৷ কৃষিব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্যে খাদ্য সরবরাহ করা, ২৷ কৃষিকার্যে বেশ কিছু সংখ্যক লোককে নিয়োজিত করা ও ৩৷ শিল্প-কারখানা প্রসার করে বাকি সংখ্যক লোকদের কর্ম-সংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া৷

এই তিনটির কোনটাই তাড়াতাড়ি করে ফেলা সম্ভব নয় বলে মাওবাদে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছ থেকে জমি কেড়ে নেওয়ার পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে৷ তিববত, ভারতবর্ষ ও রুশের ওপর চীনের যে হামলা তার মূলে রয়েছে এই জমির ক্ষুধা৷ এটাই চীনের পক্ষে এখন কৃষি বিপ্লবের চতুর পরিকল্পনা৷     (ক্রমশঃ)

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

‘কৃষ্ণ’ নামের একাধিক ব্যাখ্যা
মনকে ভারমুক্ত রাখ
অষ্টকমল
ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

পূর্বার্দ্র তত্ত্ব
যোগাযোগের প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে স্থানীয় ভাষার ব্যবহার বাঞ্ছনীয়
মানব প্রগতি
সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
আরও

সম্পাদকীয়

বিদ্বেষ বিষে জর্জরিত বিজেপি
বাঙালী আর একটা অগ্ণি স্ফুলিঙ্গের অপেক্ষায়
প্রতিকুলতাকে প্রতিহত করে এগিয়ে চলার দুর্জয় ইচ্ছাশক্তি বাঙালীর আছে
মশাহীন দেশের তকমা ধরে রাখতে পারল না আইসল্যান্ড
বিকশিত বাঙলার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয় মানবতার আর্থিক মুক্তি চাই

প্রবন্ধ শিরোনাম

গোরাচাঁদ ও একতারা
ভারত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার রক্ষা ও সংবিধানকে বাঁচিয়ে রাখার প্রধান দায়বদ্ধতা হলো যৌথভাবে কেন্দ্র ও রাষ্ট্রের নির্বাচন কমিশনেরই আর স্বৈরাচারিতাকেও নিয়ন্ত্রণ করা!
হিংস্র দুঃসময় বাঙালীর দুয়ারে
আর্থিক বিকাশ শেষ কথা নয়
গোরাচাঁদ ও একতারা
নাগরিকত্ব প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার---তথাকথিত এস আই আর এর নামে একজনও বাঙালীর নাগরিকত্ব হরণ করা চলবে না--- চক্রান্ত করে তথাকথিত এস আই আর-এর মাধ্যমে কোন বাঙালীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না
কেন্দ্র সরকারের ডি.এ নিয়ে বোটবাজীটা নির্বাচন প্রাক্কালে এটা কোন ধরনের কেন্দ্র সরকারের গণতান্ত্রিক সেবা
গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষার এস.আই.আর প্রক্রিয়া ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্বের আগ্রাসনের হাতিয়ার

পুরানো মাসিক খবর

  • February 2026 (220)
  • August 2022 (106)
  • July 2022 (93)
  • June 2022 (167)
  • May 2022 (92)
Pagination
  • Page 1
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved