ইংরেজ শাসনে আমরা জন্মাই ও প্রথম জীবনে সেই আমলেই লেখা পড়া শিক্ষা করি পরবর্ত্তীকালে ৪৭ সালে ইংরেজ শাসন না থাকলেও সেই পদ্ধতি ও পাঠ্যপুস্তক চলে৷ অনেক পরে শিক্ষায় হাত দেয় দেশীয় শাসক এই রাজ্যে বামফ্রন্ট৷ শিক্ষকগণের বেতন বলতে প্রায় কিছুই ছিলনা! শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি করে৷ কিন্তু উচ্চ বিদ্যালয়ের যে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা যা মাষ্টার মহাশয়দের ও স্কুলের পক্ষ থেকে দেয় জমানো টাকা কড়ায় গণ্ডায় দিয়ে দিতে হয় তৎকালীন সরকারকে তারপর শিক্ষকদের মাসিক বেতন সরকার দেন, তার আগে গ্রামের স্কুলে মেয়েদের বেতন সরকার দিতেন৷ স্কুলগুলোকে সরকার বাৎসরিক কিছু অনুদান দিত৷ তখন ডি.এ অর্দ্ধেক স্কুল ও অর্দ্ধেক সরকার দিতেন৷ শিক্ষকদের লিখিত দিতে হতো স্কুল ডি.এ দিয়েছে৷ না পেলে সরকার অর্দ্ধেক অংশ ছয় মাস অন্তর দিত৷
অডিটর অনেক সময় প্রশ্ণ করতেন নিছক জানতে সত্যই কি স্কুল ডি.এ আপনাদের দেন? উত্তর বলতে হতো পেয়েছি যখন স্বাক্ষর করেছি তখন পেয়েছি এই উত্তরে তিনি মুখে হাসি দিতেন! এই অবস্থা ছিল! আজ সরকার সব কিছুই দেন৷ কারণ সরকার স্কুলকে সরকারী বলে ঘোষনা করেছেন! তাই সরকার তাঁদের ইচ্ছামতো শাসন চালাচ্ছেন! এই রাজ্যে বামফ্রন্টের আমলে শিক্ষায় প্রাধান্য বেশ ছিল, সেই সরকার গিয়ে এখন তাঁদের প্রাধান্য তেমই চলছে৷ কিছু বলার নেই! তবে সরকার আসবে ও সরকার যাবে কিন্তু সেই মানুষ গড়ার পীঠস্থান আজ দলতন্ত্রের প্রভাব ফেলাটা ভারতীয় সংবিধান মতে অন্য সরকার এসেছে৷ এখন অবশ্যই বেআইনী ব্যাপার! এটা কোন দলীয় সরকারই মানেন না! কারণ এই দেশে গণতন্ত্র বলতে কিছুই নেই! দুঃখের সঙ্গে বলি সরকার দলের, দলের দ্বারা দলের জন্য৷’’ তাই কেন্দ্রে ও রাজ্যে যে দল শাসন করে সেই দলের সেই অনেকটা স্বৈরাচারী শাসন চলছে৷ তবে বর্তমানে বিজেপি নানাক্ষেত্রে হিন্দুত্ববাদীর রূপ নিয়ে যে ব্যভিচার করে চলেছে সেটা অসহ্য যদিও কেন্দ্র সরকার মিলিজুলি সরকার! এই সরকার কে খোঁড়া সরকার বলা হয়৷ তবুও ব্যবহার অত্যন্ত অগণতান্ত্রিক! ভারতযুক্তরাষ্ট্র অতীতে রাজ্যগুলি আজ সংবিধানে রাষ্ট্রের অধিকার পেয়েছে৷ এদের অর্থাৎ রাষ্ট্রের অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে বার বার কেন্দ্র মহামান্য সুপ্রিমকোর্ট হলেন সংবিধানের রক্ষক তাই কিছুটা বাঁচোয়া! শাসকগণ বিশেষ করে কেন্দ্রে যাঁরা আসেন সব কটি দু’একটি প্রধানমন্ত্রী ছাড়া একেবারে বদমেজাজী আত্ম অহংকারী ও দলতন্ত্রী! সেই দিক থেকে বিরোধী দলের অধিকাংশ রাজ্য সরকার কিছুটা সহানুভূতিশীল৷ বর্তমানে দেশের যেটাকে ইতিহাস বলা সেটাকে কেন্দ্র সরকার মুসলীম শাসকদের প্রায় বাদ দিয়ে বসেছে৷ সেই সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাসে
হিন্দু রাজত্বের শাসক ও দেব-দেবীর মন্দির কৃষ্টি সংস্কৃতি পড়ানো হয় যার সবটাই ইতিহাস নয়, বিকৃত৷ এই দেশ হিন্দু -মুসলমান সবার৷ স্কুলে ছাত্র-ছাত্রা শিক্ষক অভিভাবক ও হিন্দু-মুসলমান উভয়েই আছে৷ এইভাবে বিকৃত ইতিহাসের মাধ্যমে বিশ্বের সাম্প্রদায়িকতা প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে৷ অবশ্যই বিভিন্ন স্তর থেকে প্রতিবাদ উঠছে৷ কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা আন্তর্জাতিক স্তরে দেশ ছোট হয়ে যাচ্ছে৷
- Log in to post comments