নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হবে

লেখক
প্রবীর সরকার

ভারত যুক্তরাষ্ট্র নামটি বড়ই গুরুত্বপূর্ণ অর্থাৎ কয়েকটি রাজ্যযুক্ত হয়েই ভারত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র৷ আর এই দেশের শাসক বিশেষ করে কেন্দ্রে অবস্থান করছে একটি সরকার যে সরকার গড়ে উঠেছে রাজ্যগুলির নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা৷ যাদের বলা হয় এমপি৷ নানা দলের নির্বাচিত প্রতিনিধি সেখানে বর্ত্তমান৷ তাঁরা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি৷ তাঁরা পদমর্যাদায় সবাই সমান৷ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে দল শাসক হয়ে শাসন করে আর সংখ্যা লঘিষ্ঠরা বিরোধী ভূমিকায় থেকে দেশের শাসন কাজ চলে৷ তাই গণতন্ত্রে শাসক বিরোধী দলের দুয়েরই গুরুত্ব আছে৷ দেশের গণপরিষদ সৃষ্ট সংবিধান মোতাবেক দেশ শাসিত হয়৷ সাংসদ অর্থাৎ উচ্চকক্ষ আর নিম্নকক্ষ এর জনপ্রতিনিধিরা ঐক্যমতে ভারত যুক্তরাষ্ট্রে শাসিত হয়৷ এই পদ্ধতিটি খুবই জটিল কারণ দেশটিতে নানা ধর্মমতের লোকের বাস৷ কিন্তু গণতন্ত্রের নামে যে সংসদীয় গণতন্ত্র চলছে এদেশে সেটা দেখা যাচ্ছে ধীরে ধীরে দলীয় সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরীখে স্বৈরাচারিতার দিকে এগিয়ে চলার মানসিকতাটা বৃদ্ধি পাচ্ছে শাসকদের আচরণে! যেমন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে হঠাৎ বর্ত্তমান বিজেপি সরকার নিজেদের হিন্দুত্ববাদী বলে প্রচার করলেন৷ তাঁর পর খোদ প্রধানমন্ত্রী একক উৎসাহে রামলালার মন্দির নির্মান করে ও রামলালার নাকি প্রাণ দান করে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করে অযোধ্যায় এক প্রকার ধর্মগুরু হয়ে উঠছেন৷ সংবিধান যেথায় বলছে দেশ ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র! দেখা গেল নির্বাচন পদ্ধতিটা দেশের নির্বাচন নিয়ন্ত্রিত হয় এক স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের দ্বারা৷ কারণ খোদ কেন্দ্রের শাসকদের ও নির্বাচিত হয়ে শাসনে আসতে হয়! কিন্তু এবারে দেখা গেল ২০২৪-এর কেন্দ্র নির্বাচনের ঘোষনাটি নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার আগেই প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসে ঘোষণা করলেন আগামী লোকসভা নির্বাচনে তাঁর দল ৩৭০টি আসন পাচ্ছে প্রয়োজনে আরে বেশী হতে পারে যেমন ৪০০টিও হতে পারে৷ তিনি নিজেই আইন শৃঙ্খলার অবণতি ঘটেছে বলে এই রাজ্যে ১০০ কোম্পানী আধা সামরিক বাহিনী পাঠিয়ে দিলেন৷ তার পরের দিন নির্বাচন কমিশন রাজ্যে তদন্তে এলেন৷ রাজ্য প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কিছু সিদ্ধান্ত নিলেন৷ ক’দিন পরেই নির্বাচন ঘোষিত হলেও নির্বাচন আচরণবিধি চালু হলো৷

দেখা গেল সেই আদর্শ আচরণবিধির মধ্যেই কেন্দ্রের ইডি, সিবিআই, এন.আই.এ ইত্যাদি তদন্ত সংস্থাগুলির রাজ্যের বিশেষ করে বিরোধী রাজ্যগুলিতে বিরোধীমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারী রাজকর্মচারীদের নানা অভিযোগে তদন্তের মধ্যে এক বিশেষ করে বিরোধী রাজ্যগগুলিতে আতঙ্কের সৃষ্টি করে চলেছে কেন্দ্র সরকার৷ যেটি সারা দেশের নিরপেক্ষ নাগরিকগণ ভাল চোখে দেখছেন না৷ কেন্দ্রের আচরণের মধ্যে সারা দেশের ৮৭ জন অবসর প্রাপ্ত উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মচারীগণ মুখ্যনির্বাচন কমিশনকে এক অভিযোগপত্র লিখেছেন এই বলে যে যখন আদর্শ আচরণবিধি ঘোষিত হয়েছে সারা ভারতে তখন লোকসভা নির্বাচনের পরিবেশ নিরপেক্ষ নয় কেন? তাঁরা আবেদন করেন মোদি সরকারের মেশিনারীও নিয়ন্ত্রণে নিক নির্বাচন কমিশন যেমন নিয়েছেন রাজ্যগুলির সারা ভারতে৷ সবকিছু রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণ বিধিটির আদেশ বলে সকল রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসন বিভাগ এই কটি দিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই চলতে বাধ্য৷

এদিকে দিল্লীতে অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন যেন চলছে৷ যেখানে দিল্লি রাজ্যের মন্ত্রী ও প্রশাসকগণ যেন ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছেন কারণ সেখানে কেন্দ্র সরকারের নিয়োজিত সেই ডেপুটি গভর্নরের পত্রে তারা সকলে অপেক্ষারত কোন কাজকর্ম দিল্লি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রিত রাজ্যে যেন সবই অকেজো হয়ে পড়েছে৷ অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণ বিধি নির্বাচনকালে বলবৎ৷ এইভাবে যেন গলাটিপে মারার এই অবিবেচিত আচরণে ধবংসের দিকে টেনে নিয়ে চলেছে! এই হলো সেই কেন্দ্রের স্বেচ্ছাচারী সরকারের লজ্জাজনক এক অপশাসন নোংরা দলতন্ত্রের নামে চলছে নাকি মহান গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা!

এই সব ব্যাপার দেখে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারত যুক্ত রাষ্ট্রের মোট ৮৭ জন অবসর প্রাপ্ত উচ্চরাজকর্মচারী যাঁরা বর্ত্তমানে অবসর প্রাপ্ত তাঁরা একটি পত্রে মুখ্য নির্বাচন কমিশনকে আবেদন করেছেন যে তিনি যেন অবশ্যই আদর্শ আচরণবিধিকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করে মহান দেশের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্বাচনকে সার্থক করে তোলেন কারণ তিনিই হলেন একমাত্র স্বাধীন সংস্থার প্রধান নির্বাচনকে সাফল্যমণ্ডিত করার৷ তা না হলে নির্বাচনটাই হয়ে যাবে একটি প্রহসন! কেন্দ্র সরকারের আচরণগুলি মোটেই বিধিসম্মত নয়৷ মনে পড়ে সেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরী অবস্থা জারী করে গোটা দেশটাকে কারাগারে পরিণত করেছিল৷ ১৯৭৭ সালে নির্বাচনে হেরে তিনি জরুরী অবস্থা তুলে নেন৷ বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আবারও এক অস্বচ্ছ অগণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে৷ একমাত্র নির্বাচন কমিশনই পারেন নিরপেক্ষভাবে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে দেশকে রক্ষা করতে৷