Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

সংস্কৃতি ও সভ্যতা

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

সাধারণতঃ ‘সমাজ’ বলতে নারী ও পুরুষের সমাহারকে বোঝায়৷ কিন্তু শব্দটির মূলগত তাৎপর্য তা নয়৷ প্রকৃত অর্থে ‘সমাজ’ বলতে বোঝায়, যেখানে সকলে একই কর্মবন্ধনে, সম্মিলিতভাবে এগিয়ে চলেছে---‘সমনাম্ এজতে’৷ আমরা কখনো কখনো বাসে, ট্রামে, ট্রেনে বহু লোককেই তো একত্রে দেখে থাকি৷ কিন্তু তা সমাজ পদবাচ্য নয়৷ একটা সর্বজনগ্রাহ্য আদর্শের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে যখন অনেক মানুষ একই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায় ও তাকে পাওয়ার জন্যে সক্রিয় হয়ে ওঠে তখনই তা সমাজ পদবাচ্য৷ ইংরেজী‘society’ শব্দটি ‘সমাজ’ শব্দের খাঁটি প্রতিশব্দ নয়৷ সামাজিক অগ্রগতি এক ধরণের সামাজিক কর্মেরই ফলশ্রুতি যেখানে পারষ্পরিক ঐক্যবন্ধন আরও বেশী সুদৃঢ় হয়ে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে চলে৷

অতি প্রাচীনকালেও সামাজিক জীবন ছিল৷ কিন্তু কোনও দৃঢ়নিবব্ধ সমাজ ছিল না৷ সামাজিক জীবনের এই যে দৃঢ়নিবদ্ধতা তা বলতে গেলে কিছু পরিমাণে ক্ষত্রিয় যুগ ও বৈশ্যোত্তর যুগের অবদান৷ আবার বৈশ্য যুগই শূদ্রবিপ্লবকে ডেকে আনে৷ সুতরাং যতক্ষণ পযন্ত না শূদ্রবিপ্লবের অনুকূল পরিবেশ তৈরী হচ্ছে ততক্ষণ কোনও সামাজিক চেতনাই তৈরী হয় না---এমন বলা চলে৷ এখন প্রশ্ণ হ’ল---কেমন করে এই সামাজিক চেতনা আনা যেতে পারে?

সামাজিক চেতনা বলতে বোঝায় একটা বিশেষ আদর্শের প্রভাব, যার দ্বারা জনগণের মধ্যে নবজাগরণ ঘটে থাকে৷ এটা অনেকগুলি উপাদানের ওপর নির্ভর করে থাকে৷ এদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিরাট ব্যষ্টির নেতৃত্ব৷ সেকারণেই শূদ্র বিপ্লবের ক্ষেত্রে প্রয়োজন সুদৃঢ় ব্যষ্টিত্ব৷ এর অভাবে মজবুত সমাজ কখনও প্রতিষ্ঠিত হতে পাররে না---সামাজিক বিপ্লব তো দূরের কথা৷ সমাজকে ঠিকপথে পরিচালিত করবার জন্যে তাই দুটি উপাদান মূলতঃ দরকার---একটি মহান আদর্শ, অপরটি বিরাট ব্যষ্টিত্ব৷

যারা সমাজ সম্বন্ধে বড় বড় কথা বলেন অথচ ভবিষ্যৎ ধবংসের আশঙ্কা করে ভীত হয়ে ওঠেন তারা একথাটা জানেন না যে প্রকৃত অর্থে যা সমাজ তা জগতের বুকে এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি৷ তাই এই মুহূর্ত্তে আমাদের প্রাথমিক কর্তব্য হচ্ছে ‘সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করা৷ আমাদের ‘‘সংগচ্ছধবং সংবদধবং’’ মন্ত্ত্রে সমাজ চেতনার মূল ভাবটা নিহিত আছে৷ যেখানে সেরূপ কোন মন্ত্র নেই সেখানে কোন আদর্শ নেই, আর যেখানে কোন আদর্শ নেই সেখানে জীবন একটা লক্ষ্যহীন যাত্রা মাত্র৷

মানব জীবনের অভিব্যক্তি নানান দিকে ঘটে থাকে৷ জীবনের চলার পথও তাই বহুমুখী৷ এইসব বহুমুখী কার্যধারার মধ্যে মানুষের সংস্কৃতিই সমাজের প্রতিচ্ছবিকে বহন করে৷ এক কথায় মানব জীবনের বহুমুখী অভিব্যক্তির সমাহারকে বলব ‘সংস্কৃতি’৷ সমাজে গোষ্ঠীতে গোষ্ঠীতে মানব অভিব্যক্তির ধারাগত তারতম্য ঘটতে পারে৷ যেমন কেউ হয়তো হাত দিয়ে খায়, কেউ বা চামচ দিয়ে, আবার কেউ বা কাঠি(chopstick) দিয়ে, কিন্তু খায় তো সবাই৷ মানব সংস্কৃতিও তাই এক ও অবিভাজ্য৷ সুতরাং ওই অভিপ্রকাশ সমূহকে হিন্দু সংস্কৃতি, মুসলমান সংস্কৃতি, ভারতীয় সংস্কৃতি অথবা ইয়ূরোপীয় সংস্কৃতি বলা অবাস্তব৷ যারা এই সব খণ্ড ভাবসমূহকে পোষণ করে থাকেন তাঁর মানব সভ্যতার শুভাকাঙ্খী নন৷

বৌদ্ধিক উন্নতির মাধ্যমে জীবনের অভিপ্রকাশকে বাড়ানো যেতে পারে, তথাকথিত অনুন্নত গোষ্ঠীভুক্ত মানুষের মধ্যে শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীতের কোন স্থানই নেই৷  স্বভাবতঃই তাদের ক্ষেত্রে জীবনের অভিব্যক্তি তুলনামূলক বিচারে কম৷ যেখানে অভিব্যক্তির ধারাগুলির সংখ্যা বেশী, বলা যেতে পারে, জাগতিক দিক থেকে সেখানেই সাংস্কৃতিক উন্নতি অপেক্ষাকৃত বেশী৷ যার মধ্যে জীবনের এই অভিব্যক্তির বৈচিত্র যত বেশী, বলা যেতে পারে সেই তত বেশী সংস্কৃতি সম্পন্ন৷ যেখানে জীবনের অভিব্যক্তি জড়াভিমুখী তাকে বড় জোর করতে পারি ‘কৃষ্টি’ যা সংস্কৃতিরই অংশ বিশেষ৷ অর্থাৎ অভিব্যক্তির অমার্জিত অভিপ্রকাশই হচ্ছে কৃষ্টি৷ আবার জীবনের অভিজ্ঞতার স্থূল ও সূক্ষ্ম অভিব্যক্তির সমষ্টিগত রূপই হচ্ছে সংস্কৃতি৷ গোষ্ঠীতে গোষ্ঠীতে কৃষ্টিগত পার্থক থাকতে পারে কিন্তু মানুষের সংস্কৃতি সবসময়ই এক৷

সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তিও সভ্যতার সমার্থক নয়৷ জীবনের বিভিন্ন অভিব্যক্তির ক্ষেত্রে যেখানে সংযম রয়েছে, যৌক্তিকতার অভিপ্রকাশ ঘটেছে, তাই হচ্ছে সভ্যতা৷ একটা বাস্তব উদাহরণ নেওয়া যাক৷ খাদ্যগ্রহণ করা সাংস্কৃতিক অভিপ্রকাশের একটি৷ যাঁরা যুক্তি দিয়ে অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ করাকে ক্ষতিকর বলে মনে করেন তারা এর থেকে বিরত থাকেন৷ এই যে মার্জিত বোধ এটি সভ্যতারই পর্যায়ভুক্ত৷ যদিও মানবের সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি বহুবিধ কিন্তু তার এই বহুমুখী অভিব্যক্তির ওপর কোন নিযন্ত্রণ বা সংযম নাও থাকতে পারে৷ সেক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক বিচারে তাদের আমরা উন্নত বললেও বলতে পারি৷ কিন্তু সভ্য বলব না৷ কাজেই সংস্কৃতি সম্পন্ন মানুষকেই সভ্য বলা যাবে না, যদি তাদের অভিব্যক্তির মধ্যে যৌক্তিকতা, বিচারশীলতা ও সংযমের অভাব থাকে৷ অনুরূপভাবে যারা তথাকথিত সাংস্কৃতিক বিচারে অনুন্নত তারা সামাজিক বিচারে অনুন্নত নাও হতে পারে৷ অনেকেই আছেন যাঁরা আদিবাসীদের অনুন্নত বলে মনে করেন৷ কিন্তু নিরপেক্ষ বিবেচনা একথাই বলবে যে জীবনের নূ্যনতম অভিব্যক্তি সমূহের জন্যে তারা সংস্কৃতিগতভাবে অনুন্নত হতে পারে কিন্তু সামাজিক অগ্রগতির  ক্ষেত্র তারা অনেকের তুলনায় অনেক বেশী এগিয়ে আছে৷ সামাজিক দিক দিয়ে তারা অধিকতর প্রাগ্রোসর৷ আফ্রিকানদের সম্বন্ধেও এ কথাই প্রযোজ্য৷

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ বাধা বিপত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এসেছে৷ সংগ্রামই জীবনের মূল মন্ত্র৷ যারা নিরস্ত্রীকরণের কথা বলে চিৎকার করেন তারা আসলে মানব সমাজের শত্রু৷ এমনকী তারা অপরাধীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতেও অনিচ্ছুক৷ এটা অবশ্য সত্য, সভ্যতার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ নিরস্ত্রকে ও দুর্বলকে আক্রমণ করবে না৷ কিন্তু এ জগতের এমন অনেক মানুষ আছেন যারা নিজেদের সভ্য বলে মনে করেন কিন্তু নির্মমভাবে অসহায় ও নির্দোষকে ধবংস করেন৷ হিরোসিমা ও নাগাসাকির মর্মান্তিক ধবংসকাণ্ড তথাকথিত সভ্য রাষ্ট্রের আদিম বর্বরতার স্বাক্ষরই বহন করছে৷ যদিও তারা সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে অগ্রণী কিন্তু সভ্যতার দিক দিয়ে তারা সম্পূর্ণ অনুন্নত৷ তাদের ভারতীয় আদিবাসীদের চরণে এসে সভ্যতা শেখা উচিত৷ যারা আজ এ্যাটমবোম ও হাইড্রোজেন বোমের অধিকারী তাদের এই শিক্ষাই দেওয়া উচিত যে, এই বিশ্ব মানুষের জন্যেই---দানবের জন্যে নয়৷ তাদের বিরুদ্ধে মানুষের মাথা তুলে ধরার জন্যে আরও বেশী শক্তিশালী অস্ত্র আবিষ্কার করতে হবে৷

বর্তমানে সমাজ ও সভ্যতার বিশেষ যত্ন নেওয়া দরকার৷ বৌদ্ধিক উন্নতির মাধ্যমে সাংস্কৃতিক প্রগতি ঘটাতে হবে৷ এজন্যে সাংস্কৃতিক বিকাশের ক্ষেত্রে বিচারপ্রবণতা ও সংযমকে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে৷ আজকের দিনের মানুষের জীবনে এই গুণগুলির সম্পূর্ণ অভাব রয়ে গেছে৷ সর্জনমূলক আদর্শের দ্বারা ও সভ্যতার প্রসারের মাধ্যমে একটা সুষ্ঠু মানব সমাজ তৈরী করা এই বিশ্বের নেতাদের অবশ্য কর্তব্য৷ যদি তা করা হয় তবে সাংস্কৃতিক প্রগতি অনিবার্য ভাবেই সম্ভব হবে৷

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
আরও

সম্পাদকীয়

নোতুন পৃথিবী গড়তে আদর্শ মানুষ চাই
অধঃপতিত সমাজ---উত্তরণের পথ কি
পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ

প্রবন্ধ শিরোনাম

তোমার আসা যাওয়া
মহানধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে শিক্ষাদান হবে মানসিকতার ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে কখনোই নয়
কৃত্রিম হিন্দী ভাষা নয় সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক হোক
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি প্রাউট প্রবক্তার সতর্ক বার্তা
তোমার আসা যাওয়া
সমবায়ের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদন করে গ্রামীন বেকারত্ব দুর করা সম্ভব
কালীপূজা ও তন্ত্রসাধনা
সমাজ শাস্ত্র

পুরানো মাসিক খবর

  • August 2018 (120)
  • July 2018 (154)
  • June 2018 (112)
  • May 2018 (139)
  • April 2018 (161)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 10
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved