বর্তমান অত্যাধুনিক যুগে মানুষের সমাজগুলি বস্তু জগতে ভোগবাদী শাসকদের সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক মানসিকতা ও অন্ধ ধর্মমতের বন্ধনে যেন সারা পৃথিবীটাই দু’টো ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে! শোষক গোষ্ঠী আর অন্যদিকে সিংহভাগ মানুষ সেই শোষকদের শোষনের কারণে শোষিত গোষ্ঠী! তাই দু’টি গোষ্ঠীর জন্ম হয়েছে৷ সেখানে কোন ঐক্য নেই! সমগ্র জনগোষ্ঠী আজ বিভক্ত গরীব শ্রেণীর সিংহভাগ নিরাপত্তা হীনতা ও চরম অভাব অনটনের জ্বালায় তাঁরা ঐক্যবদ্ধ নয়! ফলে গরিবরাই প্রচণ্ডভাবে চিরবঞ্চিত হয়ে আধমরার মতো পড়ে আছে৷ জীবনটা কিন্তু বাঁচার লড়াই করেই বাঁচতে হয়! জগৎটা হলো কুরুক্ষেত্র! যাঁরা কর্মঠ প্রতিবাদী হয় তাঁরা কিন্তু জীবনে গরিব হলেও বাঁচার রসদ পান! ইতিহাসের পাতায় অনেকেই স্মরণীয় হয়ে আছেন যাঁরা গরিব ঘরের সন্তান৷ ভাগ্যের দোহাই দিয়ে বাঁচা যায় না৷ আজ সেই ধনীরাষ্ট্র আমেরিকায় লক্ষ লক্ষ শোষিত মানুষজন পথে নেমে তীব্র প্রতিবাদ করছেন সেই ট্রাম্পের শাসনের বিরুদ্ধে! তাঁর পদত্যাগ চাইছেন কারণ তিনি ধান্দাবাজ ও যুদ্ধ যুদ্ধ নীতিতেই ব্যস্ত৷ তাঁর অবাস্তব আমদানী শুল্কনীতিটা সারা পৃথিবীতে অর্থনৈতিক কাঠামোটাই ধবংস করেছে৷ তাই তাঁদের রাখতে দেশের সৈন্যবাহিনী পাঠাচ্ছেন! বহু কর্মক্ষম ব্যষ্টিদের চাকরী থেকে বাসিয়ে দিয়েছেন বেতন কমিয়েছেন নাগরিকদের৷ বিদেশীদের তাদের নিজের দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন তাই অস্থিরতা বর্তমানে চরম সেখানে! ঠিক তেমনটা হয়েছে এই ভারত যুক্তরাষ্ট্রে৷ চরম বেকার সমস্যায় ঘরে ঘরে শিক্ষিত কর্মক্ষম তরুণ, তরণীর কাজ নেই৷ আইন শৃঙ্খলা একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে৷ ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে সেই হিন্দুত্বের কথা বলে সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে! রাজ্যগুলিকে তাঁদের প্রাপ্য কেন্দ্রীয় অনুদানে ইচ্ছা করে বন্ধ করে বিরোধী দলের সরকারগুলিকে একেবারে আর্থিক সমস্যায় ধবংস করার চরম দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে দলীয় স্বার্থকে বলবৎ করতে স্বেচ্ছাচারিতার মতলবে আছে পথেই চলছে৷ দুর্নীতি এমন বেড়েছে এর জন্য ভারতের ১৪৪ কোটি মানুষের বাঁচাটা কঠিন হয়ে পড়েছে৷ আর বোটের প্রচারে অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে ঠকাচ্ছে প্রচারকগণ! শুধু গদীর স্বার্থে! তাই আজ শোষিত বঞ্চিত জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে মিলে চরমভাবে প্রতিবাদ করতে হবে যাতে এই কেন্দ্র সরকার উচিত শিক্ষা পান৷ আজ আমেরিকা রাশিয়ার পুতিন সরকার বিরোধী নীতির ধারক বাহক, তারা এক হয়ে যুদ্ধে মেনেছে৷ প্রতিবেশী ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলি ধবংস করতে ও আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে ভাগ করে নিতে৷ এদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়েছে৷ এট কোন ধরণের আন্তর্জাতিক কুটনীতি? তাই শোষিত ও নির্যাতিতদের বসে না থেকে তীব্রভাবে প্রতিবাদ করতে হবেই৷ সারা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শান্তি রক্ষায় পৃথিবীর ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলি বোট দেন৷ কিন্তু অল্প সংখ্যক রাষ্ট্র বিরোধীতা করেন৷ আর আমেরিকা, রাশিয়া ও ভারতরাষ্ট্র এর নেতারা নীরব থাকেন৷ ভারত শান্তির দূত ও গোষ্ঠীর নিরপেক্ষ দেশ৷ তাই পৃথিবীর বর্তমান অবস্থাটাই সম্পূর্ণ সংকটজনক৷
এই অবস্থায় সেই বৃহত্তম সংখ্যক শোষিত নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ করতে দরকার একদল সৎনীতিবাদী আধ্যাত্মিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ তরুণ তরুণীদের যাঁরা সারা পৃথিবীর শোষিত সমাজগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করে যাতে বিক্ষোভও প্রতিবাদ করে উপরি উক্ত শাসকদের বিরুদ্ধে দেশে দেশের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে৷ যিনি বিশ্ব স্রষ্টা তিনি চান বাঁচার লড়াই করতে হবে! অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহ্য করে৷ তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে! বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের উক্তি! যাঁরা অন্যের বেঁচে থাকার ভৌতিক সম্পদ কেড়ে নেন শাসক হিসাবে ও শোষক হিসাবে তাঁরা পাপাচারি তাঁদের উচিত শিক্ষা দিতে তাই ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব যাতে হয় এই পৃথিবীর বুকে তার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা৷ তাই বলতে বাধ্য হচ্ছি এই যুগে এমন একজন মহামানব আসেন যিনি নীরবে ঘরের কোনো বসেই সারা বিশ্বে এমন নীতিবাদী মানব গড়ার কাজ করেন যাঁরা বিশ্বৈকতাবোধে উদ্বুদ্ধ মানবতাবাদী৷ তিনি হলেন মহান দার্শনিক শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার ওরফে শ্রীশ্রী মার্গগুরু আনন্দমূর্ত্তিজী৷ তাঁর প্রবর্তিত প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্বের যার নাম প্রাউট সেই তত্ত্বের অনুগামীরা হলেন সমাজ সেবক প্রাউটিষ্ট৷ তাঁরা হলেন মানবতাবাদী সমাজ সেবী৷ এই শোষকগণ দলীয় স্বার্থে সমাজগুলিকে ধবংস করে দিয়েছে নিছক দলীয় সংকীর্ণতার স্বার্থে ভেদাভেদ করে! তাঁদের বিরুদ্ধে সৎসাহসের সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়ে ঐ নিপীড়িত নর নারায়ণদের নিয়ে তীব্র আন্দোলন করে সারা বিশ্বে এক বৃহত্তম মানুষের সমাজ গড়ে তুলতে হবে৷ তবেই বিশ্বব্যাপী পুঁজিপতিদের অমানবিক শোষণ বন্ধ হবে৷
শুধু শোষণ বন্ধ হলেই হবে না৷ সমবায়ের মাধমে ব্লকে ব্লকে বিকল্প বিকেন্দ্রিত আর্থিক ব্যবস্থায় কৃষি শিল্প, কৃষি সহায়ক শিল্প, অকৃষি শিল্প গড়ে মানুষের কর্মসংস্থান করতে হবে ও তাদের হাতে ক্রয় ক্ষমতা দিতে হবে৷ তবেই প্রকৃত শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে উঠবে৷
- Log in to post comments