Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

অষ্টকমল

শ্রী শ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী

আমাদের শরীরে আটটি চক্র আছে৷ মূলাধার, স্বাধিষ্ঠান, মণিপুর, অনাহত ও বিশুদ্ধ– এই পাঁচ চক্র আর এর ওপর আজ্ঞাচক্র, গুরুচক্র ও সহস্রারচক্র*৷ এই হ’ল অষ্টকমল৷ পরমাত্মার লীলা এই অষ্টকমলকে নিয়ে৷

সাধনায় যখন মানুষ এগিয়ে যায় তখন কী হয়?

‘‘সর্বতঃ পাণিপাদং

তৎ সর্বতোক্ষিশিরোমুখম্৷

সর্বতঃ শ্রুতিমল্লোঁকে সর্বসাবৃত্য তিষ্ঠতি৷৷’’

এই অষ্টকমল যখন ফোটে, তা কেমন করে ফোটে? মানুষ যখন মনের সমস্ত ভাবনা নিয়ে পরমপুরুষেরই উপাসনা করে তখন সমস্ত ভাবনা, সমস্ত আকুতি একের দিকেই ছুটে যায়৷

এইজন্যে বলা হয় ধর্ম বিশ্লেষণাত্মক নয়, সংশ্লেষণাত্মক৷ অনেককে এক করে নিয়ে একেরই দিকে চলা– এই হ’ল ধর্মের মূলমন্ত্র৷ আর এককে খণ্ড খণ্ড করা– এটা হ’ল জড়সাধনা৷ ধর্মের স্বভাব সংশ্লেষণত্মাক আর জড়ের স্বভাব বিশ্লেষণাত্মক৷ ধর্ম ও জড়ের মধ্যে মূলগত পার্থক্য বা মৌলিক পার্থক্য হ’ল একটা সংশ্লেষণাত্মক আর দ্বিতীয়টা বিশ্লেষণাত্মক৷ একটা অনেককে নিয়ে একের দিকে চলতে চায়, আর অন্যটা এককে অনেক খণ্ডতে বিভাজিত করে দিতে চায়৷ প্রতিটি জীবের মধ্যে যে অষ্টকমল আছে তাদের গতি একের দিকে, অনেকের দিকে নয়৷ অর্থাৎ সমস্ত কমল একেরই বন্দনা করে, একেরই উপাসনা করে– অনেকের নয়৷

এই ‘এক’ কেমন? ‘‘সর্বতঃ পাণিপাদং তৎ’’৷ তুমি তোমার কমল তাঁকে উৎসর্গ করলে তিনি নেবেন না, আর অন্য আর একজন তা করলে নিয়ে নেবেন, এমনটি হতে পারে না৷ ‘‘সর্বতঃ পাণিপাদং তৎ’’৷ ‘পাণি’ মানে হাত, ইংরেজীতে যাকে পাম্ (palm) বলে৷ অর্থাৎ সবার সামনে তাঁর হাত আছে৷ যে–ই কমল দিতে চাইবে, তিনি নিয়ে নেবেন৷ গরীবের নেবেন না, ধনী লোকের নেবেন– এমনটি নয়  সকলেরই নেবেন৷ যে মূর্খ, শাস্ত্র জানে না, যে ‘আইডিয়া এণ্ড আইডোলোজি’ পড়েনি, সে কি তাহলে পরমাত্মাকে পাবে না? ‘সর্বতঃ পাণিপাদং তৎ’৷ তাঁর হাত সবার সামনে আছে, তাঁর ‘পাণি’ সবার জন্যেই আছে৷

‘পাদং স্তৎ’– তাঁর পা–ও সবার সামনে আছে৷ অর্থাৎ যে কর্ম করবে সে তাঁকে পেয়ে যাবে৷ ‘সর্বতোক্ষিশিরোমুখম্’৷ তাঁর চোখও সবার সঙ্গে আছে৷ তাঁর চোখ সবাইকেই দেখছে, কাউকে দেখছে না এমন নয়৷ পরমপুরুষ একজনকে দেখছেন, অন্য কাউকে দেখছে না, এমন নয়৷ পরমপুরুষ যদি একজনকে এক সেকেণ্ডের জন্যে, এক মুহূর্তের জন্যে না দেখেন বা দেখা বন্ধ করে দেন, তাহলে তার মৃত্যু হয়ে যাবে৷ জীবিত যখন আছ তখন অবশ্যই একথা মনে রেখ যে পরমপুরুষ তোমাকে দেখছেন৷ তা, মনে রেখ, পরমাত্মা যার দিকে চব্বিশ ঘণ্ঢা তাকিয়ে আছেন সে কখনও ঘৃণ্য, নীচ, বা হীন হতে পারে না৷ সামাজিক দৃষ্টিতে তুমি যদি তুচ্ছ হয়ে গিয়েও থাক, পরমাত্মার কাছে কখনওই তুচ্ছ হতে পার না৷ বলা হয়, তাঁর কাছে কেউই হেয় নয়৷ অবহেলার পাত্র নয়৷

‘সর্বতোক্ষিশিরোমুখম্’৷ সবার দিকে তাঁর মুখ আছে৷ অর্থাৎ যে তাঁর দিকে তাকাবে সে–ই তাঁকে পেয়ে যাবে  ‘সর্বতোক্ষিশিরোমুখম্’– অর্থাৎ সার্বভৌম ও সর্বকালিক রূপে তাঁকে পাবে৷ পিঁপড়ে অথবা হাতী, অজগর অথবা উই, যে–ই তাঁর দিকে তাকাবে, তিনিও তাঁর দিকে তাকাবেন, কারণ সে দিকেও তাঁর মুখ আছে৷ সাধুও  তাঁর দিকে তাকিয়ে ‘তব দ্রব্যম্’ বলে দান করলে, পরমাত্মা তা হাসতে হাসতে  নিয়ে নেবেন আর পাপীও তাঁর দিকে তাকিয়ে ‘তব দ্রব্যম্’ বলে দান করলে তিনি তা নিয়ে নেবেন– ‘সর্বতোক্ষিশিরোমুখম্’৷ ভেবে দেখ জগতে যাঁরা আত্মীয়–স্বজন, মা–বাবা তাঁরা সন্তানের জন্যে কী না করেন? তাঁরা সন্তানের কী করে ভালো হবে, একথা সবসময় ভাবেন৷ সমস্ত জীব, সকল বস্তু সম্পর্কে ভাবা তাঁর কাজ৷ তাই রাম–শ্যাম–যদু, পণ্ডিত–মূর্খ ইত্যাদির বিচার এখানে নেই৷ তুমি তোমার নিজের সমস্যা নিয়ে যতটা চিন্তিত– কী করে সমাধান হবে, কোথায় যাবে– তার চেয়ে বেশী চিন্তিত তিনি৷ তাই পৃথিবীতে তুমি নিশ্চিন্ত হয়ে থাকতে পার৷ কারণ, তোমার মস্তিষ্ক্ যতটা মজবুত, তাঁর মস্তিষ্ক্ তার চেয়ে অনেক বেশী মজবুত৷ তোমার মস্তিষ্কের জন্ম তাঁর থেকেই৷ তাই ছোট্ট একটা মস্তিষ্ক্ নিয়ে তুমি আর কত দূর ভাবতে পারবে তার চেয়ে নিজের চিন্তা তাঁকে সমর্পণ করে দাও৷

অনেকে আছেন যাঁরা পরমপুরুষের কাছে এটা–ওটা চান৷ ভাবেন, যদি পরমাত্মাকে কোনো দিন একান্তে পেয়ে যাই তাহলে কোনো বর চেয়ে নোব৷ ‘এই বর দাও, সেই বর দাও– ছেলেরা পরীক্ষায় যেন পাশ করে যায়– মেয়েদের যেন বিয়ে হয়ে যায়, ভালো ঘর–বর পায় অথচ খরচ যেন না করতে হয়৷ কিন্তু ভেবে দেখ তোমার যা দরকার, তোমার প্রকৃত প্রয়োজন কী, তা তুমি যতটা না বোঝ, তার চেয়ে বেশী পরমাত্মা বোঝেন৷ তোমার প্রকৃত প্রয়োজন কী হতে পারে তা তুমি জান না, তিনি জানেন৷ তোমার ভবিষ্যৎ তোমার মাথায় নেই, কিন্তু তাঁর মাথায় আছে৷ ভবিষ্যতের গর্ভে কী আছে– কী বস্তু কোথায় কীভাবে নিহিত, তা তোমার জানা নেই, তিনি জানেন৷ নিজের অতীত তুমি ভুলে গেছ, তিনি কিন্তু ভোলেননি৷ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ– এই যে ত্রিকালিক বন্ধন, এটা তাঁর জন্যে নয় কারণ তিনি কালের স্রষ্টা, তাই তিনি কালবাধিত নন৷

‘সমপ্লুষিণা সম মশকেন সম নাগেন সম এভিস্ত্রিভিলোকৈঃ৷’

‘প্লুষিণ’ মানে উইপোকা আর ‘মশক’ মানে মশা৷ ‘নাগ’ শব্দের অনেক অর্থ, একটা অর্থ হ’ল পাহাড়ী ঝর্ণা৷ ‘নগ’ মানে পাহাড় আর ‘নাগ’ মানে পাহাড়ী ঝর্ণা৷ আর একটা অর্থ হ’ল ম্যামথ (mammoth) অর্থাৎ ঐরাবৎ যা বর্তমান হাতীর চেয়ে চার গুণ বড় ছিল৷ এখন এটা পৃথিবী থেকে লুপ্ত হয়ে গেছে৷ ইংরেজীতে বলে ‘মামথ’  আর সংস্কৃতে ‘ঐরাবত’ বা ‘নাগ’৷ তাই, মশা বা উইয়ের প্রতি তাঁর যতটা দরদ, ঐরাবতের প্রতিও ঠিক ততটাই৷ তাদের জন্যে তিনি যতটা ভাবেন বা চিন্তা করেন, ‘সম নাগেন’– ঐরাবতের জন্যেও ততটাই ভাবেন৷ ঐরাবতের চেয়ে এরা তো অনেক ছোট, কিন্তু তাদের প্রতিও সমান ভাবনা– বেশী কম নয়৷

‘সম এভিঃ ত্রিভিঃ লোকৈঃ’৷ আর এই যে ত্রিলোক– স্থূল, সূক্ষ্ম আর কারণ জগত, তার প্রতিও তাঁর তেমনই সমান চিন্তা, ঊনিশ–বিশ নয়৷ অর্থাৎ একটা মশা বা উইয়ের প্রতি যতটা সহানুভূতি, সমগ্র বিশ্বের জন্যেও ততটাই৷ কেউ যদি ভাবে যে সে স্পেশাল ফেবার বা বিশেষ সহানুভূতি পাবে তা কিন্তু নয়, তাঁর কাছে সবাই সমান৷

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
আরও

সম্পাদকীয়

নোতুন পৃথিবী গড়তে আদর্শ মানুষ চাই
অধঃপতিত সমাজ---উত্তরণের পথ কি
পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ

প্রবন্ধ শিরোনাম

তোমার আসা যাওয়া
মহানধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে শিক্ষাদান হবে মানসিকতার ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে কখনোই নয়
কৃত্রিম হিন্দী ভাষা নয় সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক হোক
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি প্রাউট প্রবক্তার সতর্ক বার্তা
তোমার আসা যাওয়া
সমবায়ের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদন করে গ্রামীন বেকারত্ব দুর করা সম্ভব
কালীপূজা ও তন্ত্রসাধনা
সমাজ শাস্ত্র

পুরানো মাসিক খবর

  • August 2018 (120)
  • July 2018 (154)
  • June 2018 (112)
  • May 2018 (139)
  • April 2018 (161)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 10
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved