Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

নোতুন পৃথিবী গড়তে আদর্শ মানুষ চাই

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

মানুষ নিছক উদর সর্বস্ব জীব বিশেষ নয়৷ মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম প্রাণী৷ কারণ একমাত্র মানুষই পারে এই বিশ্বের সৃষ্টি রহস্য জানতে৷ তার সূক্ষ্মতম মানসিক বিকাশের মাধ্যমে৷ অন্য কোন প্রাণীর সেই সামর্থ নেই৷ তবে সঞ্চর ও প্রতিসঞ্চর ধারার মাধ্যমে যে সৃষ্টি প্রবাহ চলে তার প্রথম ও শেষ কথা হ’ল--- আমরা যথা হতে আসি তথায় ফিরিয়া যাই৷ সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মতম সত্তা থেকে সঞ্চর ধারার স্থূল থেকে স্থূলতম সত্তায় রূপান্তরিত হয়ে সৃষ্টি চলেছে৷ সেই এক কোষি প্রাণী থেকে আরম্ভ করে এর অগ্রগতি, তাই জীবজন্তু, গাছপালা থেকে আরম্ভ করে ধীরে ধীরে এই মানুষের সৃষ্টি৷ মানুষ মন প্রধান জীব হিসেবে নিজেকে জানতে চায়৷ আর সেই জানার আকাঙ্খাতে সেই আত্মিক সাধনার মাধ্যমে নিজের জন্মের রহস্য ও সৃষ্টির রহস্যও জানতে সক্ষম হয়৷ এটাই আত্মসাধনা৷ তারই মধ্য দিয়ে সে নিজেকে জানতে পারে৷ এই কারণে মানুষকে দৈহিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সাধনা করতে হয়৷ এই তিনটি দিকের উন্নয়নে তাই মানুষকে নজর দিতে হয়৷ সুপ্রাচীনকালে এই ভারতবর্ষের মাটিতে যেসব মনীষীগণ জন্মগ্রহণ করেন তারা এই তিনেরই বিকাশের গুরুত্ব দিতেন৷ দেহের মাধ্যমে মানুষ কাজ করবে৷ তাই দেহের ক্ষুধা মেটাতে তাদের কাজ করে যেতে হ’ত৷ খাদ্য সংগ্রহে ও বেঁচে থাকার জন্যে কাজ করতে হ’ত৷ বিরুদ্ধ শক্তির সঙ্গে লড়াই করতে হ’ত৷ তাই বলা হয় সংগ্রামই জীবন৷ শুধু বেঁচে থাকাটাই মানুষের জীবন নয়, সেটা হ’ল অনুন্নত প্রাণীদের কাজ৷ মানুষকে মনের ক্ষুধা মেটাতে, আর্থিক ক্ষুধা মেটাতে তার দরকার হ’ত এমন কিছু সূক্ষ্ম বস্তুর যেগুলি খাদ্যদ্রব্য দিয়ে মেটানো যেত না৷ সেগুলি ছিল সঙ্গীত, কাব্য, নাচ, গান, যেগুলি মনের তৃপ্তি দিতে পারে, আর তার চেয়ে সূক্ষ্ম হ’ল আধ্যাত্মিক সাধনা৷ আমি কে? কোথা থেকে এসেছি, সেটা জানা অর্থাৎ আত্মজ্ঞান লাভ৷ এই তিনের ক্ষুধা মেটাতে মানুষকে কাজ করে যেতে হয়৷ তিনটে নিয়ে এগোতে হয়৷ তবেই মানুষ মনুষ্যত্ব লাভ করে৷ আত্মজ্ঞান লাভই আসল জ্ঞান লাভ৷ এই যে তিনের পূর্ত্তির অনুশীলন, এটার উপর প্রাচীন ভারতের মুনীঋষিগণ জোর দিতেন৷ তারা সেই পথের সন্ধান দিয়ে গেছেন৷ এই যে তিনের সাধনা এটা সকলকে অর্থাৎ সকল মানুষকে যারা মানুষের আধার পেয়েছে তাদের করে যেতে হবে৷ সেখানে কোন জাত-পাত, সাদা-কালো, লম্বা-চওড়া কোন ভেদাভেদ নেই৷ উন্নত মেরুদণ্ডী জীব মানুষ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই সেই পথ অনুসরণ করে আত্মজ্ঞান লাভ করতে পারে৷ তাই বলা হয় মানব সমাজ এক ও অভিভাজ্য৷ আর এই পথকে লাভ করার অধিকার সকলেরই আছে৷ নারী ও পুরুষের সবাই সেই সুখ ও আনন্দের প্রত্যাশী৷ তিনেরবিকাশেই মানুষ হয়ে ওঠে আদর্শবান মানুষ আর এটাই হ’ল একমাত্র আনন্দ লাভের পথ৷ মানুষ একা বাঁচতে পারে না, তাই সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে থাকতে হয়৷ তাই ব্যষ্টি ও সমষ্টি দুইয়েরই অতি প্রয়োজন৷ সমষ্টিবদ্ধ হয়ে চলতে সমাজ গড়তে হয়েছে মানুষকে তাই সমাজকে অস্বীকার করার উপায় নেই৷ মানুষ এই পৃথিবীর গ্রহের অধিবাসী৷ সকলের অধিকার আছে বেঁচে থাকার৷ তাই কেউ যাতে বঞ্চিত না হয় সেটা দেখার ভার সমাজের৷ তাই সমাজের সার্বিক কল্যাণ সমবেতভাবে মানুষকে করতে হবে৷ আজ অত্যাধুনিক যুগে আমরা বাস করছি৷ সকলকে নিয়ে চলতে হবে৷ শোষণ করা অপরাধ৷ সবাই জানে, কিন্তু শোষণই বেশী হচ্ছে এই মাটির পৃথিবীতে৷ বঞ্চণার শিকার কোটি কোটি মানুষ,মুষ্টিমেয় ভোগ করছে বেশী করে৷ এরই অবসান ঘটান সৎ নীতিবাদীদের কাজ৷ সংগচ্ছধবং মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে চলতে হবে৷ প্রতিটি অঞ্চলকে শোষণমুক্ত করতে হবে৷ আজকের বৃহৎ পরিবার পৃথিবীকে এক বৃহৎ পরিবারে অর্থাৎ সমাজে পরিণত করাটাই হ’ল মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ মানুষের পবিত্রতম ব্রত ও কর্ম৷ বাঁচো ও অন্যকে বাঁচতে দাও---এটাই হোক পৃথিবীর মানব সমাজের কেমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য৷ এই মানুস সমাজের বিরুদ্ধ শক্তির সঙ্গে লড়াই করে আজ এসে পৌঁছেছে বর্তমান অবস্থায়৷ আজও কিন্তু সেই শোষণ চলছে৷ মানুষ মারার জন্যে ভয়ঙ্কর অস্ত্র প্রতিযোগিতা চলছে এই মাটির বুকে৷ কিন্তু কোটি কোটি মানুষ অসহায় ও অভুক্ত হয়ে আছে৷ প্রতিটি মানুষ জন্মেছে অধ্যাত্ম জীব হিসাবে৷ তাই আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে৷ আর সেই পরিবেশ এসেছিলেন সদাশিব ও শ্রীকৃষ্ণ আরও অনেকে৷ অন্যান্য দেশে অনেকই আসেন মানব সমাজের কল্যাণে৷ বিভিন্ন সময় যারা মানব কল্যাণে আসেন ও কাজ করে যান, তাদের কথা কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী লোভী ব্যাষ্টি অস্বীকার করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যে যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করেছে পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করে গেছে৷ লোভের বশবর্তী হয়ে জীবজন্তু গাছপালা ধবংস করেছে৷ গত শতাব্দীতে এই পৃথিবী দেখেছে পরপর দুটো ভয়ঙ্কর বিশ্বযুদ্ধ৷ তাতে সবাই বুঝেছে যুদ্ধ নয় শান্তি চাই৷ কিন্তু শান্তি কি এসেছে? কেন এর উত্তর খুঁজেপেতে হবে৷ সকলকে, এড়িয়ে গেলে চলবে না৷ এই পৃথিবীকে রক্ষার জন্যে মহাসম্ভূতি পরমারাধ্য বাবা শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী আবির্ভাব ঘটেছে৷ মানবতা রক্ষার জন্যে আর পরমপুরুষের সৃষ্টিকে ধবংসের হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি নীরবে কাজ করে গেছেন লোকচক্ষুর আড়ালে৷ তিনি রেখে গেছেন তাঁর মহান দর্শন আনন্দমার্গ, আর্থিক ও সামাজিক তত্ত্ব প্রাউট৷ কিন্তু দর্শন তত্ত্ব যাই হোক তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে চাই সৎ নীতিবাদী মানুষ৷ নইলে তত্ত্ব তত্ত্বই থেকে যাবে৷

আজ বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে অভাব ঘটেছে সৎ নীতিবাদী দেশসেবকদের৷ অত্যধিক লোভের ও ভোগ বিলাসের মাত্রা বেড়েছে একটি বিশেষ স্তরের মানুষের মধ্যে৷ যারা জীবনকে আত্মকেন্দ্রিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে ব্যষ্টিস্বার্থে সব কিছু গ্রাস করতে চাইছে ও সেটা করেও চলছে৷ এই মানসিকতাকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী৷ ‘বাঁচো ও বাঁচতে দাও’ এটাই হোক মানবতাবাদী মানুষের লক্ষ্য৷ 

এই যে ভয়ঙ্কর মানসিক অধঃপতন সারা পৃথিবীতে, তাকে সংযত করার মহান ব্রত গ্রহণ করেছে৷ আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘ৷ তাই আনন্দমার্গের প্রথম লক্ষ্যই সৎনীতিবাদ কিছুই মহান মানুষ তৈরী করা৷ আনন্দমার্গ দর্শনের প্রবক্তা তাদের নাম দিয়েছেন সদ্‌বিপ্র---দৈহিক মানসিক ও আত্মিক বিকাশে পরিপূর্ণ মানুষ৷ এই মানুষের হাত ধরেই তৈরী হবে আদর্শ সমাজ নোতুন পৃথিবী৷

 

 

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
আরও

সম্পাদকীয়

নোতুন পৃথিবী গড়তে আদর্শ মানুষ চাই
অধঃপতিত সমাজ---উত্তরণের পথ কি
পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ

প্রবন্ধ শিরোনাম

তোমার আসা যাওয়া
মহানধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে শিক্ষাদান হবে মানসিকতার ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে কখনোই নয়
কৃত্রিম হিন্দী ভাষা নয় সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক হোক
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি প্রাউট প্রবক্তার সতর্ক বার্তা
তোমার আসা যাওয়া
সমবায়ের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদন করে গ্রামীন বেকারত্ব দুর করা সম্ভব
কালীপূজা ও তন্ত্রসাধনা
সমাজ শাস্ত্র

পুরানো মাসিক খবর

  • April 2022 (168)
  • March 2022 (79)
  • February 2022 (385)
  • January 2022 (43)
  • November 2021 (121)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 2
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved