যোগ দিবসে অসমের আনন্দমার্গ আশ্রমে যোগপ্রশিক্ষণ
গত ২১শে জুন আন্তর্জাতিক যোগদিবস উপলক্ষ্যে অসমের আমবাগান আনন্দমার্গ আশ্রমে যোগদর্শন নিয়ে আলোচনা ও একই সঙ্গে যোগ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়৷ যোগদর্শন নিয়ে আলোচনা করেন আচার্য বিবেক ব্রহ্মচারী৷ তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজ থেকে প্রায় ৭ হাজার বছর পূর্বে ভগবান শিব মানুষের সর্র্বত্মক কল্যাণের উদ্দেশ্যে এই যোগবিদ্যা মানুষের সমাজে প্রচার করেছিলেন৷ শিবের পর শ্রীকৃষ্ণ এই যোগবিদ্যাকে প্রচার করেন৷ আড়াইহ াজার বছর পূর্বে মহর্ষি পতঞ্জলি এই যোগবিদ্যার ওপর দর্শন রচনা করেন৷ বর্তমান কালে মহাযোগী পরমারাধ্য গুরুদেব শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী সর্বসাধারণের কল্যাণের উদ্দেশ্যে এই যোগবিদ্যাকে ৪টি স্তরে বিভাজিত করেন৷ সেগুলি হ’ল প্রারম্ভিক যোগ, সাধারণ যোগ, সহজ যোগ ও বিশেষ যোগ৷ শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী বলেছেন , এই যোগসাধনা নিয়মিত অভ্যাসের দ্বারা ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা , বৃদ্ধ-বৃদ্ধা স্কুল-কলেজ, বিশ্ব বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠনরত ছাত্র-ছাত্রা, গবেষক, সবাই নিজেদের সার্বিক বিকাশ ঘটাতে পারে৷ বক্তব্যের শেষে আচার্য বিবেক ব্রহ্মচারী উপস্থিত কয়েকশ উৎসাহী মানুষকে যোগাসন প্রদর্শন করেন৷
২১শে জুন ঃ আনন্দমার্গের পক্ষ থেকে দেশে-বিদেশে সর্বত্র যোগ দিবস পালন করা হচ্ছে৷ আনন্দমার্গের প্রচারকগণ বিভিন্ন স্কুল, কলেজে ও বিভিন্ন স্থানে মঞ্চ তৈরী করে যোগের উপকারিতা সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করার জন্যে সভাসমিতি করছেন ও যোগাসন ও যোগসাধনা শেখাচ্ছেন৷ আচার্য বিশুদ্ধাত্মানন্দজী বলেন, মানুষের তিনটি দেহ---স্থূল দেহ হ’ল আমাদের ভৌতিক (Physical) শরীর, এরপর মন হ’ল সূক্ষ্ম দেহ, আর আত্মা হ’ল অতি সূক্ষ্ম কারণ দেহ৷ আমাদের শরীরকে যেমন সুস্থ রাখতে হবে, মনকেও সুস্থ রাখতে হবে, সঙ্গে সঙ্গে মনের
বিকাশ প্রয়োজন৷ যে মনের সঙ্গে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করি, এই মন হ’ল স্থূল মন৷ এই মন ইন্দ্রিয়গুলির মাধ্যমে কাজ করে ও খাওয়া-পরা প্রভৃতি স্থূল চাওয়া-পাওয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকে৷ এই মনটিকে মনের কামময় কোষও বলা হয়৷ এরপরে মনের যে সূক্ষ্ম স্তর এটিকে বলা হয় মনোময় কোষ৷ মনোময় কোষের বিকাশ যতই হয় ততই মানুষের চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে৷ এর চেয়ে সূক্ষ্মতর হ’ল মনের অতিমানস কোষ৷ যে কোষে মন নান্দনিক আনন্দ অনুভব করে ও অতিন্দ্রিয় আধ্যাত্মিক আনন্দের প্রতিও আকৃষ্ট হয়৷ এর পরের স্তর হ’ল মনের বিজ্ঞানময় কোষ৷ মনের এই কোষের বিকাশ হলে মানুষের মধ্যে বিবেক জাগ্রত হয় ও আধ্যাত্মিক আকর্ষণ প্রবল হয়৷ মানুষের মধ্যে লোভ, ক্রোধ প্রভৃতি স্থূল বৃত্তির প্রভাব থাকে না বললেই চলে৷ এরও পরে মনের যে সূক্ষ্ম স্তর তা হ’ল হিরন্ময় কোষ৷ এই হিরন্ময় কোষে মানুষ আধ্যাত্মিক আনন্দে বিভোর থাকে৷ এরপর হ’ল আত্মার অধিষ্ঠান যা বিশুদ্ধ চৈতন্য স্তর৷ বৈবহারিক ক্ষেত্রে আত্মা ও পরমাত্মার মধ্যে কোনও তফাৎ নেই৷