সংবাদ দর্পণ

অসমে বাঙালীদের অবস্থা রোহিঙ্গাদের মতো  ঃ আমরা বাঙালী, অসমে শুদ্ধ নাগরিকপঞ্জী দেওয়ার ব্যাপারে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

অসম সরকার  শুদ্ধ নাগরিকপঞ্জী দিতে পারবে না বলে আশংকা প্রকাশ  করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈও ৷ নাগরিকপঞ্জীর চূড়ান্ত খসড়ায়  অনেক ভারতীয়ের  নাম বাদ পড়বে বলে তিনি আশংকা করেছেন ৷ তিনি বলেছেন, মুসলমানদের  পাশাপাশি  হিন্দু বাঙালীদের নামও  বাদ পড়বে৷ তাই একটা বিষয়  পরিষ্কার যে  অসমের  বিজেপি  সরকার  শুদ্ধ নাগরিকপঞ্জী প্রকাশ  করতে অসমর্থ৷ ইতোপূর্বে অসমে  নূতন নাগরিকপঞ্জী থেকে ১ কোটি ৩৯ লক্ষ বাঙালীর  নাম বাদ পড়েছে৷  তাদের  নাগরিকত্ব হরণের  প্রতিবাদে অসমে ‘আমরা বাঙালী’ সহ  বিভিন্ন বাঙালী সংঘটন  ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিক্ষোভ  আন্দোলনে  সামিল হয়েছে৷

গত ২৭শে মার্চ  দিল্লির প্রেসক্লাবে ‘আমরা বাঙালী’ জাতীয় কংগ্রেস , বিজেপি  ও সিপিএম-এর প্রতিনিধি সহ  বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা সভা  হয়েছে৷ ওই আলোচনা সভায়  সর্বসম্মতি ক্রমে  অসমে বাঙালীদের  নাগরিকত্ব হরণ ও মানবাধিকার  লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে  তীব্র প্রতিবাদ  জানানো হয়েছে৷

‘আমরা বাঙালী’ অসম রাজ্য সচিব সাধন পুরকায়স্থ এই পরিপ্রেক্ষিতে  জানাচ্ছেন, ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চকে ভিত্তি করে  অসমে যে নাগরিকপঞ্জীর কাজ চলছে  তাতে  অসমে বসবাসকারী প্রায় দেড় কোটি  বাঙালীকে  বিদেশী ঘোষণা করে  আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছে৷ ইতোমধ্যে  অনেকে আত্মহত্যাও করেছেন৷ বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার যদিও ২০১৫ সালে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আগত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের (যারা ২০১৪ সালের  ৩১শে ডিসেম্বর অবধি  ভারতে এসেছে তাদের) ভারতের বৈধ নাগরিকত্ব দানের নোটিফিকেশন জারী করেছেন, কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাকে কোনো সুনির্দিষ্ট আইনে পরিণত করেননি৷ কেন্দ্রীয় সরকারের এই ঘোষণা সত্বেও অসম সরকার ১৯১৭ সালের ২৪ শে মার্চকে ভিত্তি বৎসর  ধরে  নূতন নাগরিকপঞ্জী তৈরী  করে অসমে  বসবাসকারী  ১কোটি ৩৯ লক্ষ বাঙালীর  ভারতীয় নাগরিকত্ব কেড়ে  নিয়েছে৷ এখন এই প্রায় দেড় কোটি বাঙালীর আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো উপায় থাকছে না৷ দেশভাগের  সময়কার পরিস্থিতি থেকেও  বর্তমান পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর  বলে আমরা মনে করি৷ রোহিঙ্গাদের চেয়েও খারাপ  পরিস্থিতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে৷

‘‘আমরা বাঙালী’’ দল এই ইস্যুতে সারা দেশে ঐক্যবদ্ধ বাঙালী আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান  রাখছে৷ তাঁর দাবী, অসহায় বাঙালীদের রক্ষার জন্যে পৃথক নাগরিকত্ব আইন চাই৷ এটাই একমাত্র সমাধান৷

আনন্দনগর ধর্ম মহাসম্মেলন মঞ্চে সাংসৃকতিক অনুষ্ঠান

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আনন্দনগরে ত্রি-দিবসব্যাপী ধর্ম মহাসম্মেলনে  তিনদিনই সন্ধ্যায় প্রভাত সঙ্গীত অবলম্বনে  মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল৷ এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাওয়া শিল্পী প্রভাতসঙ্গীত, প্রভাত সঙ্গীত অবলম্বনে নৃত্য, নৃত্য-গীতি আলেখ্য ও নৃত্যনাট্য পরিবেশন করে অপূর্ব আনন্দময় পরিবেশ রচনা করে  দর্শকদের মুগ্দ করেন৷ 

‘‘মানুষ যেন মানুষের তরে সব কিছু করে যায়’’---এই প্রভাত সঙ্গীতটি দিয়ে সাংসৃকতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়৷ এটি পরিবেশন করেন আনন্দমার্গের ব্রহ্মচারিগণ৷ এরপর  সঙ্গীত পরিবেশন করেন  উমানিবাসের মেয়েরা ঃ ‘আলোকের এই উৎসবে’৷

আরও যারা  প্রভাত সঙ্গীত পরিবেশন করেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন অনুপম দাস, মানস মন্ডল,অরিন্দম চ্যাটার্জী,সুচরিতা মাইতি প্রমুখ৷ নৃত্য পরিবেশন করেন বকুল বিতান সঙ্গীত বিদ্যালয়ের শিল্পীগোষ্ঠী, রামপুরহাট রাওয়া শিল্পীগোষ্ঠী প্রমুখ৷

প্রথম দিনের সাংসৃকতিক অনুষ্ঠানের মুখ্য আকর্ষণ ছিল শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজীর নব্যমানবতাবাদী শিক্ষাদর্শের ওপর আধারিত নৃত্যনাট্য ‘‘আমরা গড়ে নোবো গুরুকুল’’৷ গ্রন্থনায় আচার্য তন্ময়ানন্দ অবধূত, পরিবেশনায় উমানিবাস গার্লস্ হাইস্কুলের মেয়েরা৷

দ্বিতীয় দিনে , প্রভাত সঙ্গীত পরিবেশন করেন  আচার্য সুদত্তানন্দ অবধূত, আচার্য সেবাব্রতানন্দ অবধূত, আচার্য শুভপ্রসন্নানন্দ অবধূত  প্রমুখ৷

এছাড়াও প্রভাত সঙ্গীত পরিবেশন করেন দেবাংশু চক্রবর্তী, মানস ভট্টাচার্য প্রমুখ৷ নৃত্য পরিবেশন করেন বকুল বিতান সঙ্গীত বিদ্যালয়ের শিল্পীগোষ্ঠী ও উমানিবাস চিল্ড্রেন্স হোমের মেয়েরা৷  এদিনকার বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রভাত সঙ্গীত অবলম্বনে নৃত্য---গীতি আলেখ্য ‘‘ঋতু কি বাহার লেকর আঈ হ্যায় সৌন্দর্য কি মূর্ত্তি৷’’  এটির গ্রন্থনায় ছিলেন বকুলচন্দ্র রায়, নৃত্য পরিকল্পনায় গার্গী বিশ্বাস,পরিবেশনায়  স্বপ্ণা মাহাত, ইপ্সিতা মাহাত, সিমজা চক্রবর্তী, জয়শ্রী, শিল্পী, প্রিয়া, বিদ্যুৎ, বৈশালী প্রমুখ৷  এটির রূপসজ্জা ও অঙ্গসজ্জায় ছিলেন দুর্র্ব মাহাত, মঞ্চ সজ্জায় তুহিন বিশ্বাস৷

তৃতীয় দিনে, সমবেত প্রভাত সঙ্গীত পরিবেশন করেন আনন্দমার্গের সন্ন্যাসী দাদারা, এছাড়া একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন  আচার্য দীপাঞ্জনান্দ অবধূত, উমানিবাসের বীথিকা দেব, দেবাংশু সিন্হা ও সাথী পাত্র প্রমুখ৷ এদিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল আচার্য হরাত্মানন্দজী রচিত নৃত্যনাট্য ‘‘ভোরের পাখি’’৷ নৃত্যনাট্যটি পরিচালনায় ছিলেন  আচার্য সত্যসাধনানন্দ অবধূত ও পরিবেশনায় ছিল দধীচি হোষ্টেলের ছাত্রবৃন্দ৷

 

জেলায় জেলায় অখণ্ড কীর্ত্তন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

দীঘা ঃ গত ৪ ও ৫ই মে,২০১৮ পূর্ব মেদিনীপুরের  দীঘায় মার্গগুরু ভবন ‘মধুকলাপে’২৪ ঘণ্টা ব্যাপী অখণ্ড কীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়৷ প্রথম দিন দুপুর ২টায় প্রভাত সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে  অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়৷ এরপর বিকেল ৩টে থেকে পরের দিন বিকেল ৩টে পর্যন্ত ২৪ ঘন্টাব্যাপী অখন্ড ‘বাবা নাম কেবলম্’  নাম সংকীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়৷ এই অখন্ড কীর্ত্তনে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বহু মার্গী ভাই-বোনেরা অংশগ্রহণ করেন৷ অনুষ্ঠানে প্রতিদিন সকালে দীঘার সমুদ্রসৈকতে আনন্দমার্গীরা নগরকীর্ত্তন  করেন৷

 অনুষ্ঠান শেষে বক্তব্য রাখেন আচার্য বিশুদ্ধাত্মানন্দ অবধূত, সুভাষ পাল,আচার্য নিত্যতীর্র্থনন্দ অবধূত (ডি.এস মেদিনীপুর) প্রমুখ৷

সাইথিয়া ঃ গত ১০ই মে বীরভূমের  সাঁইথিয়া ব্লকের খেড়ুয়া গ্রামে  আনন্দমার্গের জাগৃতিতে (আশ্রমে) ৩ ঘন্টাব্যাপী ‘বাবা নাম কেবলম্’ মহামন্ত্রের  অখন্ড কীর্ত্তন  অনুষ্ঠিত হয়৷ কীর্ত্তন পরিচালনা করেন  মানবেন্দ্র ঘোষাল৷ কীর্ত্তনশেষে  আনন্দমার্গের সাধনা ও ভক্তিমাহাত্ম্য সম্বন্ধে বক্তব্য রাখেন অনন্ত মালাকার,  মহাদেব সেন প্রমুখ৷ মার্গগুরুদেবের প্রবচন  থেকে স্বাধ্যায় করে শোনান কেশবচন্দ্র সিন্হা৷

কীর্ত্তনের পর ২০ জন দুঃস্থ মানুষকে  বস্ত্রদান করা হয় ও নারায়ণ সেবার মাধ্যমে  ২০০জন ভক্তকে মধ্যাহ্ণ ভোজনে আপ্যায়িত করা হয়৷

ধর্মমহাসম্মেলনে ভি.এস.এস.-এর পরিচালনায় জলসত্র

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

ভলেণ্টিয়ার্স সোস্যাল সার্ভিস (ভি.এস.এস.) এর নদীয়া ভুক্তির তরফ থেকে গত ২৫,২৬,২৭ মে আনন্দনগরে আয়োজিত আনন্দমার্গের গ্রীষ্মকালীন ধর্মমহাসম্মেলনে সমবেত ভক্তদের আনন্দমেলায় সমাগত জনসাধারণের তৃষ্ণা নিবারনার্থে জলসত্রের আয়োজন করা হয়৷ এই জলসত্রে প্রতিদিন  তৃষ্ণার্তদের গ্লুকোন সি সহ বিশুদ্ধ পানীয় জল পরিবেশন করা হয়৷

এই জলসত্র পরিচালনায় ছিলেন শ্রী শক্তিপদ সরকার, শ্রীমতী গোপা সরকার, বিবেকজ্যোতি সরকার ও তনুকা সরকার৷

সমাজ সেবায়  আনন্দমার্গ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আনন্দ নগর ঃ আনন্দমার্গ ধর্ম মহাসম্মেলনে আনন্দমার্গের সাধারণ সচিব আচার্য বীতমোহানন্দ  অবধূত তাঁর সান্মাসিক প্রতিবেদন পাঠের সময়  বলেন,  আনন্দমার্গ  এক আধ্যাত্মিক  ও বহুমুখী সমাজসেবামূলক  প্রতিষ্ঠান৷  বহুমুখী সমাজ সেবায়  নিয়োজিত আনন্দমার্গের  প্রধান শাখা---শিক্ষা ত্রাণ ও জনকল্যাণ বিভাগ Education,  Relief and  Welfare Section = ERAWS )-এর কাজর্মের এক সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন---বর্তমানে আনন্দমার্গ পরিচালিত সুকলের সংখ্যা---ছেলেদের দ্বারা পরিচালিত - ৪৮৫টি (গত বছর পর্যন্ত) ও নোতুন ১০টি---মোট ৪৯৫টি৷ মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত সুকল (গত বছর পর্যন্ত) ৯৯টি, নোতুন ১টি, মোট-১০০টি৷ ছেলে-মেয়ে নিয়ে মোট ৫৯৫টি৷ আনন্দমার্গের  হাইসুকলের সংখ্যা ১০ টি৷

ত্রাণ ঃ স্থায়ী ত্রাণকেন্দ্র হিসেবে আনন্দমার্গের  পক্ষ থেকে বিভিন্ন ‘স্থানে হোম’ খোলা হয়েছে৷

আনন্দমার্গ পরিচালিত চিল্ড্রেন্স্ হোম (অনাথ শিশুদের জন্যে)---

ছেলেদের জন্যে---২৪টি হোম৷ মেয়েদের জন্যে--৩৩টি হোম৷ মোট-৬৭টি হোম৷

এ্যামার্ট ঃ আনন্দমার্গ ইয়ূনিবার্র্সলের রিলিফ টিম বাংলাদেশের গত ২০১৭ সালের  নভেম্বর থেকে  রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের  মধ্যে  ত্রাণকার্য চালাচ্ছে৷

 

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসে সেরাম থ্যালাসেমিয়া ফেডারেশনের অঙ্গীকার

সংবাদদাতা
অম্বর চট্টোপাধ্যায়
সময়

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সেরাম থ্যালাসেমিয়া প্রিভেশন ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সপ্তাহব্যাপী থ্যালাসেমিয়া বিরোধী সচেতনতা পালন করা হয়৷

গত ৮ই মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষ্যে সংস্থার পক্ষ থেকে উত্তর কলকাতার  পাঁচ মাথার সংযোগস্থলে  মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷ অনুষ্ঠানে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা বিভিন্ন সাংসৃকতিক অনুষ্ঠান  পরিবেশন  করা হয়৷

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে  গিয়ে  সংঘটনের  সম্পাদক  সঞ্জীব আচার্য মহাশয় বলেন, বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসে আমাদের অঙ্গীকার, রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ২০১৮ সালের মে, জুন, জুলাই মাসে  নিখরচায় থ্যালাসেমিয়া বাহক রক্ত পরীক্ষার কর্মসূচী গ্রহণ করা৷ বাকি বছর ভর্তুকি মূল্যে (১০০টা) বাহক রক্ত পরীক্ষা করা হবে৷ ৮ই মে দুপুরে সংঘটনের অডিটেরিয়ামে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের অভিভাবকদের জন্যে নিখরচায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ওষুধ প্রদানের কর্মসূচী সাফল্যের সঙ্গে সমাপন করা হয়৷ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ব্যষ্টিদের মধ্যে বহু গুণীজন উপস্থিত ছিলেন৷ বিভিন্ন সংঘটনের প্রতিনিধিরাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন৷

বাংলাদেশে আনন্দমার্গের ধর্মমহাসম্মেলন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আগামী ৭,৮ ও ৯ই জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার  ও শনিবার  বাংলাদেশে আনন্দমার্গের ধর্মমহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে৷ ধর্মমহাসম্মেলনের স্থান বীরগঞ্জ হরিবাসর  প্রাঙ্গন, বীরগঞ্জ, দিনাজপুর৷

বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে পঞ্চগৌড়গামী বাসযোগে বীরগঞ্জ শহীদ মিনার মোড়ে  নামতে হবে৷ ট্রেনে  দিনাজপুর ষ্টেশনে  নেমে বাসযোগে  বীরগঞ্জ যাওয়া যাবে৷ আয়োজক ---আনন্দমার্গ  প্রচারক সংঘ, বীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, বাংলাদেশ৷ 

n যোগাযোগn ০১৭১৯-২৪৯৩৩৩,

০১৭৮৬-৪৫৬৯২৪,  ০১৭২১-৪৩৫৫৭৮

শুধুই প্রতিশ্রুতি

সংবাদদাতা
পিএনএ.
সময়

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সকলের মাথার ওপরে ছাদ যোগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷ কেউ গৃহহীন থাকবে না৷ কিন্তু সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারেরই দেওয়া তথ্যে প্রকাশ পেল, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা লক্ষ্যমাত্রার দশ শতাংশও পূর্ণ করতে পারেনি৷

 

পেট্রোল-ডিজেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছেই

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলেছে, গত ১২ দিন ধরে অবিরাম৷ বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধিই এর কারণ৷

পুরোনো তথ্য থেকে জানা যায় পাঁচ বছর আগে ২০১৩ সালের সেপ্ঢেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল পিছু দাম ছিল ১০৮ থেকে ১১০ ডলারের মধ্যে তখন কলকাতায় পেট্রোলের দাম ছিল মিটার পিছু ৮৩.৬৩ টাকা৷ আর ডিজেলের দাম ৫৬.৩৩ টাকা৷

পাঁচ বছর পরে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশাধিত তেলের দাম কমে হয়েছে ৬৭.৫০ ডলার৷ আন্তর্জাতিক বাজারে এই মূল্য হ্রাসের ফলে ভারতেও পেট্রোল ডিজেলের মূল্য তুলনামূলকভাবে হ্রাস পাওয়ার কথা৷ কিন্তু না৷

বর্তমানে লিটার প্রতি প্রেট্রোলের মূল্য ৮০.৬১ টাকা৷ আর ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৭১.৪৫ টাকা৷

আনন্দমার্গের ধর্মমহাসম্মেলন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

PP discourse1আনন্দনগর, ১লা জুন ঃ আনন্দমার্গের প্রবক্তা ও প্রবর্তক শ্রীশ্রীআনন্দমুর্ত্তিত্ব্ ৯৮-তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে গত ২৬শে মে থেকে ২৮শে মে পর্যন্ত পুরুলিয়ার আনন্দনগরে আনন্দমার্গের ধর্মমহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হ’ল৷ মার্গগুরুদেবের প্রতিনিধি রূপে ধর্মমহাসম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংঘের পুরোধা প্রমুখ আচার্য কিংশুকরঞ্জন সরকার৷ এই ধর্মমহাসম্মেলনে পশ্চিমবাংলার বিভিন্ন জেলা থেকে ও অসম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, বিহার সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আনন্দমার্গীরা যোগ দিয়েছিলেন৷ বহির্ভারতের বেশ কিছু দেশ থেকেও আনন্দমার্গের অনুগামীরা এই ধর্মমহাসম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন৷

ধর্মমহাসম্মেলনে পুরোধা প্রমুখ দাদা তাঁর প্রবচনে বলেন ঃ যারা ধর্মের পথে চলে তাদের  ধার্মিক বলে থাকি৷ এখন প্রশ্ণ  সমাজ আমাদের  ধার্মিক বলে জানবে কী রূপে?  বলা হয় ‘আচরণাৎ ধর্মঃ’ ---  আচরণের  মাধ্যমে তা চেনা যায়৷ অনেকে  অশিক্ষিত  কিন্তু  তার আচরণ  মানবোচিত, ধর্মসম্মত ৷ আবার  অনেকে  শিক্ষিত  এম এ পাশ  বিদ্বান কিন্তু  আচরণ ঠিক নেই  তাকে ধার্মিক  বলা যায় না৷  অনেক বিদ্বান  মানুষ  পড়াশুনা  করেছে  কিন্তু লক্ষ্যটা হলো জড়ভোগ বাসনা --- তাকে সঠিক  বিদ্বান বলা যায় না, যারা বিদ্বান  হবেন তাদের  লক্ষ্যটা হবে কী --- সা বিদ্যা যা বিমুক্তয়ে৷  বিদ্যা তাই হবে যা বিমুক্তির পথে নিয়ে যাবে৷  যা স্থায়ী মুক্তি এনে দেবে তাই হলো বিমুক্তি৷  আবার জ্ঞান সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে---Subjectivisation & objectivity৷  অর্র্থৎ  বিষয়কে আত্মস্থীকরণ হলো জ্ঞান ৷ যে জ্ঞান  ভেদাভেদ সৃষ্টি  করে  তা মানুষকে বিমুক্তির পথে নিয়ে যাবে না৷  তাই  জ্ঞান বা শিক্ষা হবে নব্যমানবতা ভিত্তিক৷ যদি বিদ্বানরা নব্যভাবনার দ্বারা প্রেষিত হয় চলে তবে সে প্রকৃত বিজ্ঞান হবে না৷DMS Pandal1

আবার কেবল নিজে  ধর্মের পথে চলছে কিন্তু পরিবেশটা  অন্যায়কারীদের বা অধার্মিকদের  দ্বারা প্রভাবিত৷ তা  হলে চলবে না৷  অন্যদেরও ধর্মের পথে ধার্মিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে৷  তবে নিজেরও ধর্মপথে এনে ঠিকভাবে চলা যাবে৷ পরিবারে যদি স্বামী ধর্মের পথে চলছে স্ত্রী ওই আদর্শের পথে  বা ঠিক তার উল্টোটা তবে পরস্পরের মধ্যে সংঘাত ঘটবে ৷ তাই আমাদের চরম নির্দেশে বলা হয়েছে অন্যকে সৎপথের নির্দেশনা দেওয়া সাধনারই অঙ্গ৷ মার্গগুরুদেব আমাদের কত উন্নত আচরণ বিধি দিয়ে গেছেন, তা নিজেরা যদি ঠিকমতো পালন না করি তবে অন্যদের ধর্মের পথে আনব কি করে? চরম নির্দেশের  যম-নিয়ম ঠিকমত পালন করে চলতে হবে৷ নাহলে প্রলোভনের  মোহে পড়ে সাধনার  অর্জিত যা কিছু ভাল নষ্ট হয়ে যাবে৷ আমরা  যদি আচরণ বিধি যম নিয়ম ঠিকমত মেনে চলি তবে সমাজের কাছে আমরা মহান ব্যষ্টি বলে পরিচিত হব,  আর আমাদের জয় জয় কার হবে৷  আর আমরা যদি কথায় এক  আর আচরণে যদি উল্টো হই  তবে লোকে আমাদের নিন্দা করবে৷ তাই ভাবনায়, কাজে, কর্মে, আচরণে  আমাদের এক হতে হবে৷  এখন ধর্মের পথে চলার পথটা কেমন হবে? তা হবে সংশ্লেষণের পথ৷ বিশ্লেষণের  পথ নয়৷ ছোট ছোট অণুদের সংযোজন করে বড় আকারের সিনথেটিক দ্রব্য তৈরী করি৷ যেমন পলিথিন৷ অনেক ইথিলিন অণুগুলোকে সংযোজন করে  বড় আকারের যৌগ তৈরী করা হয়  তাই হলো পলিথিন৷  আবার রক্তের অণু ভেঙ্গে ই.সি.জি, হিমোগ্লোবিন, শ্বেত কণা ইত্যাদির পরিমাণ বের করা হয় বিশ্লেষণ বা  এ্যানালিসিস এর মাধ্যমে৷ এখন ধার্মিকদের  সংশ্লেষণের পথকে  অনুসরণ করে চলতে  হবে৷  অনেক রাজনৈতিক নেতা, গোষ্ঠী সেন্টিমেন্ট জাত-পাতের সেন্টিমেন্টকে উস্কিয়ে দিয়ে নিজের  কায়েমী স্বার্থ চরিতার্থ করে ৷ তবে এদের মধ্যে কেউ কেউ না জেনে এমন করে চলে আর অনেকে জেনে বুঝে করে চলে স্বার্থপূর্ত্তির উদ্দেশ্যে৷ অনেকে  জেনে শুণেই গোষ্ঠী জাত-পাতের সেন্টিমেন্টকে  কাজে লাগিয়ে নিজের স্বার্থপূর্ত্তি করাকে  অভ্যাসে পরিণত  করে নিয়েছে৷  এরা হল খুবই ধূর্ত প্রকৃতির মানুষ৷ এটা মানবজাতির মধ্যে বিভেদকামী তত্ত্ব৷ বৈচিত্র্যের মধ্যে  ঐক্য আনাই হল ধার্মিকদের কাজ ৷  আর নিজেকে ধার্মিক বললে হবে না সমাজ তাকে ধার্মিক বলে মান্যতা দিবে, তবেই তো৷ ধার্মিক মানুষদের  সঠিক মানসিকতার মাপকাঠি হলো --- ‘‘মানব সমাজ  এক ও অবিভাজ্য’’ এই মানসিকতা৷ যদি আমরা গোষ্ঠী মানসিকতা, জাত-পাতের সেন্টিমেন্ট গায়ের রঙ সম্প্রদায়াদি  নিয়ে চলি তবে সমাজ ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে--- সমাজ ধবংসের দিকে চলে যাবে৷ এই বিশ্লেষণের  পথ ধরে  নেতারা  তাদের  স্বার্থ পূর্ত্তির জন্যে  শোষণ চালিয়ে যায়৷ সংশ্লেষণের পথ হলো সেবা মানসিকতার  পথ, আর  বিশ্লেষণের পথ হলো কায়েমী স্বার্থ পূর্ত্তির পথ৷ আমাদের  ‘প্রাউট’ দর্শন  সেবার মাধ্যমে দেশ গড়তে  চায়৷

প্রাউটের কাজ হলো সেবা মনোভাব  নিয়ে৷  আমাদের  আনন্দমার্গ  ইউনিবার্সাল রিলিফ টিমের কাজ হলো সেবার দ্বারা মানুষের ত্রাণ করা৷ যেখানে   এমার্টের লোক সেবা  প্রদান  করবে  সেখানে  প্রাউটিষ্টরাও  তাদের  সহযোগিতা করবে৷ বাবা সেবার উপর খুবই গুরুত্ব দিয়েছেন৷ সেবায় মন পবিত্র হয় ও নির্মল হয়৷ সেবার  মুখ্য উদ্দেশ্যে হলো নিজের কষ্টকে  সহ্য করে অন্যের  কষ্টকে কিভাবে  দূর করা যায়৷ একে বলা হয় তপঃ যা সাধনার একটি অঙ্গ৷

সাধক সাধনাতে মনকে একাগ্র করার চেষ্টা করে৷ কিন্তু প্রথমে এ চিন্তা ও চিন্তার দিকে ভাগতে থাকে৷  হয়ত পরিবারের চিন্তা বা ছেলেমেয়ের পড়াশুনা বা কোন সমস্যার চিন্তা৷  এমন চিন্তা যদি আসে এতে ঘাবড়ানোর কিছুই নেই৷ কিন্তু চিন্তাটা কেমন হয় সাবধানতাটা সেখানেই বেশি দরকার৷ মন পশুপ্রবৃত্তির দিকে বা নোংরা চিন্তাতে মন ডুবে যাচ্ছে না তো৷ এখন সবসময় যদি সেবার মনোভাব নিয়ে থাকি তাহলে সাধনায় প্রথমে সেবার ভাবনাই আসবে, এক্ষেত্রে  মন পরোক্ষে  পরমপুরুষের ভাবনাতে চলে যাচ্ছে৷ সাধনা ও সেবা অঙ্গাঙ্গি জডিত৷ পরমপুরুষকে যেহেতু লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছি তো সেবার ভাবনাতেই পরমপুরুষের ভাবনা এসে যাবে৷ যেখানে  লক্ষ্য পরমপুরুষ  নেই  সেখানে  প্রকৃত সেবাভাব আসতে পারে না, বরং ব্যবসায়ী মনোভাব আসবে৷

আগেই বলেছি সেবার দ্বারা মন নির্মল হয়৷ নির্মল হৃদয়ে তে পরমপুরুষ ধরা দেন৷ তখন সাধকের জীবনে জয় জয় কার নেমে আসে৷ সাধকের সাধনা সাফল্যলাভ করে৷