সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
গত একমাসের অধিক সময় ধরে আনন্দমার্গ দর্শনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিষয়ের উপর আলোচনা শুরু হয়েছে দিল্লী সেক্টরে রিজিয়নগুলিতে৷ প্রথম ডায়োসিস স্তরের আলোচনা শেষে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ডায়াসিস স্তরের আলোচনা, পরবর্তী স্তর গুলিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে৷ আনন্দমার্গ দর্শনে সামাজিক আধ্যাত্মিক বিষয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত৷ তাই সেমিনারগুলিতে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক বিষয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হয়৷
এবার সেমিনারে প্রাউট অর্থনীতির বিষয় ছিল---‘প্রাউটের অর্থনীতি-ব্যবস্থার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য৷ প্রাউটের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনায় প্রশিক্ষকগণ বলেন---জড় বিজ্ঞানে পৃথিবী অনেকটাই এগিয়েছে৷ মানুষ আজ গ্রহে গ্রহান্তরে ছুটে চলেছে৷ তবুও বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের জীবন ধারণের প্রাথমিক প্রয়োজনটুকুও পূর্তি হলো না তাই প্রাউট প্রবক্তা বলেছেন---‘‘এই প্রয়োজন মেটাবার জন্যেই একদিন অবস্থার চাপে পড়ে ‘প্রাউট’ দর্শন তৈরী করতে বাধ্য হয়েছি৷’’
বাস্তবিক অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা চিকিৎসা জীবন যাপনের এই প্রাথমিক তথা নূ্যনতম প্রয়োজন পূর্ত্তি না হলে মানবজাতির সামগ্রিকভাবে উন্নতি সম্ভব নয়৷ অর্থনীতি সম্পর্কে প্রাউট প্রবক্তা বলেছেন---‘আজ অর্থনীতি বস্তাপচা তত্ত্ব কথার কচকচানি ছাড়া আর কিছুই নয়৷ একে অধিকতর বাস্তব মুখী হতে হবে৷ ---অর্থনীতি হবে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও প্রয়োগভৌমিক বিজ্ঞান, আর একে বিশ্বের সর্বস্তরের মানুষ, সর্বজীবের তথা সর্ব অস্তিত্বের সার্বিক কল্যাণের স্বার্থে বিকশিত করতে হবে৷’’
বিশ্বে এযাবৎ প্রচলিত কোন তত্ত্বই বিশেষ করে ধনতন্ত্র ও কম্যুনিজম মানবজাতির সামগ্রিক কল্যাণের পথ দেখাতে পারেনি৷ ব্যষ্টি কেন্দ্রীয় অর্থনীতি ধনতন্ত্রের উদ্দেশ্যই মুনাফা লোটা৷ অধিক শ্রম-কম মজুরি দিয়ে উৎপাদন করাটাই লক্ষ্য৷ ফলে শ্রমিকরা শোষিত হয়৷ এককথায় ধনতন্ত্র শোষণের হাতিয়ার৷ মার্কস ধনতন্ত্রের অমানবিক শোষণ দেখেই সাম্যবাদী অর্থনীতির প্রবর্তন করেন৷ কিন্তু মানুষকে শোষণমুক্ত করতে সাম্যবাদ ব্যর্থ হয়েছে এর প্রধান কারণ মার্কসের শোষণের সঙ্গা নির্ধারণে ত্রুটি থেকে গেছে৷ তাই কম্যুনিষ্ট রাষ্ট্রগুলোয় মার্কসের শোষণতত্ত্বকে পরিত্যাগ করেছিল৷ মার্কসের সমাজতন্ত্র অলীক কল্পনাই থেকে গেছে৷ তাই আনন্দমার্গ দর্শনের প্রবক্তা বাধ্য হয়েছেন তাঁর প্রবর্ত্তিত আনন্দমার্গ দর্শনে অর্থনৈতিক তত্ত্ব প্রাউটকে অন্তর্ভুক্ত করতে৷
মার্কস শোষনকে শুধু অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখেছেন৷ কিন্তু ধনতান্ত্রিক শোষক গোষ্ঠী অর্থনৈতিক শোষণের সঙ্গে মানুষের দৈহিক মানসিক ও আত্মিক বিকাশকেও স্তম্ভিত করে দেয়৷ প্রাউট শোষণকে অনেক ব্যাপক দৃষ্টিকোন থেকে দেখেছে ও সেইভাবেই অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তৈরী করেছে৷ তাই প্রাউটের আর্থিক ব্যবস্থা রূপায়ন হলে মানুষ শুধু আর্থিক মুক্তিই পাবে না, মানসিক আধ্যাত্মিক শোষণ থেকেও মুক্ত হবে৷ তাই একমাত্র প্রাউটের পথেই মানব সমাজের সার্বিক কল্যাণ সম্ভব৷ সেমিনার গুলো থেকে বর্তমান নিদারুণ আর্থিক দুরাবস্থা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে চিন্তাশীল ও বিচারবোধ সম্পন্ন মানুষকে আহ্বান জানানো হয় মানবজাতির সামগ্রিক কল্যাণে প্রাউটকে জেনে বুঝে ও তার বাস্তবায়নে সচেষ্ট হওয়ার৷