Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা ও তার সমাধান

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

বর্তমান পুঁজিবাদী অর্থনীতি ব্যবস্থার একটা মস্তবড় ত্রুটি এতদিন পরে সবার চোখে পড়ছে৷ কি রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা, কি বুদ্ধিজীবীরা এতদিন এই সমস্যাটাকে দেখেও দেখছিলেন না৷ ভাবছিলেন এ তো বেশ চলছে! সমস্যা কোথায়! এখন সমস্যাটাকে কারোর চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে হচ্ছে না৷ সব পত্র-পত্রিকাতেই লেখা হচ্ছে৷মোবাইলে,দূরদর্শনে এটাই এখন অন্যতম প্রধান খবর৷ করোনা বাইরাসের সংক্রমণ রুখতে দেশ জুড়ে লকডাউনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সমস্যাটি এখন দেশের জ্বলন্ত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷  

  এক দেশ থেকে আরেক দেশে উড়ে বেড়ানো পরিযায়ী পাখিদের মতোই জীবিকার সন্ধানে যে সমস্ত মানুষ বিভিন্ন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন সেই সব পরিযায়ী শ্রমিকদের চরম দুর্দশার কথা এখন সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে৷

  বর্তমানে লকডাউনের ফলে প্রায় সমস্ত কাজ বন্ধ ৷ তাই বেতন বা মজুরি মিলছে না৷ কিছুদিন লকডাউনে থাকার পর হাতের পয়সা ফুরিয়ে গেছে৷ বাড়ি ফিরে যেতে চায়৷ অথচ বাস নেই৷ ট্রেনও নেই৷ শেষ পর্যন্ত মরিয়া হয়ে রেল লাইন ধরে ধরে দিনের পর দিন  পায়ে হেঁটে চলেছে দলে দলে৷ কোথাও মাল গাড়ি চাপা পড়ে, কোথাও পথ দুর্ঘটনায় নানা ভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুর মিছিল চলছে৷খাদ্যাভাবে দিনের পর দিন হাঁটতে হাঁটতে আর চলতে না পেরেও মৃত্যুর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে অনেকে৷ কোথাও এই পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপরও লাঠিচার্য হয়েছে৷ গত তিন মাসে ১১৪ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে৷

  এখন, এই পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যার উৎস কী? নিঃসন্দেহে পুঁজিবাদী অর্থনীতি  ব্যবস্থা৷ পুঁজিপতিরা যতবেশি সম্ভব মুনাফা লুণ্ঠনের উদ্দেশ্যে শিল্প গড়ে, বাণিজ্য কেন্দ্র তৈরী করে৷ দেশের সমস্ত এলাকার অর্থনৈতিক বিকাশ তাদের লক্ষ্য নয়৷ সমস্ত অঞ্চলের বেকারদের কর্মসংস্থান করা তাদের লক্ষ্য নয়৷ দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যেখানে তাদের বেশি থেকে বেশি মুনাফা লোটার সুযোগ রয়েছে, আমদানী-রপ্তানির জন্যে যোগাযোগের খুব ভালো ব্যবস্থা রয়েছে, সেই সব কয়েকটি স্থানকে তারা বেছে নেয়৷ আর দেশের বিভিন্ন রাজ্যে স্থানীয় ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ না পেয়ে মৌমাছির ঝাঁকের মত দলে দলে মানুষ ছুটে আসে ওই বিশেষ স্থানে কাজের সন্ধানে৷

  তার ফলে কোন সময় বিপর্যয় দেখা দিলে, যেমন বর্তমানে করোনা বাইরাস জনিত অতিমারী পরিস্থিতিতে, মাটির টানে ভিন রাজ্যের শ্রমিকরা সব ছেড়ে ছুড়ে ঘরে ফিরতে উদ্গ্রীব হয়ে ওঠে৷ কেননা সেখানে তাদের আত্মীয় স্বজন রয়েছে৷

  এছাড়া আরো সমস্যা রয়েছে৷ এই বেকার সমস্যার যুগে মাঝে মধ্যে স্থানীয় মানুষ জন আন্দোলন করবেই৷ স্থানীয় কলকারখানা ও ব্যবসা কেন্দ্রে বা সরকারী- বেসরকারী দপ্তরে স্বাভাবিক ভাবেই স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের  অগ্রাধিকারের দাবি উঠবে৷ এই নিয়ে স্থানীয় ও বহিরাগতদের মধ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাঁধবে৷ আবার অসুখ-বিসুখের ক্ষেত্রেও বাড়ী ফেরার তাগিদ আসেই৷

  তাই নিজ নিজ অঞ্চলে (অর্থনৈতিক জোনে) কর্মসংস্থানটাই যুক্তিযুক্ত৷ এটা হলে এখন যেমন পরিযায়ী শ্রমিকদের চরম দুর্দশা দেখা দিয়েছে, তা হতো না৷

  এটাই মহান দার্শনিক শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকারের প্রবর্ত্তিত প্রউটের অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের গোড়ার কথা৷ প্রাউট বলছে, সরকারকে সুপরিকল্পিতভাবে দেশের প্রতিটি রাজ্যের প্রতিটি জেলার প্রতিটি ব্লকেই ব্লক ভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে উপযুক্ত সমীক্ষা করে ওই এলাকার আপন আপন বৈশিষ্ট্য অনুসারে বিজ্ঞান সম্মতভাবে কৃষির বিকাশ ঘটাতে হবে৷ তার সঙ্গে সঙ্গে কৃষি-নির্ভর শিল্প (কৃষিপণ্যের ভিত্তিতে), কৃষিসহায়ক শিল্প (কৃষি-বিকাশের প্রয়োজনীয় সামগ্রিক তৈরীর জন্যে) ও স্থানীয় কাঁচামাল ভিত্তিক অকৃষি শিল্প গড়ে তুলতে হবে৷ এর মাধ্যমে প্রতিটি এলাকার ১০০ শতাংশ মানুষের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে৷বলা বাহুল্য এগুলির মলিকানা বহিরাগত পুঁজিপতিদের হাতে রাখা চলবে না, রাখতে হবে স্থানীয় মানুষদের সমবায়ের হাতে৷ সরকারকেই  সমস্ত রকমের গাইডেন্স দিয়ে ও প্রয়োজনমত সাহায্য দিয়ে এই গুলোকে পরিচালিত করতে হবে৷ অতি ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে ব্যষ্টি মালিকানা চলবে৷ আর স্থানীয় প্রশাসনের হাতে থাকবে মূল শিল্প, যে শিল্পগুলির তৈরী কাঁচা মালের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠবে অন্যান্য শিল্প৷ উদাহরণ স্বরূপ সুতাকল, যার ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠবে তাঁত সমবায়গুলি ও ছোট ছোট তাঁত শিল্পগুলি৷

  প্রাউট বলছে,  কৃষি ও শিল্পের মধ্যে একটা সন্তুলন (Balance) থাকা চাই৷ উল্লিখিত বিভিন্ন বিভাগে লোক সংখ্যা নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাউটের নীতি হলো, কৃষিতে ৩০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ, কৃষিনির্ভর শিল্পে ২০ শতাংশ, কৃষিসহায়ক শিল্পে ২০ শতাংশ, বুদ্ধিজীবীদের চাকুরীতে ১০ শতাংশ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ১০ শতাংশ৷ স্থানীয় কাঁচামালের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা অকৃষি শিল্পে ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষকে নিয়োগ করার পরিকল্পনা নিতে হবে৷ এই অকৃষি শিল্পে নিযুক্ত কর্মি সংখ্যার শতকরা হার পূরণ করতে  হবে কৃষি, কৃষি নির্ভর শিল্প ও কৃষি সহায়ক শিল্পে জন্যে বরাদ্দ কর্মী সংখ্যার হার কিছুটা কমিয়ে৷

  এই ভাবে অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের নীতিতে সুপরিকল্পিতরূপে দেশের সমস্ত এলাকার, সমস্ত জেলার তথা সমস্ত ব্লকে কৃষি-শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে ও স্থানীয় ১০০ শতাংশ মানুষের সুষ্ঠুভাবে কর্মসংস্থানের এর ব্যবস্থা করতে হবে৷ তখন আর পরিযায়ী শ্রমিকের  সমস্যাটাই থাকবে না৷ স্থানীয় মানুষকে কাজের জন্যে হন্যে  হয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না৷ বরং নিজের এলাকাতে সহজেই কাজ পেয়ে যাবে৷

 

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
আরও

সম্পাদকীয়

নোতুন পৃথিবী গড়তে আদর্শ মানুষ চাই
অধঃপতিত সমাজ---উত্তরণের পথ কি
পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ

প্রবন্ধ শিরোনাম

তোমার আসা যাওয়া
মহানধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে শিক্ষাদান হবে মানসিকতার ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে কখনোই নয়
কৃত্রিম হিন্দী ভাষা নয় সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক হোক
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি প্রাউট প্রবক্তার সতর্ক বার্তা
তোমার আসা যাওয়া
সমবায়ের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদন করে গ্রামীন বেকারত্ব দুর করা সম্ভব
কালীপূজা ও তন্ত্রসাধনা
সমাজ শাস্ত্র

পুরানো মাসিক খবর

  • March 2018 (115)
  • February 2018 (120)
  • January 2018 (119)
  • December 2017 (257)
  • November 2017 (51)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 11
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved