Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

সুষ্ঠু অর্থনীতি ছাড়া মানুষের কল্যাণ সম্ভব নয়

জহরলাল সাহা

আজকের সারা দুনিয়া জুড়ে চলছে ---সভ্যতার সঙ্কট৷ সে সঙ্কট কোথায় নেই? শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ইত্যাদি সবক্ষেত্রেই চলছে চরম সঙ্কট৷ আলোচনার  এ ক্ষুদ্র পরিসরে হয়তঃ সব সংকটের কথা বলা যাবে না৷ কিন্তু সবার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে যে সংকট যা সকল সংকটের মূল কারণ তা নিয়ে প্রথম আলোচনা করা উচিত বলে মনে করি৷

কথাটা এমন যে--- পেট্রোপণ্যের দাম বাড়লে গাড়ী ভাড়া বাড়ে, মালের আমদানী রপ্তানী খরচ বাড়ে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় আর একে একে সব ক্ষেত্রেই  তার প্রভাব পড়ে৷ ঠিক তেমনি সমাজজীবনের সব  কিছুতেই প্রভাব বিস্তার করে অর্থনীতি৷ সুষ্ঠ অর্থনীতি ছাড়া সব মানুষের জীবন-জীবিকা একেবারেই অচল৷ প্রথমতঃ রাজনীতি৷ রাজনীতি মানে রাজার নীতি নয়--- রাজনীতি মানে নীতির রাজা বা শ্রেষ্ঠ নীতি৷ ওই শ্রেষ্ঠনীতিতে গলদ থাকলে সমাজের সব ক্ষেত্রেই তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে  দেখা যায়৷

আজকের সমাজে সাধারণতঃ তিন প্রকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দেখা যায়৷ যথা---(১) পুঁজিবাদ বা ধনতন্ত্র৷ ধনতন্ত্র এসেছে-রাজতন্ত্রের পর৷ রাজতন্ত্রে কোন অর্থনীতি ছিল না৷ রাজার কথাই ছিল তখন আইন৷ কিন্তু পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইউরোপে আসে নবজাগরণ বা রেনেসাঁ৷ এই রেণেসাঁর মূল কথা হলো--- মানুষ স্বাধীনতাভাবে জন্মেছে, তাকে স্বাধীনতাভাবেই বাঁচতে দিতে হবে৷ এই ভাবনায় রাজনীতিতে এল-সংসদীয় গণতন্ত্র বা রাজনৈতিক গণতন্ত্র৷ এতে কালক্রমে এল টাকার খেলা, তারপর এল পেশীতন্ত্র---‘জোর যার মুলুক তার৷’ তারপর এল ভোটব্যাঙ্ক তৈরীর নানা কূটকৌশল--- সোজা বাংলায় যাকে বলা যায় মানুষে  মানুষে অহেতুক লড়াই লাগিয়ে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া৷ পৃথিবীর দু-চারটি দেশ ছাড়া আর সব জায়গাই চলছে এ ঘৃণ্য রাজনীতি যার ফলে মুষ্টিমেয় ধণিক শ্রেণী আর অগণিত অন্নহীন বস্ত্রহীন বাসস্থান হীনের জীবন যন্ত্রণা৷

দেশের অধিকাংশ মানুষের দুর্দশা দেখে ১৮৪৮ সালে কার্লমার্কস দিলেন মার্কসবাদ---১৮৬৪ সালে ডাস-ক্যাপিটেল গ্রন্থে প্রকাশ করলেন তাঁর পূর্ণাঙ্গ মতবাদ৷ এ মতবাদকে কমিউন-ইজমও বলা হয়৷ শোষণকে  উৎপাটনের জন্য এ মতবাদে পরিবার প্রথা, ব্যষ্টি স্বাধীনতা, মানুষের  মানসিক ও আধ্যাত্মিক দিকের কথা শিকেয় তুলে বলা হয়---মানুষ ‘‘সাধ্যমত কাজ করবে আর প্রয়োজন মতো ভোগ করবে৷’’ এ নীতিকথা কি বাস্তবে সম্ভব?

কারণ মানুষ সুযোগ পেলে কম কাজ করবে আর যতবেশী পারে তত ভোগ করবে৷ বড় ডেয়ারী ফার্মের মত  বড় বড় কমিউন এর চিন্তা হলো--- যেখানে সবাই থাকবে  খাবে৷ মানুষ কি পশু? রাশিয়া ইত্যাদি দেশ ভেঙ্গে গেছে৷ ইউরোপে মার্কসবাদের সংশোধনী এনে যা করা হয়েছে তা ইউরো কমিউনিজম প্রচ্ছন্ন পুঁজিবাদ ছাড়া আর কিছু নয়৷ চীনে চলছে বকলমে স্বৈরতন্ত্র৷ ত্রিপুরায় ও পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন (৩০/৩৫ বছর) এক নাগাড়ে সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার শাসন করেছে--- কিন্তু রাজ্য দুইটাতে বিষবৃক্ষ রোপন করে রেখে গেছে৷ দীর্ঘদিন এই দুইটা রাজ্যের মানুষকে তার কুফল ভুগতে হবে৷ কেরলের কথা জানি না৷ আসল ত্রুটিটা হলো সুষ্ঠু অর্থনীতি অভাব৷

১৯১৪-১৯ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হয়ে গেল৷ ১৯৩৯-৪৫ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আনবিক বোমায় জাপানের নাগাসাকি ও হিরোসিমাকে মরুভূমি বানিয়ে সারা পৃথিবীতে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে৷ মানুষ উর্দ্ধবাহু হয়েছে আর্তনাদ করছিল ---হে ভগবান, রক্ষা করো, থামাও যুদ্ধ--- আর নয়, আর নয়৷ ১৯৫৯ সালে এ যুগের পরিত্রাতা শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী ওরফে অর্থনীতিবিদ শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার যুগোপযোগী বিজ্ঞানসম্মত অর্থনৈতিক দর্শন দিলেন---‘‘প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্ব’’ সংক্ষেপে প্রাউট৷ প্রাউট সকল প্রশ্ণের উত্তর, সকল হতাশার আশ্বাস৷ প্রাউটের অর্থনৈতিক গণতন্ত্র সমাজে প্রগতিশীল সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে৷

সংক্ষেপে প্রাউটের মূল কথা হলো--- ১৷ জগতের সকল  সম্পদের ১০০ শতাংশ উপযোগ নিতে হবে৷ তাতে ১০০ শতাংশ লোকের কর্মসংস্থান হবে৷ ফলে উৎপাদন বাড়বে, জিনিষের দাম কমবে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে৷ ফলে সবার পারিবারিক জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে আসবে৷ বলা বাহুল্য, আজকালকার  রাজনৈতিক দলগুলো বেকার সমস্যাকে জিয়িয়ে রাখে৷ নইলে, কে তাদের দল করবে?

২৷ মানুষে মানুষে ধর্মীয় মতামত,আহার, পোশাক ইত্যাদিতে কোন বিশেষ সম্পর্ক নেই৷ সমাজে কেউ ক্রেতা আর কেউ বিক্রেতা৷ তাই প্রাউট চায়--- ‘‘ব্যষ্টিস্বার্থের সাথে সমষ্টি স্বার্থের সুষ্ঠু সমন্বয়৷’’ যা করতে পুঁজিবাদ ও মাকর্সবাদ উভয়েই ব্যর্থ হয়েছে৷

৩৷ সমাজে বা রাজ্যে অথবা দেশে প্রত্যেক মানুষের জীবন ধারণের নূ্যনতম প্রয়োজনের গ্যারান্টি থাকতে হবে৷ বর্ত্তমানে এই নূ্যনতম প্রয়োজন হলো-৫৷ যথা---অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা৷ বর্ত্তমান রাজনৈতিক দলগুলো এতে ব্যর্থ হয়েছে৷

৪৷ প্রাউট বলে--- নূ্যনতম প্রয়োজন পূর্ত্তির পর অতিরিক্ত সম্পদ গুণ অনুপাতে বন্টন করে দিতে হবে৷ একজন পাথর ভাঙ্গা শ্রমিকের আহার্য্য আর একজন বিচারকের জীবনশৈলী এক হতে পারে না৷ সমাজে ‘তেল, ঘি একদর  হবে না৷’

বর্ত্তমানে কয়েকটা বড়ো রাস্তা, কয়েকটা পাকা বাড়ী নির্মানকে প্রগতি বলে৷ প্রাউটে প্রগতি বলতে  বুঝায় --- দেশের সবচেয়ে  গরীব লোকটা যে দিনে কোনপ্রকারে একবার আহার যোগাড় করে, রাতে রাস্তার পাশে শোয়ে এ অবস্থায় যদি দেশের বা রাজ্যের সবাই দুই বেলা পেট ভরে খেতে পায় আর নিজের কুঁড়ে ঘরে শুতে পায়--- তবে বুঝা যাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে৷

আলোচনার সংকীর্ণ পরিসরে হয়তঃ বিস্তারিত বলার সুযোগ নেই৷ বারান্তরে প্রাউটের আরও নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে৷ প্রাউটের যুক্তিযুক্ত তত্ত্ব ও পদ্ধতি দেখে প্রবক্তা শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজীকে ৮ (আট) বছর  জেলে বন্দী করে, বিষ খাইয়ে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছিল৷ কিন্তু তাদের সবচেষ্টা বিফল হয়েছে৷ আনন্দমার্গ তথা প্রাউট পৃথিবীর প্রায় দুইশত দেশে ছড়িয়ে পড়েছে৷

এখন কথা হলো--- সবার স্বার্থে প্রাউটের সুন্দর ব্যবস্থাগুলি প্রথমে জানা দরকার৷ তারপর প্রয়োগ করা দরকার৷ এতেই সকলের কল্যাণ৷ যতদিন যাবে ততই মানুষের কষ্ট বাড়বে৷

পরিশেষে অবশ্যই বলতে হয়--- শোষণমুক্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘটন ছাড়া অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য আনা সম্ভব নয়৷ ঘাটতি অঞ্চলের মানুষ সবসময়ই কোন না কোন ভাবে শোষিত হতে থাকে৷ তাই প্রাউটের এ বিষয়টাকে যত দ্রুত বাস্তবায়িত করা যায় ততই মঙ্গল৷

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
যজ্ঞ প্রসঙ্গে
ঈশ্বর–প্রণিধানের মানসাধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
পাপ, পুণ্য ও অপরাধ
প্রাউটের দৃষ্টিকোন থেকে : ত্রিপুরার উন্নয়ন
আরও

সম্পাদকীয়

পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ
পেট্রল ও ডিজেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি!
সমাজ–সভ্যতা বাঁচাতে চাই আদর্শ শিক্ষা

প্রবন্ধ শিরোনাম

  • দিব্য অনুভূতি
  • আমার বাঙলা
  • গল্প হলেও সত্যি 
  • সমাজ-এর সৃষ্টিই সভ্যতার প্রথম বিকাশে তাই সমাজ রক্ষা করা মানবতাবাদী শাসকের কাজ
  • বিধবস্ত দার্জিলিং---প্রকৃতির প্রতিশোধ
  • একটি ঐতিহাসিক তথ্য
  • ফাঁসীর মঞ্চে গাইলেন যিনি জীবনের জয়গান
  • আমার সন্তান যেন থাকে  দুধে ভাতে

পুরানো মাসিক খবর

  • February 2026 (59)
  • August 2022 (106)
  • July 2022 (93)
  • June 2022 (167)
  • May 2022 (92)
Pagination
  • Page 1
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved