Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

তোমার আসা যাওয়া

জ্যোতিবিকাশ সিন্‌হা

আমার এই দীন দুয়ারে

    তোমার নিত্য আসা-যাওয়া

তবু কেন অশ্রু-ধারে

    আকুল-ব্যাকুল পথ চাওয়া৷

বুঝিনা যে তোমার মরম

    বিশ্বজুড়ে অপার লীলা

তোমার ভাবে বিভোর এ মন

    দিবানিশি সারা বেলা৷৷

ভক্ত ও ভগবানের অচ্ছেদ্য সম্পর্ক চিরন্তন, শাশ্বত, অন্তরের পবিত্রতায় সমুজ্জ্বল৷ ভক্তকে নিয়ে লীলাময়ের কত না ছলাকলা, লুকোচরি খেলা আর ভগবানের সঙ্গে ভক্তের মান অভিমান, প্রেম-ভালবাসা, পাওয়া-হারানোর অম্ল-মধুর রসায়ন৷ বিশ্ব সংসার, গ্রহ-নক্ষত্র, জড়-জীব, চেতন-অচেতন সব তাঁরই সৃষ্ট, তাঁতেই বিধৃত---আর পরমপুরুষও তাঁর সৃষ্টি মাঝেই ওতঃপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত৷ ভক্ত জানে যে পরমপুরুষ তার চারপাশে বিরাজমান---হৃৃদয়ের অন্তঃপুরে, মনের মণিকোঠায় অধিষ্ঠিত, তথাপি সেই অরূপ সত্তাকে রূপের প্রকাশে, মানবীয় আধারে তার একেবারে কাছটিতে পেতে চায়---হাসি-আনন্দ, দুঃখ-বেদনার সাথী করতে চায়৷ ভক্ত মনের এই চাওয়াও চিরন্তন৷ যুগে যুগে মুনী-ঋষি মহাভক্তগণ এভাবেই পরমপুরুষকে একান্তে পেতে চেয়েছেন, পেয়েওছেন৷ অপরপক্ষে পরমপুরুষও ভক্তের আকুল আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করতে নব নব রূপে ধরা দেন ও কোটি জনমের পুণ্যের ফলে পাওয়া ভক্তের মানব জীবনকে সার্থকতায় ভরিয়ে তোলেন৷ 

বিংশ শতাব্দীর মানুষ ভাগ্যবান৷ অগণিত ভক্ত-সাধক-মনীষীগণের আন্তরিক আহ্বানে ধূলার ধরণীতে মানব শরীরে আবির্ভূত হলেন এক দিব্যশিশু ১৯২১ সালের বৈশাখী পূর্ণিমার পুণ্যলগ্ণে শ্রীলক্ষ্মীনারায়ণ সরকারের গৃহকোণ আলোয় উদ্ভাসিত করে৷ তাঁর পিতৃদত্ত নাম শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার ও পরবর্তীকালে তিনিই আধ্যাত্মিক গুরু রূপে শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী নামে বিশ্বসংসারে পরিচিত হয়েছিলেন৷ দীর্ঘ প্রতীক্ষার হ’ল অবসান৷ বিংশ শতাব্দীর প্রথম থেকেই সমগ্র পৃথিবী হিংসা-সন্ত্রাস, যুদ্ধ-বিগ্রহে বিপর্যস্ত, চতুর্দিকে অস্ত্রের ঝনঝনি, দুরাত্মা-দুর্বিনীত অত্যাচারীর শাসন-শোষণে সাধারণ মানুষ নিপীড়িত, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত---মানবতা ভূলুণ্ঠিত, নীতিবাদী, ধার্মিক মানুষজনের অস্তিত্ব ভয়ঙ্করভাবে বিপন্ন৷ তখনই তারকব্রহ্ম শ্রীকৃষ্ণ প্রদত্ত মহাভারতের আশ্বাসবাণী ‘যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারতঃ / অভ্যুত্থানম্‌ অধর্মস্য তদাত্মানম্‌ সৃজামহম্‌’-কে সত্য প্রতিপন্ন করে ধরাধামে মানবাধারে অবতীর্ণ হলেন তারকব্রহ্ম মহাসম্ভূতি শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী৷ যন্ত্রণাতপ্ত পৃথিবীতে ভাবজড়তা ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষদের গড়ে তুলতে লাগলেন আধ্যাত্মিকতার আদর্শে৷ আধ্যাত্মিক সাধনা অনুশীলনের দ্বারা দিশাহীন মানুষ উন্নততম জীবনাদর্শের সন্ধান পেল৷ তাঁর দিব্য সান্নিধ্যে ও সাধনার মাধ্যমে অভূতপূর্ব আনন্দের আস্বাদনে সমর্থ হলেন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অসংখ্য অতি সাধারণ মানুষজন৷ অজ গ্রাম থেকে শহর, দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে গেলেন তাঁর প্রতিনিধিরূপে নবীন সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসিনীর দল৷ অত্যন্ত অখ্যাত নারী-পুরুষদের নিয়ে তিনি গড়ে তুললেন এক বিশ্ব সংঘটন ‘আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘ’৷ শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী প্রবর্তিত আনন্দমার্গ দর্শন ও আধ্যাত্মিকতা ভিত্তিক জীবনাদর্শের বার্তা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দিলেন আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের একনিষ্ঠ সর্বক্ষণের কর্মীবৃন্দ৷ তাঁরই অহৈতুকী কৃপায় ও নির্দেশনায় অতি সাধারণ কর্মীগণ অসাধারণ কর্ম সম্পাদন করতে লাগলেন ও মানুষের কল্যাণে, সমাজের সেবায় আত্মনিয়োগ করলেন৷ আনন্দমার্গের সাধনার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে কোন ভেদাভেদের লেশমাত্র রাখা হয়নি৷ তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অধ্যাত্ম সাধনার সুযোগ গ্রহণ করে উপকৃত হলেন৷ 

পুঁজিবাদ ও জড়বাদের জোড়া ফলায় বিদ্ধ সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠেছিল দুর্বিসহ৷ এক শ্রেণীর স্বার্থপর অর্থলোলুপ সুযোগ-সন্ধানী মানুষের দল পৃথিবীর সমস্ত সম্পদকে করায়ত্ত করার বাসনায় কোটি কোটি মানুষের ওপরে চালিয়ে গেছে শোষণের স্টীমরোলার৷ পুঁজিবাদী শোষকের ভাণ্ডারে সঞ্চিত হয়েছে সম্পদের পাহাড়, ভোগ-বিলাসের বিপুল আয়োজন---অন্যদিকে অসংখ্য শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষের হাহাকার, আর্তনাদ, অনাহার, অর্ধাহার, অপুষ্টি, অশিক্ষা, কুশিক্ষা, আশ্রয়হীনতা, ও জীবনের অনিশ্চিততা৷ এই বিভীষণ যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণের জন্যে শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার প্রবর্তন করলেন সামাজিক অর্থনৈতিক দর্শন ‘প্রাউট’ PROUT—Progressive Utilization Theory) বা প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্ব৷ এই তত্ত্বে তিনি দ্বিধাহীন ভাবে ঘোষণা করলেন জগতের সমগ্র সম্পদের মালিক একমাত্র পরমপিতা সৃষ্টিকর্তা ও এই সম্পদে প্রতিটি মানুষ সহ সমগ্র সৃষ্ট সত্তার সমান অধিকার রয়েছে কারণ প্রতিটি সৃষ্ট সত্তাই পরমপুরুষের সন্তান-সন্ততি৷ অন্যকে বঞ্চিত করে এই সম্পদ কুক্ষিগত করার অধিকার কারো নেই৷ পৃথিবীর সমস্ত জাগতিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সম্পদের সর্বাধিক উপযোগ গ্রহণ করে সকলের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে৷ প্রাউটের অর্থনীতি অনুযায়ী সমাজের সকলের সুবিধার্থে ও মঙ্গলসাধনে বিকেন্দ্রিত অর্থনীতির প্রচলন করতে হবে৷ কারণ বর্তমানে প্রচলিত পুঁজিবাদী বা তথাকথিত সাম্যবাদীদের কেন্দ্রিত অর্থনীতিই হচ্ছে শোষণের প্রধান উৎস৷ আর এই শোষণের উৎসকে সমূলে বিনাশ করার জন্যে ব্লক ভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে স্বয়ং সম্পূর্ণ আর্থ-সামাজিক অঞ্চল ঘটন করে সেই অঞ্চলে সকল স্থানীয় অধিবাসীদের একশত শতাংশ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে ও সকলের নূ্যনতম প্রয়োজন মেটানোর জন্যে যথেষ্ট ক্রয়ক্ষমতা সুনিশ্চিত করতে হবে৷ প্রাউট অর্থনীতির মূল উপাদান হ’ল সমবায়ের মাধ্যেমে সমস্ত মানুষের অংশগ্রহণের অধিকারের দ্বারা অর্থনীতির বিকেন্দ্রীকরণ৷ সমবায় প্রথা সফল করার প্রধান চালিকা শক্তি হচ্ছে নীতিবাদ আর আধ্যাত্মিকতা ভিত্তিক জীবনাদর্শই মানুষকে নীতিবাদে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে৷ সেই কারণে সমাজ ও সমবায়ের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন আধ্যাত্মিকতায় প্রতিষ্ঠিত নীতিবাদী আপোষহীন সংগ্রামী সদ্‌বিপ্র নেতৃত্ব, যাতে কোন অশুভ শক্তি সমাজের কোন ক্ষতি করতে না পারে৷ এইভাবেই রচিত হবে শোষণমুক্ত সকলের বাসযোগ্য মানুষের প্রকৃত সমাজ৷ সীমিত পার্থিব সম্পদকে নিয়ন্ত্রিত রূপে সকলের কল্যাণে ব্যবহার করে মানুষের অসীম আকাঙ্ক্ষাকে অনন্ত আধ্যাত্মিক জগতে পরিচালিত করার মাধ্যমে মানুষের সমাজকে সর্বাঙ্গসুন্দর করে তুলতে হবে৷ (চলবে)

 

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
আরও

সম্পাদকীয়

নোতুন পৃথিবী গড়তে আদর্শ মানুষ চাই
অধঃপতিত সমাজ---উত্তরণের পথ কি
পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ

প্রবন্ধ শিরোনাম

তোমার আসা যাওয়া
মহানধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে শিক্ষাদান হবে মানসিকতার ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে কখনোই নয়
কৃত্রিম হিন্দী ভাষা নয় সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক হোক
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি প্রাউট প্রবক্তার সতর্ক বার্তা
তোমার আসা যাওয়া
সমবায়ের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদন করে গ্রামীন বেকারত্ব দুর করা সম্ভব
কালীপূজা ও তন্ত্রসাধনা
সমাজ শাস্ত্র

পুরানো মাসিক খবর

  • March 2018 (115)
  • February 2018 (120)
  • January 2018 (119)
  • December 2017 (257)
  • November 2017 (51)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 11
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved