Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

যোগ ও তন্ত্র

শ্রী শ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী

আজকের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ‘যোগ ও তন্ত্র’৷ অনেকে জানতে আগ্রহী যে যোগ কী ও তন্ত্র কী, আর এদের মধ্যে মিল ও পার্থক্য কোথায়৷ প্রথমে যোগ নিয়ে আলোচনা করা যাক্৷

সংস্কৃত মূল ধাতু ‘যুন্জ্’৷ এই ‘যুন্জ্’–এর সঙ্গে ‘ঘঞ্’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ‘যোগ’ শব্দ নিষ্পন্ন হয়৷ অথবা ‘যুজ্’–এর সঙ্গে ‘ঘঞ্’ যুক্ত হয়েও যোগ শব্দ পাওয়া যায়৷ যদি যুজ্  ঘঞ্ ঞ্চ যোগ হয়, সেক্ষেত্রে যোগ শব্দের অর্থ দাঁড়ায় যোগ করা (addition), যেমন ২ ও ২ সংখ্যা মিলে ৪ সংখ্যাটি পাওয়া গেল৷ কিন্তু যদি ‘যুন্জ্’ ধাতুর সঙ্গে ‘ঘঞ্’ যুক্ত হয় তখন ‘যোগ’ শব্দটির অর্থ হয়ে দাঁড়ায় সংযুক্ত করা বা হওয়া (unification), যেমন, চীনী আর জলের সংযোগে যে বস্তুটি পাওয়া গেল, তা৷ যখন চীনী আর জল একত্রে মিলিয়ে দেওয়া হ’ল তখন তার মধ্যে চীনীর পৃথক অস্তিত্ব আর খুঁজে পাওয়া যায় না৷ কিন্তু প্রথমটির ক্ষেত্রে ২ ও আর একটি ২–এদের যোগ করা হলেও প্রথম ২ ও দ্বিতীয় ২–এদের পৃথকত্ব থেকেই যায়৷ দু’টি আম ও আরও দুটি আম যোগ করে চারটি আম পেলুম৷ কিন্তু পৃথক ভাবে চারটি আমের অস্তিত্ব থেকেই যাচ্ছে৷

যোগের এই দু’টি derivation ছাড়াও অন্যান্য সংজ্ঞাও আছে৷ মহর্ষি পতঞ্জলি যোগের ব্যাখ্যা করেছেন, ‘যোগশ্চিত্তবৃত্তিনিরোধ্’ অর্থাৎ মনের সমস্ত বৃত্তিকে সম্পূর্ণভাবে নিরুদ্ধ করে দেওয়াই হচ্ছে যোগ৷ মানুষের মনে আছে পঞ্চাশটি বৃত্তি৷ যদি কোনো বিশেষ উপায়ে এই বৃত্তিগুলোকে নিরুদ্ধ করা যায়, তাদের অভিব্যক্তিকে বা ক্রিয়াশীলতাকে যদি আটকে দেওয়া যায়, সেক্ষেত্রে মন কাজ করা বন্ধ করে দেবে৷ মনের এই নিরুদ্ধাবস্থাই হচ্ছে যোগ৷ কিন্তু আমরা ওপরে যোগের যে ব্যাখ্যা পেয়েছি তা হচ্ছে সংযোগ৷ বৃত্তি–নিরোধ বললে কোনো অর্থেই বৃত্তিগুলির সংযুক্তিকরণ হতে পারে না৷ বৃত্তি নিরুদ্ধ হওয়ার ফল–স্বরূপ অণুমনের ভূমামনের সঙ্গে সংযুক্তি ঘটে না৷ এই ব্যাখ্যায় কার সঙ্গে কার সংযুক্তিকরণ হচ্ছে তা স্পষ্ট হয় না৷ তাই এই সংজ্ঞা গ্রহণযোগ্য নয়৷

দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হচ্ছে–‘‘সর্বচিন্তা পরিত্যাগো নিশ্চিন্তো যোগ উচ্চতে’’৷ এর অর্থ যখন মন সমস্ত রকমের চিন্তা থেকে মুক্ত থাকে সেই অবস্থাই হচ্ছে যোগ৷ কিন্তু এ ক্ষেত্রে মন চিন্তা থেকে মুক্ত হলেও তার ফলে মহত্তর কোন সংযুক্তিকরণ হয় না৷ যখন মানুষ গভীর নিদ্রায় থাকে, কোনো স্বপ্ণও সে দেখছে না, মন চিন্তামুক্ত অবস্থায় আছে বা অচেতন অবস্থায় আছে, সেই অবস্থাটাকে কি যোগ বলব? –না, যোগ বলব না৷

ভগবান সদাশিব প্রদত্ত আর একটি ব্যাখ্যা হচ্ছে–‘সংযোগো যোগ ইত্যুক্তো জীবাত্মা–পরমাত্মনঃ৷’ এর অর্থ ব্যষ্টি–আত্মা অর্থাৎ জীবাত্মা যখন ভূমাসত্তা তথা পরমাত্মার সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে, সেটাই হচ্ছে যথার্থ যোগ৷ এটাই হচ্ছে যোগের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞান–সম্মত ব্যাখ্যা৷

এখন ‘তন্ত্র’ কী তা দেখা যাক্৷ সংস্কৃত মূল ধাতু ‘তন্’–এর অর্থ হচ্ছে বিস্তারিত হওয়া৷ এই ‘তন্’ ধাতু থেকেই আমরা ‘তনু’ শব্দটি পাচ্ছি যার অর্থ যে দেহ ক্রমশঃ বর্দ্ধিত হচ্ছে৷ একটি শিশুর দেহকে সংস্কৃতে বলে ‘তনু’৷ কেননা এটি ঊনচল্লিশ বছর পর্যন্ত বিকশিত হতে থাকে৷ তাই ঊনচল্লিশ বছর পর্যন্ত মানবদেহকে বলতে পারি ‘তনু’৷ কিন্তু তার পরে মানবদেহকে বলব শরীর, কেন না তার ক্ষয় হচ্ছে ও তা ক্রমশঃ শীর্ণ হচ্ছে বা সঙ্কুচিত হচ্ছে৷ তাই শিশুর দেহকে যেমন শরীর বলতে পারি না তেমনি একজন বৃদ্ধের শরীরকেও তনু বলতে পারি না৷

তন্  ত্রৈ  ড করে ‘তন্ত্র’ শব্দ পাচ্ছি, যার অর্থ যা মুক্তি আনয়ন করে৷ তাই তন্ত্র হচ্ছে সেই বিজ্ঞান যা মানসাধ্যাত্মিক বিস্তারের যে অনুশীলন তার মাধ্যমে মানুষকে মুক্তির পথ দেখাচ্ছে৷ তাই তন্ত্রের সার কথা হচ্ছে এই বিস্তারিত ঙ্মজীবনের সর্ব ক্ষেত্রেক্ষ হয়ে চলা৷

তন্ত্রের আর একটি ব্যঞ্জনা হচ্ছে নিম্নরূপ ঃ–

ইন্দোভারতীয় বর্ণমালায় আছে পঞ্চাশটি বর্ণ যার মধ্যে ‘অ’ হচ্ছে প্রথম বর্ণ আর ‘ক্ষ’ হচ্ছে শেষ বর্ণ৷ এখন মুখ্য বৃত্তিগুলির সংখ্যাও হচ্ছে পঞ্চাশ৷ কিন্তু প্রতিটি বৃত্তির আবার কয়েকটি করে উপবৃত্তি আছে কেন না প্রতিটি বৃত্তির কোনো–না–কোনো faculty  আছে৷ এই ভাবে বৃত্তিগুলি দশটি দিশায় আর আন্তরিক ও বাহ্যিক দুই ভাবেই অভিব্যক্ত হয়৷ তাই শেষ পর্যন্ত সর্বসাকুল্যে বৃত্তির সংখ্যা দাঁড়ায়–পঞ্চাশটি বৃত্তি  দশ দিক  আন্তরিক ও বাহ্যিক = এক হাজার৷ তাই মুখ্যতঃ বৃত্তির সংখ্যা পঞ্চাশ হলেও গৌণতঃ তারা এক হাজার৷ সহস্রার চক্রস্থিত সহস্রার গ্রন্থি থেকে এই এক হাজার বৃত্তি নিয়ন্ত্রিত হয়৷

এই প্রতিটি বৃত্তির নিজস্ব তরঙ্গ আছে, তাই তার নিজস্ব বর্ণও আছে৷ যখন কেউ ক্রোধবৃত্তির বশীভূত হয় তখন তার শরীরে এক রকমের স্পন্দনের সৃষ্টি হয় যার ফলে শরীর কাঁপতে থাকে ও মুখের রঙ পরিবর্তিত হয়ে যায়৷ গৌর বর্ণের মানুষ (মুখ) লাল রঙের হয়ে যায়৷ কৃষ্ণ বর্ণের মানুষ হয়ে যায় বেগুনী রঙের৷ এইভাবে তোমরা দেখলে যে প্রতিটি বস্তুর নিজস্ব তরঙ্গ আছে আবার রঙও আছে৷

এই যে কোন কর্মের বা কোন বস্তুর স্পন্দন, তার আবার শব্দাত্মক বা ধ্বনিগত বীজও আছে৷ কেউ একজন ক্রোধের বশবর্তী হয়ে যে ধরনের কথাবার্তা বলবে সেই মানুষটিই আবার স্বাভাবিক অবস্থায় অন্যভাবে কথা বলবে৷ ক্রোধী মানুষের কণ্ঠস্বরও স্বাভাবিক মানুষের কণ্ঠস্বরের থেকে অস্বাভাবিক হয়ে যাবে৷ সেইরকম প্রতিটি বৃত্তির নিজস্ব স্পন্দন আছে, সেই অনুযায়ী পৃথক বর্ণ ও ধ্বনিও আছে৷ পঞ্চাশটি বৃত্তির যে ধ্বনি তাই হচ্ছে আমাদের বর্ণমালা৷ অ, আ, ক, খ–এগুলি হচ্ছে ধ্বন্যাত্মক অভিব্যক্তি৷ প্রতিটি বৃত্তির নিজস্ব রঙ (বর্ণ) আছে, আর এই পঞ্চাশটি ধ্বনি তথা বর্ণের সমাহার বলেই আমরা ইংরেজী alphabet– সংস্কৃতে ‘বর্ণমালা’ বলি৷ বর্ণ বা letter –যেমন স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ–আক্ষরিক অর্থেও বর্ণ মানে রঙ৷ এইভাবে পঞ্চাশটি মুখ্য ধ্বনি বা বর্ণ আর গৌণতঃ এক হাজার ধ্বনি বা বর্ণ আছে৷ আমি আগেই বলেছি প্রতিটি বৃত্তির বিশেষ বিশেষ বর্ণ আছে৷ যেমন, সত্ত্বগুণের রঙ হচ্ছে শাদা, রজোগুণের হলুদ আর তমোগুণের রঙ হচ্ছে কালো৷

আবার ‘শ’ হচ্ছে রজোগুণের ধ্বন্যাত্মক প্রতিভূ৷ এই ধ্বনিমূলক অভিব্যক্তিরই ঙ্মসাধনাগতক্ষ নাম হচ্ছে বীজমন্ত্র, ইংরেজীতে acoustic roots৷ ‘শ’ রজোগুণের বীজমন্ত্র, ‘স’ সত্ত্বগুণের বীজমন্ত্র আর ‘ষ’ তমোগুণের বীজমন্ত্র৷ কেউ একজন যখন চলছে তখন খট্–খট্–খট্ শব্দ উত্থিত হচ্ছে৷ তাই চলমানতা বা গতির বীজমন্ত্র হচ্ছে খট্–খট্–খট্৷ সমস্ত কর্ম বা অস্তিত্বের পেছনেই কোনো–না–কোনো ধ্বনিমূলক অভিব্যক্তি আছে–তাকেই বলে বীজমন্ত্র৷ প্রাচীনকালে রক্ষণশীল মানুষ চামড়ার জুতো পরতে চাইতেন না৷ তাঁরা কাষ্ঠনির্মিত জুতো বা খড়ম ব্যবহার করতেন৷ এই ধরনের খড়ম পরিধান করে তাঁরা যখন চলতেন তখন স্বাভাবিক ভাবেই ঠক্–ঠক্–ঠক্ শব্দ তৈরী হত৷ তাই এক শ্রেণীর মানুষ যাঁরা চলার সময় ঠক্–ঠক্–ঠক্ শব্দ সৃষ্টি করতেন তাঁদের নাম হয়ে গেল ‘ঠক্কর’–ঠক্কম্ ঠক্কম্ করোতি যঃ সঃ ঠক্কর৷ ঠক্কর থেকে হয়ে গেল ‘ঠাকুর’৷

তাই স্পষ্টতঃ দেখা গেল প্রতিটি বর্ণ বা অস্তিত্বের পেছনে কোনো–না–কোনো বীজমন্ত্র আছেই৷ যেমন ‘শ’ রজোগুণের বীজমন্ত্র, তেমনি ‘র’ হচ্ছে শক্তির বা ন্দ্বুন্দ্বব্জন্ধম্ভ–র বীজমন্ত্র৷ শ  র ঞ্চ ‘শ্র’–এর অর্থ শক্তিসমন্বিত (সমস্ত রকমের শক্তি) রজোগুণের অভিপ্রকাশ৷ এখন ‘শ্র’–এর সঙ্গে স্ত্রী লিঙ্গে ‘ঈ’ প্রত্যয় যুক্ত হলে হয়ে যাবে ‘শ্রী’৷ এর অর্থ যার মধ্যে রজোগুণ আছে ও শক্তিও আছে৷ তাই ‘শ্রী’ শব্দের অন্তিম অর্থ হয়ে যাচ্ছে সৌন্দর্য–সুষমা বা Charm৷ বাস্তব জীবনের প্রতিটি মানুষই Charm–কে চায়৷ এই কারণেই প্রাচীনকাল থেকেই এই নিয়ম বা ব্যবস্থা চলে আসছে যে মানুষের নামের আগে ‘শ্রী’ শব্দ যুক্ত করা ঙ্মশ্রীযুক্তক্ষ৷   (ক্রমশঃ)

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
আরও

সম্পাদকীয়

নোতুন পৃথিবী গড়তে আদর্শ মানুষ চাই
অধঃপতিত সমাজ---উত্তরণের পথ কি
পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ

প্রবন্ধ শিরোনাম

তোমার আসা যাওয়া
মহানধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে শিক্ষাদান হবে মানসিকতার ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে কখনোই নয়
কৃত্রিম হিন্দী ভাষা নয় সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক হোক
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি প্রাউট প্রবক্তার সতর্ক বার্তা
তোমার আসা যাওয়া
সমবায়ের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদন করে গ্রামীন বেকারত্ব দুর করা সম্ভব
কালীপূজা ও তন্ত্রসাধনা
সমাজ শাস্ত্র

পুরানো মাসিক খবর

  • March 2018 (115)
  • February 2018 (120)
  • January 2018 (119)
  • December 2017 (257)
  • November 2017 (51)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 11
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved