Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

যোগাযোগের প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে স্থানীয় ভাষার ব্যবহার বাঞ্ছনীয়

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

কোন অঞ্চলের সরকারী বা বেসরকারী সংস্থা ও অফিসগুলিতে স্থানীয় ভাষাকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে৷

ভাষা মানুষের অন্তরের ভাব প্রকাশের এক শক্তিশালী মাধ্যম৷ এই ভাষা মানুষের প্রাণীন সম্পদ–যা তার প্রাণধর্ম, অর্থাৎ সত্তাগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত৷ নিজস্ব মাতৃভাষায় একজন যেমন স্বচ্ছন্দে ও সাবলীলভাবে নিজের ভাবকে প্রকাশ করতে পারে, তেমনটি অন্য কোন ভাষায় পারে না৷ মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলতে সে অসুবিধা বোধ করে৷ প্রতিনিয়তই যদি অন্য ভাষায় কথা বলিয়ে এরূপ অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে তাকে বাধ্য করান হয়, তবে তার প্রাণশক্তি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে–ক্রমশ প্রাণশক্তি দুর্বল হয়ে পড়বে৷ এই রকম পরিস্থিতিতে সেই ব্যষ্টি বা ব্যষ্টিসমূহের মধ্যে এক মনস্তাত্ত্বিক সংকট দেখা দেবে৷ প্রথমেই তার মধ্যে দেখা দেবে এক ধরণের হীনম্মন্যতা বোধ, যা মানুষের মানসিক দুর্বলতার কারণ৷ যাদের ভাষা অবদমিত হবে তাদের নৈতিক সাহস, উদ্যম ও প্রতিবাদ করার শক্তি হারিয়ে যাবে৷ শেষ পর্যন্ত তাদের একটা পরাজিতের মনোভাব জাগবে–যা কোন জনগোষ্ঠীর প্রাণ স্পন্দনকে অচিরেই স্তব্ধ করে’ দেবে৷

সুতরাং ভাষার অবদমন মানুষের মনে মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে৷ এই ধরণের ক্রমাগত অবদমনের ফলে জনগণ কখনই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না, ও তাদের অকালে অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটবে৷ এ বিষয়ে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে যে, ভাষার ক্ষেত্রে অবদমিত এই জনগোষ্ঠী মানস–র্থনৈতিক শোষণের চাপে পড়ে’ সব সময় আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকবে৷ এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, ভারতবর্ষ সমেত সমস্ত পৃথিবীতে এই ট্র্যাজেডীটাই ঘটে চলেছে৷ তাই প্রত্যেক প্রগতিশীল সমাজ ব্যবস্থায় সমস্ত ভাষাকেই সমান স্বীকৃতি, সুযোগ ও অধিকার দিতে হবে৷ একথা মনে রাখতে হবে যে, এই স্বীকৃতি কেবল তত্ত্বগত ভাবে ও পঠন–পাঠনে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না৷ এ হতে হবে বৈবহারিক–অর্থাৎ প্রাত্যহিক জীবনের সকল কর্মে এর স্বীকৃতি দিতে হবে৷ জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে–অফিস, আদালত, রেলওয়ে, বিমানবন্দর, ব্যবসা–বাণিজ্য ও সরকারী–বেসরকারী সমস্ত কাজে প্রকাশের মাধ্যম হওয়া উচিত মাতৃভাষা৷

মাতৃভাষাকে দাবিয়ে রাখলে তার পরিণতি হয় ভয়ানক৷* বাঙলাদেশের উদাহরণই ধরা যাক৷ পাকিস্তান হওয়ার পর উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করা হয়েছিল৷ কিন্তু (পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলিয়ে) অবিভক্ত পাকিস্তানে জনগণের ৬০ শতাংশ বাংলায় কথা বলতো, আর বাকী ৪০ শতাংশ লোক হিন্দী, বালুচী, পঞ্জাবী ও উর্দু ভাষায় কথা বলতো৷ এই ছিল প্রকৃত ভাষা পরিস্থিতি৷ কিন্তু উর্দু ভাষাকে জাতীয় ভাষা করায় পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) বিদ্রোহ করলো৷ শেষপর্যন্ত পাকিস্তান ভেঙে গেল, ও বাঙলাদেশ স্বাধীন হ’ল৷ সেই সময়ের একটি বিখ্যাত গান–‘ওরা আমার মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চায়’–জনগণের আবেগের উদ্বোধন ঘটিয়েছিল, আর মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবীকে ঘিরে সমস্ত দেশ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল৷ জনগণের আবেগকে বেশীদিন জোর করে’ দাবিয়ে রাখা যায় না৷ মানুষ মাতৃভাষাতেই সব থেকে ভালভাবে নিজেকে প্রকাশ করে’ থাকে, আর সেই মাতৃভাষাকে দাবিয়ে রাখার অর্থ প্রাণধর্মকে হত্যা করা৷

ভাষা–নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই ধরণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে মেনে না নিয়ে যদি কেউ জোর করে’ বিশেষ কোন ভাষাকে অন্য ভাষার ওপর চপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তবে তা বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক বিদ্বেষ ও উত্তাপকে বাড়িয়ে দেশকে বিচ্ছিন্নতাবাদের দিকে ঠেলে দেবে৷ এই আত্মঘাতী নীতি উগ্র ভাষান্ধতাকে আরও উস্কে দেবে–যা সমাজের সুস্থ পরিবেশকে কলুষিত করে’ দেবে৷

ভারতে অ–হিন্দীভাষীদের ওপর হিন্দীভাষা চাপিয়ে দেওয়ার ফলে এক রাজ্যের সঙ্গে আর এক রাজ্যের, ও কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের বৈরী মনোভাব তৈরী হয়েছে৷ হিন্দী চাপিয়ে দেওয়ার ফলে হিন্দীসাম্রাজ্যবাদ সৃষ্টি হয়েছে, আর যারা হিন্দীতে কথা বলে না তারা অবদমিত বোধ করছে৷ উদাহরণস্বরূপ, বিহারে হিন্দী চাপিয়ে দেওয়ার ফলে ভোজপুরী, মৈথিলী, অঙ্গিকা, মগহী ও নাগপুরীর মত প্রধান প্রধান ভাষায় যারা কথা বলে তারা অবদমিত হচ্ছে৷ বিহারের লোকদের যেহেতু নিজস্ব উচ্চারণ শৈলী রয়েছে, সেহেতু তারা হিন্দী ঠিকভাবে উচ্চারণ করতেও পারে না৷ ঠিক এইভাবে কানাডায় ফ্রেঞ্চ, স্পেনে বাস্কে, ও সিসিলিতে সিসিলিয়ান ভাষা অবদমিত হচ্ছে৷

বহু–ভাষী ও বহু–ধর্মমতের দেশ ভারতে কোন একটি স্থানীয় ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করা দেশের সার্বিক কল্যাণের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক৷ বস্তুতঃ, ভারতের সমস্ত ভাষাকেই স্বীকৃতি দেওয়া ও উৎসাহিত করা উচিত৷ এ ব্যাপারে ভারতের উচিত অন্যান্য কয়েকটি দেশকে অনুসরণ করা৷ উদাহরণস্বরূপ, সুইজারল্যান্ডের কথাই ধরা যাক৷ এখানে ইতালিয়ান, ফ্রেঞ্চ ও রোমান্শ্ ভাষায় যতলোক কথা বলে, তার দ্বিগুণের বেশী লোক জার্মান ভাষায় কথা বলা সত্ত্বেও, চারটি ভাষাকেই রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে৷ এটাই সঠিক পন্থা–কারণ এই নীতি জনগণের সামূহিক মনস্তত্ত্বের বিরুদ্ধে যায় না৷

সমাজের অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ্য রেখে এটা মনে রাখা উচিত যে, সব ভাষাকে সমান সুযোগ প্রদান, ও প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাযোগরক্ষাকারী ভাষা হিসেবে কোন স্থানীয়ভাষা ও বিশ্ব–ভাষা প্রসারের মধ্যে কোন বিরোধ থাকা উচিত নয়৷ দেখতে হবে যোগাযোগরক্ষাকারী ভাষা হিসাবে যাকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, তা যেন অন্য ভাষাকে অবদমন না করে৷

 

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

মনকে ভারমুক্ত রাখ
অষ্টকমল
ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
দগ্ধৰীজ
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

যোগাযোগের প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে স্থানীয় ভাষার ব্যবহার বাঞ্ছনীয়
মানব প্রগতি
সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
আরও

সম্পাদকীয়

বাঙালী আর একটা অগ্ণি স্ফুলিঙ্গের অপেক্ষায়
প্রতিকুলতাকে প্রতিহত করে এগিয়ে চলার দুর্জয় ইচ্ছাশক্তি বাঙালীর আছে
মশাহীন দেশের তকমা ধরে রাখতে পারল না আইসল্যান্ড
বিকশিত বাঙলার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয় মানবতার আর্থিক মুক্তি চাই
স্থানীয় জনসাধারণের সার্বিক কর্মসংস্থান

প্রবন্ধ শিরোনাম

গোরাচাঁদ ও একতারা
নাগরিকত্ব প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার---তথাকথিত এস আই আর এর নামে একজনও বাঙালীর নাগরিকত্ব হরণ করা চলবে না--- চক্রান্ত করে তথাকথিত এস আই আর-এর মাধ্যমে কোন বাঙালীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না
কেন্দ্র সরকারের ডি.এ নিয়ে বোটবাজীটা নির্বাচন প্রাক্কালে এটা কোন ধরনের কেন্দ্র সরকারের গণতান্ত্রিক সেবা
গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষার এস.আই.আর প্রক্রিয়া ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্বের আগ্রাসনের হাতিয়ার
প্রথম দেখা
এবার মুখোশ খুলে বাঙালী বিদ্বেষের - স্বরূপ প্রকাশ করলো অসম সরকার
নিত্যদিনের সমস্যা, সমাধানও অসম্ভব নয়-- অথচ প্রশাসনের গা ছাড়া ভাব
আমার বাঙলা

পুরানো মাসিক খবর

  • May 2020 (31)
  • March 2020 (135)
  • February 2020 (162)
  • January 2020 (130)
  • December 2019 (135)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 6
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved