Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

আত্মহত্যা

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

সমম্প্রতি কলকাতার নেতাজী নগর থানার গান্ধী কলোনীতে দেবার্চন ঘোষ নামে এক যুবকের মৃতদেহ পাওয়া গেল৷ তার বিছানাতে পাওয়া গেল তার লেখা সুইসাইড নোট৷ তাতে লেখা ‘আই এ্যাম ফেলিওর৷, গুড বাই বাবা৷’ ওই ঘরে থাকত সে আর তার ছোট ভাই দেবদ্যুতি ঘোষ৷ দেবার্চন ঘোষ ভূগোলে-অনার্স পাশ করে একটা বেসরকারী অফিসে কাজ করছিল৷ ভাই পড়াশোনা করত৷ বাবা পুলিশের সার্কেল ইন্সপেক্টর৷ বাবা বাইরে থাকেন৷ ছোট ভাই পড়াশোনা করে ঘরে ফিরে দেখে ঘর ভিতর থেকে বন্ধ৷ অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরেও দেখল ঘর খুলছে না৷ তখন দরজা ভেঙ্গে দেখা গেল দেবার্চনের মৃতদেহ ঝুলছে৷ ঠিক কেন আত্মহত্যা করেছে পুলিশ এখনও জানতে পারেনি৷ কিন্তু বোঝা যাচ্ছে যে হতাশায় এই আত্মহত্যা৷ এমনি ভাবে দেশে, শুধু এই দেশেই বা কেন সারা বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে যাচ্ছে৷ চরম মানসিক হতাশায় ভুগতে ভুগতে শেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে৷ খবরে প্রকাশ সারা পৃথিবীতে শত শত আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে তার ৩৬.৬ শতাংশ ভারতেই৷ আর লক্ষণীয় যে ১৩ থেকে ১৭ বছরের কিশোর কিশোরীরাই বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মানসিক হতাশায় ভুগতে ভুগতে মানসিকভাবে ব্যধিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে৷ ন্যাশনাল  মেণ্টাল হেল্থ-এর সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে এই দেশে এভাবে প্রায় ১ কোটি কিশোর কিশোরী মনের রোগে ভুগছে৷

কিন্তু কেন এই হতাশা ও আত্মহত্যা? এর প্রথম কারণ অবশ্যই অর্থনৈতিক৷ জীবনের নূন্যতম চাহিদা মেটানোর ক্রয়ক্ষমতা অর্জন করতে না পেরে অনেকেই যে এই পথ বেছে নিচ্ছে তাতে সন্দেহ নেই৷ এই ধরণের বহু ঘটনার কথা সংবাদপত্রে দেখাও যাচ্ছে৷

বলা বাহুল্য বর্তমান মুনাফাভিত্তিক পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই এর জন্যে দায়ী৷ দেশের জিডিপি-র যতই ঢাক পেটানো হোক না কেন ‘সাইনিং ইণ্ডিয়া’ বলে দেশের নেতা-নেত্রীরা যতই বত্তৃণতার ফুলঝুরি ওড়াক না কেন, দেশের নিম্ন মধ্যবিত্ত ও গরীব মানুষদের অর্থনৈতিক দুর্দশা যে ক্রমবর্ধমান এতে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই৷ এই সমস্যার সমাধান করতে হলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ধাঁচটাকেই পরিবর্তন করতে হবে৷ জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়৷ তবে অর্থনৈতিক কারণ যে আত্মহত্যার একমাত্র কারণ তা কিন্তু নয়৷ আত্মহত্যার দ্বিতীয় কারণ সামাজিক৷ যেমন পণপ্রথার মত সামাজিক কুসংস্কারের বলি হয়ে বহু মেয়েদের জীবন অকালে নষ্ট হচ্ছে৷ পণের জন্যে শ্বশুর ঘরে লোকজনের চাপ ও অপমান সইতে না পেরে বহু মহিলা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে৷ অনেককে তো শ্বশুরবাড়ীর লোকে নানাভাবে মেরেও ফেলছে৷ পণপ্রথা যে একটা ঘৃণ্য কুপ্রথা এটা অনেকে স্বীকার করেও নিজেরা কিন্তু পণের দাবী ছাড়তে রাজী নয়৷ এ ব্যপারে শিক্ষিত-অশিক্ষিত ভেদ নেই৷

আত্মহত্যার সবচেয়ে বড় কারণ হ’ল মানুষ জানেনা যে তাদের জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য কি? মহাসম্ভুতি শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী বলেছেন---‘‘সকল বস্তুরই একটা ভিত্তি থাকা চাই৷ জীবন দৃঢ়ভিত্তিক না হলে সামান্য ঝড়ে ভেঙ্গে পড়ে৷ ব্রহ্মভিত্তিই দৃঢ়তম ভিত্তি৷ ’’

জীবনের লক্ষ্য কেবল অর্থ, যশ বা মান নয়৷ অর্থ আর যশকে জীবনের চরম লক্ষ্য করে চললে মানুষকে একসময় হতাশ হতেই হবে৷ কারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার শেষ নেই৷ মানুষ যতই পাবে ততই তার জাগতিক আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি হতে থাকবে৷  এই কামনার আগুনে তাকে  পুড়ে মরতেই হবে৷ জীবনে প্রকৃত স্থায়ী শান্তি সে এ থেকে পাবে না---পেতে পারে না৷ কারণ মানুষের সমস্ত অভাব আর অর্থ বা জাগতিক ভোগ্যবস্তু  যশ এই সবই সীমিত৷ তাই সীমিত কোন কিছু মানুষের অসীম অভাবকে মেটাতে পারে না৷ তা মানুষকে প্রকৃত শান্তি দিতে পারে না৷ এসবের পেছনে পাগলের মত ছুটতে ছুটতে মানুষ নিজের অন্তরের শান্তিতো  খোয়াবেই , সঙ্গে সঙ্গে পরিবারে ও সমাজে হিংসা,  দ্বেষ, বঞ্চনা, দুর্নীতি ও শোষণের  জাল বিস্তার করবে৷ মানুষের জীবনে এই ত্রুটিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গী বা ত্রুটিপূর্ণ জীবনচর্চা তথা ত্রুটিপূর্ণ জীবনাদর্শের ফলস্বরূপ সমস্ত সমাাজিক পরিবেশও চরমভাবে দুষিত হবে৷ ফলে সারা সমাজ জুড়ে হতাশা, মনোরোগ, আত্মহত্যা ও পারস্পরিক হত্যার এক দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি হবে৷ সমাজ কথাটার মানে ‘‘সমানম্ এজতি ইতি’’ অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে এগিয়ে চলা৷ এই আদর্শে সামাজিক চেতনারই অভাব দেখা দেবে৷ আর হচ্ছেও তাই৷

তাই মানব জীবনের প্রকৃত শান্তির জন্যে ও আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যে সেই প্রাচীন মুনীঋষিদের প্রদর্শিত পথ ‘ নাল্পে সুখমস্তি ভূমৈব সুখম্’-অল্পে সুখ নেই,  ভূমাতেই সুখ৷ এই পথকেই অনুসরণ করতে হবে৷ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের ভাষায়---‘শুধু সেই পথ আছে, নাহি অন্যপথ৷’

প্রাচ্যের মূল শিক্ষা এই অধ্যাত্মবাদ তথা ভূমাদর্শ ও পাশ্চাত্ত্যের বিজ্ঞান কাউকেই বাদ দেওয়া যায় না, বাদ দিলে চলবে না৷ অধ্যাত্মবাদ ও জড়বিজ্ঞান দুইয়ের মধ্যে একটা সুন্দর সমন্বয় চাই৷

প্রাউট প্রবক্তা মহান দার্শনিক শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের শিক্ষার এইটাই মূল কথা৷ সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল রেখে জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের জন্যে জড়বিজ্ঞানের অবদানকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না৷ সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মানসিক তথা নৈতিক বিকাশের জন্যে তথা মানসিক প্রসারতার জন্যে বিজ্ঞানভিত্তিক কুসংস্কার মুক্ত অধ্যাত্মবাদের প্রয়োজনও একান্ত জরুরী৷ তাই ব্যক্তি জীবনে ও সমাজ জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে সমন্বয়বাদী জীবন দর্শনকে জীবনের ভিত্তি করে নিয়ে চলতে হবে৷

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
আরও

সম্পাদকীয়

নোতুন পৃথিবী গড়তে আদর্শ মানুষ চাই
অধঃপতিত সমাজ---উত্তরণের পথ কি
পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ

প্রবন্ধ শিরোনাম

তোমার আসা যাওয়া
মহানধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে শিক্ষাদান হবে মানসিকতার ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে কখনোই নয়
কৃত্রিম হিন্দী ভাষা নয় সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক হোক
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি প্রাউট প্রবক্তার সতর্ক বার্তা
তোমার আসা যাওয়া
সমবায়ের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদন করে গ্রামীন বেকারত্ব দুর করা সম্ভব
কালীপূজা ও তন্ত্রসাধনা
সমাজ শাস্ত্র

পুরানো মাসিক খবর

  • May 2017 (92)
  • April 2017 (93)
  • March 2017 (93)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 13
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved