বেশি দিনের কথা নয়, তখন আমাদের দেশ ব্রিটিশ শাসনে শাসিত৷ স্থানটার নাম সুজা মুটা৷ সেটেলমেন্ট অফিসের এক বাঙালী অফিসার বদলি হলেন এই জায়গায়৷ নতুন কাজে হাত দিয়েই তার চক্ষু স্থির৷ তিনি দেখলেন সেটেলমেন্টের অন্যান্য অফিসাররা জমির জরিপ সংক্রান্ত ব্যাপারে অন্যায় ভাবে বেশি খাজনা আদায় করছেন৷
ক্ষুব্ধচিত্তে বাঙালী অফিসারটি এই অসৎ কাজের বিরুদ্ধে হাতিয়ার ধরলেন৷ বেআইনিভাবে বেশি খাজনা আদায় করা তিনি আইনের সাহায্য বন্ধ করে দিলেন৷
ফলে জেলার সাহেব অফিসাররা তার ওপর গেলেন ভীষণ খেপে৷ নিরুপায় হয়ে তারা গিয়ে আপিল করলেন জাজ এর কাছে৷
জজ বাঙালি অফিসারের বিরুদ্ধে রায় দিলেন আর ছোট লাট স্যার চার্লস ইলিয়ট তাকে ডেকে পাঠালেন অপমান করবার জন্য৷ একজন সামান্য বাঙালী অফিসারের স্পর্ধাকে তিনি এক ধমকে উড়িয়ে দিতে চাইলেন৷
কিন্তু ছোট লাট তো দূরের কথা, বড়লাটকেও ভয় পাবার মত দুর্বল মানুষ বাঙালী অফিসারটি নন৷ তাই তিনিও মুখের ওপর দীপ্ত স্বরে বলে ফেললেন স্যার আপনি বরাবর পাঞ্জাবে ছিলেন অতএব বাংলাদেশের জরিপ সংক্রান্ত আইন কানুন আপনার কিছুই জানা নেই সুতরাং যা জানেন না তা নিয়ে তর্ক করবেন না৷
কি---ছোট লাট ‘ল’ জানেন না৷ সামান্য একজন বাঙালীর মুখে এত বড় কথা৷
তাই আবার মামলা শুরু হল, এবার কিন্তু জজ সাহেব বাঙালী অফিসারের পক্ষেই রায় দিলেন৷ তার মতকেই জজ সাহেব সমর্থন করলেন৷ ফলে বাঙালী অফিসারের চাকরিটা রক্ষা পেল৷ জমির খাজনা বেশি আদায় করাও বন্ধ করা গেল৷
কিন্তু তাঁর চাকরিতে আর পদোন্নতি হলো না যারা নেয়নিষ্ঠ নীতিবাদী তারা বহুজনের স্বার্থে আপন ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে সবসময় প্রস্তুত৷
বলতে পারো এই দৃঢ়চেতা বাঙালি অফিসারটি কে? ইনিই হলেন আমাদের প্রিয় কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়৷ জন্ম কৃষ্ণনগর নদিয়া৷ প্রখ্যাত কবি ও নাট্যকার৷ ডি এল রায় নামে সমাধিক পরিচিত৷ জন্মদিন ১৯ শে জুলাই ১৮৬৩ সাল, মৃত্যু ১৭ই মে ১৯১৩৷
- Log in to post comments