প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

প্রাউটের অর্থনীতি–ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য

বিকেন্দ্রিত সামাজিক–অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অতি সহজেই কৃষি ও শিল্পের আধুনিকীকরণ করা যায় ও তার উৎপাদিত দ্রব্যের বাজারও সহজে পাওয়া যায়৷ এইভাবে যদি সামাজিক–অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলি আপন আপন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিকাশ ঘটায় তাহলে বিভিন্ন অঞ্চলের মাথা পিছু আয়–বৈষম্য হ্রাস পাবে ও অনুন্নত অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে তাকে উন্নত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সমপর্যায়ে আনা যাবে৷ প্রত্যেকেই অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ ভোগ করবে৷ যখন প্রত্যেকটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা আসবে তখন সমস্ত দেশই অতি দ্রুত অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা লাভ করবে৷

প্রাউটের অর্থনীতি–ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য

বিকেন্দ্রিত সামাজিক–অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অতি সহজেই কৃষি ও শিল্পের আধুনিকীকরণ করা যায় ও তার উৎপাদিত দ্রব্যের বাজারও সহজে পাওয়া যায়৷ এইভাবে যদি সামাজিক–অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলি আপন আপন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিকাশ ঘটায় তাহলে বিভিন্ন অঞ্চলের মাথা পিছু আয়–বৈষম্য হ্রাস পাবে ও অনুন্নত অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে তাকে উন্নত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সমপর্যায়ে আনা যাবে৷ প্রত্যেকেই অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ ভোগ করবে৷ যখন প্রত্যেকটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা আসবে তখন সমস্ত দেশই অতি দ্রুত অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা লাভ করবে৷

বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন (দুই)

আজকাল অনেক জায়গাতেই গভীর নলকূপের সাহায্যে জল তুলে চাষ করা হয়, এটা বিজ্ঞান সম্মত নয়, কারণ যত পরিমাণ জল তোলা হয়, তত পরিমাণ জল ওই গভীরতায় ফিরে যেতে পারে না৷ রোদের তাপে অনেকটা বাষ্প হয়ে যায়, আর কিছুটা গাছপালারা টেনে নেয়৷ এর ফলে জল–তল হু হু করে নেবে যায়৷ মালদা, নদীয়া ও অন্যান্য জেলায় যেভাবে গভীর নলকূপ ব্যবহার করা হচ্ছে তা যদি বন্ধ না করা হয় তাহলে জল–তল এত নেবে যাবে যে ভবিষ্যতে সেচের জলের অভাবে সমস্ত ফসল ও গাছপালা মরে যাবে৷ চাষীদের এই সমস্যা সম্বন্ধে সচেতন হতে হবে৷ নদীর জলকে সেচের কাজে লাগানোটাই সর্বোত্তম উপায়৷৪৭

বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন

বাঙালী নামধেয় জনগোষ্ঠী হঠাৎ জেগে ওঠা, নোতুন একটা বাউন্ডারী পাওয়া রাষ্ট্রকেন্দ্রিক জনগোষ্ঠী নয়৷ এর রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভাঙ্গাগড়া অনেকবার হয়েছে, কিন্তু জনগোষ্ঠীটা অনেকদিনের৷ বর্তমান বাঙালী নামধেয় জনগোষ্ঠীর বয়স তিন হাজার বছরের চেয়ে বেশী৷

সমবায়ই একমাত্র সমাধান

সমবায় সম্পর্কে অনেকের মনে প্রশ্ণ জাগতে পারে৷ কারণ আজ বেশীর ভাগ দেশেই সমবায় অসফল হয়েছে৷ এই উদাহরণের ওপর ভিত্তি করে’ সমবায়কে দোষারোপ করা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হবে না৷ কারণ সমবায়ের সাফল্যের যে অপরিহার্য তত্ত্ব তা বেশীর ভাগ দেশ সৃষ্টি করতে পারেনি৷ সমবায়ের সাফল্য নির্ভর করে মূলতঃ তিনটি তত্ত্বের ওপর–নীতিবাদ, কড়া তত্ত্বাবধান ত্রব্ভহ্মন্দ্বব্জ্লন্ব্দ্ ও জনগণের হদয় দিয়ে সমবায়কে গ্রহণ৷ এ তিন তত্ত্বের মধ্যে যেখানে যতটুকু রয়েছে সেখানে সমবায় ততটুকুই সাফল্য অর্জন করেছে৷ যেমন, ইজরায়েল চতুর্দিকে শত্রু বেষ্টিত হবার জন্যে ওখানকার জনগণের মধ্যে এক স্বয়ং–নির্ভরশীলতা চেতনা গড়ে’ উঠেছে–কারণ জনগণ মন–প্রাণ দিয়ে তাদের অ

শোষণের ছলা–কলা

শিরোনামে লিখিত বিষয়ের ওপর প্রাউট প্রবক্তা শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার তাঁর বিভিন্ন পুস্তকে যা বলেছেন, সেগুলিকে সংকলিত করে’ তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট প্রাউটিষ্ট আচার্য ত্র্যম্বকেশ্বরানন্দ অবধূত৷

বুদ্ধির অপব্যবহার করে’ শোষণ নানা যুগে নানা ভাবে হয়েছে৷ বর্তমান যুগে কীভাবে হচ্ছে তার কয়েকটা চিত্র এঁকেছেন দার্শনিক শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার৷

মানবিক মৌলনীতি

মানবিক মৌল সিদ্ধান্ত বা Human cardinal principle  হ’ল  a silver lining between the psycho-spiritual and spiritual strata of human existence ৷ আধ্যাত্মিক স্তর ও মানসাধ্যাত্মিক স্তর–এ দু’য়ের যে মিলনক্ষেত্র তাকেই বলি মৌল মানবিক স্তর৷ মানুষের অস্তিত্ব ত্রিমুখী, ত্রিধারা সমন্বিত–দৈহিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক৷ এই ত্রিমুখী অস্তিত্বের মধ্যে দৈহিক ক্ষেত্রের সীমা অনেকে পেরিয়ে উঠতে পারে না৷ স্থূল ভোগই তাদের একমাত্র ধ্যেয় হয়ে পড়ে৷ তাদের বলব দানব বা পশুশ্রেণীভুক্ত৷ নিজেদের জৈব বৃত্তির তাড়নায় তারা সর্বদা প্রেষিত হয়৷ জীবনের সূক্ষ্ম অনুভূতি, সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি, সুস্থ অনুশীলন তাদের নাগালের বাইরে৷ তারা জানে শুধ

ত্রিপুরার অর্থনৈতিক উন্নয়ন

সভ্যতার ঊষালগ্ণ থেকেই ত্রিপুরা ৰাঙলার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ৷ প্রাচীনত্বের দিক থেকে রাঢ়ের পরেই এর স্থান৷ গণ্ডোয়ানাল্যাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত একই মাটি, একই জল, একই মানুষ, ও একই ভাষা নিয়ে ৰাঙালীরা এখানে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই বসবাস করে আসছেন৷ পাঁচশ বছর আগেও ত্রিপুরার নাম ছিল ‘শ্রীভূম’৷ ত্রিপুরা নাম খুব বেশী দিনের পুরনো নয়৷  বর্তমান ত্রিপুরা, নোয়াখালী, পার্বত্য ত্রিপুরা, কাছাড়, মণিপুর, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আরাকান রাজ্যের কিয়দংশ নিয়ে ছিল ‘শ্রীভূম’৷ ভারতীয় প্রাচীন  নথিপত্রে শ্রীভূমকে ‘উপৰঙ্গ’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে৷ শ্রীভূম বা উপৰঙ্গের আদিম অধিবাসী সবই ৰাঙালী৷ ব্যতিক্রম শুধু টিপ্রা–রা৷ প্রায় সাড়

ৰৃহত্তর ৰাঙলা

প্রায় ৫০০০ বছর আগে অষ্ট্রিক, মে৷ালিয়ন আর নিগ্রো রক্তের সংমিশ্রণ–জাত ৰাঙালী জনসমুদায় সৃষ্টি হয়েছিল৷ সেই সময় ৰাঙলার ভাষা ছিল সংসৃক্ত, তাই ক্ষাংলাভাষারও পথনির্দেশক ভাষা হচ্ছে সংসৃক্ত৷ প্রায় ১২০০ বছর আগে ক্ষাংলাভাষার এক রূপান্তরণ হয়েছিল৷ সেই সময় ৰাঙলা বলতে বোঝাত বর্তমানের পশ্চিমব৷, নেপালের ঝাপা জেলা, বিহারের পূর্বাংশ, সম্পূর্ণ ৰাঙলাদেশ আর বর্মা, মেঘালয়ের সমতল অংশ, প্রাগজ্যোতিষপুরের কিছু অংশ আর অসমের বরপেটা, কামরূপ ও নগাঁও৷ ক্ষৃহত্তর ৰাঙলার এই ছিল এলাকা৷ আজ ৰাঙালী বলতে ক্ষোঝায় দুই প্রকারের অভিব্যক্তি– ভারতীয় ৰাঙালী আর ৰাঙলাদেশী ৰাঙালী ৷ এই দু’য়ের মধ্যে একটা সংহতিকরণ বা মিশ্রণ অবশ্যই হওয়া উচিত৷

নব্যমানবতাবাদের ৩ সোপান

মানুষ চলতে শুরু করেছে যখন, নিজের কথাটা যতটা ভেবেছে, অন্যের কথাটা ততটা ভাবেনি৷ অন্য মানুষের কথাও ভাবেনি, আর মনুষ্যেতর জীব জন্তুর কথাও ভাবেনি,গাছপালার কথাও ভাবেনি৷ অথচ একটু ঠাণ্ডা মাথায় ভাবলে দেখা যাবে যে, নিজের কাছে নিজের অস্তিত্ব যতটা প্রিয়, প্রত্যেকের কাছে তাদের নিজের নিজের অস্তিত্ব ততটাই প্রিয়৷ আর সব জীবের এই নিজ অস্তিত্বপ্রিয়তাকে যথাযোগ্য মূল্য না দিলে সামগ্রিক ভাবে মানবিকতার বিকাশ অসম্ভব৷ মানুষ যদি ব্যষ্টি বা পরিবার,জাত বা গোষ্ঠীর কথা ভাবলো, সামগ্রিক ভাবে মানুষের কথা না ভাবলো–সেটা অবশ্যই ক্ষতিকর৷ কিন্তু মানুষ যদি সামগ্রিকভাবে জীবজগৎ, উদ্ভিদ জগতের কথা না ভাবলো সেটা কি ক্ষতিকর নয় মানবিকতা